• ই-পেপার

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে তুরস্ক

পরিবেশ দিবসে একযোগে ৬৪ জেলায় বৃক্ষরোপণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
পরিবেশ দিবসে একযোগে ৬৪ জেলায় বৃক্ষরোপণ
ছবি: কালের কণ্ঠ

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে বৃক্ষের চারা রোপণ, পরিবেশ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন এবং সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করেছে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শতাধিক পরিবেশবাদী সংগঠনের ৪ হাজার ভলান্টিয়ার।

পরিবেশবিষয়ক তরুণ নেতৃত্বধারী সংগঠন মিশন গ্রিন বাংলাদেশের নেতৃত্বে “গাছ লাগাই, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৫ জুন দেশের বিভিন্ন জেলায় দিনভর এসব আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহযোগী হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস), সোসাইটি ফর এশিয়ান সার্কুলার ইনোভেশন নেটওয়ার্ক, স্বপ্নপূরী কল্যাণ সংস্থা এবং প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (পিএমআই)। কর্মসূচির ট্র্যাকিং ও মনিটরিং পার্টনার হিসেবে রয়েছে সাসটেইনএবল রিসার্চ অ্যান্ড কনসালটেন্সি লিমিটেড (এসআরসিএল) এবং জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের আরো প্রায় শতাধিক পরিবেশবান্ধব সংগঠন।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার দিনভর দেশের প্রতিটি জেলায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণে স্কুল, কলেজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়িতে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিচর্যার সুযোগ রয়েছে এমন স্থানে স্থায়ীভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে। এছাড়া পরিবেশবান্ধব উপহার হিসেবে স্থানীয় দরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে অন্তত ২টি করে ফলজ ও বনজ গাছ উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়।

একইসঙ্গে সারা দেশের জেলা শহর ও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে পরিবেশ রক্ষার দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে স্থানীয় অতিথি ও পরিবেশকর্মীরা পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়া, বাজার, দোকান ও জনসমাগমস্থলে সাধারণ মানুষের মাঝে গাছ লাগানোর উপকারিতা, বায়ুদূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা হবে পোস্টার, লিফলেট ও সরাসরি প্রচারণার মাধ্যমে।

ঢাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আয়োজনের সহ-আয়োজক ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়কারী শরীফ জামিল বলেন, “বিশ্বকে জলবায়ু পরিবর্তনের হাত থেকে বাঁচাতে হলে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপনের বিকল্প নেই। তবে আমরা একদিকে বৃক্ষরোপন করলাম আরেকদিকে অবাধে কাটলাম এমন হলে পরিবেশ বাঁচবে না। তাই বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বৃক্ষ সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরিতেও আমাদের অগ্রণি ভূমিকা রাখতে হবে।”

তিনি আরো বলেন, “হাজারটি চারা বৃক্ষও একটা বড় বৃক্ষের সমান অবদান রাখতে পারে না। বড় বৃক্ষ ছায়া দেয়, ফল দেয়, জ্বালানি দেয়, অক্সিজেন দেয় এবং পাখিদের আশ্রয় দিয়ে প্রকৃতির জন্য সবচেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাই নতুন করে গাছ লাগানোয় যতটা গুরুত্ব দিতে হবে তারচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে বড় গাছ সংরক্ষণে।”

সিথ্রিইআর, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর রউফা খানম বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বৈশ্বিক মঞ্চে পরিচিত। এই বাস্তবতায় কেবল প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা নয়, বরং মাঠপর্যায়ে কার্যকর এবং বাস্তবমুখী জলবায়ু পদক্ষেপ  সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। ৬৪ জেলায় একযোগে বৃক্ষরোপণ এবং ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির এই উদ্যোগ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জলবায়ু সহনশীল করে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।”

বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশব্যাপী সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৬৪ জেলায় একযোগে আয়োজিত এই কর্মসূচি পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর পলিসি ও ক্যাম্পেইন কো-অর্ডিনেটর বারীশ হাসান চৌধুরী বলেন, “পরিবেশগত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। এই কর্মসূচি পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদের আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন করে তুলবে।”

মিশন গ্রিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি বলেন, “এই কর্মসূচি কেবল গাছ লাগানোর উদ্যোগ নয়, বরং একটি সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন। আমরা বিশ্বাস করি, একটি গাছ শুধু পরিবেশ নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও সুরক্ষা দেয়। ৬৪ জেলার এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা দেশের প্রতিটি মানুষের মাঝে পরিবেশ সংরক্ষণের দায়িত্ববোধ ছড়িয়ে দিতে চাই।”

আয়োজকরা বলছেন, এই কর্মসূচি শুধুমাত্র একটি দিবসকেন্দ্রিক আয়োজন নয়-এটি একটি নাগরিক আন্দোলন। পরিবেশ দিবস থেকে শুরু হলে সারা বছরব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর আয়োজন করা হবে। পরিবেশ সুরক্ষা, বৃক্ষরোপণ এবং জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধিতে দেশের প্রতিটি মানুষকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শুধু গাছ লাগিয়ে শেষ না করে এই গাছগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়েও আমাদের সারাদেশের সহযোগী সংগঠনগুলোকে নিয়ে কাজ করে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।

আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে যোগ দিতে জেনেভা যাচ্ছেন শ্রমমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে যোগ দিতে জেনেভা যাচ্ছেন শ্রমমন্ত্রী
শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত

১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে (আইএলসি) অংশ নিতে শুক্রবার (৫ জুন) রাতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ১ থেকে ১২ জুন অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনে বিশ্বের ১৮৭টি দেশের সরকার, মালিক ও শ্রমিক পক্ষের প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।

সম্মেলনের মূল পর্বে আগামী ৮ জুন বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় শ্রমমন্ত্রী দেশের শ্রম পরিস্থিতি, শ্রমিক অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, কর্মসংস্থান এবং শ্রম খাতের চলমান সংস্কার কার্যক্রম বিশ্বদরবারে তুলে ধরবেন। বিশেষ করে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া শ্রম আইন (সংশোধন) ২০২৬ এবং এর মাধ্যমে শ্রমিক অধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রগতির বিষয়টিও মন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পাবে।

জেনেভা সফরকালে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক, ওআইসি লেবার সেন্টারের মহাপরিচালক এবং দক্ষিণ কোরিয়াসহ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শ্রমমন্ত্রীর মন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে শ্রমসচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ মোট ছয়জন অংশ নিচ্ছেন।

অন্যদিকে, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং বিকেএমইএ সভাপতি মো. হাতেমসহ নয়জন।

এ ছাড়া শ্রমিক পক্ষের ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। ছবি : কালের কণ্ঠ

বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল ফ্যাসিলিটি (জিইএফ)-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

শুক্রবার (৫ জুন) উজবেকিস্তানের সমরখন্দ শহরে অনুষ্ঠিত জিইএফ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে প্রতিমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ দূষণের উৎসসমূহ সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীল কর্মসূচি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখনন, ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে। পাশাপাশি প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান ও বাস্তুতন্ত্রভিত্তিক অভিযোজন কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জিইএফ-এর লক্ষ্য ও অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও অংশীদারি আরো জোরদার করা প্রয়োজন।

সমরখন্দে অনুষ্ঠিত এই জিইএফ সম্মেলনে বিশ্বের ১৮৬টি সদস্য দেশের প্রতিনিধি, পরিবেশবিদ, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ভিত্তিক ক্রীড়া উৎসবের চূড়ান্ত পর্ব শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রাথমিক বিদ্যালয়ভিত্তিক ক্রীড়া উৎসবের চূড়ান্ত পর্ব শুরু
প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

প্রায় ২২ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা কাল শুরু হয়েছে। এটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ভিত্তিক বিশ্বের বৃহত্তম ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে আরো প্রাণবন্ত ও আনন্দময় করে তুলতে সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে।

বর্তমানে দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি। তাদের মধ্যে বালক ৪৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৯৮ জন এবং বালিকা ৫২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৩৪ জন।

এ বছরের গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে বালক বিভাগে ৬৫ হাজার ৩৪২টি দল ও ১১ লাখ ১০ হাজার ৮১৪ জন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করেছে। অপরদিকে বালিকা বিভাগে ৬৫ হাজার ৩২১টি দল এবং ১১ লাখ ৩ হাজার ২৯১ জন খেলোয়াড় মাঠে নেমেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২২ লাখ ১৪ হাজারের বেশি ক্ষুদে খেলোয়াড় এই  প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ  করেছে।

গত ৬ এপ্রিল ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় স্তর অতিক্রম করে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। দীর্ঘ প্রায় দুই মাসের প্রতিযোগিতায় দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শহরাঞ্চল পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

গতকাল শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন মিরপুরস্থ ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় পর্যায়ের খেলার উদ্বোধন করেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন। উদ্বোধনকালে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিশুদের মধ্যেই রয়েছে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তারা যেন খেলাধুলায় পারদর্শী হয়ে গড়ে উঠতে পারে, সেজন্য এই টুর্নামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ’

এবার জাতীয় পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের চ্যাম্পিয়ন ১৬টি দল অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ৮টি বালক ও ৮টি বালিকা দল রয়েছে। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারী-পুরুষ সমঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি সরকারের অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন।

জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা ও সমাপনী অনুষ্ঠান আগামী ২০ জুন ঢাকার বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের কথা রয়েছে।

বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ, নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ এবং তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সুসংগঠিত প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট দেশের ক্রীড়া ও শিক্ষা অঙ্গনে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আশা করা হচ্ছে, শিশুদের জন্য এই মহোৎসব ভবিষ্যতের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ তৈরির পাশাপাশি একটি সুস্থ, সৃজনশীল ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে