ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার জন্য লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, হিজবুল্লাহর দীর্ঘদিনের প্রতিরোধ বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
রবিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। পরে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি বিবৃতিটি প্রকাশ করে। বিবৃতি অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর কমান্ডার ও যোদ্ধাদের পাঠানো আনুগত্যের এক চিঠির জবাবে এই বার্তা দেন আয়াতুল্লাহ খামেনি। খামেনি বলেন, ইসরায়েল ও তার মিত্রদের ‘নৃশংস আগ্রাসনের’ বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহ অটলভাবে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, ‘আজ বিশ্বের অনেক জাতি যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং জায়নবাদী শাসনের অত্যাচার ও নিপীড়নে ক্লান্ত। তারা মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে। তাই প্রতিরোধ ছাড়া সামনে এগোনোর আর কোনো পথ নেই।’ তিনি আরো বলেন, হিজবুল্লাহর দীর্ঘদিনের সংগ্রাম বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা। এই সংগ্রাম অন্যায় ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানুষকে উৎসাহিত করছে।
খামেনি হিজবুল্লাহর কমান্ডার ও যোদ্ধাদের ধৈর্য, ত্যাগ এবং সহনশীলতারও প্রশংসা করেন। তার ভাষ্য, তাদের এই অঙ্গীকার ইসলামী মূল্যবোধ, ধর্মীয় আদর্শ এবং ইরানের ইসলামী বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম রুহুল্লাহ খোমেনির উত্তরাধিকারের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ইরান হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সমর্থন ও সুরক্ষাকে নিজেদের কৌশলগত দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে। প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনি দাবি করেন, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতির বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘জিহাদ ও প্রতিরোধ ছাড়া সামনে এগোনোর আর কোনো পথ নেই।’ একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ আন্দোলনেরই বিজয় হবে।
আরো পড়ুন
এআই ছবির ঝড় তুললেন ট্রাম্প, দিচ্ছেন সামরিক শক্তি ও রাজনৈতিক বার্তা
লেবাননের জনগণের দৃঢ়তারও প্রশংসা করেন খামেনি। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননের মানুষের ত্যাগকে তিনি হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ আন্দোলন টিকিয়ে রাখার অন্যতম প্রধান শক্তি বলে উল্লেখ করেন। তিনি আবারও বলেন, হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের রক্ষা করা ইরানের কৌশলগত অগ্রাধিকার। বিবৃতিতে খামেনি বলেন, লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে বন্ধ করা—এই দুটি বিষয়কে ইরান যেকোনো যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার প্রধান শর্ত হিসেবে দেখে। হিজবুল্লাহর সাবেক মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরাল্লাহসহ নিহত সদস্যদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগের কারণেই হিজবুল্লাহ একটি ছোট সংগঠন থেকে শক্তিশালী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এর ফলে ইসলামী বিশ্বে লেবাননের মর্যাদাও বেড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বার্তা শেষে তিনি হিজবুল্লাহর যোদ্ধা, সংগঠনের প্রবীণ সদস্য, বাস্তুচ্যুত মানুষ এবং নিহত সদস্যদের পরিবারের জন্য দোয়া করেন। একই সঙ্গে তিনি তাদের চূড়ান্ত সাফল্যের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রেস টিভির খবরে বলা হয়, এই বার্তাটি ছিল হিজবুল্লাহর সদস্যদের পাঠানো একটি আনুগত্যের চিঠির জবাব। সেই চিঠিতে হিজবুল্লাহর সদস্যরা খামেনিকে আশ্বস্ত করেন যে তারা সংগঠনের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখবেন এবং বিজয় অর্জনের লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এদিকে একই দিনে কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ বিন সালেহ আল খুলাইফি টেলিফোনে লেবাননের উপপ্রধানমন্ত্রী তারেক মিত্রির সঙ্গে কথা বলেন। ফোনালাপে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি লেবাননে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংকট মোকাবেলার বিষয়েও মতবিনিময় করেন। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্সে এক পোস্টে জানায়, লেবানন সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিরাপদ ও সম্মানজনকভাবে নিজ নিজ এলাকায় ফিরিয়ে নেওয়ার পরিবেশ তৈরির বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, কাতার লেবাননের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টায় আগের মতোই সমর্থন দিয়ে যাবে।