বাংলাদেশে মানসিক রোগে আক্রান্ত ৯২ শতাংশেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশু/কিশোর-কিশোরী কোনো মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পায় না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
আজ (১৩ জুলাই) সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তরে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে এই কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী অক্ষমতাজনিত রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে মানসিক রোগ দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে বিষণ্নতা ও উদ্বেগজনিত মানসিক সমস্যা বর্তমানে মানুষের অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। যদিও মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে হৃদরোগ ও ক্যান্সার এখনো শীর্ষে অবস্থান করছে। তবে মানুষের দৈনন্দিন কর্মক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে মানসিক ব্যাধিই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৮-১৯ এর পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংসদে তিনি জানান, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের প্রায় ১২ দশমিক ৬ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আক্রান্তদের মধ্যে ৯২ শতাংশেরও বেশি ব্যক্তি কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবা নেন না বা সেবার আওতার বাইরে থেকে যান। বাংলাদেশে বর্তমানে জনসংখ্যার তুলনায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ-সুবিধা এখনো পর্যাপ্ত নয়। দেশে প্রতি ১ লাখ জনগণের বিপরীতে মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন মাত্র ১ দশমিক ১৭ জন। এ ছাড়া সরকারি খাতে নিবন্ধিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা প্রায় ৩৫০ জন, যা বিশাল জনসংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
এই বিশাল ঘাটতি পূরণে এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা বাড়াতে সরকারের নানান পরিকল্পনার কথা সংসদে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং পাবনা মানসিক হাসপাতালকে দেশের প্রধান বিশেষায়িত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করা হচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্যখাতের আইনি ও কৌশলগত উন্নয়নে এরইমধ্যে ‘মানসিক স্বাস্থ্য আইন, ২০১৮’ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কৌশলপত্র ও কর্মপরিকল্পনা (২০২০-২০৩০) বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এছাড়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মানসিক স্বাস্থ্য কার্যক্রম আরো গতিশীল ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পৃথক পরিচালক পদ সৃষ্টির একটি প্রস্তাব বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা স্তরে মানসিক চিকিৎসা পৌঁছে দিতে সরকারের নানা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘মেন্টাল হেলথ গ্যাপ অ্যাকশন প্রোগ্রাম’ বা এমএইচজিএপ-এর আওতায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশের খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ, নোয়াখালী, বান্দরবান, সিলেট, শেরপুর, নেত্রকোনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুড়িগ্রাম এই ১০টি জেলায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান। এর পাশাপাশি দেশে ক্রমবর্ধমান আত্মহত্যার ঘটনা প্রতিরোধে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের যৌথ সহযোগিতায় দেশের যশোর, ঝিনাইদহ, সিলেট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ চার জেলায় বর্তমানে আত্মহত্যা প্রতিরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।








