• ই-পেপার

মার্কেলের স্থলাভিষিক্ত হলেন ওলাফ শোলজ

ফুনশুখ ওয়াংড়ুকে মরতে দেবেন না, চতুরের আকুল আবেদন

অনলাইন ডেস্ক
ফুনশুখ ওয়াংড়ুকে মরতে দেবেন না, চতুরের আকুল আবেদন
সংগৃহীত ছবি

আমির খানের ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়টস’ ভারতের সিনেমার ইতিহাসেই অনন্য এক নাম। ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যঙ্গ করে বানানো ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি এখনও সমান প্রাসঙ্গিক। ছবিতে আমির খানের চরিত্রটির নাম ছিল ফুনশুখ ওয়াংড়ু, বন্ধুরা যাকে র‍্যাঞ্চো নামে ডাকতো। তবে এই ফুনশুখ ওয়াংড়ু কোনো কল্পনার চরিত্র নয়। ভারতের লাদাখের বিখ্যাত প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, শিক্ষা সংস্কারক এবং পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুকের চরিত্র থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই রাজকুমার হিরানী একেছিলেন ফুনশুখ ওয়াংড়ুকে। 

সিনেমার ফুনশুখ, বাস্তবের সোনম ওয়াংচুক এখন মরতে বসেছেন। গত ২৮ জুন থেকে তিনি নয়াদিল্লীর যন্তর মন্তরে আমরণ অনশন করছেন। নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনেকদিন ধরেই আন্দোলন করছে ককরোচ পার্টি। সেই আন্দোলনে সামিল হয়েই ২৮ জুন থেকে আমরণ অনশনে বসেছেন সোনম। ১৭ দিনের অনশনে সোনমের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। অনশন শুরুর পর থেকে তার ওজন ৮ দশমিক ২ কেজি কমে গেছে। তার ব্লাড সুগার ও ব্লাগ প্রেসারও কমে গেছে।

থ্রি ইডিয়টস সিনেমায় চতুর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ওমি বৈদ্য। তিনি সোনমের অবনতিশীল স্বাস্থ্যের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সবার দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন। নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) একাউন্টে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে ওমি বৈদ্য বলেন, ‘হ্যালো ইডিয়টস, চিনতে পেরেছ? আমি ওমি বৈদ্য, 'থ্রি ইডিয়টস'-এর চতুর। আপনাদের জন্য আমার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে। আমি সাধারণত এই ধরনের কাজ খুব একটা করি না, তাই দয়া করে মনোযোগ দিয়ে শুনুন।’ এরপর তিনি সোনমের শারীরিক অবস্থার ব্যাপারে সবার দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, ‘আপনার যদি একটু সময় থাকে, তবে কিছুক্ষণের জন্য থামুন, আপনার অফিসের কাজ বা ঘরের কাজ কিংবা যা-ই করছেন তা পাশে রাখুন এবং একটু দেখুন কী ঘটছে... আমি ফুনশুখ ওয়াংড়ুকে মরতে দেখতে চাই না। আমি চাই তিনি বেঁচে থাকুন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত সাধারণ মানুষ, আমাদের সাধারণ জীবন রয়েছে এবং আমরা এসব বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানোর জন্য বড্ড বেশি ব্যস্ত। কিন্তু আপনি যদি এই সমস্যাগুলোর দিকে তাকান, তবে হয়তো আপনি তাঁর সাথে একমত হবেন এবং দেখতে পাবেন যে আপনিও একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।’

ভিডিওতে সোনমকে একজন  ‘নম্র’ ও ‘অত্যন্ত চমৎকার মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করে ওমি বৈদ্য বলেন, ‘আমি আপনাদের বলব ইন্টারনেটে এটি একটু খুঁজে দেখতে যে তিনি কী করছেন, কারণ এই মুহূর্তে তিনি দীর্ঘ অনশনে রয়েছেন। এটি বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে। আমি জানি না আপনারা এই বিষয়ে শুনেছেন কি না, কিংবা মিডিয়া এটি প্রচার করছে কি না, তবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়... তিনি কেন অনশন করছেন? ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তাঁর কিছু আপত্তি ও সমস্যা রয়েছে... আর আপনি তাঁর সাথে একমত হন বা না হন, আমি চাই না তিনি মারা যান।’
 

বেলজিয়ামে নির্মাণাধীন ভবনে আগুন, লিফট থেকে ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
বেলজিয়ামে নির্মাণাধীন ভবনে আগুন, লিফট থেকে ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার
ছবি : রয়টার্স

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের কেন্দ্রস্থলে একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে ভবনের লিফট শ্যাফটের ভেতর আটকে থাকা একটি লিফট থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে শহরের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড প্লেস চত্বরের কাছে অবস্থিত ‘অক্সি টাওয়ার’ নামের নির্মাণাধীন ভবনটিতে আগুন লাগে। দমকলকর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে ধোঁয়া ও আগুন লিফটের শ্যাফট (সুড়ঙ্গ) পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দুইটি লিফট আটকে যায়। পরে উদ্ধারকারীরা একটি লিফট জোরপূর্বক খুলে নিখোঁজ ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

ব্রাসেলস শ্রম প্রসিকিউটর অফিসের মুখপাত্র ব্রেখট স্পেইব্রুক জানান, উদ্ধার হওয়া ছয়জন আগে থেকে নিখোঁজ থাকা ব্যক্তিরাই হতে পারেন। তবে অন্য লিফটে বা ভবনের অন্য কোথাও আরও কেউ আটকে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া উদ্ধারকাজ চালানোর সময় প্রচণ্ড তাপে অসুস্থ হয়ে পড়া এক দমকলকর্মীকে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপ এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে সাহসিকতার সাথে কাজ করায় উদ্ধারকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন ব্রাসেলসের মেয়র ফিলিপ ক্লোজ। ভবনটিতে কিভাবে আগুন লেগেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। উল্লেখ্য, নির্মাণাধীন এই অক্সি টাওয়ারটিতে ফ্ল্যাট, হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও বার তৈরির কাজ চলছিল।

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: অন্তত ৫০ অভিবাসী নিখোঁজ, উদ্ধার ১০

অনলাইন ডেস্ক
ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: অন্তত ৫০ অভিবাসী নিখোঁজ, উদ্ধার ১০
ছবি: রয়টার্স

লিবিয়ার পূর্ব উপকূলের কাছে ভূমধ্যসাগরে একটি কাঠের নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৫০ জন অভিবাসী নিখোঁজ হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবারের এই দুর্ঘটনার তথ্য রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন লিবিয়ার দুটি নিরাপত্তা সূত্র।

উদ্ধার হওয়া ১০ জনকে মিসরের সীমান্তের কাছাকাছি তবরুক শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে এল-বারদা দ্বীপের কাছে উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। নিরাপত্তা সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে মোট প্রায় ৬০ জন অভিবাসী ছিলেন। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য, ভোরের দিকে নৌকাটি যাত্রা শুরু করেছিল। কিছুক্ষণ পরই এটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ভূমধ্যসাগরে ডুবে যায়। সূত্রগুলো জানিয়েছে, নৌকায় থাকা অভিবাসীরা সাব-সাহারা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা এসব তথ্য দিয়েছেন।

এদিকে, এর আগের দিন সোমবারও একই এলাকায় আরেকটি উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তবরুক উপকূল থেকে চারজন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে লিবিয়ার জলসীমায় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ভাসতে থাকা একটি নৌকা থেকে আরো ২৪ জন অভিবাসীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। নিরাপত্তা সূত্রগুলোর একজন জানান, ওই নৌকায় মোট ২৮ জন অভিবাসী ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে ভাঙাচোরা নৌকায় আটকে থাকায় তারা চরম মানবিক সংকটের মধ্যে পড়েন। খাবার, পানি ও চিকিৎসার অভাবে চারজনের মৃত্যু হয়। তিনি আরো জানান, জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়ার পথে নৌকাডুবির ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। ২০১১ সালে ন্যাটোর সমর্থনে বিদ্রোহের মাধ্যমে মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। সেই সুযোগে মানবপাচারকারী চক্রগুলো লিবিয়াকে ইউরোপমুখী অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান যাত্রাপথ হিসেবে ব্যবহার করছে। সংঘাত, দারিদ্র্য ও সহিংসতা থেকে বাঁচতে সাব-সাহারা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের হাজারো মানুষ প্রতিবছর মরুভূমি পেরিয়ে লিবিয়ায় পৌঁছান। সেখান থেকে ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এই যাত্রায় প্রতিবছর অনেক অভিবাসী প্রাণ হারান বা নিখোঁজ হন। উল্লেখ্য যে, এর আগে গত জুন মাসে তবরুক শহরের কাছেই আরেকটি নৌকা ডুবে যায়। সে ঘটনায় অন্তত ২৬ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করেছিল লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ।

ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৪৭৩৪

অনলাইন ডেস্ক
ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৪৭৩৪
ছবি : রয়টার্স

ভেনিজুয়েলায় গত মাসে আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৭৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির শীর্ষ আইনপ্রণেতা হোর্হে রদ্রিগেজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ক্ষয়ক্ষতির এই নতুন পরিসংখ্যান প্রকাশ করেন।

গত ২৪ জুন ইয়ারাচুই রাজ্যে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্প দুইটির মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০ সেকেন্ড। এত কম সময়ের মধ্যে দুটি বড় ধরনের কম্পন হওয়ায় দেশটির ব্যাপক মানবিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর বিশাল বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

মার্কেলের স্থলাভিষিক্ত হলেন ওলাফ শোলজ | কালের কণ্ঠ