• ই-পেপার

রাজশাহীতে মাদক মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে মতবিনিময়সভায় হামলা, চেয়ারম্যানসহ আহত ১৫

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে মতবিনিময়সভায় হামলা, চেয়ারম্যানসহ আহত ১৫
ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিভক্তিকরণ ও নতুন সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। হামলার মুখে সভা পণ্ড হয়ে যায়। পরে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল বের করে টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিভক্ত করে নতুন ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাবের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিতে এ সভার আয়োজন করা হয়। তবে সভা শুরুর আগেই একদল ব্যক্তি ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করে। একপর্যায়ে তারা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা চালায়। এ সময় পরিষদের দরজা-জানালা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন।

সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাহের বলেন, সভার প্রস্তুতির সময় কিছু লোক স্লোগান দিতে দিতে জড়ো হয়। পরে তারা হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহাজালাল চৌধুরী বলেন, বৈঠক চলাকালে দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে একদল লোক হামলা চালায়। এতে তিনিসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব জুনাইদ আলী অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ এ সভায় প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল না। খবর দেওয়ার পরও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব করে। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন বলেন, পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে মতবিনিময়সভা পণ্ড করা হয়েছে, যা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনীক চৌধুরী জানান, হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, টেকনাফ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম আরো কার্যকর ও জনবান্ধব করতে বিদ্যমান পাঁচটি ইউনিয়ন পুনর্গঠন করে নতুন ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রস্তাবের পর এ প্রক্রিয়া শুরু হয়।

প্রাথমিকভাবে বাহারছড়া ইউনিয়ন বিভক্তির পরিকল্পনা থেকে সরে এলেও হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সাবরাং ও টেকনাফ সদর ইউনিয়নের বিভক্তিকরণ এগিয়ে নিতে সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় স্থানীয়দের মতামত গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন বিভক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনমত, ভৌগোলিক বাস্তবতা এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি প্রস্তাবিত সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

জাল সনদে শিক্ষক নিয়োগ, মাদরাসা সুপার গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
জাল সনদে শিক্ষক নিয়োগ, মাদরাসা সুপার গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জাল সনদের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় এক মাদরাসা সুপারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ওই শিক্ষকের নাম সাইদুর রহমান। তিনি ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কামাত আঙ্গারীয়া দাখিল মাদরাসার সুপার।

জানা যায়, জাল সনদের ভিত্তিতে ওই মাদরাসায় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে সুপারের বিরুদ্ধে রফিকুল ইসলামের নামের এক ব‌্যক্তি কুড়িগ্রাম আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেয় সিআইডিকে। তদন্ত শেষে সিআইডি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত সাইদুর রহমানকে সশরীরে হাজির হওয়ার সমন জারি করেন।

তবে সমন পাওয়ার পরও তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

অভিযোগ র‌য়ে‌ছে, মাদরাসার সুপার সাইদুর রহমান এনটিআরসিএ সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের ভাতিজা মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে সহকারী মৌলভী পদে তার মাদরাস‌ায় নিয়োগ দেন। নিয়োগের বিনিময়ে তিনি ভাতিজার কাছ থেকে ভূরুঙ্গামারী পাবলিক ক্লাবের পূর্ব পাশে অবস্থিত বাড়ি-দোকানসহ প্রায় তিন শতক জমি লিখে নেন।

এর আগেও নিয়োগ-সংক্রান্ত একটি মামলায় সাইদুর রহমান গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে সাইদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
 

অপহরণ বন্ধের দাবিতে কক্সবাজারে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
অপহরণ বন্ধের দাবিতে কক্সবাজারে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি
ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের টেকনাফে ধারাবাহিক অপহরণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অপহরণ ও মানবপাচার বন্ধের দাবিতে কক্সবাজারে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে কক্সবাজার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘টেকনাফ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, কক্সবাজার’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এতে কক্সবাজারের বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সংহতি প্রকাশ করেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, পাহাড়, সাগর ও সীমান্তবেষ্টিত টেকনাফে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এখন শুধু রাতেই নয়, দিনের বেলাতেও অস্ত্রের মুখে মানুষকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করা হচ্ছে। মুক্তিপণ দেওয়ার পরও অনেকের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

কক্সবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী জসীম উদ্দিন বলেন, ‘নিজ এলাকায় গেলেও এখন নিরাপদ বোধ করি না। একের পর এক অপহরণের ঘটনায় আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। অনেককে মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হলেও অনেকের নিথর দেহ উদ্ধার করা হচ্ছে।’

কক্সবাজার মেডিক্যাল ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী রফিকুর রহমান জিহাদ বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে টেকনাফের মানুষ আজ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। এই মুহূর্তে মানুষের অন্নের চেয়েও বেশি প্রয়োজন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’

কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম সাইফ বলেন, ‘মাঝেমধ্যে মনে হয় টেকনাফ যেন বাংলাদেশেরই অংশ নয়। অপহরণের কারণে এলাকাটি এখন আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতির দ্রুত অবসান হওয়া প্রয়োজন।’

শিক্ষার্থীরা জানান, টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং রাঙামাটি সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম জিহাদ উখিয়া-টেকনাফে চলমান অপহরণ ও মানবপাচার স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবিতে কয়েক দিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। তাঁর দাবির প্রতি সংহতি জানাতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

কর্মসূচি থেকে বক্তারা অপহরণকারী চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর অভিযান পরিচালনা, মানবপাচার বন্ধ এবং টেকনাফে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। পাশাপাশি সীমান্ত জনপদে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, টেকনাফে সাম্প্রতিক অপহরণ পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার (২২ জুলাই) জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ-এ একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

বিয়ের চাপেই পরকীয়া প্রেমিকাকে হত্যা, প্রেমিক গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
বিয়ের চাপেই পরকীয়া প্রেমিকাকে হত্যা, প্রেমিক গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

স্বামীকে তালাক দিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে বসবাস শুরু করছিলেন সাদিয়া। পরে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রেমিক মো. আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আরিয়ান (২৫) তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাদিয়া হত্যার রহস্য উদঘাটন করে এসব তথ্য জানান পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) মিন্টু কুমার।

‎পিবিআই জানায়, প্রায় তিন বছর আগে সাদিয়ার সঙ্গে ইব্রাহিমের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, ইব্রাহিম আগে থেকেই বিবাহিত এবং তার সন্তান রয়েছে। এ নিয়ে দাম্পত্য কলহের এক পর্যায়ে ইব্রাহিমকে ডিভোর্স দেন সাদিয়া।

‎পাশাপাশি পরিচয় গোপন করে অবিবাহিত দাবি করা আব্দুর রাজ্জাক আরিয়ানের সঙ্গে তার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকায় তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।

‎তদন্তে উঠে আসে, গত ১২ জুলাই রাতে সাদিয়া রাজ্জাককে বিয়ের জন্য চাপ দেন। কিন্তু রাজ্জাক তাতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে তুমুল বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ রাজ্জাক সাদিয়ার গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ঘরে ফেলে রেখে নিহতের মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যান।‎

‎হত্যাকাণ্ডের পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা হলে ১৬ জুলাই পিবিআই মামলাটি অধিগ্রহণ করে। প্রথমে এজাহারভুক্ত আসামি ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারী হিসেবে আব্দুর রাজ্জাক আরিয়ানকে শনাক্ত করা হয়।

‎পিবিআই জানায়, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে মাথায় ক্যাপ পরা এক ব্যক্তির আসা-যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। পরে নিহতের ছয় বছর বয়সী কন্যা তাহিয়া জানায়, ওই ব্যক্তি আরিয়ান চাচ্চু নামে তাদের বাসায় প্রায়ই আসতেন। এই তথ্যকে কেন্দ্র করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রাজ্জাকের অবস্থান নিশ্চিত করে ২১ জুলাই কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে রাজ্জাক সাদিয়াকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত ক্যাপ, নিহতের মোবাইল ফোন এবং বিক্রি করে দেওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। পরদিন ২২ জুলাই তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

‎পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।