• ই-পেপার

এআই ছবির ঝড় তুললেন ট্রাম্প, দিচ্ছেন সামরিক শক্তি ও রাজনৈতিক বার্তা

ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা আক্রান্ত ৩২০০, মৃত্যু বেড়ে ১৪০৫

অনলাইন ডেস্ক
ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা আক্রান্ত ৩২০০, মৃত্যু বেড়ে ১৪০৫
ছবি : রয়টার্স

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে তিন হাজার ২০০ জনে পৌঁছেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৪০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার প্রকাশিত এ তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। মাত্র ১০ দিনে নতুন করে প্রায় এক হাজারজন আক্রান্ত হয়েছেন।

গত ১৫ মে এই প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। এটি ইবোলা ভাইরাসের বুন্ডিবুগিও ধরন, যার জন্য এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, আক্রান্তদের প্রায় ৯০ শতাংশ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশে শনাক্ত হয়েছে। এই প্রদেশের সীমান্ত দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডার সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে ভাইরাসটি পাঁচটি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে, যার মধ্যে দুটি নতুন প্রদেশও রয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিক বিমানসেবা (ইউএনএইচএএস) জানিয়েছে, দুর্গম এলাকায় চিকিৎসক ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে পরীক্ষাগারে নমুনা পাঠিয়ে সংক্রমণ শনাক্তের কাজও চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি।

কর্তৃপক্ষ বলছে, উন্নত পরীক্ষা ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থার কারণে আরো বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যকর্মীদের বকেয়া বেতনের দাবিতে ধর্মঘটের কারণে কিছু হাসপাতালে রোগ মোকাবেলার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই প্রাদুর্ভাব আরো কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে।

ইবোলা সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরের তরলের সংস্পর্শে ছড়ায় এবং এটি মারাত্মক রক্তক্ষরণজনিত জ্বর সৃষ্টি করে। গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় এ ভাইরাসে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, বুন্ডিবুগিও ধরনের বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা ও চিকিৎসা উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন।

‘প্রতিরোধ ছাড়া পথ নেই’, হিজবুল্লাহর প্রশংসায় খামেনি

অনলাইন ডেস্ক
‘প্রতিরোধ ছাড়া পথ নেই’, হিজবুল্লাহর প্রশংসায় খামেনি
ছবি: রয়টার্স

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার জন্য লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, হিজবুল্লাহর দীর্ঘদিনের প্রতিরোধ বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

রবিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। পরে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি বিবৃতিটি প্রকাশ করে। বিবৃতি অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর কমান্ডার ও যোদ্ধাদের পাঠানো আনুগত্যের এক চিঠির জবাবে এই বার্তা দেন আয়াতুল্লাহ খামেনি। খামেনি বলেন, ইসরায়েল ও তার মিত্রদের ‘নৃশংস আগ্রাসনের’ বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহ অটলভাবে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, 'আজ বিশ্বের অনেক জাতি যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং জায়নবাদী শাসনের অত্যাচার ও নিপীড়নে ক্লান্ত। তারা মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে। তাই প্রতিরোধ ছাড়া সামনে এগোনোর আর কোনো পথ নেই।' তিনি আরো বলেন, হিজবুল্লাহর দীর্ঘদিনের সংগ্রাম বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা। এই সংগ্রাম অন্যায় ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানুষকে উৎসাহিত করছে।

খামেনি হিজবুল্লাহর কমান্ডার ও যোদ্ধাদের ধৈর্য, ত্যাগ এবং সহনশীলতারও প্রশংসা করেন। তার ভাষ্য, তাদের এই অঙ্গীকার ইসলামী মূল্যবোধ, ধর্মীয় আদর্শ এবং ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম রুহুল্লাহ খোমেনির উত্তরাধিকারের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ইরান হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের সমর্থন ও সুরক্ষাকে নিজেদের কৌশলগত দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে। প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনি দাবি করেন, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতির বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছে। তিনি বলেন, 'জিহাদ ও প্রতিরোধ ছাড়া সামনে এগোনোর আর কোনো পথ নেই।' একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ আন্দোলনেরই বিজয় হবে।

লেবাননের জনগণের দৃঢ়তারও প্রশংসা করেন খামেনি। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননের মানুষের ত্যাগকে তিনি হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ আন্দোলন টিকিয়ে রাখার অন্যতম প্রধান শক্তি বলে উল্লেখ করেন। তিনি আবারও বলেন, হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের রক্ষা করা ইরানের কৌশলগত অগ্রাধিকার। বিবৃতিতে খামেনি বলেন, লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে বন্ধ করা—এই দুটি বিষয়কে ইরান যেকোনো যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার প্রধান শর্ত হিসেবে দেখে। হিজবুল্লাহর সাবেক মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরাল্লাহসহ নিহত সদস্যদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগের কারণেই হিজবুল্লাহ একটি ছোট সংগঠন থেকে শক্তিশালী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এর ফলে ইসলামি বিশ্বে লেবাননের মর্যাদাও বেড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বার্তার শেষে তিনি হিজবুল্লাহর যোদ্ধা, সংগঠনের প্রবীণ সদস্য, বাস্তুচ্যুত মানুষ এবং নিহত সদস্যদের পরিবারের জন্য দোয়া করেন। একই সঙ্গে তিনি তাদের চূড়ান্ত সাফল্যের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রেস টিভির খবরে বলা হয়, এই বার্তাটি ছিল হিজবুল্লাহর সদস্যদের পাঠানো একটি আনুগত্যের চিঠির জবাব। সেই চিঠিতে হিজবুল্লাহর সদস্যরা খামেনিকে আশ্বস্ত করেন যে, তারা সংগঠনের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখবেন এবং বিজয় অর্জনের লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে যাবেন।

এদিকে একই দিনে কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুলআজিজ বিন সালেহ আল খুলাইফি টেলিফোনে লেবাননের উপপ্রধানমন্ত্রী তারেক মিত্রির সঙ্গে কথা বলেন। ফোনালাপে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি লেবাননে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংকট মোকাবিলার বিষয়েও মতবিনিময় করেন। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্সে এক পোস্টে জানায়, লেবানন সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিরাপদ ও সম্মানজনকভাবে নিজ নিজ এলাকায় ফিরিয়ে নেওয়ার পরিবেশ তৈরির বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, কাতার লেবাননের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টায় আগের মতোই সমর্থন দিয়ে যাবে।


 

যুক্তরাষ্ট্রে খাবার উৎসবে বন্দুক হামলায় নিহত ২, আহত ৫

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে খাবার উৎসবে বন্দুক হামলায় নিহত ২, আহত ৫
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল শহরে একটি জনপ্রিয় খাবার উৎসবে বন্দুক হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একটি ছোট শিশু রয়েছে। হামলার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

রবিবার সন্ধ্যায় সিয়াটলের বিখ্যাত ‘স্পেস নিডল’ টাওয়ারের কাছের ‘সিয়াটল সেন্টারে’ এ ঘটনা ঘটে। সিয়াটল অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বন্দুক হামলায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে সিয়াটল সেন্টারে চলা ‘বাইট অব সিয়াটল’ খাবার উৎসবের মধ্যে গুলির ঘটনা ঘটে। হামলার খবর পাওয়ার পর বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য, দমকলকর্মী এবং জরুরিসেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তারা পুরো এলাকা খালি করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেন। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে নগরীর কেন্দ্রের ঠিক উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ওই এলাকা এড়িয়ে চলতে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে।
 
হারবারভিউ মেডিক্যাল সেন্টারের মুখপাত্র সুসান গ্রেগ জানান, হাসপাতালে চারজন আহতকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক ছোট শিশু, ২৩ বছর বয়সী এক তরুণ এবং দুজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী রয়েছেন। তিনি জানান, আহতদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার সময় উৎসবে উপস্থিত ছিলেন এস্তান ওয়াকোনাবো। তিনি জানান, তিনি ও তার বান্ধবী একটি ছবি তোলার বুথের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ কেউ তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। ঘুরে তাকিয়ে তিনি দেখেন, চারদিকে মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াচ্ছে।

ওয়াকোনাবো বলেন, ‘মানুষ নিরাপদ জায়গায় লুকানোর চেষ্টা করছিল। সবাই একে অন্যকে ধাক্কা দিচ্ছিল। অনেকে মাটিতে পড়ে যাচ্ছিল। এমনকি শিশুদের ঠেলাগাড়িও উল্টে যাচ্ছিল।’  এরপরই তিনি গুলির শব্দ শুনতে পান। তার ভাষায়, “আমি যখন ‘পপ, পপ, পপ’ শব্দ শুনলাম, তখনই বুঝতে পারলাম একজন বন্দুকধারী গুলি চালাচ্ছে।”  তিনি জানান, প্রথমে তিনি তার বান্ধবীকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। পরে আবার ঘটনাস্থলে ফিরে এসে মাটিতে পড়ে থাকা একাধিক আহত ব্যক্তিকে দেখতে পান।

উল্লেখ্য যে, ‘বাইট অব সিয়াটল’ শহরের অন্যতম বড় খাবার উৎসব। আয়োজকদের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮২ সালে এই উৎসব শুরু হয়। প্রতিবছর তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিভিন্ন ধরনের খাবার, পানীয় এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ অংশ নেয়।
 

জাহাজে হামলার পর ইউক্রেনকে ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি

অনলাইন ডেস্ক
জাহাজে হামলার পর ইউক্রেনকে ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি
ছবি: রয়টার্স

কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় ইউক্রেনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বলেছেন, এই হামলার জবাব দেওয়া হবে এবং ইরান কোনো হামলা বিনা জবাবে ছেড়ে দেবে না।

রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আজিজি এ কথা বলেন। এর আগে কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হন। ইরান এই হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে। আজিজি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি বা হামলার জবাব দিতে দেশটি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি লেখেন, ‘ইরানের ওপর যেকোনো হামলার মূল্য দিতে হয়। অতীতেও তা হয়েছে, এখনো হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এটি ভালোভাবেই জানে। ইউক্রেনও খুব শিগগির বুঝতে পারবে, ইরান কোনো পদক্ষেপের জবাব না দিয়ে ছেড়ে দেয় না।’ আরেকটি পোস্টে তিনি বলেন, ‘যারা ভুল হিসাব করেছে, তাদের তালিকা আরো বড় হচ্ছে।’

একই ঘটনায় রবিবার প্রতিক্রিয়া জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচি। তিনি ইরানি জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ঘটনার জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে। এক্সে দেওয়া পোস্টে আরাগচি দাবি করেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিজেই ইরানি জাহাজে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি। তিনি আরো অভিযোগ করেন, ইউরোপকে নিজেদের যুদ্ধে টেনে আনতে ইসরায়েলের ইচ্ছায় এই হামলা চালানো হয়েছে এবং এর মাধ্যমে জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন করা হয়েছে। আরাগচি লেখেন, ‘জেলেনস্কি একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছেন। এতে একজন নাবিক নিহত হয়েছেন। ইউরোপকে নিজেদের যুদ্ধে টেনে আনতে ইসরায়েলের ইচ্ছায় প্রকাশ্যে জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন করে এই হামলা চালানো হয়েছে।’ তিনি আরো জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময়ও তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই হামলার জবাব না দিয়ে ইরান বসে থাকবে না।

হামলার ঘটনায় এর আগেই তেহরানে ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে ইরান। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, ইউরেশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মহাপরিচালক মানুচেহর মোরাদি ইউক্রেনের কূটনীতিবিদের কাছে তেহরানের কড়া প্রতিবাদ তুলে ধরেন। তিনি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাকে ‘শত্রুতাপূর্ণ ও অপরাধমূলক কাজ’ বলে উল্লেখ করেন। মোরাদির ভাষ্য, এই হামলা জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন এবং এটি আগ্রাসনের শামিল। পাশাপাশি কাস্পিয়ান সাগরসংলগ্ন দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্যও এটি একটি বড় হুমকি। তিনি বলেন, এই ঘটনার জন্য ইউক্রেনকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটি নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের ওপর কোনো হামলা বিনা জবাবে ছেড়ে দেওয়া হবে না। ইরানের কূটনৈতিক প্রতিবাদের আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক্সে এক পোস্টে জানান, ইউক্রেন রাশিয়ার সামরিক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, এসব হামলার মধ্যে কাস্পিয়ান সাগরের লক্ষ্যবস্তুও ছিল। তবে জেলেনস্কি তার পোস্টে কোনো ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কথা উল্লেখ করেননি।