ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার জানিয়েছেন, সমাজে পরিশ্রম ও সততাকে গুরুত্ব না দিলে মেধার পরিবর্তে শর্টকাট নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হবে। বৃহস্পতিবার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে এমনটি জানান তিনি।
টেন্ডুলকারের এই পোস্টটি এমন একসময়ে এসেছে, যখন কথিত নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভ চলছে। খবর এনডিটিভি
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচিত ভারতের এই সাবেক তারকা আরো বলেন, যখন ছাত্রছাত্রীরা তাদের ‘কঠোর পরিশ্রমে পুরস্কৃত না হওয়ায় হতাশ’, তখন সবার সম্মিলিতভাবে কাজ করা উচিত।
শচীন টেন্ডুলকার লেখেন, ‘আমার বাবা একজন অধ্যাপক ছিলেন। তিনি অনেক তরুণ শিক্ষার্থীর পরামর্শদাতা ও পথপ্রদর্শক ছিলেন। ছোটবেলাতেই তিনি আমাকে একটি শিক্ষা দিয়েছিলেন, ব্যর্থ হওয়া দোষের নয়, কিন্তু প্রতারণা করা ঠিক নয়। কখনো শর্টকাটের পথ বেছে নেবে না।’
‘সমাজে ফলাফলের চেয়ে পরিশ্রম ও সৎ প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে মেধার পরিবর্তে শর্টকাট নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হবে’ বলে যোগ করেন তিনি।
তিনি আরো লেখেন, ‘সমাজের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হিসেবে সংস্কৃতি গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের। যে সমাজ প্রচেষ্টার চেয়ে ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দেয়, সেখানে মেধার বদলে শর্টকাট খোঁজার প্রবণতা তৈরি হয়।’
‘তরুণ ভারত স্বপ্ন ও শক্তিতে পরিপূর্ণ। তারাই আমাদের সাফল্যের জ্বালানি। তরুণদের উৎসাহিত ও প্রাণবন্ত রাখতে অভিভাবক, শিক্ষক, বন্ধু, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনসহ আমাদের সবারই বড় দায়িত্ব রয়েছে।’
‘আমাদের এমন সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে, যেখানে কঠোর পরিশ্রম পুরস্কৃত হবে, সততাকে উৎসাহিত করা হবে এবং মেধার জয় হবে।’
আমি নিশ্চিত, ‘আমরা এমন সমাধান খুঁজে পাব, যা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ শক্তিশালী করবে এবং তাদের স্বপ্নকে সুরক্ষিত রাখবে।’
জয় হিন্দ!
উল্লেখ্য, দিল্লিতে নিট-ইউজি ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষায় অনিয়মের ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবাদ করছেন। পরীক্ষাব্যবস্থার ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন তারা। যন্তর-মন্তরে আয়োজিত এই বিক্ষোভ প্রদর্শনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থী, অভিভাবকরা অংশ নিয়েছেন।




