• ই-পেপার

ইস্তাম্বুলের আরেকটি চার্চ মসজিদে রূপান্তরের নির্দেশ এরদোয়ানের

মোজতবা খামেনি ৯০ শতাংশ শেষ, দাবি ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
মোজতবা খামেনি ৯০ শতাংশ শেষ, দাবি ট্রাম্পের
সংগৃহীত ছবি

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। যা দেশটিকে অনেকটাই পাথর যুগে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

ইরানের ক্ষমতা অনেকটাই ‘কেড়ে নেওয়া’ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো দাবি করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও ‘৯০ শতাংশ শেষ’ হয়ে গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরান শুধু সামরিক সক্ষমতাই হারায়নি, তাদের শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররাও নিহত হয়েছেন বলে ট্রাম্প দাবি করেছেন।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের কোনো নৌবাহিনী নেই, কোনো বিমানবাহিনী নেই। সব শেষ। তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নেই। তাদের শীর্ষনেতারা সবাই নিহত হয়েছেন। তাদের সবচেয়ে দক্ষ নেতারাও নিহত হয়েছেন।’

ট্রাম্প আরো দাবি করেন, ‘তাদের (ইরান) ২০০টি যুদ্ধবিমান ছিল; এখন সবই ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের রাডার নেই, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নেই। অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার প্রায় ৮৪ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। মোটের ওপর তাদের সেই সক্ষমতা আর নেই।’

এ সময় তিনি ১৯৮৯ সালে মারা যাওয়া ইরানের বিপ্লবী নেতা রুহুল্লাহ খোমেনির নাম ব্যবহার করলেও, তিনি মূলত সাম্প্রতিক যুদ্ধে নিহত হওয়া আলি খামেনির কথাই উল্লেখ করছিলেন। তিনি আরো বলেন, ‘তার ছেলে (মোজতবা খামেনি) ৯০ শতাংশ শেষ।’

চার মাস আগের ইরান আর এখনকার ইরান এক নয় মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, ‘চার মাসের মধ্যে আমরা তাদের অনেকটাই পাথর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে গেছি। তবে তাদের হাতে এখনো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আছে এবং সামান্য কিছু সক্ষমতা রয়েছে। তবে মোটের ওপর তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অবস্থায় চলে গেছে।’

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি মোজতবা খামেনিকে। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তিনি আহত হন এবং একই হামলায় তার বাবা আলি খামেনিও নিহত হন। এর পর থেকে তার অনুপস্থিতি নিয়ে জনমনে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।

এদিকে গত কয়েক দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে কয়েক মাসের যুদ্ধবিরতির কার্যত অবসানও ঘটেছে। এ সময় ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, সমুদ্রপথে নিরাপদ চলাচলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের জাহাজগুলোর কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে পারে। তবে এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বিশ্বজুড়ে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

এর জবাবে ইরান বাহরাইনের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলরত সংযুক্ত আরব আমিরাত-সংশ্লিষ্ট দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়। এতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নাবিক নিহত এবং আরো ৮ জন আহত হন।

এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়, যা আবুধাবি ও দুবাইকেও নতুন করে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। 

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো, এখন সেই কৌশলগত জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে।

পাকিস্তানে ভারি বৃষ্টিতে বাড়ির ছাদ ধসে নিহত ১১

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানে ভারি বৃষ্টিতে বাড়ির ছাদ ধসে নিহত ১১
ছবি : রয়টার্স

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভারি বৃষ্টির কারণে কাঁচা বাড়ির ছাদ ধসে ১১ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার পুলিশ ও উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। প্রাদেশিক জরুরি পরিষেবার কর্মকর্তা বিলাল ফাইজি বলেন, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাত জেলায় সোমবার রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি জানান, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। পরে মরদেহগুলো দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এদিকে সোমবার গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলেও ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আঞ্চলিক জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, এতে ভূমিধসের কারণে বেশ কয়েকটি সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সরকার পর্যটকদের উত্তর পাকিস্তানে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। পাকিস্তানে বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই ভারি বৃষ্টির কারণে বন্যা ও ভূমিধস দেখা দেয়, যা প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়।

২০২২ সালে দেশটিতে রেকর্ড পরিমাণ মৌসুমি বৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। ওই দুর্যোগে ১,৭৩৯ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়।
 

ভারত একটি নিরাপদ-শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত বিশ্বের জন্য কাজ করবে : জয়শঙ্কর

অনলাইন ডেস্ক
ভারত একটি নিরাপদ-শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত বিশ্বের জন্য কাজ করবে : জয়শঙ্কর

ভারতের বিদেশমন্ত্রী ড. সুব্রমণিয়ম জয়শঙ্কর বলেছেন, ‘ভারত একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত বিশ্বের জন্য কাজ করবে। যেখানে বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলের কণ্ঠস্বর সমানভাবে শোনা যাবে।’

সোমবার (১৩ জুলাই, ২০২৬) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ নির্বাচনে ভারতের আনুষ্ঠানিক প্রচার অভিযান শুরু করার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘সংঘাতদীর্ণ ও অস্থিতিশীল বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় জাতিসংঘের ভূমিকা আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে ভারত, আস্থা, অখণ্ডতা ও নিয়ম-বিধির ওপর নির্ভর করে বিশ্ব শান্তি, নিরাপত্তা ও ভারসাম্য যুক্ত উন্নয়নের লক্ষ্যে যে মতাদর্শ নিয়ে এগিয়ে চলেছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তি মিশন চালু হওয়ার পর থেকে ভারত ৫০টি মিশনে প্রায় তিন লাখ কর্মীকে পাঠিয়েছে। বর্তমানে ১০টি শান্তিরক্ষা বাহিনীতে চার হাজার ৩০০ জনের বেশি কর্মী নিযুক্ত রয়েছেন।’

ভারত নির্বাচিত হলে ২০২৮ থেকে তাদের কার্যকালের মেয়াদ হবে ২’বছরের। এর আগে ভারত, নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে আট বার দায়িত্ব পালন করে। এর মধ্যে সাম্প্রতিকতম হল, ২০২১-২২ সালে।   

এদিকে বিদেশমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতারেসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সামাজিক মাধ্যমের এক বার্তায় ড. জয়শঙ্কর বলেন, তাদের মধ্যে পশ্চিম এশিয়া, ইউক্রেন এবং সুদান সহ আন্তর্জাতিক নানা ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সরকারে বড় রদবদল, নতুন প্রধানমন্ত্রী খুঁজছে ইউক্রেন

অনলাইন ডেস্ক
সরকারে বড় রদবদল, নতুন প্রধানমন্ত্রী খুঁজছে ইউক্রেন
ছবি : রয়টার্স

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কোকে বরখাস্ত করার পর দেশটির পার্লামেন্টে নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি চলছে। এ সপ্তাহেই এ বিষয়ে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। জেলেনস্কি বলেছেন, সরকারের কাজে নতুন চিন্তা ও নতুন গতি আনতেই এই পরিবর্তন করা হচ্ছে।

রবিবার এক ঘোষণায় তিনি জানান, মাত্র এক বছর দায়িত্ব পালনের পর সভিরিদেঙ্কোকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। তার এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

তবে সমালোচকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এমন পরিবর্তন রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এমন সময়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যখন ইউক্রেন রাশিয়ার আরো তীব্র হামলার মুখোমুখি হচ্ছে।

সংসদ সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কোর সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের মধ্যে রয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস কম্পানি নাফতোগাজের প্রধান সেরহি কোরেৎসকি, জ্বালানিমন্ত্রী দেনিস শ্মিহাল এবং বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। দেনিস শ্মিহাল এর আগে ছয় মাস প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই তিনজনের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কোকে সরানোর ঘোষণা দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের সঙ্গে বৈঠকের ছবি প্রকাশ করেছেন। ইউক্রেনের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী পদে একজনকে মনোনয়ন দেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য নির্বাচন করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সংসদের অনুমোদন পেতে হয়।

জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন আনতে চান। তার মতে, এর মাধ্যমে ইউক্রেন মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে আরো বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার প্রচেষ্টা জোরদার করতে পারবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ অর্জনের লক্ষ্য এগিয়ে নিতে পারবে এবং আগামী শীতে রাশিয়ার সম্ভাব্য বিদ্যুৎ অবকাঠামো হামলার জন্য আরো ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবে।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস কম্পানি নাফতোগাজের প্রধান সেরহি কোরেৎস্কিকে অনেকেই নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাব্য শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে দেখছেন। তিনি নিয়োগ পেলে সরকারের নেতৃত্বে একজন অভিজ্ঞ প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসক আসবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এতে রাশিয়ার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠন ও জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের ওপর আরো বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। রুশ হামলায় ইউক্রেনের অনেক শহর ও জনপদ প্রায়ই বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

কিয়েভভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভলোদিমির ফেসেঙ্কো বলেছেন, সরকার পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সংকট মোকাবেলায় দক্ষ আরো কয়েকজন কর্মকর্তাও মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। তাদের মধ্যে খারকিভের মেয়র ইহোর তেরেখভের নামও আলোচনায় রয়েছে। খারকিভ শহরটি নিয়মিত রুশ হামলার শিকার হয়।

বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকেও প্রধানমন্ত্রীর জন্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি ইউক্রেনের যুদ্ধকালীন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে বিশ্লেষক ফেসেঙ্কোর মতে, ফেদোরভকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দিলে সেনাবাহিনীর চলমান গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এ নিয়ে বিরোধী দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ইউক্রেন বর্তমানে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে রাশিয়ার তেল খাত ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সেনাবাহিনীর প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জনবল সংকট মোকাবেলায় সেনা নিয়োগ ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

বিরোধী দল হলোস পার্টির আইনপ্রণেতা ইন্না সোভসুন বলেছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনায় তিনি উদ্বিগ্ন।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আগে দেনিস শ্মিহাল ছয় মাস মন্ত্রী ছিলেন। তিনি কিছু পরিকল্পনা শুরু করেছিলেন, কিন্তু পরে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যদি মিখাইলো ফেদোরভের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে, তাহলে তা মোটেও ভালো হবে না।’

তার মতে, যুদ্ধ চলাকালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে বারবার পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও সামরিক কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

যুদ্ধকালীন সরকারে নতুন রদবদলের পথে ইউক্রেন

ইউক্রেনে নতুন সরকার গঠনের জন্য সংসদীয় প্রক্রিয়া মঙ্গলবার থেকেই শুরু হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের ঘোষণা যুদ্ধ চলাকালে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে ধারাবাহিক রদবদলের সর্বশেষ উদাহরণ। এর আগে গত বছরের শেষ দিকে জেলেনস্কি দীর্ঘদিনের শীর্ষ কর্মকর্তা আন্দ্রি ইয়েরমাককে সরিয়ে জনপ্রিয় গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রধানকে নিয়োগ দেন। ইয়েরমাক একটি বড় দুর্নীতি তদন্তের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার পর এই পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের সময় সরকারে এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো প্রশাসনের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নেতৃত্বকে আরো শক্তিশালী করা।

ইউক্রেনে চলমান তথাকথিত ‘মাইডাস’ দুর্নীতি তদন্তে বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে। এই তদন্ত এখনো চলমান এবং তা প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

তবে কিয়েভ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজির তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে জেলেনস্কির প্রতি জনগণের আস্থা মোটামুটি স্থিতিশীল থেকেছে এবং তা প্রায় ৬০ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। বর্তমানে ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি থাকায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ফলে নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার জন্য মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন বা রদবদল জেলেনস্কির হাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উপায়গুলোর একটি।

তবে বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা ও সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকার দিমিত্রো রাজুমকভ মনে করেন, এই পরিবর্তন বড় কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না।

রয়টার্সকে তিনি বলেন, জেলেনস্কির প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত সংখ্যক ঘনিষ্ঠ ও অনুগত ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে আসছে। তার মতে, বর্তমান রদবদলও মূলত একই ব্যক্তিদের মধ্যে পদ পরিবর্তনের ঘটনা।

ইস্তাম্বুলের আরেকটি চার্চ মসজিদে রূপান্তরের নির্দেশ এরদোয়ানের | কালের কণ্ঠ