যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে গবাদি পশুর জন্য মাংসখেকো পরজীবী ‘স্ক্রুওয়ার্ম’-এর দ্বিতীয় একটি সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত করেছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। চলতি সপ্তাহে যেখানে প্রথম এই পরজীবীটি পাওয়া গিয়েছিল, তার থেকে ৫.৬ মাইল (৯ কিলোমিটার) দূরে নতুন এই সংক্রমণটি শনাক্ত হলো। ফলে মার্কিন গবাদি পশুপালকদের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
ইউএসডিএ জানিয়েছে, টেক্সাসের জাভালা কাউন্টির একটি খামারে এক মাস বয়সী একটি বাছুরের শরীরে এই ক্ষতিকর পরজীবীটি পাওয়া গেছে। অ্যানিমেল অ্যান্ড প্ল্যান্ট হেলথ ইন্সপেকশন সার্ভিস (এপিএইচআইএস) বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক নমুনা পরীক্ষা করার পর এই দ্বিতীয় উপদ্রবটি নিশ্চিত করেছে। তবে আশেপাশের এলাকার অন্যান্য খামার থেকে সংগৃহীত নমুনার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।
স্ক্রুওয়ার্ম হলো মূলত এক ধরণের পরজীবী মাছি। এটি গরু বা অন্য যেকোনো উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণীর খোলা ক্ষত বা নরম চামড়ায় ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে লার্ভা বের হওয়ার পর, এরা পশুর জ্যান্ত মাংস ও টিস্যু কুড়ে কুড়ে খায় এবং রক্ত চুষে জীবনধারণ করে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করা হলে আক্রান্ত পশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
এর আগে ১৯৬০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে এই পরজীবীর প্রাদুর্ভাব বন্যপ্রাণী ও গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি করেছিল। টেক্সাস আমেরিকার বৃহত্তম গবাদি পশু উৎপাদনকারী রাজ্য হওয়ায়, এবারও এর বিস্তার ঘটলে পশুদের মৃত্যুসহ চিকিৎসা ও অতিরিক্ত শ্রমজনিত কারণে খামারিদের বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। মেক্সিকোর মধ্য দিয়ে এই পোকাটি উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, যা নিয়ে গত এক বছর ধরেই টেক্সাসের খামারিরা আশঙ্কার মধ্যে ছিলেন।
ঝুঁকি এড়াতে মার্কিন প্রশাসন গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মেক্সিকো থেকে জীবিত গবাদি পশু আমদানি বন্ধ রেখেছে। এ ছাড়া এই ক্ষতিকর পোকার বিস্তার রোধ করতে লক্ষ লক্ষ ডলার ব্যয় করা হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে ল্যাবরেটরিতে বন্ধ্যা মাছি উৎপাদন করে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া, পোকা ধরার জন্য ফাঁদ পাতার কর্মসূচি বাড়ানো এবং খামারগুলোতে গবাদি পশু পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরো জোরদার করা।
সূত্র : রয়টার্স




