• ই-পেপার

শি চিনপিংয়ের হুঁশিয়ারি

তাইওয়ানকে একত্র হতেই হবে

ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করল দিল্লি

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করল দিল্লি
সংগৃহীত ছবি

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজে ইরানের হামলায় একজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে আহত হয়েছে আরো ১০ জন। এ ঘটনায় ইরানের উপরাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এক বিবৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার দিনগত রাতে ওমান উপকূলের কাছে ইরানি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ‘আল বাহিয়াহ’ ও ‘মোমবাসা’ নামের দুটি তেলবাহী ট্যাংকার। এ সময় সেগুলোতে মোট ৪৬ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলেন, আল বাহিয়াহ জাহাজে থাকা ১২ জন ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে একজন নিহত হয়েছেন এবং আরেকজন আহত হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, মোমবাসা জাহাজে ১৮ জন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে ৯ জন আহত হয়েছে, যার মধ্যে দুজনের আঘাত গুরুতর।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব হামলার বিরুদ্ধে ‘কঠোর প্রতিবাদ’ জানাতে তারা ইরানের উপরাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।

নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘আমরা নাবিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত এসব হামলা এবং হরমুজ প্রণালির মতো আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধ ও নিরাপদ চলাচল ব্যাহতকারী সহিংস কর্মকাণ্ডের কঠোর নিন্দা জানাই।’

স্থলযুদ্ধের নতুন রূপ দিচ্ছে ইউক্রেন

অনলাইন ডেস্ক
স্থলযুদ্ধের নতুন রূপ দিচ্ছে ইউক্রেন
সংগৃহীত ছবি

শুরুতে আকাশে উড়ন্ত ড্রোন বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের ধরন বদলে দিয়েছিল ইউক্রেন। তবে এখন নীরবে আরেকটি প্রযুক্তিগত বিপ্লব ঘটছে মাটিতে। যাকে সামরিক ভাষায় বলা হয় ‘আনম্যান্ড গ্রাউন্ড ভেহিকল’ বা ইউজিভি। এর মাধ্যেমে যুদ্ধের সম্মুখসমরের বিপজ্জনক কাজগুলো এই স্থলভাগের রোবট বা চালকবিহীন যান দিয়ে প্রতিস্থাপন করছে। ফলে এখন রসদ পরিবহন, গোলাবারুদ বহন, আহত সেনাদের উদ্ধার, মাইন পাতা, এমনকি শত্রুর ট্রেঞ্চ দখলের মতো ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। 

ইউক্রেনের সেনারা বলছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে এসব রোবট এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। কারণ রাশিয়ার ড্রোন হামলার কারণে সামনের সারির সেনাদের দীর্ঘ সময় মাটির নিচের বাংকারে অবস্থান করতে হয়। ফলে বিপজ্জনক এলাকায় মানুষের পরিবর্তে রোবট পাঠানোই নিরাপদ বিকল্প হয়ে উঠেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত এপ্রিলে দাবি করেন, দেশটির বাহিনী কেবল আকাশ ও স্থল ড্রোন ব্যবহার করেই একটি রুশ অবস্থান দখল করেছে। ওই অভিযানে ইউক্রেনের কোনো সেনাকে সরাসরি ঝুঁকির মুখে যেতে হয়নি।

দি নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, স্থল রোবট প্রযুক্তির উন্নয়নে ইউক্রেন বর্তমানে বিশ্বের অনেক উন্নত সামরিক শক্তিকেও ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু বড় আশ্চর্যের বিষয় হলো এই প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বড় সফটওয়্যার প্রকৌশলীরা নয়; বরং যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করা মেকানিক, ওয়েল্ডার এবং পদাতিক সেনারা, যারা নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী এসব রোবট তৈরি করছেন।

ইউক্রেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ইউফোর্স কম্পানির বোর্ড চেয়ারম্যান ওলেক্সি হনচারুক মার্কিন সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, আকাশযানের ড্রোন দ্রুত উন্নত হয়েছে তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের হাতে। কিন্তু স্থল রোবটের উন্নয়ন হয়েছে সামনের সারির সেনা ও মেকানিকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে। যেখানে মূল লক্ষ্য ছিল কঠিন কাজগুলোকে আরো কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা।

প্রাণ বাঁচানোর নতুন হাতিয়ার

রাশিয়ার তুলনায় ইউক্রেনের সেনাসংখ্যা কম হওয়ায় প্রতিটি সেনার জীবন রক্ষা দেশটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই স্থল ড্রোনের কারণে যুদ্ধক্ষেত্রে ‘কিল জোন’ বা প্রাণঘাতী এলাকা অনেক বিস্তৃত হয়েছে। ফলে এমন কিছু গোপন জায়গা তৈরি হয়েছে যে, যেখান থেকে সামনের অবস্থানে পৌঁছানোই সেখানে অবস্থান করার চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

এ কারণে ইউক্রেনের বিভিন্ন ব্রিগেডে শত শত স্থল রোবট মোতায়েন করা হয়েছে। কে-২ ব্রিগেডের একটি স্থল রোবট ইউনিটের কমান্ডার মেজর ওলেক্সান্দর জানান, তাদের ইউনিটে ৬০০-এর বেশি রোবট রয়েছে এবং প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয়টি অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি বলেন, সৈন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে শুধু রসদ পরিবহনের জন্যই চালক সংকট দেখা দিত। স্থল রোবট সেই সমস্যার সমাধান করেছে। এগুলো ছোট হওয়ায় সহজে শনাক্ত করা যায় না এবং ধ্বংস হলেও কোনো সেনার প্রাণহানি ঘটে না।

৩৬তম ব্রিগেডের সার্জেন্ট দিমিত্রো ইভানভ জানান, পর্যাপ্ত রোবট পাওয়ার পর তাদের ইউনিটে রসদ পরিবহন ও সরবরাহের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ মানুষ ছাড়াই সম্পন্ন হচ্ছে।

মেকানিক থেকে কমান্ডার

৯৩তম মেকানাইজড ব্রিগেডের ক্যাপ্টেন ওলেক্সান্দর খারকোভেৎস যুদ্ধের আগে একটি অটোমোটিভ ইলেকট্রনিকস কর্মশালা পরিচালনা করতেন। ২০২৩ সালে ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলে বাখমুতের ধ্বংসস্তূপে বাড়ি বাড়ি যুদ্ধের সময় তিনি উপলব্ধি করেন যে, মানুষের পরিবর্তে এসব ঝুঁকিপূর্ণ কাজ যন্ত্রের মাধ্যমেই করা সম্ভব।

পরে তিনি একটি রিমোট কন্ট্রোল গাড়িতে হুক ও মেশিনগান সংযুক্ত করেন, যাতে নিহত বা আহত সেনাদের উদ্ধার করার পাশাপাশি প্রয়োজনে পাল্টা গুলিও চালানো যায়। ওই বছরের শেষ দিকে এই রোবটের মাধ্যমে এমন একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা এক সপ্তাহ ধরে বিশেষ বাহিনীও উদ্ধার করতে পারেনি।

সীমাবদ্ধতা কোথায়?

তবে স্থল রোবট এখনো সব পরিস্থিতিতে কার্যকর নয়। খোলা সমতল এলাকায় এগুলো সহজেই শত্রুর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। মানুষের মতো গাছে ওঠা, ট্রেঞ্চে লাফ দেওয়া বা পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও নেই।

এসব সীমাবদ্ধতা কাটাতে প্রকৌশলীরা রোবটে ক্ষুদ্র আকারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংযোজন এবং বন্ধু-শত্রু শনাক্তের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন।

যুদ্ধক্ষেত্রে এত এত সীমাবদ্ধতার পরেও ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, ভবিষ্যতের সেনাবাহিনী স্থল রোবট ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। ২০২৬ সালে দেশটি ৫০ হাজার স্থল রোবট উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

এদিকে রাশিয়াও স্থল রোবট ব্যবহার করছে, তবে ইউক্রেনের তুলনায় অনেক কম।

ইউক্রেনের গ্রাউন্ড রোবট সিস্টেম নির্মাতাদের সংগঠনের প্রধান মাকসিম ভাসিলচেঙ্কো বলেন, একটি সাঁজোয়া পদাতিক যান কেনার অর্থে একটি ব্রিগেড ৭৭টি স্থল রোবট কিনতে পারে। অর্থাৎ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে না ফেলেই ৭৭ বার অভিযান পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়।

রোবটযুদ্ধ

শুরুতে এসব রোবট মূলত রসদ পরিবহনে ব্যবহৃত হলেও এখন সরাসরি যুদ্ধেও অংশ নিচ্ছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইউক্রেনের খারতিয়া কর্পস ইতিহাসের প্রথম সম্পূর্ণ রোবটনির্ভর স্থল হামলা পরিচালনা করে।

মেশিনগান, ফ্লেমথ্রোয়ার ও বিস্ফোরক বহনকারী স্থল রোবট এবং আকাশের ড্রোন একসঙ্গে অভিযান চালিয়ে রুশ অবস্থানে হামলা চালায় রোবট।

বর্তমানে কিছু রোবট শুধু হামলাই নয়, আত্মসমর্পণকারী রুশ সেনাদের নিরাপদে ইউক্রেনীয় অবস্থানে নিয়ে আসার কাজও করছে।

তৃতীয় অ্যাসল্ট ব্রিগেডের জুনিয়র লেফটেন্যান্ট মাইকোলা জিনকেভিচ নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানান, তাদের একটি ভারী মেশিনগান-সজ্জিত স্থল রোবট টানা ৪৫ দিন একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পাহারা দিয়েছে।

আহমাদিনেজাদকে ইরানের ক্ষমতায় বসাতে চেয়েছিল ইসরায়েল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
আহমাদিনেজাদকে ইরানের ক্ষমতায় বসাতে চেয়েছিল ইসরায়েল
ছবি : রয়টার্স

যুদ্ধে যেমন পারদর্শী ইসরায়েল, তেমনি ষড়যন্ত্রেও তারা কম যায় না। মাঠে ইসরায়েলের সশস্ত্র বাহিনী আর পেছনে তাদের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ বিশ্বজুড়ে তাদের স্বার্থরক্ষায় নানা অপকর্ম করে বেড়ায়। এমনই এক চাঞ্চল্যকর ষড়যন্ত্রের খবর ফাঁস করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে, বর্তমান নেতৃত্বকে হটিয়ে ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বে আসীন করতে চেয়েছিল ইসরায়েল। ষড়যন্ত্রটি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় আহমাদিনেজাদ বর্তমানে গৃহবন্দি অবস্থায় আছেন।

এর আগে গত মে মাসেও নিউইয়র্ক টাইমস এ ধরনের একটি ষড়যন্ত্রের প্রাথমিক আভাস দিয়েছিল। তবে এবার ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে। একই দিনে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ’ও এই গোপন অভিযানের বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে। অপারেশনটির কোড নাম ছিল ‘অপারেশন পুস ইন বুটস’। বছরের পর বছর ধরে মোসাদ এ ষড়যন্ত্রটি চালিয়ে আসছিল। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০১৩ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে আহমাদিনেজাদের দূরত্ব তৈরি হয়। এই সুযোগটিই লুফে নেয় মোসাদ। তারা আহমাদিনেজাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে। ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব আহমাদিনেজাদকে তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে বিরত রাখে। ফলে তিনি ধীরে ধীরে ইরানের কিছু নেতার সমালোচনা করতে শুরু করেন। 

আহমাদিনেজাদ বিশ্বাস করতেন, বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন হলেই কেবল তিনি আবারও ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন। একসময় ইসরায়েলের কট্টর সমালোচক হলেও ক্ষমতার লোভে আহমাদিনেজাদ মোসাদের ফাঁদে পা দেন। 

প্রতিবেদনে আরো দাবি করা হয়, ২০২৪ সালে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে মোসাদের সঙ্গে আহমাদিনেজাদের প্রথম সরাসরি বৈঠক হয়। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক একটি সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে আহমাদিনেজাদ সেখানে গিয়েছিলেন। সম্মেলনের আয়োজক লুদোভিকা ইউনিভার্সিটির রেক্টর গেরগেলি ডেলি জানান, সম্মেলন চলাকালে আহমাদিনেজাদ এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে গোপন বৈঠক হয়েছিল।

২০২৫ সালে আহমাদিনেজাদ আবারও হাঙ্গেরিতে যান এবং মোসাদ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, আহমাদিনেজাদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠকে মোসাদের তখনকার প্রধান ডেভিড বার্নিয়া নিজেই উপস্থিত ছিলেন। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বৈঠকগুলোর সময় আহমাদিনেজাদের সব খরচ ইসরায়েলই বহন করেছিল। তবে আহমাদিনেজাদের সাবেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সিনিয়র উপদেষ্টা আবদোলরেজা দাভারি বলেন, ‘আহমাদিনেজাদ টাকার জন্য এটি করবেন না। তার টাকা আছে, তার একটি বিশাল অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কও রয়েছে। তিনি এটি ক্ষমতার জন্য করবেন। তিনি ক্ষমতার শীর্ষে থাকতে চান।’

চলতি বছর ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের শুরুর দিকে মোসাদ তাদের পুরোনো পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যায়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যুদ্ধের সময় তেহরানে আহমাদিনেজাদের কম্পাউন্ডে একটি ইসরায়েলি বিমান আঘাত হানে। এটি ছিল আসলে একটি কাভার। হামলার পরপরই মোসাদ এজেন্টরা একটি কালো গাড়িতে করে আহেমাদিনেজাদকে ইরানের ভেতরেই একটি গোপন সেফ হাউজে নিয়ে যায়। তবে এবারের আয়োজনে সন্তুষ্ট হতে পারেননি আহমাদিনেজাদ। তাকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ইসরায়েলের বৃহত্তর পরিকল্পনার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেন তিনি। ফলে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা সাফল্যের মুখ দেখেনি। পরবর্তীতে অস্পষ্ট পরিস্থিতির মধ্যে তিনি সেই সেফ হাউজ ত্যাগ করেন।

ইরানি কর্তৃপক্ষ পরে ইসরায়েলের সঙ্গে আহমাদিনেজাদের কথিত যোগাযোগের কথা জানতে পারে। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দি রয়েছেন এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড-আইআরজিসি’র গোয়েন্দা শাখা তার ওপর নজরদারি রাখছে। সেফ হাউজ ছাড়ার পর থেকে আহমাদিনেজাদকে আর কোথাও দেখা যায়নি। অবশেষে গত সোমবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজার মিছিলে অল্প সময়ের জন্য তাকে দেখা গিয়েছিল।

তবে এই অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তা বা মোসাদ কোনো মন্তব্য করেনি। তবে, মাহমুদ আহমাদিনেজাদের কার্যালয় থেকে এই দাবিগুলোকে ‘হলিউড মার্কা গল্প এবং ‘ভুয়া খবর’ বলে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

থাইল্যান্ডের বারে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০

অনলাইন ডেস্ক
থাইল্যান্ডের বারে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০
ছবি : রয়টার্স

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককের একটি মিউজিক বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। ব্যাঙ্কক মেট্রোপলিটন প্রশাসনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৪ জনের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।

‘রং বিয়ার না লাডপ্রাও’ নামের বারে রবিবার গভীর রাতে আগুন লাগে। ব্যাঙ্ককের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত এই বারের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীদের প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লাগে।

কর্মকর্তাদের মতে, এটি গত ১৭ বছরের মধ্যে ব্যাঙ্ককের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড। ব্যাঙ্ককের গভর্নর চাদচার্ট সিট্টিপুন্ট বলেন, নিহতদের বেশির ভাগই ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। এদিকে আহতদের মধ্যে অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অগ্নিকাণ্ডের পর সোমবার ভোরে বারটি ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করে কর্তৃপক্ষ। কয়েক ডজন ফরেনসিক কর্মকর্তা আগুন লাগার কারণ খুঁজতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আগুনে বারের সামনের জানালাগুলো ভেঙে যায়। বাইরে ফুটপাতে পোড়া টেলিভিশন, স্পিকার, ইলেকট্রিক গিটারসহ নানা ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিল। ভেতরে পোড়া টেবিলের ওপর এখনো খালি বিয়ারের বোতল দেখা যায়।

বার কর্তৃপক্ষের দাবি, সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৬০০ জন গ্রাহক বসতে পারতেন। তবে আগুন লাগার সময় ঠিক কতজন উপস্থিত ছিলেন, তা এখনো জানা যায়নি। ব্যাঙ্ককের ইরাওয়ান জরুরি পরিষেবা কেন্দ্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় ৭৩ জন আহত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার তথ্যে সামান্য পার্থক্য থাকলেও প্রাণহানির সংখ্যা ৩০ জনের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

জাতীয় পুলিশ প্রধান কিথারাথ পুনপেচ বলেন, অধিকাংশ মরদেহ জানালাবিহীন একটি বাথরুমের কাছে পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগুন থেকে বাঁচতে অনেকেই সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কিন্তু বের হতে না পেরে আটকা পড়েন। তিনি জানান, ওই নির্গমন পথটি নিয়মিত ব্যবহৃত হতো না। সেখানে রাখা টেবিল বা অন্যান্য সামগ্রীর কারণে পথ বাধাগ্রস্ত ছিল। এ ছাড়া ধোঁয়া ও অন্ধকারের কারণে অনেকেই বের হওয়ার পথ খুঁজে পাননি।

পুলিশ আরো জানিয়েছে, রান্নাঘরের পাশের আরেকটি জরুরি নির্গমন পথও তাক ও লকারের কারণে সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে যে, কয়েকটি জরুরি নির্গমন দরজা সম্ভবত তালাবদ্ধ ছিল।

তদন্তকারীরা আগুনের উৎস খুঁজতে মঞ্চের ওপরের ছাদ অংশে বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন। সেখানে এমন কিছু উপকরণ পাওয়া গেছে, যা সাজসজ্জার কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, ভবনের ভেতরে দাহ্য উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না এবং বৈদ্যুতিক তারগুলো কিভাবে স্থাপন করা হয়েছিল।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল জানান, বারে পারফর্ম করা এক সংগীতশিল্পী তাকে বলেছেন, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার আগে তিনি মঞ্চের কাছে একটি সার্কিট ব্রেকার থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেছিলেন। এরপর একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একতলা ভবনটি থেকে আগুনের শিখা বের হচ্ছে এবং কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। এ সময় আতঙ্কিত মানুষজন দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

এদিকে সোমবার বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ঘটনাস্থলে এসে নিহতদের জন্য প্রার্থনা করেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীরা ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাব থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে ফেস মাস্ক বিতরণ করেন। নিখোঁজ বা আহত স্বজনদের খোঁজে আসা পরিবারের সদস্যদের তথ্য সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে একটি নিবন্ধন কেন্দ্রও খোলা হয়েছে।

গায়িকা সুকন্যা ওংওংওয়াই জানান, তিনি কাছাকাছি একটি অনুষ্ঠানে গান গাইছিলেন। আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান, কারণ তার ব্যান্ডের কয়েকজন সদস্য ওই বারে পারফর্ম করছিলেন। তিনি বলেন, তার ব্যান্ডের একজন সদস্য মারা গেছেন, তিনজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং একজনকে প্রথমে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে ফেসবুকে ব্যান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিখোঁজ সদস্যকে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় পাওয়া গেছে।

সুকন্যা বলেন, ‘ভেতরে যারা ছিলেন, তাদের কাছ থেকে শুনেছি যে হঠাৎ সবকিছু অন্ধকার হয়ে যায়। বিদ্যুৎ চলে যায় এবং চারদিকে ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ফলে কেউ কাউকে দেখতে বা খুঁজে পেতে পারছিলেন না।’ এদিকে ফেসবুকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বার কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বারের মালিক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে স্বজনরা ব্যাঙ্ককের ফরেনসিক মেডিসিন ইনস্টিটিউটে জড়ো হন। সেখানে ২৪ বছর বয়সী কেও উদোন পাউংপানি তার ছোট ভাইয়ের মরদেহ শনাক্ত করতে আসেন। লাওস থেকে আসা এই দুই অভিবাসী শ্রমিক আগুন লাগার সময় ওই বারে কর্মচারী হিসেবে কাজ করছিলেন।

২৪ বছর বয়সী কেও উদোন পাউংপানি জানান, আগুন লাগার সময় তিনি বারের বাইরে একটি শৌচাগারে ছিলেন। তিনি বলেন, বারের দিকে ফিরে আসার সময় দেখেন, আতঙ্কিত মানুষজন আগুন থেকে বাঁচতে দৌড়ে বেরিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে তিনি বিস্ফোরণের মতো জোরালো শব্দও শুনতে পান।

পাউংপানি জানান, বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি তার ছোট ভাইকে ডাকতে থাকেন। কিন্তু আগুনের তীব্র তাপের কারণে তিনি আর ভেতরে ঢুকতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘তাপ এতোটাই বেশি ছিল যে আমি ভেতরে ফিরতে পারিনি।’

শোকাহত এই যুবক বলেন, ‘এখন আমি শুধু আমার ছোট ভাইয়ের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যেতে চাই। আমি তাকে বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে চাই। তারা অপেক্ষা করছিলেন, দুই ছেলে আবার একসঙ্গে বাড়ি ফিরবে। কিন্তু এখন একজন আর নেই।’ 

থাইল্যান্ডে এর আগেও বেশ কয়েকটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালে দেশটির পূর্বাঞ্চলের একটি মিউজিক বারে আগুন লেগে ১৪ জন নিহত হন। এরও আগে, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি ব্যাংককের সান্তিকা নাইটক্লাবে নববর্ষ উদযাপনের সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬৭ জন নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হন। তদন্তে ধারণা করা হয়, ক্লাবের ভেতরে আতশবাজি প্রদর্শনের সময় ওই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।

তাইওয়ানকে একত্র হতেই হবে | কালের কণ্ঠ