• ই-পেপার

তথ্য গোপন করেছে ইরান, করোনায় মৃত্যু সরকারি হিসাবের ৩ গুণ!

সোনমকেই শিক্ষামন্ত্রী বানানো উচিত, কেজরিওয়ালের মত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
সোনমকেই শিক্ষামন্ত্রী বানানো উচিত, কেজরিওয়ালের মত

দিল্লীর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল মনে করেন, সোনম ওয়াংচুককেই ভারতের শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগ করা উচিত। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে আমরণ অনশন করছেন লাদাখের বিখ্যাত প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, শিক্ষা সংস্কারক এবং পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুক।

বৃহস্পতিবার যন্তর মন্তরে ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে কেজরিওয়াল বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ করে সোনম ওয়াংচুককে দেশের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করা উচিত।’

কেজরিওয়াল বলেন, বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও তরুণদের উদ্বেগের সমাধান সরকারকে অবশ্যই করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় এবং যুবসমাজকে এর খেসারত দিতে হয়। আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি যেন তারা শিক্ষার্থী ও ওয়াংচুকের কথা শোনে।’

আন্না হাজারের সঙ্গে যন্তর মন্তরে ২০১১ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে কেজরিওয়াল বলেন, ‘আজ এখানে আসার সময় আমার ২০১১ সালের ৪ এপ্রিলের কথা মনে পড়ে গেল। তিন বছর পর, সেই সরকার ক্ষমতা হারিয়েছিল কারণ তারা জনগণের কথা শুনতে ব্যর্থ হয়েছিল।’

আমরণ অনশনের ২০ দিনে ওয়াংচুক ৯ কেজিরও বেশি ওজন হারিয়েছেন। তার ব্লাড প্রেসার ও ব্লাড সুগার নেমে যাচ্ছে। বেড়ে গেছে ইউরিক এসিড।

এদিকে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন ওয়াংচুককে তার অনশন শেষ করার আবেদন জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার নেয়া এসোসিয়েশনের একটি প্রস্তাবে বলা হয়, সোনমের এই পদক্ষেপ জাতির বিবেককে জাগিয়ে তুলেছে।

এসোসিয়েশনের সভাপতি বিকাশ সিং বৃহস্পতিবার যন্তর মন্তর পরিদর্শন করেন এবং সোনমের কাছে একটি চিঠি হস্তান্তর করেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ভারতের একটি ভেঙ্গে পড়া ব্যবস্থার জন্য আপনার মারা যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা চাই আপনি বেঁচে থাকুন, কাজ করুন এবং সামনে থেকে আমাদের নেতৃত্ব দিন।’

নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছে। তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে গত ২৮ জুন থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন ওয়াংচুক। আন্দোলনেন অংশ হিসেবে আগামী ২০ জুলাই সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে ককরোচ পার্টি ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। সোনম ওয়াংচুক এক ভিডিও বার্তায় সবাইকে ২০ জুলাইয়ের কর্মসূচিতে শরিক হওয়ার ডাক দিয়েছেন।

ট্রাম্পের ভাষণে বাজি, হোয়াইট হাউসকর্মীর বিরুদ্ধে ১ লাখ ডলার আয়ের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
ট্রাম্পের ভাষণে বাজি, হোয়াইট হাউসকর্মীর বিরুদ্ধে ১ লাখ ডলার আয়ের অভিযোগ
ছবি : রয়টার্স

হোয়াইট হাউসের এক টেলিপ্রম্পটার পরিচালকের বিরুদ্ধে ভেতরের তথ্য ব্যবহার করে বাজি ধরার অভিযোগে তদন্ত চলছে। অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণে কোন শব্দ বা বাক্য ব্যবহার করা হবে, সেই তথ্য কাজে লাগিয়ে তিনি প্রায় ১ লাখ ডলার আয়ের চেষ্টা করেছিলেন।

অভিযুক্ত কর্মীর নাম গ্যাব্রিয়েল পেরেজ। তিনি ২০১৬ সাল থেকে হোয়াইট হাউসে টেলিপ্রম্পটার অপারেটর হিসেবে কাজ করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রাম্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জনসভা ও সরকারি ভাষণে তিনি কোন শব্দ ব্যবহার করবেন, তা নিয়ে বাজি ধরতেন। এসবের মধ্যে প্রেসিডেন্টের বার্ষিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণও ছিল। এসব বাজি ধরা হয়েছিল ‘কালশি’  নামের একটি পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার প্ল্যাটফর্মে। এই প্ল্যাটফর্মে বাস্তব বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনা কীভাবে ঘটবে, তা নিয়ে অর্থের বিনিময়ে পূর্বাভাস দেওয়া যায়। কালশি জানিয়েছে, তারা বিষয়টি শনাক্ত করার পর যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশনের (সিএফটিসি) কাছে তথ্য ও প্রমাণ পাঠিয়েছে। এই সংস্থাই প্ল্যাটফর্মটির কার্যক্রম তদারকি করে। প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, অর্থ তোলার আগেই পেরেজের অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়।

কালশির তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে তাদের বিশ্লেষকেরা প্রেসিডেন্টের ভাষণে নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহারের ওপর করা বাজিতে অস্বাভাবিক লেনদেন লক্ষ্য করেন। এই ধরনের বাজারে অংশগ্রহণকারীরা অনুমান করেন, কোনো বক্তা তার ভাষণে নির্দিষ্ট কোনো দেশ, অর্থনীতি সংক্রান্ত শব্দ বা নির্বাচনী স্লোগান ব্যবহার করবেন কি না। কালশি বলেছে, প্রেসিডেন্ট বা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের প্রধানের বক্তব্য অনেক সময় বৈদেশিক মুদ্রাবাজার, তেলের বাজার এবং শেয়ারবাজারে বড় প্রভাব ফেলে। তাই এসব ভাষণকে ঘিরে তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকি থাকে। 

তদন্তে অ্যাকাউন্টের তথ্য বিশ্লেষণ করে কালশি জানতে পারে, ওই ব্যবহারকারী একজন ফেডারেল কর্মী এবং তিনি হোয়াইট হাউসে টেলিপ্রম্পটার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অর্থ তোলার আগেই তারা ৯০ হাজার ডলারের বেশি আটকে দেয়। কালশির প্রয়োগবিষয়ক প্রধান রবার্ট ডেনল্ট বলেন, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করার পর প্রতিষ্ঠানটি বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানায় এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণও জমা দেয়। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন। তিনি জানান, অভিযোগ ওঠার পর গ্যাব্রিয়েল পেরেজকে প্রথমে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানো হয়। পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তিনি আর হোয়াইট হাউসে কাজ করবেন না।

ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ করে এবিসি নিউজ। পরে বিবিসির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজও খবরটি নিশ্চিত করে। সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গ্যাব্রিয়েল পেরেজ বর্তমানে কমোডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশনের তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। এদিকে এবিসি নিউজ জানিয়েছে, নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ফেডারেল কৌঁসুলিরা এ ঘটনায় আপাতত কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে বিবিসি তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে কমোডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশন জানায়, কোনো তদন্ত চলছে কি না, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিতও করতে পারে না, আবার অস্বীকারও করতে পারে না।

২০২০ নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের দাবি ট্রাম্পের, অভিযোগ অস্বীকার করল বেইজিং

অনলাইন ডেস্ক
২০২০ নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের দাবি ট্রাম্পের, অভিযোগ অস্বীকার করল বেইজিং
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং দেশটির নির্বাচন ব্যবস্থা গুরুতর সাইবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ বিষয়ে থাকা গোয়েন্দা তথ্যের গোপনীয়তা তুলে নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

হোয়াইট হাউস থেকে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ২০২০ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চীন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তার দাবি, এর মাধ্যমে চীন অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২২ কোটি ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করেছে। ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থার বড় ধরনের সংস্কার না করা হলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনও কারচুপির মাধ্যমে প্রভাবিত করা সম্ভব হতে পারে। ভাষণে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থা নিরাপদ নয় এবং এটি হ্যাকিংয়ের বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। তার ভাষায়, প্রত্যেক ভোটারের অধিকার রয়েছে এমন একটি ব্যবস্থায় ভোট দেওয়ার, যেখানে ভোট সঠিকভাবে গণনা হবে এবং কারচুপি বা বাইরের হস্তক্ষেপ প্রায় অসম্ভব হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে যে নির্বাচন ব্যবস্থা চালু রয়েছে, তা সেই মান থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। ট্রাম্প আরো জানান, নির্বাচনী অবকাঠামোর দুর্বলতা নিয়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্যের গোপনীয়তা দ্রুত তুলে নেওয়া হবে। তার দাবি, ওই তথ্য প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ব্যবস্থা আগে ধারণা করা তুলনায় অনেক বেশি সাইবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’-এর কিছু সদস্য চীনের তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেছেন। তার মতে, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য নজিরবিহীন সংকট তৈরি করেছে। চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ নতুন নয়।

২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাইবার সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চীনের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ভোটার নিবন্ধনের তথ্য বিশ্লেষণ করেছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, এর উদ্দেশ্য ছিল জনমতের প্রবণতা বোঝা। তবে ওই প্রতিবেদনে নির্বাচনের ফল পরিবর্তনের মতো কোনো প্রমাণের কথা বলা হয়নি। অন্যদিকে, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্প ও তার সমর্থকেরা ৬০টির বেশি মামলা করেছিলেন। কিন্তু কোনো আদালতেই এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা নির্বাচনের ফল পরিবর্তনের মতো জালিয়াতির ইঙ্গিত দেয়। এ ছাড়া ভোট পুনর্গণনা, বিভিন্ন নিরীক্ষা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগও এমন কোনো প্রমাণ খুঁজে পায়নি।

২৪ মিনিটের ভাষণের শেষ দিকে ট্রাম্প ‘সেভ অ্যাক্ট’ পাস করার আহ্বান জানান। এই আইনের পূর্ণ নাম ‘সেইফগার্ড আমেরিকান ভোটার এলিজিবিলিটি অ্যাক্ট’। প্রস্তাবিত এই আইনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে। তবে ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন বলছে, এই আইন কার্যকর হলে লাখ লাখ যোগ্য ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগে সমস্যায় পড়তে পারেন। বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের আইনে নাগরিক নন—এমন ব্যক্তির ভোট দেওয়া আগে থেকেই অবৈধ। এ ছাড়া এমন ঘটনা খুবই বিরল বলেও বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। 

নির্বাচনী জালিয়াতি নিয়ে দেওয়া তার ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার না করায় কয়েকটি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের সমালোচনাও করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যেসব সম্প্রচারমাধ্যম তার ভাষণ দেখায়নি, তাদের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করা উচিত। ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ করেন, এসব গণমাধ্যম নির্বাচন সংক্রান্ত ষড়যন্ত্রের অংশ। ভাষণে তিনি এবিসি এবং এনবিসি নেটওয়ার্কের নামও উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের দূতাবাস। দূতাবাসের মুখপাত্র  লিউ চাং বলেন, চীন সব সময় অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন দেশটির নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয়। নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করেন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ। চীন কখনও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।

তাপপ্রবাহে চীনা এসির দিকে ঝুঁকছেন ইউরোপের মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
তাপপ্রবাহে চীনা এসির দিকে ঝুঁকছেন ইউরোপের মানুষ
ছবি: রয়টার্স

ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে চীনের গৃহস্থালি যন্ত্র নির্মাতা ‘মিডিয়া’র বহনযোগ্য এসি ‘পোর্টাস্প্লিট’ এই গ্রীষ্মে ইউরোপের সবচেয়ে আলোচিত পণ্যগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। অনেক দেশে বাজারে আসার পরপরই এটি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এমনকি পুনরায় বিক্রির ওয়েবসাইটগুলোতে এটি স্বাভাবিক দামের দুই থেকে তিন গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

এ বছর পশ্চিম ইউরোপে রেকর্ডের সবচেয়ে উষ্ণ জুন মাস পার হয়েছে। জার্মানির অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গ্রীষ্ম শেষ হওয়ার আগে আরও কয়েকটি তাপপ্রবাহ হতে পারে। এর ফলে যেসব দেশে আগে এসির ব্যবহার তুলনামূলক কম ছিল, সেখানেও এখন এসব যন্ত্রের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। জার্মানির হামেলিন শহরের বাসিন্দা ৩৬ বছর বয়সী প্রকৌশলী স্টিভেন শোলটিসেক কয়েক মাস আগে একটি চিলেকোঠার ফ্ল্যাটে ওঠেন। এমন ফ্ল্যাট গরমের সময় খুব দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে যায়। তিনি বলেন, গরমের দিনে ছাদের নিচের এসব ফ্ল্যাটে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এরপর তিনি মিডিয়ার তৈরি পোর্টাস্প্লিট এসি কেনেন। তার ভাষায়, এই যন্ত্র কেনার পর পুরো পরিস্থিতিই বদলে গেছে। এখন তীব্র গরমেও তিনি স্বস্তিতে থাকতে পারছেন। শুধু জার্মানিতেই নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন অনেক ব্যবহারকারী।

মিডিয়া আগে ইউরোপে খুব পরিচিত ব্র্যান্ড ছিল না। তবে পোর্টাস্প্লিট বাজারে আসার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। গত কয়েক সপ্তাহে ইউরোপের বিভিন্ন দোকানে থাকা এসব যন্ত্র দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে। পরে অনেক ক্রেতা সেগুলো অনলাইনে পুনরায় বিক্রির জন্য তুলেছেন। সেখানে প্রায় ৭৫০ ইউরো দামের যন্ত্র দুই থেকে তিন গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এমনকি কোথায় এই এসি পাওয়া যাচ্ছে, তা জানাতে ‘মিডিয়াফাইন্ডার’ নামে একটি আলাদা ওয়েবসাইটও চালু হয়েছে।

ইউরোপের অনেক শহরে পুরোনো ও ঐতিহাসিক ভবনের বাইরের দেয়ালে ছিদ্র করে প্রচলিত এসির বাইরের ইউনিট বসানোর ওপর কঠোর নিয়ম রয়েছে। ফলে অনেক বাসিন্দা চাইলে সাধারণ এসি লাগাতে পারেন না। এই সমস্যার সমাধান হিসেবেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে পোর্টাস্প্লিট। এতে একটি হালকা বাইরের ইউনিট থাকে, যা ব্যবহারকারীরা সহজেই জানালার বাইরে বসাতে পারেন। এজন্য ভবনের দেয়ালে কোনো পরিবর্তন করতে হয় না। মিডিয়ার দাবি, এই যন্ত্র ইউরোপের অধিকাংশ ধরনের জানালার সঙ্গে ব্যবহার করা যায়। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার বাসিন্দা ডেনিস ইউরচাক বলেন, মিডিয়া এই সমস্যার খুব কার্যকর একটি সমাধান বের করেছে। তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে তাপপ্রবাহের সময় এসি খুঁজতে গিয়ে প্রথম পোর্টাস্প্লিট সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে অনলাইনে ব্যবহারকারীদের ইতিবাচক মতামত দেখে তিনি এটি কেনেন। তার ভাষায়, এখন এই যন্ত্রকে ঘিরে এক ধরনের ব্যবহারকারী সম্প্রদায় তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পর প্রতিদিনই অনেক মানুষ তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইছেন। তিনি বলেন, তাপপ্রবাহের সবচেয়ে কঠিন সময়ে তিনি দিন-রাত প্রায় সারাক্ষণ এসিটি চালিয়ে রেখেছিলেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল টাইমস’কে মিডিয়া জানিয়েছে, ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে তাদের এসি বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। যদিও বিবিসির কাছে প্রতিষ্ঠানটির ইউরোপ কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেনি। শুধু মিডিয়াই নয়, চীনের আরেক প্রতিষ্ঠান 'টিসিএল' জানিয়েছে, শুধু ফ্রান্সেই তাদের এসি বিক্রি ৩০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম বড় এসি নির্মাতা চীনের ‘গ্রি’ও বলেছে, এ গ্রীষ্মে তাদের পণ্যের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, তাদের অনেক ক্রেতাই জীবনে প্রথমবারের মতো এসি কিনছেন। কারণ ইউরোপে এখন আগের তুলনায় তাপপ্রবাহ আরো ঘন ঘন হচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় স্থায়ী হচ্ছে।

তবে এসির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশগত উদ্বেগও বাড়ছে। ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে ব্যবহৃত মোট বিদ্যুতের প্রায় সাত শতাংশ খরচ হয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে। এ ছাড়া জীবাশ্ম জ্বালানি ও শিল্প খাত থেকে নির্গত মোট কার্বন ডাই-অক্সাইডের ২ দশমিক ৭ শতাংশের জন্যও এসব যন্ত্র দায়ী। এ কারণে ইউরোপের পরিবেশবাদী এবং অনেক রাজনীতিক দীর্ঘদিন ধরেই এসির অতিরিক্ত ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছেন। তাদের মতে, এসি ভবনের ভেতর ঠাণ্ডা করলেও বাইরে গরম বাতাস ছেড়ে দেয়। ফলে জনবহুল এলাকায় বাইরের তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে। আবার অনেকের মতে, বছরে মাত্র কয়েক দিনের গরমের জন্য এসি কেনা অর্থের অপচয়। তবে সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহের পর অনেক মানুষের এই ধারণা বদলাতে শুরু করেছে। জুনের শেষ দিকে ফ্রান্সে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ দিনের রেকর্ড হয়। তীব্র গরমের কারণে সে সময় শত শত স্কুল বন্ধ রাখতে হয়। এর কয়েক দিন পর দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জানায়, স্কুল ও কমিউনিটি কেন্দ্রগুলোতে পাখা, এসি এবং অন্যান্য শীতলীকরণ ব্যবস্থা স্থাপনে তারা ৮ কোটি ইউরো ব্যয় করবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ইউরোপ কার্যালয় বলেছে, এসি ব্যবহার করতে হবে পরিস্থিতি বুঝে এবং ভারসাম্য রেখে। সংস্থাটির মতে, দীর্ঘমেয়াদে এটি তাপপ্রবাহ মোকাবেলার টেকসই সমাধান নয়। তবে চরম গরমে ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সুরক্ষায় এটি এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

চীনের সংবাদমাধ্যমগুলো পোর্টাস্প্লিটের জনপ্রিয়তাকে ‘চীনে তৈরি’ পণ্যের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। এত দিন ইউরোপে চীনা পণ্যকে তুলনামূলক কম মানের ও সস্তা বলে মনে করা হতো। তবে অনেক ব্যবহারকারী বলছেন, পোর্টাস্প্লিট ব্যবহারের পর তাদের সেই ধারণা বদলেছে। জার্মানির স্টিভেন শোলটিসেক বলেন, যন্ত্রটির নকশা ও মান তাকে ইতিবাচকভাবে অবাক করেছে। তার মতে, এটি ইউরোপের অন্যান্য ব্র্যান্ডের পণ্যের মতোই ভালো। ২০২৪ সালে জার্মানির বাজারে আসে পোর্টাস্প্লিট। মিডিয়ার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এটি স্টুটগার্টে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণাকেন্দ্রের জার্মান প্রকৌশল এবং ইতালীয় নকশার সমন্বয়ে তৈরি। শোলটিসেকের মতে, ড্রোন নির্মাতা ডিজেআই এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মতো চীনের প্রযুক্তিপণ্যের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও এখন দ্রুত বদলাচ্ছে। তিনি শুধু পোর্টাস্প্লিট কেনেননি, পরে মিডিয়ার শেয়ারও কিনেছেন। তার মতে, প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী।

মিডিয়ার ইউরোপ কার্যক্রমের মহাব্যবস্থাপক রালফ কোবসিক বলেন, ইউরোপের বাজারে দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। ইউরোপের ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। ফ্রান্সের ২৬ বছর বয়সী আদ্রিয়েন ওলার সম্প্রতি জীবনের প্রথম এসি হিসেবে একটি পোর্টাস্প্লিট কিনেছেন। তিনি বলেন, এসি কেনার আগে তীব্র গরমে ঠাণ্ডা থাকার জন্য বারবার মুখে পানি ছিটিয়ে সময় কাটাতে হতো। এখন ঘরে ঢুকলেই মনে হয় যেন ফ্রিজের ভেতরে ঢুকেছেন। তার ভাষায়, আগের সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্য সত্যিই অনেক বড়।


 

তথ্য গোপন করেছে ইরান, করোনায় মৃত্যু সরকারি হিসাবের ৩ গুণ! | কালের কণ্ঠ