• ই-পেপার

গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় পিছিয়ে আছে মুসলিম দেশগুলো

সিজেপির বিক্ষোভ, দিল্লিতে ইন্টারনেট বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক
সিজেপির বিক্ষোভ, দিল্লিতে ইন্টারনেট বন্ধ
ছবি : রয়টার্স

ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করতে রাজধানী দিল্লির কনট প্লেস ও আশপাশের এলাকায় সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত যন্তর-মন্তরের চারপাশে ১.৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

1

দেশটির সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, বিক্ষোভের কারণে কনট প্লেস ও সংলগ্ন এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং গুজব বা উসকানিমূলক তথ্যের বিস্তার ঠেকাতেই এই সাময়িক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক সিজেপির

অনলাইন ডেস্ক
শুক্রবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক সিজেপির
ছবি : রয়টার্স

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদের চলমান আন্দোলনে ‘পুলিশি বর্বরতার’ প্রতিবাদে আগামীকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় দলটি তাদের সমর্থক, ছাত্রসংসদ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের প্রতিটি শহরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে। 

বিক্ষোভের আয়োজকদের উদ্দেশে সিজেপি বলেছে, ‘পুরো সমাবেশের সামনে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো উচ্চস্বরে পড়ে শোনান। অনুমতি ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোর জন্য ছাত্রসংগঠন ও অন্য সংগঠনগুলোকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

এদিকে দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেছেন, আলোচনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার চারবার সিজেপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার দরজা সরকারের পক্ষ থেকে সব সময় খোলা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা চার চারবার তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোনো উত্তর পাইনি। আন্দোলনকারীরা চাইলে আলোচনার জন্য জে পি নাড্ডার বাসভবন কিংবা কার্যালয়ে আসতে পারেন।

দেশটির সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, দিল্লিতে সিজেপির ‘চলো সংসদ’ মার্চের সময় সংঘর্ষ এবং বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলো রাজধানীর বাইরেও আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়ার সংকল্পকে আরো দৃঢ় করেছে।

বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুললেও দিল্লি পুলিশের দাবি—মার্চ চলাকালীন বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠে। তারা পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ চালায় এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে। দেশব্যাপী এই ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে সংগঠনটি স্থানীয় আয়োজকদের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি), প্রচারসামগ্রী এবং স্মারকলিপির একটি টেমপ্লেট প্রচার করেছে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের নির্দিষ্ট স্থানে জমায়েত হয়ে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো জনসমক্ষে পাঠ, সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় তথাকথিত পুলিশি বর্বরতার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের প্রতি সংহতি জানানো এবং জেলা কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার জবাবদিহির দাবিতে গত ২০ জুন দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ শুরু হয়। 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থনে অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক বিক্ষোভে যোগ দিয়ে আমরণ অনশন শুরু করার পর এই আন্দোলন আরো গতি লাভ করে।

সৌদির পরমাণু চুক্তি যে শর্তে কার্যকর হবে

অনলাইন ডেস্ক
সৌদির পরমাণু চুক্তি যে শর্তে কার্যকর হবে
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি যুগান্তকারী পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সৌদির এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। 

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি তখনই কার্যকর হবে, যখন দেশটি আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেবে।

একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে কোনো ধরনের পারমাণবিক উপাদান সমৃদ্ধকরণে ইউরেনিয়াম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ ও সৌদি আরবের মধ্যে যে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি হচ্ছে, তা শুধুমাত্র অসামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য। তবে এর প্রধান শর্ত হলো সৌদি আরবকে অত্যন্ত সম্মানিত ও সফল আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও আরও কয়েকটি দেশের মতো সৌদি আরবও এ ধরনের সুবিধা পেতে পারে, তবে এতে পারমাণবিক উপাদান সমৃদ্ধকরণের সুযোগ থাকবে না।’

আব্রাহাম চুক্তি ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কোসহ কয়েকটি আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবকেও এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে।

তবে সৌদি আরব এখন পর্যন্ত আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি।

নতুন কৌশলে যুদ্ধে নামতে প্রস্তুত ইরান

অনলাইন ডেস্ক
নতুন কৌশলে যুদ্ধে নামতে প্রস্তুত ইরান
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের অবকাঠামো ও উপকূলীয় এলাকায় হামলা চালিয়ে যেতে থাকে, তাহলে যুদ্ধের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

নতুন সামরিক কৌশল বাস্তবায়নের হুঁশিয়ারি দিয়ে দেশেটির সংবাদ মাধ্যম মেহের নিউজকে এসব কথা জানিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া।

যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) লঙ্ঘন করায় সংঘাত এখন নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরানের অবকাঠামো ও উপকূলীয় অঞ্চলে মার্কিন হামলা চলতে থাকলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর পাল্টা অভিযানও অব্যাহত থাকবে।

হুঁশিয়ারি দিয়ে আকরামিনিয়া বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝতে হবে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন এভাবে চলতে পারে না। তারা যদি আমাদের দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আগ্রাসন চালিয়ে যায়, তাহলে আমরা অবশ্যই নতুন পদক্ষেপ নেব।’

স্পষ্ট ভাষায় তিনি আরো বলেন, ‘নতুন নতুন সামরিক পরিকল্পনা ও কৌশল প্রস্তুত করা হয়েছে এবং শত্রুকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে নিরুৎসাহিত করতে আমরা ভিন্ন উপায়ে মাঠে নামব। যুদ্ধের নতুন ক্ষেত্র উন্মুক্ত করাও ইরানের কৌশলগত বিকল্পগুলোর একটি। এছাড়া আরো কিছু সামরিক পরিকল্পনা রয়েছে, যা উপযুক্ত সময়ে প্রকাশ করা হবে।’

যুদ্ধবিরতির সময়কে কাজে লাগিয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের যুদ্ধ প্রস্তুতি আরো জোরদার করেছে বলে দাবি করেন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র। তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে বিমানবাহিনী ও বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটের মনোবল, সক্ষমতা ও প্রস্তুতি আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে।’

সম্ভাব্য স্থল অভিযান প্রসঙ্গে আকরামিনিয়া বলেন, ‘ইরান কোনো ধরনের শত্রু আগ্রাসনকে অসম্ভব মনে করে না এবং প্রতিটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে।’

তার ভাষায়, ‘শত্রু যদি স্থলপথে হামলার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের দুর্বলতা আকাশপথ বা দূরপাল্লার হামলার তুলনায় অনেক বেশি হবে। স্থলযুদ্ধে শত্রুর ওপর আরো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহত ঘটানোর সুযোগ থাকবে এবং সে ক্ষেত্রে আমাদের কার্যকারিতা অনেক বেশি হবে।’

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, ইরানের নিহত সেনা সদস্য এবং নিহত সর্বোচ্চ নেতার রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া এখন দেশের জনগণের দাবি ও জাতীয় অঙ্গীকারে পরিণত হয়েছে। সে লক্ষ্যেই সশস্ত্র বাহিনী তাদের পরিকল্পনা সাজিয়েছে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার পর দুই দেশের মধ্যে আবারও হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে তেহরান ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করায় ইরানও ওই সমঝোতার অধীনে নিজেদের সব প্রতিশ্রুতি স্থগিত করেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরো বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় পিছিয়ে আছে মুসলিম দেশগুলো | কালের কণ্ঠ