ওমান উপকূলে একটি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনায় তিন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ হওয়ার পর ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) জেসন মিকসকে তলব করেছে ভারত সরকার। হামলার শিকার জাহাজটিতে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ)।
বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আমেরিকা বিভাগ) নাগারাজ নাইডু মার্কিন কূটনীতিককে তলব করে এ হামলার বিষয়ে ভারতের উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ভারত সরকার এ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা গভীর উদ্বিগ্ন। এক বিবৃতিতে এমইএ জানায়, ওমান উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজ ‘সেত্তেবেলো’-তে হামলার ঘটনাকে ভারত কঠোরভাবে নিন্দা জানায়।
মন্ত্রণালয় জানায়, জাহাজে থাকা ২৪ ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও তিনজন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন। ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে চলমান অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে।
পরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ৯ জুন রাতে (মার্কিন সময়) ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামুদ্রিক অবরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ‘সেত্তেবেলো’ জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
সেন্টকমের দাবি, পালাউর পতাকাবাহী তেল ও রাসায়নিকবাহী ট্যাঙ্কারটি উপসাগরীয় ওমান অঞ্চলে চলাচলের সময় মার্কিন বাহিনীর নির্দেশনা অমান্য করায় একটি মার্কিন উড়োজাহাজ জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ওমানের সোহার বন্দরের উত্তর-পূর্বে প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটিতে হামলা হয় এবং ইঞ্জিন কক্ষে আগুন ধরে যায়। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, এটি ছিল মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রে জানিয়েছে, ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর মার্কিন অবরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এ হামলা হয়ে থাকতে পারে। জাহাজটিতে মোট ২৮ জন ক্রু সদস্য ছিলেন, যার মধ্যে ২৪ জনই ভারতীয়।
ঘটনার পর ভারত সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি আরো অবনতির আগে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছি।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আমরা অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানাচ্ছি এবং চলমান আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছি, যেন অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালির আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি দিনদিন বাড়ছে। ইরান সামুদ্রিক চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করার পর গত এপ্রিল থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে অবরোধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, এরপর থেকে মার্কিন বাহিনী অবরোধ লঙ্ঘনের অভিযোগে বহু জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন বা আটক করেছে। ইরানের তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি জাহাজও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
‘সেত্তেবেলো’-তে হামলার আগে সম্প্রতি ‘ম্যারিভেক্স’ নামের আরেকটি ট্যাঙ্কারও ওমান উপসাগরে হামলার শিকার হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, জাহাজটি একটি ইরানি বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল।
সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে







