নাইজেরিয়াতে ক্রমাগত বেড়ে চলা সশস্ত্র সহিংসতা, জঙ্গি হামলা ও অপহরণের মতো তীব্র নিরাপত্তা সংকট সামাল দিতে বড় ধরনের সামরিক সম্প্রসারণের অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু। নতুন এই সিদ্ধান্তের আওতায় সেনাবাহিনীতে অতিরিক্ত ২৮ হাজার নতুন সৈন্য নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি চারটি নতুন সেনা ডিভিশন গঠন করা হবে। এর ফলে দেশটির মোট সেনা ডিভিশনের সংখ্যা ৮টি থেকে বেড়ে ১২টিতে উন্নীত হচ্ছে।
সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিম জামফারা রাজ্যে সশস্ত্র বাহিনীর হামলায় ২০ জন গ্রামবাসী নিহত হওয়া এবং বোরনো রাজ্যের একটি স্কুল থেকে ৪৬ জন শিক্ষার্থী অপহৃত হওয়ার পর সরকারের ওপর তীব্র জনরোষ তৈরি হয়। যদিও অপহৃত শিক্ষার্থীদের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেনাবাহিনী উদ্ধার করতে সক্ষম হয় এবং সাম্প্রতিক অভিযানগুলোতে কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে, তবুও অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর নিত্যনতুন কৌশল ও সহিংসতা নাইজেরিয়ার জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে রেখেছে। মে মাসে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওয়ো রাজ্যের স্কুলে সমন্বিত হামলা চালিয়ে ৪৪ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে অপহরণের ঘটনা প্রমাণ করে যে, এই সহিংসতা এখন দেশের দক্ষিণাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, বিশাল আয়তনের এলাকাগুলো সামলাতে গিয়ে সেনাবাহিনীর বর্তমান অবকাঠামো ও রসদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছিল। নতুন ডিভিশন গঠন এবং উত্তর-পূর্ব ও মধ্য নাইজেরিয়ায় ৩টি নতুন সেনা সদর দপ্তর স্থাপনের ফলে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান সহজ হবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হবে।
সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে টিনুবু সরকার। সেনাবাহিনী ছাড়াও অতিরিক্ত ৫০ হাজার নতুন পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে রেকর্ড ৫.৪১ ট্রিলিয়ন নাইরা (প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বরাদ্দ করা হয়েছে।
সামরিক বাহিনীর পরিবর্তন অনুমোদন দেওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অবিলম্বে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে হুঁশিয়ারি দেন, অন্যথায় তাদের রাষ্ট্রের পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি হতে হবে। তবে সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বহু সৈন্য নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তরুণ নাইজেরীয়দের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে উৎসাহিত করাই এখন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।










