• ই-পেপার

আবার ১০০ ডলার ছাড়ালো তেলের দাম

জঙ্গি হামলা-অপহরণ ঠেকাতে সামরিক বাহিনী সম্প্রসারণ করছে নাইজেরিয়া

অনলাইন ডেস্ক
জঙ্গি হামলা-অপহরণ ঠেকাতে সামরিক বাহিনী সম্প্রসারণ করছে নাইজেরিয়া
ছবি : রয়টার্স

নাইজেরিয়াতে ক্রমাগত বেড়ে চলা সশস্ত্র সহিংসতা, জঙ্গি হামলা ও অপহরণের মতো তীব্র নিরাপত্তা সংকট সামাল দিতে বড় ধরনের সামরিক সম্প্রসারণের অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু। নতুন এই সিদ্ধান্তের আওতায় সেনাবাহিনীতে অতিরিক্ত ২৮ হাজার নতুন সৈন্য নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি চারটি নতুন সেনা ডিভিশন গঠন করা হবে। এর ফলে দেশটির মোট সেনা ডিভিশনের সংখ্যা ৮টি থেকে বেড়ে ১২টিতে উন্নীত হচ্ছে।

সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিম জামফারা রাজ্যে সশস্ত্র বাহিনীর হামলায় ২০ জন গ্রামবাসী নিহত হওয়া এবং বোরনো রাজ্যের একটি স্কুল থেকে ৪৬ জন শিক্ষার্থী অপহৃত হওয়ার পর সরকারের ওপর তীব্র জনরোষ তৈরি হয়। যদিও অপহৃত শিক্ষার্থীদের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেনাবাহিনী উদ্ধার করতে সক্ষম হয় এবং সাম্প্রতিক অভিযানগুলোতে কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে, তবুও অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর নিত্যনতুন কৌশল ও সহিংসতা নাইজেরিয়ার জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে রেখেছে। মে মাসে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওয়ো রাজ্যের স্কুলে সমন্বিত হামলা চালিয়ে ৪৪ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে অপহরণের ঘটনা প্রমাণ করে যে, এই সহিংসতা এখন দেশের দক্ষিণাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, বিশাল আয়তনের এলাকাগুলো সামলাতে গিয়ে সেনাবাহিনীর বর্তমান অবকাঠামো ও রসদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছিল। নতুন ডিভিশন গঠন এবং উত্তর-পূর্ব ও মধ্য নাইজেরিয়ায় ৩টি নতুন সেনা সদর দপ্তর স্থাপনের ফলে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান সহজ হবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হবে।

সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে টিনুবু সরকার। সেনাবাহিনী ছাড়াও অতিরিক্ত ৫০ হাজার নতুন পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে রেকর্ড ৫.৪১ ট্রিলিয়ন নাইরা (প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বরাদ্দ করা হয়েছে। 

সামরিক বাহিনীর পরিবর্তন অনুমোদন দেওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অবিলম্বে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে হুঁশিয়ারি দেন, অন্যথায় তাদের রাষ্ট্রের পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি হতে হবে। তবে সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বহু সৈন্য নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তরুণ নাইজেরীয়দের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে উৎসাহিত করাই এখন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

শতবর্ষী দুই সমস্যার সমাধানে বিশ্বের শীর্ষ গণিত পুরস্কার জিতলেন দুই চীনা

অনলাইন ডেস্ক
শতবর্ষী দুই সমস্যার সমাধানে বিশ্বের শীর্ষ গণিত পুরস্কার জিতলেন দুই চীনা
সংগৃহীত ছবি

প্রথমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ গণিত পুরস্কার 'ফিল্ডস মেডেল' জিতেছেন দুই চীনা গণিতবিদ। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চীনের হং ওয়াং ও  ইউ দেং ২০২৬ সালের ফিল্ডস মেডেল পেয়েছেন। তাদের সঙ্গে আরো দুই গবেষক—যুক্তরাষ্ট্রের জন পার্ডন এবং কানাডার জ্যাকন সিমারম্যান—এই পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন।

চারজন বিজয়ীর প্রত্যেককে ১৫ হাজার কানাডীয় ডলার (প্রায় ১০ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার) পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে গণিতবিদদের সামনে থাকা দুটি জটিল সমস্যার সমাধান করায় হং ওয়াং ও ইউ দেং এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। ৩৫ বছর বয়সী হং ওয়াং ফিল্ডস মেডেল পাওয়া ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় নারী গণিতবিদ। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। গণিতের সবচেয়ে বড় সম্মান হিসেবে পরিচিত ফিল্ডস মেডেল এমন এক সময়ে দেওয়া হলো, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের গণনাভিত্তিক অনেক কাজ দ্রুত পরিবর্তন করে দিচ্ছে।

এই অর্জনের খবর প্রকাশের পর চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ‘ফিল্ডস মেডেল’ এবং ‘ফিল্ডস মেডেল জয়ী প্রথম চীনা গণিতবিদ’—এই দুটি হ্যাশট্যাগ ওয়েইবো, রেডনোটসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোটি কোটি বার দেখা হয়েছে। ওয়েইবোর একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, 'এটি সব চীনা মানুষের গর্ব।' আরেকজন লিখেছেন, 'আমরা ইতিহাসের সাক্ষী হচ্ছি।' চীনের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও দুই গণিতবিদকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিবেদনে তাদের শিক্ষাজীবন, গবেষণা, ব্যক্তিগত আগ্রহ এবং এই অর্জনের মাধ্যমে দেশের জন্য কী ধরনের গুরুত্ব তৈরি হয়েছে, তা বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। চীনা বংশোদ্ভূত প্রথম ফিল্ডস মেডেলজয়ী গণিতবিদ শিং-টুং ইয়াউ বলেন, 'চীনের গণিত সমাজের জন্য এটি এমন একটি স্বপ্ন, যা আমরা কয়েক দশক ধরে বাস্তব হতে চেয়েছি।'

হং ওয়াং তার সহকর্মী জশ জালের সঙ্গে মিলে ১৯১৭ সালে জাপানি গণিতবিদ সোইচি কাকেয়া উত্থাপন করা একটি বিখ্যাত সমস্যার সমাধান করেন। সমস্যাটি ছিল—একটি পেন্সিলকে একবার সম্পূর্ণ ঘোরাতে হলে সবচেয়ে কম কতটুকু জায়গা প্রয়োজন? ওয়াং ও জাল এই সমস্যাটি নতুনভাবে বিশ্লেষণ করেন। তারা ধরে নেন, পেন্সিলটি সমতল জায়গায় নয়, বরং ত্রিমাত্রিক স্থানে ভাসছে। এই ধারণার ভিত্তিতে তারা সমস্যাটির সমাধান করেন এবং গত বছর তাদের গবেষণা প্রকাশ করেন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে হং ওয়াং বলেন, 'এই ধারণাটি মানুষকে আকর্ষণ করে, কারণ একই ধরনের বিষয় একেবারে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রের সমস্যার মধ্যেও দেখা যায়।' হং ওয়াং মূলত হারমোনিক বিশ্লেষণ নিয়ে গবেষণা করেন। গণিতের এই শাখায় তরঙ্গের চলাচল ও তার বৈশিষ্ট্য নিয়ে কাজ করা হয়।

৩৭ বছর বয়সী গণিতবিদ ইউ দেংও আরেকটি শতবর্ষী সমস্যার সমাধানের জন্য ফিল্ডস মেডেল পেয়েছেন। ১৯০০ সালে জার্মান গণিতবিদ ডেভিড হিলবার্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেন, যা পরে ‘হিলবার্টের ষষ্ঠ সমস্যা’ নামে পরিচিত হয়। এই সমস্যার মূল প্রশ্ন ছিল—অসংখ্য আলাদা কণার চলাচল থেকে কীভাবে পুরো একটি ব্যবস্থার আচরণ ব্যাখ্যা করা বা হিসাব করা সম্ভব। ইউ দেং গ্যাসের আচরণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করেন। পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি বলেন, 'যেসব মহান গণিতবিদকে আমি সব সময় শ্রদ্ধা করেছি, তাদের নামের পাশে আমার নাম যুক্ত হওয়া সত্যিই অনেক বড় সম্মানের।' বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। ফিল্ডস মেডেলকে গণিতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কার হিসেবে ধরা হয়। এটি প্রতি চার বছর পরপর ৪০ বছরের কম বয়সী অসাধারণ গণিতবিদদের দেওয়া হয়। নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।

হং ওয়াং ১৯৯১ সালে দক্ষিণ চীনের গুয়াংশি অঞ্চলের গুইলিন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলায় তিনি একসঙ্গে দুটি শ্রেণি পাস করেন। পরে মাত্র ১৬ বছর বয়সে চীনের মর্যাদাপূর্ণ পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। প্রথমে তিনি পৃথিবীবিজ্ঞান বিভাগে পড়লেও এক বছর পর গণিত বিভাগে চলে যান। স্নাতক শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য ফ্রান্সে যান। সেখানে প্যারিস-সুদ বিশ্ববিদ্যালয় ও একোল পলিটেকনিকে পড়াশোনা করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। একই সঙ্গে ফ্রান্সের ইনস্টিটিউ দে ওত এতুদ সিয়ঁতিফিক (আইএইচইএস)-এর স্থায়ী অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

ফিল্ডস মেডেল পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ তাকে ফোন করে অভিনন্দন জানান। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাখোঁ বলেন, 'তিনি আমাদের গবেষণা ও শিক্ষাব্যবস্থার উৎকর্ষের প্রতীক।' আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, 'বিজ্ঞানের জন্য ফ্রান্সকে বেছে নিন।' অন্যদিকে ইউ দেং ছোটবেলা থেকেই গণিত অলিম্পিয়াড ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন। ২০০৭ সালে তিনি পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তবে দুই বছর পর তিনি এমআইটিতে চলে যান। এরপর প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। ২০২৪ সাল থেকে তিনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।

স্পেন ও ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল: সরানো হলো দুই লাখের বেশি মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
স্পেন ও ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল: সরানো হলো দুই লাখের বেশি মানুষ
স্পেনের আভিলা প্রদেশে একটি বাড়ির দিকে এগিয়ে আসা দাবানল নেভানোর চেষ্টা করছেন দমকলকর্মী ও সাধারণ মানুষ

স্পেন ও ফ্রান্সে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। যার ফলে মোট ২ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্পেনে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং আরো প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে ঘরের ভেতরে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বোর্দোর কাছে নতুন করে প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে দেশটিতে দাবানলের কারণে সরিয়ে নেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ লাখে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

মাদ্রিদের আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট ইসাবেল দিয়াজ আয়ুসো এ ঘটনাকে ‘অঞ্চলের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, তীব্র তাপপ্রবাহ, প্রবল বাতাস এবং একাধিক আগুনের সম্মিলিত বিস্তার পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তুলেছে।

জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রধান কার্লোস নোভিলো জানান, দাবানল বর্তমানে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা দমকল বাহিনীর সক্ষমতার বাইরে। আগুনের তীব্রতার কারণে অনেক এলাকায় সরাসরি অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না; সেখানে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আগুনের বিস্তার ঠেকাতে স্পেনের সামরিক জরুরি ইউনিট (ইউএমই) মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে এল এসকোরিয়াল শহরের আশপাশের এলাকা রক্ষায় তারা কাজ করছে।

এদিকে, পার্শ্ববর্তী আভিলা প্রদেশের বুরগোহোন্দো এলাকায় আরেকটি বড় দাবানল জ্বলছে। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, এটি মাদ্রিদের আগুনের সঙ্গে মিলে গেলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

এ পর্যন্ত মাদ্রিদ অঞ্চলে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরো ২০ হাজার মানুষ লকডাউনের আওতায় রয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাদ্রিদ অঞ্চলে অন্তত ৬ হাজার হেক্টর এবং আভিলা প্রদেশে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমি আগুনে পুড়ে গেছে। আটটি পৌরসভা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরো কয়েকটি শহরে লকডাউন জারি রয়েছে।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ৮৬ বছর বয়সী বাসিন্দা একোলোজিও কাবরেরা বলেন, ‘আগুনের মুখোমুখি দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে সেটি আপনাকে গ্রাস করে ফেলবে। জীবনে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি কখনও দেখিনি।’

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে। তিনি নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের জিরন্দ ও লঁদ অঞ্চলেও ভয়াবহ দাবানলে ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

জিরন্দ অঞ্চলের দাবানলে এরই মধ্যে ১৯ হাজার হেক্টরেরও বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে। এছাড়া প্রায় ৮০টি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপ পুরোপুরি খালি করে দেওয়া হয়েছে। অনেক মানুষ নৌকায় করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ ন্যুনেজ জানিয়েছেন, দাবানলটি এখন নিজস্ব গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে এবং এর গতিপথ পরিবর্তন করে বোর্দো শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এতে অন্তত ৫০ জন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রোটেকশন ব্যবস্থার সহায়তা চেয়েছেন। সহায়তার অংশ হিসেবে চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া থেকে দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার পাঠানো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং প্রবল বাতাস দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। ইউরোপীয় বন অগ্নি তথ্য ব্যবস্থা (ইএফএফআইএস) জানিয়েছে, চলতি বছরে ইউরোপে গত দুই দশকের গড়ের তুলনায় এরইমধ্যেই বেশি বনভূমি দাবানলে পুড়ে গেছে।

ইউরোপীয় পরিবেশ সংস্থা বলেছে, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপজুড়ে দাবানলের ঝুঁকি বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বড় বিপদ দক্ষিণ ইউরোপে ঘটবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’

সূত্র : বিবিসি

আমি বর্ণবাদী নই : ইলন মাস্ক

অনলাইন ডেস্ক
আমি বর্ণবাদী নই : ইলন মাস্ক
ইলন মাস্ক। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিওনিয়ার ইলন মাস্ক দাবি করেছেন, তিনি বর্ণবাদী নন। তিনি জানান, তার সঙ্গী অর্ধেক ভারতীয় এবং তাদের এক সন্তানের নাম রাখা হয়েছে ভারতীয় এক নোবেলজয়ী পদার্থবিজ্ঞানীর নামানুসারে।

সম্প্রতি পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের মহাকাব্যিক ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘দ্য ওডিসি’র কাস্টিং নিয়ে বিতর্কের জের ধরে ইলন মাস্ককে ‘বর্ণবাদী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন কেউ কেউ। সম্প্রতি স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর মাস্কের সম্পদ ট্রিলিয়ন ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তিনি ট্রিলিয়নের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেছিলেন। তবে স্পেসএক্স-এর শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় তার সম্পদ এক ট্রিলিয়নের নিচে নেমে গেছে।

‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে টেসলা এবং স্পেসএক্স-এর সিইও ইলন মাস্ক তাকে ’বর্ণবাদী’ বলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমার সঙ্গী অর্ধেক ভারতীয়। তার সঙ্গে আমার চার সন্তান রয়েছে। তাদের একজনের নাম এক বিখ্যাত ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানীর নামানুসারে রাখা হয়েছে।’ মাস্কের সঙ্গী শিভন জিলিস কানাডায় বেড়ে উঠেছেন। তবে তার বাবা ভারতীয়। জিলিসের সঙ্গে তার চার সন্তানের এক ছেলের মধ্যনাম রাখা হয়েছে ‘শেখর’। ভারতীয়-আমেরিকান পদার্থবিজ্ঞানী এবং নোবেল বিজয়ী সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখরের নামানুসারে এই নামকরণ করা হয়।

আমি বর্ণবাদী নই, এমন দাবি করে ইলন মাস্ক বলেন, ‘আমার কম্পানিতে যারা কাজ করছেন তাদের দিকে তাকালে দেখবেন, আমাদের এখানে উচ্চ পদে সব বর্ণের কর্মকর্তারা আছেন। আমি মনে করি না সেখানে কোনো বর্ণবাদ আছে।’

তিনি ’মুসলিম-বিদ্বেষী’ কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মাস্ক বলেন, ’মানুষ যদি পশ্চিমা সংস্কৃতির সম্পূর্ণ বিপরীত চিন্তা-ভাবনা নিয়ে কোনো দেশে আসে, তবে আমি তার বিরুদ্ধে। আমি ধর্ষণ ও খুনের বিরুদ্ধে। পশ্চিমা বিশ্বে আমরা যে নিয়ম ও আইনগুলো মেনে অভ্যস্ত, তার বিরোধী কোনো নিয়ম বা আইন চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে আমি।’

ক্রিস্টোফার নোলান ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘দ্য ওডিসি’-তে বৈচিত্র্যময় কাস্টিং করার কারণে মাস্ক তাকে ’শ্বেতাঙ্গ-বিদ্বেষী বর্ণবাদী’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন এবং নোলান নিজের সততা হারিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন। ‘দ্য ওডিসি’তে হেলেনের চরিত্রে অস্কার জয়ী কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রী লুপিটা ইয়ংওকে কাস্ট করা নিয়েই বিতর্কের শুরু। একজন এক্স ব্যবহারকারী উল্লেখ করেন, হোমারের মূল টেক্সটে হেলেনকে ’ফর্সা চামড়ার’ এবং ’সোনালী চুলের’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তখন মাস্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, নোলান তার ‘সততা হারিয়েছেন’ এবং তিনি ’হোমারের কবরে প্রস্রাব করছেন’। কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রী নেওয়ায় মাস্ক একে ’ঐতিহাসিকভাবে ভুল’ বলে আখ্যা দেন।

মাস্ক দাবি করেন, ক্রিস্টোফার নোলান অস্কার পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতেই জোর করে সিনেমায় এই ‘ডাইভারসিটি’ এনেছেন। সমালোচনার জবাবে লুপিটা ইয়ংও মনে করিয়ে দেন, হেলেন কোনো ঐতিহাসিক চরিত্র নন। বরং গ্রিক পুরাণের একটি কাল্পনিক বা পৌরাণিক চরিত্র। তাই এখানে যেকোনো বর্ণের মানুষ অভিনয় করতেই পারেন।

বিতর্ককে আরো উস্কে দিয়ে মাস্ক জানিয়েছেন, তার এআই ভিডিও টুল ‘গ্রক ইমাজিন’ দিয়ে চলতি বছরের শেষের মধ্যে ‘দ্য ওডিসি’-র একটি সম্পূর্ণ এবং ’ঐতিহাসিকভাবে নিখুঁত’ চলচ্চিত্র বানাবেন।