যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে দেশটিতে পৌঁছেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার হামলা বেড়ে যাওয়ায় ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন এখন আরো শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করা।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের প্রধান অগ্রাধিকার হলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা আরো বাড়ানো। তিনি বলেন, 'আমাদের এক নম্বর অগ্রাধিকার হলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা। শান্তিকে আরো কাছে নিয়ে আসতে হবে।' হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির বৈঠকের পর দুই নেতা যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। ইউক্রেনের এই সিনেটর দীর্ঘদিন ধরে কিয়েভের অন্যতম সমর্থক ছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে তিনি মারা যান।
দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনার মধ্যে থাকা ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা উন্নত হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারিতে আবার ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অস্ত্র সরবরাহের নীতি থেকে কিছুটা সরে আসেন। এর পরিবর্তে তিনি ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র কিনে ইউক্রেনে পাঠানোর সুযোগ দেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে রয়েছে। ওয়াশিংটন কিয়েভকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে। পাশাপাশি ইউক্রেনের সামনের সারির সেনারা যোগাযোগের জন্য যে স্টারলিংক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে, সেটির সুবিধাও চালু রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্ক উন্নতির আরেকটি ইঙ্গিত পাওয়া যায় চলতি মাসের শুরুতে। তুরস্কে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দেন, ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরিতে সহায়তা করবেন। তিনি বলেন, কিয়েভ খুব দ্রুত এই ব্যবস্থা তৈরি করতে পারবে। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে দীর্ঘদিন ধরেই প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়ে আসছে ইউক্রেন। ট্রাম্প ও জেলেনস্কির বৈঠক এমন এক সময় হচ্ছে, যখন ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর চার বছরেরও বেশি সময় পার হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থমকে থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষই দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। রাশিয়া মঙ্গলবার জানিয়েছে, রাতভর ইউক্রেনের ৩৯০টির বেশি ড্রোন মস্কো অঞ্চলে হামলার চেষ্টা করেছে। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, এসব হামলায় কিছু আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রুশ বাহিনী দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে একটি কৃষ্ণ সাগরে থাকা জাহাজ। মস্কোর দাবি, ওই জাহাজে ইউক্রেনের জন্য সামরিক সরঞ্জাম বহন করা হচ্ছিল। যুদ্ধের এই পরিস্থিতিতে জেলেনস্কির যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠককে কিয়েভের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।








