• ই-পেপার

অনাহারে মৃত্যুঝুঁকিতে গাজার ৩৫ হাজার শিশু

ব্যাঙ্ককে বোমা হামলা, এক দশকের বিতর্কিত তদন্তে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
ব্যাঙ্ককে বোমা হামলা, এক দশকের বিতর্কিত তদন্তে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড
রয়টার্স ছবি

থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে ২০১৫ সালের ১৭ আগস্টে। ওই দিন ব্যাঙ্ককের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জনপ্রিয় এরাওয়ান মন্দিরে ভয়াবহ বোমা হামলায় বিদেশি পর্যটকসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় এক দশক পরে দুই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। যদিও এই রায় এবং তদন্ত নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনই চীনের মুসলিম উইঘুর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, তারা ২০১৫ সালের ১৭ আগস্ট ব্যাঙ্ককের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জনপ্রিয় এরাওয়ান মন্দিরের কাছে ভয়াবহ বোমা হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ওই হামলায় ২০ জন নিহত এবং ১২০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। নিহতদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকও ছিলেন।

তবে দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে চলা বিচারপ্রক্রিয়া এবং তদন্তের বিভিন্ন অসঙ্গতির কারণে মামলাটি নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি পুরো বিচারকালেই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

২০১৫ সালের ওই হামলায় একটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে রাজধানী ব্যাঙ্ককের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা রক্তাক্ত হয়ে ওঠে। বিস্ফোরণে মন্দিরে প্রার্থনায় অংশ নেওয়া মানুষজন ছাড়াও আশপাশের সড়কে অবস্থানরত মোটরসাইকেল আরোহীরা হতাহত হন। ঘটনাস্থলে দ্রুত উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছে আহতদের চিকিৎসা এবং নিহতদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেন।

হামলার পরপরই থাই কর্তৃপক্ষের তদন্ত নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। পর্যটন খাতের ক্ষতি কমাতে সরকার দ্রুত ঘটনাস্থল পরিষ্কার করার নির্দেশ দেয় এবং মাত্র দুই দিনের মধ্যেই মন্দিরটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন সমালোচকেরা।

তদন্তে দেখা যায়, আশপাশের অনেক নিরাপত্তা ক্যামেরা অকার্যকর ছিল। তবে কিছু ভিডিও ফুটেজে দীর্ঘ চুল ও মোটা চশমা পরা এক ব্যক্তিকে একটি বেঞ্চের নিচে ব্যাকপ্যাক রেখে দ্রুত সরে যেতে দেখা যায়। পরে আরেকটি ভিডিওতে অন্য এক ব্যক্তিকে একটি দ্বিতীয় বোমা খালে ফেলে দিতে দেখা যায়, যা পরে বিস্ফোরিত হলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

হামলার দুই সপ্তাহের মধ্যেই পুলিশ দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। বিলাল মোহাম্মদ নামে একজনকে ব্যাঙ্ককের পার্শ্ববর্তী এলাকার একটি বাড়ি থেকে আটক করা হয়। সেখানে বোমা তৈরির উপযোগী রাসায়নিক পদার্থও উদ্ধার করা হয়েছিল। তার কাছ থেকে আদেম কারাদাগ নামের একটি জাল তুর্কি পাসপোর্ট পাওয়া যায়।

অন্য অভিযুক্ত ইউসুফু মিয়েরালিকে কম্বোডিয়া থেকে আটক করে থাইল্যান্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তদন্তের শুরুতে থাই পুলিশ বলেছিল, আটক দুই ব্যক্তি বোমা স্থাপনকারী ব্যক্তি নন। কিন্তু পরে বিলাল মোহাম্মদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়, যদিও নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা ব্যক্তির সঙ্গে তার চেহারার উল্লেখযোগ্য মিল ছিল না বলে দাবি করে বিভিন্ন পর্যবেক্ষক।

এছাড়া হামলার ঘটনায় আরও ১৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল, যাদের কয়েকজন এরই মধ্যে দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।

মানবাধিকার সংগঠন ও আইনি বিশ্লেষকদের মতে, মামলার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হলেও তদন্তের বিভিন্ন অসঙ্গতি এবং অন্যান্য সন্দেহভাজনদের অনুপস্থিতির কারণে হামলার প্রকৃত নেপথ্য কাহিনি নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি।

বিতর্কিত যোগসূত্র

প্রত্যাশিতভাবেই অনেকেই এই বোমা হামলার সঙ্গে এর আগের মাসে থাইল্যান্ডের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের যোগসূত্র খুঁজতে শুরু করেন। ওই সিদ্ধান্তে ১০৯ জন উইঘুর পুরুষকে জোরপূর্বক চীনে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, যা তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে উইঘুর সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের জন্ম দেয়।

হামলার লক্ষ্যবস্তু ওই মন্দিরটি চীনা পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় ছিল। ফলে ঘটনাটি প্রতিশোধমূলক হামলা বলেই মনে হচ্ছিল অনেকের কাছে।

তবে থাইল্যান্ডের সামরিক সরকার এই সম্ভাবনা মানতে অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে তারা দাবি করে, গত বছর ক্ষমতা দখল করা সামরিক জান্তার অসন্তুষ্ট বিরোধীদের কাজের কারণেও এটি হতে পারে । পরে তারা জোর দিয়ে বলে, সরকারের মানবপাচারবিরোধী অভিযানে ক্ষুব্ধ মানবপাচারকারীরাই এ হামলার পেছনে রয়েছে।

এক অদ্ভুত মোড় নিতে অপরাধীদের ধরিয়ে দিতে তথ্যদাতার জন্য ৮০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে থাই পুলিশ । এ ঘটনার পরপরই দুই জনকে আটক করার পরও অনেক সন্দেহভাজন পলাতক রয়েছে বলে স্বীকার করে তারা। কিন্তু এরপরও ওই পুরস্কার নিজেরাই নিজেদের দিয়ে দেয় এবং ঘোষণা করে, মামলার তদন্ত শেষ।

দুই সন্দেহভাজনকেই সামরিক হেফাজতে রাখা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। পরে সামরিক আদালতে বিচার শুরু হলে তারা সেই স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করে নেন।

তাদের মধ্যে বিলাল মোহাম্মদ চিৎকার করে অভিযোগ করেন যে, তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে। আদালতে তিনি সাক্ষ্য দেন, গ্রেপ্তারের সময় যে বাড়িতে তিনি ছিলেন সেখানে তিনি একজন মানবপাচারকারীর অপেক্ষায় ছিলেন, যিনি তাকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে তিনি তুরস্কে যেতে চেয়েছিলেন। এটি উইঘুর আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যবহৃত একটি সুপরিচিত রুট।

এরপর শুরু হয় দীর্ঘ বিলম্ব। সাধারণত থাই কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, তারা উইঘুর ভাষাভাষী কোনো দোভাষী খুঁজে পাচ্ছে না। অভিযুক্তরা চীনা দূতাবাসের প্রস্তাবিত দোভাষীদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। এভাবে বিলম্ব চলতেই থাকে—এক দশকেরও বেশি সময় ধরে।

আন্তর্জাতিক আইনবিদ কমিশনসহ (আইসিজে) কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন বিচারপ্রক্রিয়া এবং মামলার অস্বাভাবিক দীর্ঘসূত্রতার সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, বিচারপ্রক্রিয়ায় এত বেশি সমস্যা ছিল যে দুই সন্দেহভাজনকে মুক্তি দেওয়া উচিত ছিল।

এক বিবৃতিতে আইসিজে বলেছে, বিলাল মোহাম্মদ ও ইউসুফু মিয়েরাইলির তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম এবং বিচার মানবাধিকার লঙ্ঘন পরিপূর্ণ ছিল। এতে থাইল্যান্ডের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার কিছু কাঠামোগত দুর্বলতাও উন্মোচিত করেছে।

তবে বিচারকরা রায় দেন যে, তাদের দোষী সাব্যস্ত করার জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। বিশেষ করে পুলিশের উপস্থাপিত ফোনকলের রেকর্ডে দেখা যায়, বোমা হামলার সময় দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন এবং একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন।

দুই আসামির আইনজীবী জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

ওমান উপকূলে নতুন আতঙ্ক, পরপর ৩ ভারতীয় জাহাজে হামলা

অনলাইন ডেস্ক
ওমান উপকূলে নতুন আতঙ্ক, পরপর ৩ ভারতীয় জাহাজে হামলা
সংগৃহীত ছবি

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ওমান উপকূলে আরো একটি ভারতীয় জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ভারতের দূতাবাস ও ওমান কর্তৃপক্ষ। 

গলফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানের শিনাস বন্দরের কাছে একটি ভারতীয় জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ নিয়ে পরপর তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ

মাসকাটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছে এবং বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে ওমানের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং আরও তথ্যের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছি।

এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জাহাজের পরিচয়, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কিংবা কোনো হতাহত বা আহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

তৃতীয় সামুদ্রিক ঘটনা

ওমান উপকূলে অল্প সময়ের ব্যবধানে এটি তৃতীয় সামুদ্রিক হামলা। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, নাকি এগুলো পৃথক ঘটনা- এ বিষয়ে ওমান কর্তৃপক্ষ এখনও তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

এমটি মারিভেক্সে আগুন

গত ৮ জুন প্রথম ঘটনা ঘটে, যখন হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে ‘এমটি মারিভেক্স’ নামের একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জাহাজটিতে তখন ২৪ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে আগুন লাগে এবং দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পরে জানা যায়, ভারতীয় নাবিকদের সবাই নিরাপদে ছিলেন। তবে আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়।

সেটেবেলোতে হামলা, নিহত ৩ ভারতীয় নাবিক

এরপর ১০ জুন ওমান উপকূলে ‘সেটেবেলো’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়। জাহাজটিতে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

ভারতের বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল পরে নিশ্চিত করেন, নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন।

নৌপরিবহনমন্ত্রী তিনি জানান, জীবিতদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং নিহতদের মরদেহ স্বদেশে পাঠানোর জন্য সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাসও দেন তিনি।

তদন্ত অব্যাহত

ভারত সরকার জানিয়েছে, সর্বশেষ ঘটনাসহ সাম্প্রতিক তিনটি সামুদ্রিক ঘটনার বিষয়ে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরো তথ্য প্রকাশ করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপকূল ঘিরে চলমান নিরাপত্তা সংকট আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌপরিবহনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষ করে ভারতীয় নাবিকদের সম্পৃক্ততা থাকায় নয়াদিল্লি পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর রাখছে।

পাকিস্তানের কাশ্মীরে বিক্ষোভ অব্যাহত, আরো হতাহত ১৬

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানের কাশ্মীরে বিক্ষোভ অব্যাহত, আরো হতাহত ১৬

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের রাওয়ালকোটের ঈদগাহ ময়দানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলিতে অন্তত ১৬ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। এতে আরো আহত হয়েছে ৩৭ জন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এই তথ্য জানায়।

এর আগে বিভিন্ন দাবিতে অঞ্চলটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করে ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি) নামে একটি সামাজিক সংগঠন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তান সরকার আন্দোলন পরিচালনাকারী সংগঠন জেএএসিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। 

এতে বিক্ষোভের তীব্রতা আরো বাড়ে। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর বল প্রয়োগ করলে সংঘর্ষ এক ব্যবসায়ী নিহতের ঘটনায় পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়। গত রবিবার বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনীর গুলিতে ৩০ জন হতাহত হয়। আহত হয় প্রায় ২০০-এর বেশি।

এতে বিক্ষোভ রাওলাকোট ছাড়িয়ে মুজাফফরাবাদ বাগ এবং নীলম অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর পাশাপাশি পেট্রল বোমা ব্যবহার করেছে বলে প্রশাসন দাবি করেছে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ
রয়টার্স ছবি

চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মতবিরোধের জেরে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি। বৃহস্পতিবার জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সমালোচনা করে বলেছেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, পদত্যাগপত্রে জন হিলি অভিযোগ করেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক হুমকির মুখে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করতে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার ও অর্থ মন্ত্রণালয় যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি।

প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে তিনি বলেন, ‘দেশকে রক্ষার জন্য এই সময়ে যে সম্পদ প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করতে আপনি সক্ষম হননি এবং ট্রেজারি (অর্থ মন্ত্রণালয়) তা দিতে অনিচ্ছুক ছিল।’

এদিকে কয়েক মাস ধরে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছিল। তবে ব্যয় সংক্রান্ত মতবিরোধের কারণে সরকারের বহুল প্রত্যাশিত ‘ডিফেন্স ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান’ গত বছর থেকে আটকে আছে।

ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা শিল্প খাত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের দাবি, পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত না হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না।

একদিকে ইউরোপের নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ কমে আসছে, অন্যদিকে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত ব্রিটেনের সামরিক প্রস্তুতির ঘাটতিও সামনে নিয়ে এসেছে। চলমান এই সংঘাতে ব্রিটিশ নৌবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে একটি উন্নত যুদ্ধজাহাজ অঞ্চলে মোতায়েন করতে পারেনি।

প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো— সামরিক সরঞ্জাম ও সেবাখাতে অর্থায়নের রূপরেখা নির্ধারণ করা। যাতে সশস্ত্র বাহিনীকে পূর্ণাঙ্গ ‘যুদ্ধ-প্রস্তুত’ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া যায়। এ বিষয়ে গতকাল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানান, আগামী ৭ জুলাই শুরু হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগেই পরিকল্পনাটি প্রকাশ করা হবে।

তবে পদত্যাগপত্রে হিলি বলেন, ‘ডিফেন্স ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যানের জন্য যে আর্থিক বরাদ্দ আমাকে দেওয়া হয়েছে—যার পূর্ণ বিবরণ আমি চলতি সপ্তাহের সোমবার বিকেলে প্রথম পাই। যদিও তা এই বিপজ্জনক সময়ে দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার তুলনায় অনেক কম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা আমাদের বাহিনীর প্রস্তুতি কমিয়ে দেবে, অভিযানে নিয়োজিত সদস্যদের ঝুঁকি বাড়াবে এবং শেষ পর্যন্ত দেশকে আরও অনিরাপদ করে তুলতে পারে।’

হিলির পদত্যাগ ব্রিটিশ সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি দেশটির প্রতিরক্ষা নীতি ও সামরিক ব্যয় নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরো তীব্র করে তুলতে পারে।

অনাহারে মৃত্যুঝুঁকিতে গাজার ৩৫ হাজার শিশু | কালের কণ্ঠ