• ই-পেপার

চলতি মাসেই 'রেমডেসিভির' উৎপাদন শুরু করছে বাংলাদেশের বেক্সিমকো

ইসরায়েল ও ইরানের ওপর চটলেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েল ও ইরানের ওপর চটলেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

দক্ষিণ লেবাননে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা এবং অবকাঠামো ধ্বংস বন্ধ করতে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম।

একই সঙ্গে ইরানকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, লেবাননকে কোনো পক্ষের দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

বার্তা সংস্থা আলজাজিরা বলছে, জরুরি মানবিক সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম।

তিনি বলেন, সরকারের ত্রাণ পরিকল্পনার আওতায় বাস্তুচ্যুত ১০ লাখ মানুষ এবং দক্ষিণাঞ্চলে থেকে যাওয়া ৫০ হাজার বাসিন্দাকে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে।

বাস্তুচ্যুত লেবানিজদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদভাবে নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়া আমাদের দায়িত্ব ও অগ্রাধিকারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।’

সালাম জানান, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের ঘরে ফেরার পথ নিশ্চিত করতে লেবানন সরকার সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল ও কার্যকর উপায় হিসেবে আলোচনার পথ বেছে নিয়েছে।

ইরানের প্রতি বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের প্রতি দয়া দেখান। আমরা এই ভূমির মানুষ। লেবানন কারও রাজনৈতিক খেলার দর-কষাকষির উপকরণ নয় এবং দক্ষিণ লেবাননও কারো জন্য সংরক্ষিত যুদ্ধক্ষেত্র হতে পারে না।’

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দক্ষিণ লেবাননকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
 

সাহারা মরুভূমিতে বিকল ট্রাক : তৃষ্ণায় ৫০ জনের মৃত্যু, হেঁটে বাঁচলেন ২ জন

অনলাইন ডেস্ক
সাহারা মরুভূমিতে বিকল ট্রাক : তৃষ্ণায় ৫০ জনের মৃত্যু, হেঁটে বাঁচলেন ২ জন
সংগৃহীত ছবি

নাইজারের সাহারা মরুভূমির এক প্রত্যন্ত এলাকায় ট্রাক বিকল হয়ে জলশূন্যতায় ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মরুভূমির চরম প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে পনি ছাড়া আটকে পড়ে তারা মারা যান। তবে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন দুজন। তারা মরুভূমির তপ্ত বালুর ওপর দিয়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটার হেঁটে লোকালয়ে এসে প্রশাসনকে খবর দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়। খবর ফ্রান্স 24

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) নাইজারের আগাদেজ অঞ্চলের গভর্নর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এক ফেসবুক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহত ব্যক্তিরা মালি থেকে একটি মুসলিম ধর্মীয় উৎসব শেষ করে দেশে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে নাইজার ও আলজেরিয়া সীমান্তের আসামাকা শহর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে মরুভূমির ভেতরে তাদের বহনকারী ট্রাকটি বিকল হয়ে যায়।

গভর্নর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পানি ফুরিয়ে যাওয়ার পর চালক, তার সহকারী ও যাত্রীরা মিলে আপ্রাণ চেষ্টা করেও গাড়িটি মেরামত করতে পারেননি। তীব্র তাপমাত্রা ও কোনো ধরনের পানির উৎস না থাকায় ওই বৈরী পরিবেশের মধ্যে যাত্রীরা আটকা পড়েন। সেখানে বেঁচে থাকা অসম্ভব ছিল।’ পরে উদ্ধারকারী দল গিয়ে নিহত ব্যক্তিদের মরুভূমিতেই গণকবর দেয়।

ভয়াবহ এই বিপর্যয় থেকে বেঁচে ফেরা দুজনের বিষয়ে প্রশাসন জানিয়েছে, তারা কোনো রকমে পায়ে হেঁটে ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রথমে একটি পানির উৎসের সন্ধান পান। পরে সেখান থেকে আসামাকা শহরে পৌঁছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে পুরো বিষয়টি জানান।

উল্লেখ্য, আফ্রিকা থেকে ইউরোপে যাওয়ার জন্য অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয় সাহারা মরুভূমির এই অঞ্চলটি। প্রচণ্ড দাবদাহ আর জল-খাবারের অভাবে প্রায়ই এই দুর্গম মরুভূমিতে অভিবাসী ও যাত্রীদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

মালবাহী জাহাজে হামলা, প্রাণ হারালেন আজারবাইজানের ৫ নাগরিক

অনলাইন ডেস্ক
মালবাহী জাহাজে হামলা, প্রাণ হারালেন আজারবাইজানের ৫ নাগরিক
ছবি : রয়টার্স

আজভ সাগরে দুটি মালবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় পাঁচজন আজারবাইজানি নাগরিক নিহত এবং আরো তিনজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যভাগে অবস্থিত এই সাগরের কোনো উপকূল বা স্থল সীমানা নেই। এর বদলে, মহাসাগরীয় স্রোতের বৃত্তাকার ঘূর্ণন দিয়ে এর চারপাশের সীমানা নির্ধারিত হয়।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার তাগানরগ উপসাগরে হামলার শিকার জাহাজ দুটির ক্রুদের মধ্যে মোট ২৫ জন আজারবাইজানি নাগরিক ছিলেন। তবে জাহাজগুলো আজারবাইজানের মালিকানাধীন নয়। এর আগে শুক্রবার ইউক্রেন দাবি করে, তাদের ড্রোন রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের উপকূলীয় জলসীমা এবং মারিউপোল ও বেরডিয়ানস্ক বন্দরে থাকা পাঁচটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।

ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভডি এক বিবৃতিতে বলেন, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল কয়েকটি মালবাহী জাহাজ ও একটি তেলবাহী জাহাজ। তার দাবি, এসব জাহাজ ইউক্রেনীয় শস্য পরিবহন এবং সামরিক সরঞ্জাম ও জ্বালানি সরবরাহে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

তিনি আরো বলেন, জাহাজগুলোর পরিচয় গোপন করতে তাদের নাম মুছে ফেলা হয়েছিল এবং রাডার বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে হামলার বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

রয়্যাল লজের কটেজ ভাড়া দিয়ে আয় করতেন অ্যান্ড্রু

অনলাইন ডেস্ক
রয়্যাল লজের কটেজ ভাড়া দিয়ে আয় করতেন অ্যান্ড্রু
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল অডিট অফিস (এনএও) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সম্পত্তি ও অর্থব্যবস্থার নানা তথ্য উঠে এসেছে। প্রায় ২০ বছরের মধ্যে রাজকীয় আবাসন নিয়ে এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর রয়্যাল লজ এস্টেটের তিনটি কটেজ অন্যদের কাছে ভাড়া দিয়ে আয় করেছেন। তবে তিনি কত অর্থ পেয়েছেন, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই এবং রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের তৃতীয় সন্তান অ্যান্ড্রু। সাম্প্রতিক মার্কিন ফাইল প্রকাশের পর দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে তিনি বেশ কিছুদিন আগে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

রাজপ্রাসাদের দাবি, এসব কটেজ বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল এবং ভাড়ার অর্থ মূলত রক্ষণাবেক্ষণ খরচ মেটাতেই ব্যবহার করা হয়েছে।

এনএও জানিয়েছে, অ্যান্ড্রু ও তার পরিবারের ব্যবহারের জন্য মোট ১২টি সম্পত্তি ছিল, যেগুলোর মালিক ক্রাউন এস্টেট বা রয়্যাল হাউসহোল্ড। যদিও তিনি চলতি বছর রয়্যাল লজ ছেড়ে নরফোকের স্যান্ড্রিংহামে চলে গেছেন, তবুও ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত রয়্যাল লজের লিজ তার কাছেই রয়েছে। প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম বা আইন ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজা তার কন্যা রাজকুমারী বিয়াট্রিস ও রাজকুমারী ইউজেনি-এর আবাসনের ভাড়া ব্যক্তিগত তহবিল থেকে পরিশোধ করেন। তারা সরকারি দায়িত্ব পালন না করলেও লন্ডনের রাজপ্রাসাদে আবাসনের সুবিধা পান। তবে রাজপ্রাসাদের দাবি, এসব ভাড়া সরকারি ব্যয়ের সমপরিমাণ হওয়ায় করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্সেস ক্যাথরিনের কেনসিংটন প্যালেসে একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এছাড়া আরও ২১ জন রাজকীয় পদধারী রাজপ্রাসাদে বিনা ভাড়ায় বসবাসের সুবিধা পান, যার মধ্যে ১৭ জন সামরিক নাইট।

প্রতিবেদনটি রাজপরিবারের অর্থায়নের তিনটি প্রধান উৎসও ব্যাখ্যা করেছে। ক্রাউন এস্টেট একটি স্বাধীন সম্পত্তি সংস্থা, যার মুনাফা সরকারি কোষাগারে জমা হয়। সোভেরেন গ্রান্ট হলো রাজতন্ত্রের সরকারি কাজ পরিচালনার জন্য দেওয়া সরকারি অর্থ, যার পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ১৩৮ মিলিয়ন পাউন্ড। আর প্রিভি পার্স হলো রাজার ব্যক্তিগত তহবিল, যার একটি বড় অংশ আসে ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টার থেকে। 

রাজপ্রাসাদ জানিয়েছে, প্রতিবেদনটি তাদের স্বচ্ছতা বজায় রাখার অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি রাজকীয় সম্পত্তি নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা দূর করতে সহায়তা করবে। তবে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি দায়িত্বে না থাকা রাজপরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ আবাসন সুবিধা দেওয়া কতটা যৌক্তিক।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মার্গারেট হজ বলেন, অ্যান্ড্রু ভাড়া দেওয়া সম্পত্তি থেকে কত আয় করেছেন তা নির্ধারণ করা না যাওয়াটা উদ্বেগজনক। তার মতে, ক্রাউন এস্টেটের সম্পদ জনগণের সম্পদ, তাই এর ব্যবস্থাপনায় সবসময় করদাতাদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।


 

চলতি মাসেই 'রেমডেসিভির' উৎপাদন শুরু করছে বাংলাদেশের বেক্সিমকো | কালের কণ্ঠ