তীব্র জ্বালানিসংকট ও বিদ্যুৎ গ্রিড পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় সোমবার (৬ জুলাই) কিউবায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট (ব্ল্যাকআউট) দেখা দিয়েছে। প্রায় ১ কোটি মানুষের এই দেশটিতে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হলেও, কখন নাগাদ সরবরাহ ঠিক হবে তা নিশ্চিত করা যায়নি। কিউবার রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ কম্পানি ‘ইলেকট্রিক ইউনিয়ন’ জানিয়েছে, হঠাৎ গ্রিড ভেঙে পড়ার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে দেশটির জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বিদ্যুৎব্যবস্থা সচল করতে বিশেষ প্রোটোকল চালু করেছে।
মূলত গত জানুয়ারি মাস থেকেই কিউবাজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র ঘাটতি চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবাতে তেল সরবরাহকারী যেকোনো দেশের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার পর থেকেই এই সংকট আরো গভীর হয়েছে। এর ফলে বাইরে থেকে তেল আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
টানা বিদ্যুৎ না থাকায় কিউবার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। দেশে গণপরিবহন চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। হাসপাতালগুলোতে হাজার হাজার জরুরি অস্ত্রোপচার বাতিল করতে হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পানি ও গ্যাসের সরবরাহও বন্ধ হয়ে গেছে।
হাভানার বাসিন্দা ৩৬ বছর বয়সী লিনা মে আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাবাকে বলেছি এখন কাঠকয়লা কিনতে হবে, না হলে আমরা না খেয়েই মারা যাব।’ আরেক বাসিন্দা মারিও পেদ্রোসো হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে দেশে তেল আসছে না। কষ্ট সহ্য করা ছাড়া এখন আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’
কিউবা তাদের চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ জ্বালানি নিজেরা উৎপাদন করতে পারে। বাকিটা আমদানির ওপর নির্ভরশীল। গত মার্চ মাসের শেষে রাশিয়া থেকে ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল তেল এলেও এপ্রিলের শেষেই তা ফুরিয়ে যায়। জ্বালানি বাঁচাতে সরকার নিজেই প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা এলাকাভিত্তিক বিদ্যুৎ বন্ধ রাখছিল, যা অনেক সময় ২৪ ঘণ্টাও পার হয়ে যাচ্ছিল। এর আগে মার্চ ও মে মাসেও দেশটিতে এমন বড় ধরনের ব্ল্যাকআউট বা বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছিল।





