• ই-পেপার

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাওয়ে জার্সিতে খেলবে আর্জেন্টিনা

সুইস সোনালি প্রজন্মের শেষ প্রতিনিধি গ্রানিত জাকার বিদায়

ক্রীড়া ডেস্ক
সুইস সোনালি প্রজন্মের শেষ প্রতিনিধি গ্রানিত জাকার বিদায়

আর্জেন্টিনার কাছে ৩-১ গোলে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে সুইজারল্যান্ডের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে অবসান ঘটল সুইস ফুটবলের একটি সোনালি অধ্যায়ের। সবার আড়ালে নীরবেই বিশ্বমঞ্চকে বিদায় জানিয়ে দিলেন দলটির তারকা অধিনায়ক গ্রানিত জাকা।

জেরদান শাকিরি, ইয়ান সোমার, স্টেফান লিচস্টেইনার এবং ফ্যাবিয়ান শারদের মতো তারকাদের নিয়ে গঠিত সুইজারল্যান্ডের যে সোনালি প্রজন্ম একসময় বিশ্ব ফুটবলে সমীহ জাগিয়েছিল। জাকা ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম শেষ প্রতিনিধি। অন্য সতীর্থরা একে একে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেও জ্যাকা একাই এই সোনালি প্রজন্মের শেষ প্রতিনিধি হিসেবে দেশকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপে এসে এই টুর্নামেন্টে জ্যাকা তার ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্য পেয়েছে। সুইসদের ৭২ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনাল নিতে সক্ষম হয়েছেন। 

কোয়ার্টার ফাইনালে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে সুইসরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হৃদয়ভাঙা পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় সুইস অধিনায়ককে।

আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপে জ্যাকার বয়স হবে ৩৮ বছর। বয়স এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে এটাই নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ফুটবলবিশ্ব হয়তো বিশ্বমঞ্চে এই সুইস কিংবদন্তিকে শেষবারের মতো দেখে ফেলল। মাঠের লড়াকু মানসিকতা এবং অনন্য নেতৃত্বের জন্য সুইস ফুটবলের এই আইকন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনালে রেফারির দায়িত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক!

ক্রীড়া ডেস্ক
ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনালে রেফারির দায়িত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক!
রেফারি ইভান বার্তন। ছবি : ফিফা

এল সালভাদর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিক্যাল সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। পরবর্তীতে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে জৈব রসায়ন বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন।

সেই ইভান বার্তনকে এবার দেখা যাবে আরো বড় দায়িত্বে। ডালাসে আগামীকাল রাতে ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনাল ম্যাচটা যে তিনিই পরিচালনা করবেন!

সাধারণত ম্যাচের আগের দিন রেফারিদের নাম ঘোষণা করা হয়। বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালের অফিশিয়ালদের নামও এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে ফিফা।

তালিকায় প্রধান রেফারি হিসেবে আছে ৩৫ বছর বয়সী ইভান বার্তনের নাম। ছেলেদের বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া প্রথম এল সালভাদরিয়ান রেফারি তিনি।

বার্তনের সহকারী হিসেবে থাকবেন তারই দুই স্বদেশি দাভিদ মোরান ও আন্তোনিও পুপিরো। এ ছাড়া চতুর্থ অফিশিয়াল হিসেবে থাকবেন সুইডেনের গ্লেন নিবার্গ। রিজার্ভ সহকারী রেফারি থাকবেন আরেক সুইডিশ মাহবোদ বেইগি।

বার্তনের পুরো নাম ইভান আর্কিডেস বার্তন সিসনেরোস। জন্ম ১৯৯১ সালের ২৭ জানুয়ারি মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদরের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সান্তা আনায়। 

পড়ালেখায় তুখোড় বার্তনের অনেক আগে থেকেই ফুটবলের প্রতি ঝোঁক ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন শিক্ষকতা করেছেন, তেমনি রেফারি হিসেবে ঘরোয়া ফুটবলে বহু ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। 

২০১৮ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির তালিকাভুক্ত হন বার্তন। গত কয়েক বছরে কনকাকাফ গোল্ড কাপ, কনকাকাফ নেশন্স লিগ, অলিম্পিক ফুটবল, কোপা আমেরিকা এমনকি কাতার বিশ্বকাপেও তিনটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এর মধ্যে ইংল্যান্ড-সেনেগাল শেষ ষোলোর ম্যাচ ছিল একটি, যেটির পারফরম্যান্স তার প্রতি ফিফার আস্থা বাড়িয়ে দেয়।

সেটারই ধারাবাহিকতায় এবারের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালসহ চারটি ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন বার্তন। তবে গ্রুপ পর্বে প্যারাগুয়ে-তুরস্ক ম্যাচ দিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন তিনি।

ওই ম্যাচে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন তুরস্কের মের্ত মুলদুরকে মুখ ঢেকে কিছু একটা বলেন। মুলদুর সঙ্গে সঙ্গে বার্তনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সাহায্য নিয়ে আলমিরনকে লাল কার্ড দেখান বার্তন। মুখ ঢেকে কথা বলায় এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে প্রথম এবং একমাত্র লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা সেটি।

এমন রেফারিকে পাশে নিয়ে সেমিফাইনাল খেলতে নেমে এমবাপ্পে-ইয়ামালরাও নিশ্চয় বাড়তি সতর্ক থাকবেন!

লর্ডসে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় ভারত নারী দলের

ক্রীড়া ডেস্ক
লর্ডসে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় ভারত নারী দলের
ছবি : ক্রিকইনফো

আইসিসি প্রথম নারীদের টেস্ট ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে ভারত। লর্ডসে যস্তিকা, ক্রান্তি, স্নেহাদের অনবদ্য পারফরম্যান্সে  ২৭০ রানের বড় জয় তুলে নেয় সফরকারীরা। এতে নারীদের প্রথম টেস্ট জিতে এক অনবদ্য মাইলফলক গড়েন ভারতীয় প্রমিলারা।

লর্ডসে অনুষ্ঠিত টেস্টে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ইনিংসে ভারত ২৮৫ রান তোলে। ৮৩ রানে আউট হন স্মৃতি মন্ধানা। জবাবে ১৭০ রানে অলআউট ইংল্যান্ড। মাত্র ৩৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট তোলেন ক্রান্তি গৌড়। তাঁর শিকার মাইয়া বাউচিয়ের, তামসিন বিউমন্ট, ন্যাট স্কিভার-ব্রান্ট, অ্যালিস ক্যাপসি ও লরেন বেল। 

প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে লর্ডসে পাঁচ উইকেটের সোনালি ইতিহাস গড়েন ক্রান্তি। তাঁর নাম উঠেছে লর্ডসের অনার্স বোর্ডে।

১১৫ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে নামে টিম ইন্ডিয়া। এবার ইংল্যান্ডকে আরো চাপে ফেলেন যস্তিকা ভাটিয়া। এই ইনিংসেও ৭০ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলে যান স্মৃতি। কিন্তু যস্তিকা অনবদ্য। ১৫৮ বলে ১১৩ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন তিনি। মারেন ১৪টি চার। প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে ঐতিহাসিক লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম উঠছে যস্তিকার। 

এরপর  রিচা ঘোষের ঝোড়ো হাফসেঞ্চুরিতে ৩৪১ রান তুলে ডিক্লেয়ার ঘোষণা করেন ভারত অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। ইংল্যান্ডের জন্য বিরাট ৪৫৭ রানের লক্ষ্য দেওয়া হয়।

জবাবে সেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি ইংল্যান্ড। পঞ্চম দিনের শুরুতে মাঠে নেমে স্নেহ রানার বোলিংয়ে একের পর এক ইংরেজ ব্যাটার প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। ৪২ রান দিয়ে ৪ উইকেট পান ভারতীয় বোলার। 

এছাড়া সায়ালি সাতঘারে, ক্রান্তি গৌড়, দীপ্তি শর্মা দু’টি করে উইকেট পান। মাত্র ১৮৬ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। লর্ডসের প্রথম টেস্ট জয় কৃতিত্ব লেখা রইল ভারতের নামে।

ইতালির কোচ হওয়ার দৌড়ে ‘স্বপ্নের প্রার্থী’ গার্দিওলা

ক্রীড়া ডেস্ক
ইতালির কোচ হওয়ার দৌড়ে ‘স্বপ্নের প্রার্থী’ গার্দিওলা
ইতালির প্রধান কোচ হতে পারেন পেপ গার্দিওলা। ছবি: এক্স

ইতালির জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে স্প্যানিশ কিংবদন্তি পেপ গার্দিওলাকে বিবেচনা করা হচ্ছে। 

ইতালির শীর্ষ ক্রীড়া দৈনিক লা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি) সম্ভাব্য কোচদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় গার্দিওলাকে রেখেছে। 

সম্প্রতি ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে দীর্ঘ এক দশকের বর্ণাঢ্য অধ্যায় শেষ করেছেন গার্দিওলা। এরপরই জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। 

চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপ বাছাইয়ের গণ্ডিই পেরোতে পারেনি। ইউরোপীয় অঞ্চলের সর্বশেষ বাছাইয়ে ব্যর্থতার পর জেনারো গাত্তুসো দায়িত্ব ছাড়েন। সেই শূন্যস্থান পূরণে নতুন কোচ খুঁজছে এফআইজিসি।

লা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ট জানেিয়ছে, ফেডারেশনের নতুন কারিগরি পরিচালক পাওলো মালদিনির নেতৃত্বে ইতালির ফুটবল পুনর্গঠনের পরিকল্পনা চলছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই গার্দিওলাকে ‘স্বপ্নের প্রার্থী’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

তবে গার্দিওলার পাশাপাশি ইতালির সাবেক দুই কোচ রবার্তো মানচিনি ও আন্তোনিও কন্তের নামও আলোচনায় আছে। মানচিনির কোচিংয়েই ২০২১ সালে ইউরোয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েছিল ইতালি। 

অবশ্য গার্দিওলাকে ইতালির কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া সহজ হবে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার মোটা অংকের বেতনের চাহিদাই সবচেয়ে বড় বাধা। 

ম্যানচেস্টার সিটিতে শেষ মৌসুমে ৩৪৬ কোটি টাকা বেতন পেয়েছেন গার্দিওলা। বিশাল এই পারিশ্রমিক এফআইজিসির পক্ষে বহন করা কঠিন। 

এর আগে গার্দিওলা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ভবিষ্যতে কোনো এক সময় জাতীয় দলের কোচ হওয়ার আগ্রহ আছে। যদি শেষ পর্যন্ত গার্দিওলা ইতালির দায়িত্ব নেন, তাহলে লায়োস সাইজল্যারের পর তিনি হবেন আজ্জুরিদের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিদেশি প্রধান কোচ।