• ই-পেপার

ইউক্রেনের ২৫০ ড্রোন ভূপাতিত করেছে রাশিয়া

রাজনৈতিক বিবেচনায় বরাদ্দ বাতিল, আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের স্বীকারোক্তি

অনলাইন ডেস্ক
রাজনৈতিক বিবেচনায় বরাদ্দ বাতিল, আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের স্বীকারোক্তি
সংগৃহীত ছবি

তৃতীয় বিশ্বে অহরহ এ ধরনের ঘটনা ঘটে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যাপারটা অভিনবই বটে। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রকল্পের কয়েক বিলিয়ন ডলারের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। আদালতে জমা দেওয়া এক নথিতে জ্বালানি বিভাগ এ কথা স্বীকার করেছে।

ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ফেডারেল সরকার এবং জনগণের ট্যাক্সের টাকাকে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ ও প্রতিপক্ষকে শাস্তি দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে; যা সম্পূর্ণ বেআইনি, অসাংবিধানিক এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ক্ষমতার অপব্যবহার।

ট্রাম্প প্রশাসন যখন পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ অনুদান বাতিল করে, তখন ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার একদল গবেষক এর বিরুদ্ধে একটি যৌথ মামলা করেন। মামলায় মূল অভিযোগ ছিল, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এসব অনুদান বন্ধ করা হয়েছে। এই মামলারই অংশ হিসেবে গত ১৫ জুলাই জ্বালানি বিভাগ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক আইনি নথি আদালতে জমা দেওয়া হয়। সেখানে স্বীকার করা হয়, অনুদান বাতিলের সিদ্ধান্ত কোনো কাজের পারফরম্যান্স বা বাজেট কমানোর জন্য ছিল না; এটি নেওয়া হয়েছিল কেবলমাত্র রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে।

এই নথির ভিত্তিতে নিউ ইয়র্ক টাইমস রিপোর্ট প্রকাশ করলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও হৈচৈ শুরু হয়। আদালতে জমা দেওয়া নথি বিশ্লেষণ করে রিপোর্টে বলা হয়, গত নির্বাচনে যেসব রাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস জিতেছিলেন এবং যেসব রাজ্যে দুজন সিনেটরই ডেমোক্র্যাট দলের; কেবল সেইসব ডেমোক্র্যাটশাসিত রাজ্যগুলোর কয়েক বিলিয়ন ডলারের ২৮৪টি প্রকল্পের অনুদান বাতিল করা হয়েছে। বিপরীতে, ট্রাম্প সমর্থিত রিপাবলিকানশাসিত রাজ্যগুলোর তহবিল বহাল রাখা হয়েছে।

তবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক বিবেচনার অভ্যাস একেবারে নতুন নয়। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া এবং ডেমোক্র্যাট-শাসিত রাজ্যগুলোতে ফেডারেল অর্থায়ন বাধাগ্রস্ত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্প প্রশাসন ডেমোক্র্যাট-শাসিত ৫টি রাজ্যের সামাজিক সেবামূলক খাতের ১০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল স্থগিত করার চেষ্টা করেছিল। যদিও পরে তারা সেই প্রচেষ্টা থেকে সরে আসে। গত ফেব্রুয়ারিতে ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি  বিভিন্ন রাজ্যের জন্য দীর্ঘকাল ধরে আটকে থাকা ৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি দুর্যোগ সহায়তা তহবিল ছাড় করে। তবে এতে এমন কয়েকটি ডেমোক্র্যাট-শাসিত রাজ্যকে বাদ দেওয়া হয়, যাদের গভর্নরদের সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ ছিল।

সিনেটের মাইনোরিটি লিডার ও ডেমোক্র্যাট সদস্য চাক শুমার আদালতে জ্বালানি বিভাগের স্বীকারোক্তিকে ‘নজিরবিহীন ট্রাম্পবাদ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এটি এমন একটি বিষয় যা আমাদের কখনোই স্বাভাবিকভাবে নেওয়া উচিত নয়। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ শুমার লিখেছেন, ‘ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করছেন যে তিনি কঠোর পরিশ্রমী পরিবারগুলোর ওপর আঘাত হানছেন, যাতে তিনি সেইসব আমেরিকানদের ওপর প্রতিশোধ নিতে পারেন, যারা তাকে ভোট দেয়নি। এটি অত্যন্ত অসুস্থ ও বিকৃত মানসিকতা। তার অহংকার এতটাই ঠুনকো যে, সামান্য প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তিনি এমন সব পরিবারকে শাস্তি দিচ্ছেন, যারা দুবেলা অন্নসংস্থানের জন্য এমনিতেই সংগ্রাম করছে।’

মেরিল্যান্ডের কংগ্রেস সদস্য জেমি রাস্কিন ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে আমেরিকার সঙ্গে এক চরম বিশ্বাসঘাতকতা বলে উল্লেখ করেছেন এবং অবিলম্বে এই তহবিলগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এক্স-এ রাস্কিন লিখেছেন, ‘এই গণ-দলীয় প্রতিশোধমূলক আচরণ অত্যন্ত জঘন্য, আপত্তিকর, বিপজ্জনক, বেআইনি, অসাংবিধানিক, দেশদ্রোহী এবং এই প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি মস্ত বড় অপরাধ। ট্রাম্প জানতেন বাইডেন আমলের এই অনুদানগুলো আমেরিকান জনগণের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল; আর সেই কারণেই তিনি রেড স্টেট (রিপাবলিকান-শাসিত)-গুলোর অনুদান কাটেননি। কিন্তু ব্লু স্টেটগুলোর (ডেমোক্র্যাট শাসিত) অনুদান কেটে দিয়েছেন।’

উভয় কক্ষের বাজেট বরাদ্দকারী কমিটির দুই ডেমোক্র্যাট সদস্য ওহাইও-র রিপ্রেজেন্টেটিভ মার্সি ক্যাপ্টুর এবং ওয়াশিংটনের সিনেটর পটি মারে এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এটি একটি বিস্ময়কর স্বীকারোক্তি যে প্রেসিডেন্ট এবং তার দল রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে ভালো কর্মসংস্থান ধ্বংস করতে এবং কঠোর পরিশ্রমী পরিবারগুলোকে শাস্তি দিতে দুর্নীতিগ্রস্তভাবে তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে, ফেডারেল সরকারকে এভাবে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা সম্পূর্ণভাবে আমেরিকা-বিরোধী।’

পরীক্ষা সংস্কারে নতুন পদক্ষেপ নিলেন নরেন্দ্র মোদি

অনলাইন ডেস্ক
পরীক্ষা সংস্কারে নতুন পদক্ষেপ নিলেন নরেন্দ্র মোদি
ছবি : রয়টার্স

প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের মুখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের পর এবার পরীক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিশ্বখ্যাত ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রযুক্তিবিদ নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা জানান। সেখানে মোদি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় কেন্দ্র সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। যারা পরীক্ষায় অনিয়ম করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।

আমরা ইতোমধ্যে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, একই সঙ্গে কঠোর আইনি বিধান সংযোজন করে নতুন আইন প্রণয়নের দিকেও এগোচ্ছি। তবে ভবিষ্যতের দিকেও নজর দিতে হবে। আমাদের পরীক্ষা ব্যবস্থা হতে হবে নির্ভরযোগ্য, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তিনির্ভর।

প্রধানমন্ত্রী জানান, নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে গঠিত টাস্কফোর্স পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে সুপারিশ করবে এবং ভবিষ্যতের পরীক্ষাগুলোর স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।

এদিকে ভারতের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে টানা ৩৭ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির দাবি, কেন্দ্র সরকার তাদের উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় ‘সদিচ্ছার নিদর্শন’ হিসেবে তারা কর্মসূচি স্থগিত করেছে।

নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে বাকি দাবিগুলোও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠকের পর সরকার নিট পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যাকারীদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে।

সিজেপি জানিয়েছে, তারা শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের লক্ষ্যে পাঁচ দফা প্রস্তাব সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। চার সপ্তাহ পর এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আরেক দফা বৈঠক হবে। 

সংগঠনটির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, তাদের মূল দাবিগুলো নীতিগতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। তাই আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

হরমুজে তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজে তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ
সংগৃহীত ছবি

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে নৌ-মাইনে ধাক্কা খাওয়ার পর একটি তেলবাহী ট্যাংকার বিস্ফোরিত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে তেহরান-অনুমোদিত রুট ত্যাগ করার পরই জাহাজটি মাইনে ধাক্কা খায় বলে জানায় তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সামরিক বাহিনীর নির্ধারিত পথ থেকে সরে যাওয়ার পর ট্যাংকারটি একটি নৌমাইনে ধাক্কা খাওয়ায় এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে এই ঘটনা সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ইরানি কর্তৃপক্ষ। 

এর আগে ইরান বারবার সতর্ক করেছিল—জাহাজগুলো যদি ইরানের নির্ধারিত রুট থেকে বিচ্যুত হয়, তবে এর পরিণতি তাদেরকেই ভোগ করতে হবে।

এক বিবৃতিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে ইচ্ছুক যেকোনো জাহাজকে অবশ্যই ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত রুট দিয়ে চলাচলে বাধ্যবাধকতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত

অনলাইন ডেস্ক
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত
সংগৃহীত ছবি

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় হামাস-নিয়ন্ত্রিত ফিলিস্তিনি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং তার এক সহযোগী নিহত হয়েছেন।

দেইর আল-বালাহ শহরে রবিবার চালানো ওই হামলায় তারা নিহত হন। নিহতরা হলেন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান কর্নেল ওয়ায়েল আল-লেদাওয়ি এবং তার সহযোগী মেজর রামেজ আবু জারাইক।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে সেখানকার চিকিৎসাকর্মী ও হামাস পরিচালিত গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার সময় তারা একটি গাড়িতে করে দেইর আল-বালাহ দিয়ে যাচ্ছিলেন।

এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা হামাসের একজন যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে তারা বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

গত কয়েক মাসে ইসরায়েল হামাস-নিয়ন্ত্রিত পুলিশ বাহিনীর বহু সদস্য ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে। ইসরায়েলের দাবি, তাদের অনেকেই হামাসের সশস্ত্র শাখার সদস্য ছিলেন এবং গাজায় অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করছিলেন।

অন্যদিকে হামাসের দাবি, পুলিশ বাহিনী ও তাদের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের হামলার উদ্দেশ্য গাজায় বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করা। একই সঙ্গে এসব হামলা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরে কার্যকর হওয়া ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তিরও লঙ্ঘন।

ইউক্রেনের ২৫০ ড্রোন ভূপাতিত করেছে রাশিয়া | কালের কণ্ঠ