• ই-পেপার

যুক্তরাজ্যে সন্দেহজনক গাড়ির খবরে বিমানবন্দর খালি করল পুলিশ

নেপালে জেন-জি সরকারের বিরুদ্ধে জেন-জিদের আন্দোলন

অনলাইন ডেস্ক
নেপালে জেন-জি সরকারের বিরুদ্ধে জেন-জিদের আন্দোলন
সংগৃহীত ছবি

নেপালে কে পি শর্মা ওলি সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ ছিল ব্যাপক দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা আর বেকারত্বের কারণে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তরুণ প্রজন্মের মাত্র ২ দিনের আন্দোলনে পতন ঘটেছিল ওলি সরকারের। সেই আন্দোলনেরই ফসল বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল বিজয় পায় বালেন্দ্র শাহর দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি। ২৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বালেন্দ্র শাহ। র‌্যাপার থেকে মেয়র ও মেয়র থেকে মাত্র ৩৫ বছর বয়সেই প্রধানমন্ত্রী বনে গিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন বালেন্দ্র শাহ। কিন্তু সেই চমক ১০০ দিনও টেকেনি। বিপুল প্রত্যাশার বিপরীতে চরম হতাশাই শুধু পেয়েছে নেপালের মানুষ। যাদের আন্দোলনের ফসল বালেন্দ্র সরকার, সেই জেন-জিরাই আবার মাঠে নেমেছে তার বিরুদ্ধে। ১০০ দিনের মাথায় জেন-জি সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে জেন-জিদের মাঠে নামার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ হলেও তেমন অবাক হননি কেউই। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকারের একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্ত ক্ষুব্ধ করছিল মানুষকে, যার বিস্ফোরণ ঘটে রবিবার।

কাঠমাণ্ডুকে পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টায় দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তখনকার মেয়র আজকের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। সেই চেষ্টা তিনি অব্যাহত রাখতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরও। কিন্তু শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে গিয়ে তার সরকার কোনো পুনর্বাসন পরিকল্পনা ছাড়াই বস্তি এবং ফুটপাতের ভাসমান দোকান উচ্ছেদের অভিযানে নামে। সরকার ভাবেনি উচ্ছেদ করা লোকজন যাবে কই, থাকবে কোথায়, খাবে কী? দারিদ্র্য দূর করার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া বালেন্দ্র সরকার দরিদ্রদেরই শহর থেকে বের করে দিতে চাইছে। ‘গরিবি হটাও’ স্লোগান পরিণত হয়েছে ‘গরিব হটাও’-এর বাস্তবতায়। এসব উচ্ছেদ অভিযানে পুলিশের কঠোর ভূমিকা মানুষকে ক্ষুব্ধ করে। বস্তি উচ্ছেদের পর অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র থেকেও গরিব মানুষদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে সরকার। এমনকি উচ্ছেদ হওয়া মানুষদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে পুলিশের নির্মমতা ও গণগ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন বেশ কয়েকজন তরুণ অ্যাক্টিভিস্ট, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক। পুলিশের লাঠিচার্জে আহত কাউকে কাউকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হকারদের পেছনে পুলিশ দৌড়াচ্ছে, তাদের  পেটাচ্ছে, তাদের মালামাল জব্দ করছে, উচ্ছেদ করতে গিয়ে বস্তিবাসীদের ওপর চড়াও হচ্ছে পুলিশ—এমন অনেক ভিডিওতে এখন সয়লাব নেপালের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। 

নেপালের জনগণ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম আশা করেছিল দুর্নীতিবাজ ওলি সরকারের বিদায়ের পর তাদের সমর্থনে ক্ষমতায় আসা নতুন সরকার তাদের সব সমস্যার সমাধান করে দেবে। সেটা হয়তো রাতারাতি সম্ভব নয়। কিন্তু সমাধানের কোনো চেষ্টা বা পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসতে পারেনি সরকার। বরং কর্তৃত্ববাদী আর নিষ্ঠুর আচরণে মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছে। গত ৪ জুলাই বালেন্দ্র শাহ সরকার বর্ণাঢ্য আয়োজনে তাদের ক্ষমতার ১০০ দিন উদযাপন করেছে। কিন্তু জমকালো সেই আয়োজনের আড়ালে ছিল গরিব মানুষের হাহাকার, সাধারণ মানুষের হতাশা আর জেন-জিদের ক্ষোভ। আন্দোলনকারী সংগঠন ‘জেন-জি নেপাল’-এর অভিযোগ, বালেন্দ্র শাহ সরকার দেশের যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন বাজেটে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

একসময় নেপালের তরুণ প্রজন্মের আইডল ছিলেন বালেন্দ্র শাহ। একসঙ্গে মাঠে আন্দোলন করে ওলি সরবারকে হটালেও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে বালেন্দ্র শাহ যেন দূর আকাশের তারা। সাধারণ মানুষ তো বটেই, তরুণ প্রজন্মের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর কোনো যোগাযোগ নেই। জেন-জিদের ভাষাই যেন ভুলে গেছেন তিনি। বালেন্দ্র বরাবরই সরাসরি জনগণের সামনে বা গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়া এড়িয়ে চলেন। যুবসমাজের এই ক্ষোভ-বিক্ষোভ, পুলিশের অত্যাচার, গরিব মানুষের হাহাকার, কিছুই যেন পৌঁছায় না প্রধানমন্ত্রীর কানে। বালেন্দ্র শাহর এই রহস্যময় নীরবতা আন্দোলনকারীদের আরো বেশি আশাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে।

নেপালের তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা তো পূরণ হয়ইনি, বরং পুলিশের কর্তৃত্ববাদী আচরণে তাদের ক্ষোভ আরো বেড়েছে। সেই ক্ষোভের আগুনে সত্যিকার অর্থেই পেট্রল ঢেলে দিয়েছেন ২৫ বছর বয়সী রাইড শেয়ারের চালক গণেশ নেপালি। গত বৃহস্পতিবার গণেশ কাঠমাণ্ডুর একটি রাস্তায় যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তখনই পুলিশ এসে ভুল পার্কিংয়ের অভিযোগে তাকে জরিমানা করে এবং তার মোটরসাইকেলের চাকায় তালা লাগিয়ে দেয়। পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে গণেশ নিজের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শুক্রবার গণেশ মারা যান। গণেশের পর গত তিন দিনে কাঠমাণ্ডুতে এ ধরনের আরো অন্তত তিনটি প্রতিবাদের ঘটনা ঘটেছে, যাতে আরো ২ জন মারা গেছেন।
সব মিলিয়ে গণ-আন্দোলনের ১০ মাসের মাথায় আবার রাস্তায় নেমে আসে জেন-জি প্রজন্ম। নিজেদের সমর্থনে গঠিত সরকারের বিরুদ্ধেই তাদের যত ক্ষোভ এখন। রবিবার শত শত মানুষ রাজধানীর সিংদরবার সচিবালয়ের সামনে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে। তারা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এবং সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করছে। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল—‘দরিদ্রদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করো’, ‘মানবাধিকারকে সম্মান করো’, ‘গ্রেপ্তার-নিযাতন বন্ধ করো’। বিক্ষোভকারীরা প্রশাসনের প্রতি উচ্ছেদ হওয়া বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনেরও দাবি জানায়।

রবিবারের আন্দোলনের ভাষা ও ধরনের সঙ্গে গতবছরের সেপ্টেম্বরে জেন-জি প্রজন্মের আন্দোলনের মিল দেখতে পাচ্ছেন অনেকে। বালেন্দ্র শাহ এ আন্দোলন কিভাবে মোকাবেলা করবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে নেপালের রাজনীতির ভবিষ্যৎ।

বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ মাছ ধরা ট্রলার থেকে ৯ জেলের মরদেহ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ মাছ ধরা ট্রলার থেকে ৯ জেলের মরদেহ উদ্ধার
ছবি : আইস্টক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূল থেকে বঙ্গোপসাগরের নিখোঁজ মাছ ধরা ট্রলার থেকে ৯ জেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এতে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৬ জেলে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বকখালি ও সুন্দরবন উপকূলবর্তী এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) এ তথ্য জানায় সুন্দরবন থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা। খবর দ্য ওয়াল
 
গত ৪ জুলাই পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘার শঙ্করপুর মৎস্যবন্দর ১৫ জেলেসহ ট্রলারটি মাছ ধরতে সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিল। প্রতিকূল আবহাওয়ার কবলে পড়ে বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ হয়ে যায় ট্রলারটি। টানা আট দিন অনুসন্ধানের পর রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালি উপকূল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে বাঘেরচরের কাছে ট্রলারটির অবস্থান চিহ্নিত করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, বন অধিদপ্তর এবং ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর যৌথ অভিযানে ট্রলারটি উদ্ধার করে সীতারামপুরে নিয়ে আসা হয়। রাতভর তল্লাশির পর ট্রলারের ভেতর থেকে ৯ জন জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে শঙ্করপুর থেকে ট্রলারের মালিকপক্ষ কাকদ্বীপে পৌঁছেছেন। মৎস্যজীবী সংগঠনের উদ্যোগে একাধিক ট্রলার উদ্ধারকাজে অংশ নেয় এবং দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রলারটিকে উপকূল পর্যন্ত টেনে আনা হয়।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজের তদারকি করেন সুন্দরবন উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ট্রলারের ভেতরে বা আশপাশে আরো দেহ আটকে থাকতে পারে। সেই কারণেই দিনভর তল্লাশি অভিযান চলবে বলে জানা গেছে।

সমুদ্রে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে শঙ্করপুরসহ উপকূলবর্তী মৎস্যজীবী মহলে। এখনো নিখোঁজ ৬ জনের খোঁজ না মেলায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। 

ইউক্রেনের মালবাহী জাহাজে রুশ হামলা, ৩ জনের প্রাণহানি

অনলাইন ডেস্ক
ইউক্রেনের মালবাহী জাহাজে রুশ হামলা, ৩ জনের প্রাণহানি
ওডেসায় রুশ ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইউক্রেনীয় স্থাপনা। ছবি : রয়টার্স

ইউক্রেনের ওডেসা অঞ্চলে মালবাহী জাহাজে রাশিয়ার হামলায় তিনজন ক্রু নিহত হয়েছেন। এতে আরো পাঁচজন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৩ জুলাই)  ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা এবং ওডেসার আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ কিপার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গভর্নর ওলেহ কিপার জানিয়েছেন, জাহাজটি টোগোর পতাকাধারী একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজ ছিল। খনিজ সার বহনকারী জাহাজটি হামলার সময় ওডেসা অঞ্চলে নোঙর করা ছিল।

স্পেনের ঐতিহ্যবাহী সান ফেরমিন উৎসবে লাখো পর্যটকের ঢল

ক্রীড়া ডেস্ক
স্পেনের ঐতিহ্যবাহী সান ফেরমিন উৎসবে লাখো পর্যটকের ঢল
ছবি : রয়টার্স

স্পেনের পাম্পলোনাজ শহরের উদযাপিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী সান ফের্মিন উৎসব। এটি প্রতিবছর ৬ জুলাই দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয়ে ১৪ জুলাই মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত চলে। এ সময় শহরের প্রায় ৮৭৫ মিটার দীর্ঘ সরু ও আঁকাবাঁকা পাথুরে রাস্তায় ৬টি ক্ষ্যাপাটে ষাঁড়ের সামনে শত শত মানুষ প্রাণ হাতে নিয়ে দৌড়ান। দৌড়টি শহরের প্লাজা দে তোরোসে গিয়ে শেষ হয়। বিপজ্জনক ও রোমাঞ্চকর উৎসবটি দেখতে শহরটি ঢল নামে লাখো পর্যটকের।

এটি স্পেনের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং ঐতিহ্যবাহীর উৎসবের একটি। বিশ্বজুড়ে এটি মূলত বিপজ্জনক ‘রানিং অব দ্য বুলস’ বা ষাঁড়ের দৌড় নামে পরিচিত। 

উৎসবটি ৬ জুলাই ঠিক দুপুর ১২টায় পাম্পলোনা সিটি হলের ব্যালকনি থেকে আতশবাজি ফুটিয়ে এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। হাজার হাজার মানুষ সাদা পোশাক এবং লাল স্কার্ফ পরে সিটি হলের সামনে জড়ো হয়ে শ্যাম্পেন ও ওয়াইন ছিটিয়ে আনন্দ উল্লাস করেন।

যুক্তরাজ্যে সন্দেহজনক গাড়ির খবরে বিমানবন্দর খালি করল পুলিশ | কালের কণ্ঠ