• ই-পেপার

সুইস সোনালি প্রজন্মের শেষ প্রতিনিধি গ্রানিত জাকার বিদায়

কোন দেশ বিশ্বকাপ জিতলে যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া পূরণ হবে, জানালেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা

ক্রীড়া ডেস্ক
কোন দেশ বিশ্বকাপ জিতলে যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া পূরণ হবে, জানালেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা
বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

এবারের ফিফা বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র শেষ ষোলো পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। তবে নিজেদের দেশ ছিটকে পড়লেও বিশ্বকাপে পরবর্তী পছন্দের দল বেছে নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের প্রধান ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টা অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি জানিয়েছেন, তাদের চাওয়া এবারের বিশ্বকাপ জিতুক ইংল্যান্ড। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জুলিয়ানিকে প্রশ্ন করে, যুক্তরাষ্ট্র বিদায় নেওয়ার পর তিনি কোন দেশকে সমর্থন করছেন। জবাবে জুলিয়ানি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘আমার মনে হয় এই মুহূর্তে হোয়াইট হাউসের সবাই ইংল্যান্ডকে সমর্থন দিচ্ছে।’

সাক্ষাৎকারে জুলিয়ানি আরো বলেন, ‘নিজেদের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও আমাদের এই উদযাপনের সময়ে আমেরিকায় এসে ইংল্যান্ডের শিরোপা জেতাটা দারুণ এক (সাফল্যের) গল্প হতে পারে।’ 

ইংল্যান্ড ছাড়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়া বাকি তিন দল আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও স্পেন। কোয়ার্টার ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে টমাস টুখেলের দল। সেমিফাইনালে ইংলিশদের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

সেমিফাইনালের চার দলের মধ্যে ইংল্যান্ডকেই এগিয়ে রাখছেন জুলিয়ানি। তার বিশ্বাস, হ্যারি কেইন-জুড বেলিংহামরা আরো বড় কিছু করে দেখাবেন, ‘ইংল্যান্ডের ৬০ বছর ধরে অপেক্ষা করছে (সর্বশেষ বিশ্বকাপ জিতেছিল ১৯৬৬ সালে)। তারা যদি এবার চ্যাম্পিয়ন হয়, তাহলে সেটি হবে অসাধারণ এক অর্জন। আমি মনে করি, ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত যেতে পারবে। টিকে থাকা দলগুলোর মধ্যে তারা অন্যতম সেরা।’

ফুটবল ও ইংল্যান্ড দলের প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যে ব্যাপক আগ্রহ আছে, সেটি জানাতেও দ্বিধাবোধ করেননি জুলিয়ানি, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত সপ্তাহে ট্রুথ সোশ্যালে হ্যারি কেইনকে দারুণ খেলোয়াড় এবং অসাধারণ মানুষ বলে উল্লেখ করেছিলেন। ইংল্যান্ডের এই স্ট্রাইকারের পারফরম্যান্সও তিনি নিবিড়ভাবে অনুসরণ করছেন।’

সম্প্রতি হ্যারি কেইনের সঙ্গে ট্রাম্পের গলফ খেলা নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে জুলিয়ানি বলেন, ‘কয়েক বছর আগে আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে একদল মানুষের গলফ খেলায় অংশ নিয়েছিলাম, সেখানে ওয়েইন রুনিও ছিলেন। প্রেসিডেন্ট ফুটবল সম্পর্কে বেশ ভালোই জানেন। আমার মনে হয়, তার ছেলে ব্যারনের মাধ্যমে এ আগ্রহ আরো বেড়েছে।’

ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনালে রেফারির দায়িত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক!

ক্রীড়া ডেস্ক
ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনালে রেফারির দায়িত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক!
রেফারি ইভান বার্তন। ছবি : ফিফা

এল সালভাদর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিক্যাল সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। পরবর্তীতে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে জৈব রসায়ন বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন।

সেই ইভান বার্তনকে এবার দেখা যাবে আরো বড় দায়িত্বে। ডালাসে আগামীকাল রাতে ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনাল ম্যাচটা যে তিনিই পরিচালনা করবেন!

সাধারণত ম্যাচের আগের দিন রেফারিদের নাম ঘোষণা করা হয়। বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালের অফিশিয়ালদের নামও এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে ফিফা।

তালিকায় প্রধান রেফারি হিসেবে আছে ৩৫ বছর বয়সী ইভান বার্তনের নাম। ছেলেদের বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া প্রথম এল সালভাদরিয়ান রেফারি তিনি।

বার্তনের সহকারী হিসেবে থাকবেন তারই দুই স্বদেশি দাভিদ মোরান ও আন্তোনিও পুপিরো। এ ছাড়া চতুর্থ অফিশিয়াল হিসেবে থাকবেন সুইডেনের গ্লেন নিবার্গ। রিজার্ভ সহকারী রেফারি থাকবেন আরেক সুইডিশ মাহবোদ বেইগি।

বার্তনের পুরো নাম ইভান আর্কিডেস বার্তন সিসনেরোস। জন্ম ১৯৯১ সালের ২৭ জানুয়ারি মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদরের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সান্তা আনায়। 

পড়ালেখায় তুখোড় বার্তনের অনেক আগে থেকেই ফুটবলের প্রতি ঝোঁক ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন শিক্ষকতা করেছেন, তেমনি রেফারি হিসেবে ঘরোয়া ফুটবলে বহু ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। 

২০১৮ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির তালিকাভুক্ত হন বার্তন। গত কয়েক বছরে কনকাকাফ গোল্ড কাপ, কনকাকাফ নেশন্স লিগ, অলিম্পিক ফুটবল, কোপা আমেরিকা এমনকি কাতার বিশ্বকাপেও তিনটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এর মধ্যে ইংল্যান্ড-সেনেগাল শেষ ষোলোর ম্যাচ ছিল একটি, যেটির পারফরম্যান্স তার প্রতি ফিফার আস্থা বাড়িয়ে দেয়।

সেটারই ধারাবাহিকতায় এবারের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালসহ চারটি ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন বার্তন। তবে গ্রুপ পর্বে প্যারাগুয়ে-তুরস্ক ম্যাচ দিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন তিনি।

ওই ম্যাচে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন তুরস্কের মের্ত মুলদুরকে মুখ ঢেকে কিছু একটা বলেন। মুলদুর সঙ্গে সঙ্গে বার্তনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সাহায্য নিয়ে আলমিরনকে লাল কার্ড দেখান বার্তন। মুখ ঢেকে কথা বলায় এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে প্রথম এবং একমাত্র লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা সেটি।

এমন রেফারিকে পাশে নিয়ে সেমিফাইনাল খেলতে নেমে এমবাপ্পে-ইয়ামালরাও নিশ্চয় বাড়তি সতর্ক থাকবেন!

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাওয়ে জার্সিতে খেলবে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাওয়ে জার্সিতে খেলবে আর্জেন্টিনা

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সেমিতে থ্রি লায়ন্সদের বিপক্ষে নেভি ব্লু অ্যাওয়ে কিট পরে মাঠে নামবে আলবেসিলেস্তরা। আর ইংল্যান্ড তাদের সম্পূর্ণ সাদা হোম কিট পরে খেলবে। ফিফার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সভায় এই জার্সি চূড়ান্ত করা হয়।

টুর্নামেন্ট চলাকালীন মেসিবাহিনী শুধুমাত্র একবারই নেভি ব্লু জার্সি পরেছে। গ্রুপ পর্বে জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ের ম্যাচে। খবর বিবিসি

সেমিতে ইংল্যান্ডকে হোম দল হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী আয়োজকদের সিদ্ধান্ত মেনেই আর্জেন্টিনা তাদের বিকল্প কিট পরছে।

তবে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এটি কুসংস্কারের সঙ্গেও জড়িত। কারণ এই জার্সিটি ১৯৮৬ এবং ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক জয়ের স্মৃতি বহন করে।

এদিকে ২০০২ সালে বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে হোম এবং অ্যাওয়ে কিট (জার্সি) উল্টে দেওয়া হয়েছিল। সেবার ইংল্যান্ড লাল জার্সি পরে ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা তাদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা জার্সি পরেছিল।

লর্ডসে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় ভারত নারী দলের

ক্রীড়া ডেস্ক
লর্ডসে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় ভারত নারী দলের
ছবি : ক্রিকইনফো

আইসিসি প্রথম নারীদের টেস্ট ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে ভারত। লর্ডসে যস্তিকা, ক্রান্তি, স্নেহাদের অনবদ্য পারফরম্যান্সে  ২৭০ রানের বড় জয় তুলে নেয় সফরকারীরা। এতে নারীদের প্রথম টেস্ট জিতে এক অনবদ্য মাইলফলক গড়েন ভারতীয় প্রমিলারা।

লর্ডসে অনুষ্ঠিত টেস্টে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ইনিংসে ভারত ২৮৫ রান তোলে। ৮৩ রানে আউট হন স্মৃতি মন্ধানা। জবাবে ১৭০ রানে অলআউট ইংল্যান্ড। মাত্র ৩৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট তোলেন ক্রান্তি গৌড়। তাঁর শিকার মাইয়া বাউচিয়ের, তামসিন বিউমন্ট, ন্যাট স্কিভার-ব্রান্ট, অ্যালিস ক্যাপসি ও লরেন বেল। 

প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে লর্ডসে পাঁচ উইকেটের সোনালি ইতিহাস গড়েন ক্রান্তি। তাঁর নাম উঠেছে লর্ডসের অনার্স বোর্ডে।

১১৫ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে নামে টিম ইন্ডিয়া। এবার ইংল্যান্ডকে আরো চাপে ফেলেন যস্তিকা ভাটিয়া। এই ইনিংসেও ৭০ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলে যান স্মৃতি। কিন্তু যস্তিকা অনবদ্য। ১৫৮ বলে ১১৩ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন তিনি। মারেন ১৪টি চার। প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে ঐতিহাসিক লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম উঠছে যস্তিকার। 

এরপর  রিচা ঘোষের ঝোড়ো হাফসেঞ্চুরিতে ৩৪১ রান তুলে ডিক্লেয়ার ঘোষণা করেন ভারত অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। ইংল্যান্ডের জন্য বিরাট ৪৫৭ রানের লক্ষ্য দেওয়া হয়।

জবাবে সেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি ইংল্যান্ড। পঞ্চম দিনের শুরুতে মাঠে নেমে স্নেহ রানার বোলিংয়ে একের পর এক ইংরেজ ব্যাটার প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। ৪২ রান দিয়ে ৪ উইকেট পান ভারতীয় বোলার। 

এছাড়া সায়ালি সাতঘারে, ক্রান্তি গৌড়, দীপ্তি শর্মা দু’টি করে উইকেট পান। মাত্র ১৮৬ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। লর্ডসের প্রথম টেস্ট জয় কৃতিত্ব লেখা রইল ভারতের নামে।