ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) তহবিল আত্মসাতের মামলায় ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থী নেতা মেরিন লে পেনের দণ্ড বহাল রেখেছেন আদালত। মঙ্গলবার দেওয়া দেশটির আপিল আদালতের রায়ের ফলে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি তার। এখন নজরদারির মধ্যে থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গেলে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হবে কট্টর ডানপন্থী এই নেতাকে।
আদালত তথ্য অনুযায়ী মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, আত্মসাৎ করা সরকারি অর্থের পরিমাণ ছিল ২৮ লাখ ইউরো (প্রায় ৩২ লাখ মার্কিন ডলার)। এর জন্য তাকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও এর মধ্যে দুই বছরের সাজা স্থগিত রাখা হয়েছে। বাকি এক বছর তাকে ইলেকট্রনিক গোড়ালির ট্র্যাকার (অ্যাঙ্কেল মনিটর) পরে গৃহবন্দি অবস্থায় কাটাতে হবে।
এ ছাড়া আদালত তার নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদও কার্যত কমিয়ে দিয়েছে। ৪৫ মাসের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ৩০ মাস স্থগিত থাকায় কার্যকর নিষেধাজ্ঞা থাকবে ১৫ মাস। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ ইউরো জরিমানাও করা হয়েছে।
এই রায়ের ফলে লে পেন ২০২৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। তবে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ইলেকট্রনিক অ্যাঙ্কেল মনিটর পরতে হলে তা তার চলাফেরা ও প্রচারণায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।
এদিকে নির্বাচনের প্রথম দফা ভোট হবে ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসে এবং দ্বিতীয় দফা মে মাসে।
এর আগে লে পেন বলেছিলেন, যদি তাকে ইলেকট্রনিক নজরদারির ট্যাগ পরে থাকতে হয়, তাহলে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।
গত সপ্তাহে ফরাসি সংবাদমাধ্যম এলসিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হলে অবাধে চলাফেরা করার স্বাধীনতা থাকতে হয়। কিন্তু ইলেকট্রনিক নজরদারি ব্রেসলেট পরা অবস্থায় তা সম্ভব নয়।
তবে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে তিনি আদালতের কাছে সাজা কমানোর আবেদন করতে পারবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে সিরিয়া সফররত ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁখো এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর বিষয় হলো—রাষ্ট্রপতি আদালতের রায়ের ওপর কোনো মন্তব্য না করা।’
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার একই মামলায় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আরো চারজন ন্যাশনাল র্যালি (আরএন) রাজনীতিকও সরকারি অর্থ আত্মসাতের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এ ছাড়া অন্য কয়েকজন আসামিকে আত্মসাতে সহযোগিতা বা আত্মসাৎ করা সম্পদ গ্রহণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।




