• ই-পেপার

বিশ্বে নেতৃত্বের ভূমিকা নিতে যাচ্ছে ভারত : হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা

খামেনির জানাজায় তিন ছেলের উপস্থিতি, আড়ালেই রয়ে গেলেন মোজতবা

অনলাইন ডেস্ক
খামেনির জানাজায় তিন ছেলের উপস্থিতি, আড়ালেই রয়ে গেলেন মোজতবা
সংগৃহীত ছবি

নিহত ইরানি নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের চার সদস্যের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দিয়েছেন লাখো মানুষ। তবে বাবার জানাজায় খামেনির তিন ছেলে উপস্থিত থাকলেও, তার উত্তরসূরি হিসেবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে সেখানে দেখা যায়নি।

তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা কফিনগুলোর পেছনে খামেনির তিন ছেলে—মোস্তফা, মেসাম ও মাসুদ খামেনিকে প্রার্থনা করতে দেখা গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিহতের পাশাপাশি মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওই হামলায় মোজতবার মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেছে এবং পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে। মূলত এই শারীরিক অবস্থার কারণেই তিনি জনসমক্ষে আসছেন না।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান খামেনির জন্য সপ্তাহব্যাপী এক বিশাল গণ-অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করেছে। এর অংশ হিসেবে শনিবার (৪ জুলাই) খামেনির কফিনটি তার কন্যা, জামাতা, পুত্রবধূ ও ১৪ মাস বয়সী নাতনির কফিনের সঙ্গে বাইরে প্রদর্শন করা হয়। রবিবার (৫ জুলাই) জানাজার নামাজে ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও অংশ নেন। এ সময় খামেনির ছেলেদের অশ্রুবিসর্জন করতে এবং উপস্থিত লাখো মানুষকে বুক চাপড়ে কাঁদতে দেখা যায়। এই বিশাল সমাগমের কারণে তেহরান মেট্রোতে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় রেকর্ড ৭০ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেছেন।

কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানে এক বিশাল মিছিলের পর মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মরদেহগুলো শিয়া মাদরাসা শহর কোমে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর বুধবার (৮ জুলাই) মরদেহগুলো ইরাকের পবিত্র তীর্থস্থান নজফ ও কারবালায় পাঠানো হবে। সবশেষে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মাশহাদে আরেকটি জানাজা শেষে খামেনির মরদেহ দাফন করা হবে। এই কর্মসূচিগুলোতে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পরিবহন, খাদ্য ও বাসস্থানের ব্যাপক ব্যবস্থা করেছে ইরান সরকার।

খামেনির শেষবিদায় ঘিরে তেহরান মেট্রোতে রেকর্ড ৭০ লাখ যাত্রীর যাতায়াত

অনলাইন ডেস্ক
খামেনির শেষবিদায় ঘিরে তেহরান মেট্রোতে রেকর্ড ৭০ লাখ যাত্রীর যাতায়াত
ছবি : রয়টার্স

সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষবিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইরানের রাজধানী তেহরানের মেট্রো রেলে রেকর্ডসংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করেছেন। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রবিবার (৫ জুলাই) সকাল ৭টা পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ১৩ ঘণ্টায় তেহরান মেট্রো নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছেন ৭০ লক্ষাধিক যাত্রী

মূলত তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় (গ্র্যান্ড মোসাল্লা) সাবেক সর্বোচ্চ নেতা ও তার পরিবারের সদস্যদের জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানের কারণেই রেলে এই নজিরবিহীন যাত্রীজট তৈরি হয়। রবিবার রাত ৮টা পর্যন্ত এই শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা চলার কথা রয়েছে।

জানাজা অনুষ্ঠানে মানুষের উপচেপড়া ভিড় সামাল দিতে এবং যাতায়াত সহজ করতে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকেই আগেভাগে সাধারণ মানুষকে ব্যক্তিগত গাড়ি পরিহার করে মেট্রো রেল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। আর এই নির্দেশনার ফলেই তেহরানের পাতাল রেলে যাত্রীসংখ্যার এই বিশাল রেকর্ড তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি ইরানের কাছে ‘পারমাণবিক অস্ত্রের’ সমান : মেদভেদেভ

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজ প্রণালি ইরানের কাছে ‘পারমাণবিক অস্ত্রের’ সমান : মেদভেদেভ
ছবি : রয়টার্স

হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব দেশটিকে ‘পারমাণবিক অস্ত্রের’ সমতুল্য ক্ষমতা দেয় বলে মন্তব্য করেছেন রুশ নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ। তিনি বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করার ক্ষমতা তেহরানের এক বিশাল কৌশলগত বড় অস্ত্র। সম্প্রতি ইরান সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেদভেদেভ এই মন্তব্য করেন

মেদভেদেভ সতর্ক করে দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যদি বৃহত্তর সংঘাত তৈরি হয়, তবে ইরান বাব এল-মানদেব প্রণালি দিয়েও নৌচলাচল বন্ধ করে দিতে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, পরিস্থিতি এতটা খারাপ হবে না, তবে এই অঞ্চলের সংঘাতকামী সব দেশেরই ইরানের এই ক্ষমতার কথা মনে রাখা উচিত।’

ইরানের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার তীব্র সমালোচনা করে মেদভেদেভ একে ‘সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে হামলা’ বলে আখ্যা দেন। তিনি যুক্তি দেখান, দুই পক্ষের মধ্যে যখন আলোচনা চলছিল, তখন তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি ছিল না। এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হন। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রায় তিন সপ্তাহব্যাপী তীব্র যুদ্ধ চলে। অবশেষে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় একটি মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হয়।

খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত হিসেবে শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরান সফর করেন মেদভেদেভ। সেখানে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং মস্কোর পক্ষ থেকে সমবেদনা জানান। বৈঠকে মেদভেদেভ পশ্চিমাদের ‘অবৈধ’ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে লড়াই করতে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশগুলোকে নিয়ে একটি নতুন প্ল্যাটফরম বা সংস্থা তৈরির বিষয়ে আলোচনা করেন। কয়েক বছর আগে তেহরানের পক্ষ থেকে প্রথম এই প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংঘাতের চেয়ে আলোচনা ভালো, তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ ও ইরানের পুনর্গঠনে অর্থায়নের মতো জটিল বিষয়গুলোর কারণে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হবে।

পেরুর নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন কেইকো ফুজিমোরি

অনলাইন ডেস্ক
পেরুর নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন কেইকো ফুজিমোরি
ছবি : রয়টার্স

কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র বিক্ষোভ, ভোট জালিয়াতির অভিযোগ ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর অবশেষে পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। সব বিতর্ক ও ব্যালট পর্যালোচনা শেষে দেশটির রক্ষণশীল দলের প্রার্থী কেইকো ফুজিমোরিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করেছে নির্বাচন দপ্তর।

গত ৭ জুনের রানঅফ (দ্বিতীয় দফা) নির্বাচনে ৫১ বছর বয়সী ফুজিমোরি ৫০.১৩৫% ভোট পেয়ে দেশের সর্বোচ্চ পদে জয়ী হন। এটি ছিল রাষ্ট্রপতি পদে তার চতুর্থবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বামপন্থী কংগ্রেসম্যান রবার্তো সানচেজকে মাত্র প্রায় ৫০,০০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন, যেখানে মোট ভোট পড়েছিল ১ কোটি ৮০ লক্ষ। দলের সদর দপ্তরে কর্মীদের উদ্দেশে ফুজিমোরি বলেন, ‘আজ পেরুর জন্য এক নতুন যুগের সূচনা হলো—আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য দায়িত্ববোধ, সংলাপ ও ফলাফলের এক যুগ।’

আগামী ২৮ জুলাই ক্ষমতা গ্রহণের পর কেইকো ফুজিমোরি হবেন ২০১৬ সালের পর থেকে পেরুর ১০ম রাষ্ট্রপতি। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি হোসে বালকাজারের স্থলাভিষিক্ত হবেন। কেইকো ফুজিমোরি হলেন পেরুর সাবেক প্রয়াত বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির কন্যা, যিনি ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত কঠোর হস্তে দেশ শাসন করেছিলেন। কেইকো নিজেও অতীতে নির্বাচনী প্রচারণার অর্থায়নের অভিযোগে দীর্ঘ তদন্তের মুখে পড়েছিলেন এবং কয়েক দফায় প্রায় দেড় বছর জেল খেটেছেন, যদিও গত বছর তার সেই অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়। তীব্র রাজনৈতিক বিভাজনে খণ্ডিত পেরুকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং গ্রামীণ ও শহরের মধ্যকার বিশাল অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করাই এখন নতুন রাষ্ট্রপতি কেইকো ফুজিমোরির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশ্বে নেতৃত্বের ভূমিকা নিতে যাচ্ছে ভারত : হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা | কালের কণ্ঠ