• ই-পেপার

জ্বালানি নিরাপত্তার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হুমকিতে বিশ্ব : আইইএর প্রধান

সংবাদমাধ্যমকে ‘অসৎ’ বলে এনবিসির সাক্ষাৎকার থেকে বেরিয়ে গেলেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
সংবাদমাধ্যমকে ‘অসৎ’ বলে এনবিসির সাক্ষাৎকার থেকে বেরিয়ে গেলেন ট্রাম্প
ছবি : রয়টার্স

২০২০ সালের নির্বাচনে কারচুপি এবং ৬ জানুয়ারির বিদ্রোহে অভিযুক্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয় নিয়ে কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়ে এনবিসি-র ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠান থেকে মাঝপথেই বেরিয়ে গেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। উইসকনসিনে এনবিসি-র সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সাথে এক উত্তপ্ত তর্কাতর্কির পর ট্রাম্প সাক্ষাৎকারটি বন্ধ করে দেন। শুক্রবার (৫ জুন) ধারণ করা এই সাক্ষাৎকারটি রবিবার (৭ জুন) প্রচারিত হয়।

সাক্ষাৎকারে আলোচনার একপর্যায়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ২০২০ সালের মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার চলতি প্রাইমারি নির্বাচন—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনের ভোট গণনা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘চার দিন পার হয়ে গেলেও কেন ফলাফল দেওয়া হচ্ছে না? তারা নির্বাচনে প্রতারণা করছে।’ উপস্থাপিকা ক্রিস্টেন ওয়েলকার যখন এই কারচুপির দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ চান, তখন ট্রাম্প কোনো প্রমাণ দিতে না পেরে বলেন, ‘আমার শুধু তাকাতে হয়, আর আমি শুনি।’

উপস্থাপিকা তাৎক্ষণিক বাধা দিয়ে বলেন, এটা কোনো প্রমাণ নয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় ডাকযোগে ভোটের ব্যাপক ব্যবহার এবং সতর্কতার কারণে ফলাফল দিতে কিছুটা দেরি হওয়া স্বাভাবিক—এই বিষয়টি মনে করিয়ে দিলে ট্রাম্প আরো রেগে যান। তিনি উপস্থাপিকাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ওরা অসৎ, ঠিক তোমার মতোই অসৎ। তুমি হয় অসৎ, না হয় বোকা।’

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের পরিকল্পিত ১.৮ বিলিয়ন ডলারের ‘অস্ত্রায়ন-বিরোধী’ তহবিল নিয়েও কথা হয়। সরকারি তদন্তের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য এই তহবিল গঠনের কথা ছিল, যা বর্তমানে বাতিল করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাট ও কিছু রিপাবলিকান নেতার আশঙ্কা ছিল, এই তহবিল থেকে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল দাঙ্গায় অভিযুক্তদের অর্থ দেওয়া হতে পারে। এই দাঙ্গা এবং ইরানের সাথে মার্কিন সংঘাতের প্রসঙ্গ নিয়েও সাক্ষাৎকারে দীর্ঘ আলোচনা হয়।

টানা ৫০ মিনিট ধরে চলা এই সাক্ষাৎকারে বারবার প্রশ্নবানে জর্জরিত হয়ে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত বলেন, ‘দুঃখিত, এখানেই শেষ করা যাক, কারণ আমার যথেষ্ট হয়েছে।’ তিনি ক্যামেরার পেছনের কর্মীদের দিকে ইশারা করে বলেন, ‘চলো, যাই।’ সেট ছাড়ার আগে তিনি যোগ করেন, ‘একটি অসৎ সংবাদমাধ্যম নিয়ে কোনো দেশ কখনো মহান হতে পারে না।’

সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হওয়ার পর উপস্থাপিকা ক্রিস্টেন ওয়েলকার জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে সাক্ষাৎকারে কিছুটা যান্ত্রিক গোলযোগ হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের সাথে তার পরবর্তীতে কথা হয়েছে এবং ট্রাম্প খুব শীঘ্রই ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে আরেকটি সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হয়েছেন।

সূত্র : বিবিসি

আমাদের সম্পদ ওয়াশিংটনের যুদ্ধের লুট বা বন্ধুদের তহবিল নয় : ইরান

অনলাইন ডেস্ক
আমাদের সম্পদ ওয়াশিংটনের যুদ্ধের লুট বা বন্ধুদের তহবিল নয় : ইরান
ছবি : রয়টার্স

উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের ক্ষয়ক্ষতি পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানি সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আঞ্চলিক সরকারগুলো ইরানের কাছ থেকে কোনো ধরনের ‘ক্ষতিপূরণ দাবি করার অবস্থানে নেই।’

রবিবার (৭ জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ঘারিবাবাদী বলেন, ‘ইরানের সম্পদ ওয়াশিংটনের জন্য কোনো যুদ্ধের লুট নয়, কিংবা তাদের মিত্রদের দেওয়ার কোনো পেমেন্ট ফান্ডও নয়।’ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

সম্প্রতি গণমাধ্যমটির অন্য এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট একটি বিশেষজ্ঞ দলকে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে ইরানের হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের নির্দেশ দিয়েছেন। ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন ও অতীতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি পূরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দকৃত সম্পদ তাদের উপসাগরীয় মিত্রদের দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

গণমাধ্যমটি জানায়, চলমান এই যুদ্ধে ইরান বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তেহরানের দাবি, তারা ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। গত শনিবারও কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা ৭টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ৬টি প্রতিহত করেছে। এই হামলায় কুয়েতে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

গবেষণা সংস্থা ‘রাইস্ট্যাড এনার্জি’র এপ্রিলের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে কেবল জ্বালানি খাতের অবকাঠামো মেরামতেই এ অঞ্চলের দেশগুলোর প্রায় ৫৮ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘারিবাবাদী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান সরকারের সম্মতি ছাড়া তাদের যেকোনো সম্পদ বাজেয়াপ্ত, স্থানান্তর বা বণ্টন করা হলে তা হবে একটি ‘নতুন আন্তর্জাতিক অপরাধ’। ওয়াশিংটন যখন তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার দাবি করছে, ঠিক তখনই এমন পদক্ষেপ পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটাবে এবং ইরান এর ‘উপযুক্ত জবাব’ দেবে।

তিনি আরো যোগ করেন, আঞ্চলিক কিছু দেশ নিজেদের ভূখণ্ড এবং সামরিক সুবিধা ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানোর জন্য মার্কিন বাহিনীকে ছেড়ে দিয়েছে। ফলে তারা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য নয়, বরং তাদেরই উচিত ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা তাদের শত কোটি ডলার ছাড় করার দাবি জানিয়ে আসছে। যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের অন্যতম শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিলিয়ন ডলারের ফ্রিজড অ্যাসেট (স্থগিত সম্পদ) অবমুক্ত করা, মার্কিন ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কর্তৃত্বের স্বীকৃতি।

ইরাকে বাস উল্টে আগুন, প্রাণ গেল ২১ জনের

অনলাইন ডেস্ক
ইরাকে বাস উল্টে আগুন, প্রাণ গেল ২১ জনের
সংগৃহীত ছবি

ইরাকে বাস দুর্ঘটনায় ২১ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এছাড়া আরো ১৯ জন আহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের নাসিরিয়া শহরে এই দুর্ঘটনা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, নাসিরিয়া শহরের মহাসড়কে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি উল্টে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি দুর্ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এবং তদন্তের রিপোর্ট দ্রুত জমা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বাস দুর্ঘটনায় ২১ জন মারা গেছেন। আহতদের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।  

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে ৫ শর্ত যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স-জার্মানির

অনলাইন ডেস্ক
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে ৫ শর্ত যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স-জার্মানির
লন্ডনে ই৩-এর এক বৈঠকে ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানির নেতাদের সঙ্গে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি : প্রেসিডেন্ট অফিস

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে একটি ‘ন্যায়সংগত ও দীর্ঘস্থায়ী’ শান্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে পাঁচটি শর্ত নির্ধারণ করেছে ইউক্রেন ও তার তিন প্রধান ইউরোপীয় মিত্র দেশ—যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি।

লন্ডনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই শর্তগুলোর কথা জানান এবং ইউক্রেনের পাশে দৃঢ়ভাবে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সোমবার (৮ জুন) বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ (ই-৩ গ্রুপ নামে পরিচিত) অংশ নেন।

যৌথ বিবৃতিতে যুদ্ধ অবসানের জন্য যে পাঁচটি শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হলো—রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অবিলম্বে ও সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে হবে; যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান অবস্থান বা ফ্রন্টলাইনকে আলোচনার শুরুর বিন্দু হিসেবে ধরতে হবে, তবে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত পরিবর্তন করা যাবে না; যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইউক্রেনের জন্য আইনিভাবে বাধ্যকর ও শক্তিশালী নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিশ্চিত করতে হবে, যার মধ্যে ‘মাল্টিন্যাশনাল ফোর্স-ইউক্রেন’ মোতায়েন অন্তর্ভুক্ত থাকবে; রাশিয়া যতক্ষণ না আগ্রাসন বন্ধ করছে এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত রাশিয়ার জব্দকৃত সম্পদ অবরুদ্ধই থাকবে; যেকোনো চুক্তিতে ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। 

বৈঠকে ইউরোপীয় নেতারা ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে পাঠানো জেলেনস্কির একটি খোলা চিঠির প্রশংসা করেন। ওই চিঠিতে জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধে পুতিনকে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যা রুশ প্রেসিডেন্ট প্রত্যাখ্যান করেছেন। পুতিনের দাবি, রাশিয়ার লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হবে না।

বিবৃতিতে জেলেনস্কির সরাসরি আলোচনার প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে বলা হয়, এই প্রক্রিয়ায় ইউরোপের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। বিশেষ করে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোযোগ যখন ইরান যুদ্ধের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে, তখন ইউক্রেন সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ধরে রাখার ওপর জোর দেন তারা। একই সঙ্গে ন্যাটো জোটে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ইউক্রেনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকে পূর্ণ সম্মান জানানোর দাবি করা হয়।

জ্বালানি নিরাপত্তার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হুমকিতে বিশ্ব : আইইএর প্রধান | কালের কণ্ঠ