• ই-পেপার

ভুবনেশ্বর নদ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

নদী আছে, পানি নেই

দখল ও দূষণে অস্বিত্ব সংকটে বড়াল

প্রবীর সাহা, পাবনা
নদী আছে, পানি নেই
পানিশূন্য পাবনার বড়াল নদী। ছবি : কালের কণ্ঠ।

এক সময়ের টইটুম্বর বড়ালের যৌবন ফিরিয়ে আনার দাবি এ অঞ্চলের ৫০ লাখ মানুষের। বড়ালকে দখল ও দূষণমুক্ত করে পূন: খনন করে জলদারা ফিরিয়ে আনার দীর্ঘদিনের দাবী পূরণের অপেক্ষায় এ অঞ্চলের মানুষের।

যৌবন শূন্য বড়াল এখন সরু খালে পরিনত হয়েছে। দূ’ধার প্রভাবশালীদের দখলে। বড়াল চরে সবুজ ফসল শোভা পাচ্ছে। গড়ে উঠেছে দোকানঘর ও বসতবাড়ি। কাল পরিক্রমায় বড়াল নদী টইটুম্বর যৌবন হারিয়ে ফেলেছে। এককালের খরস্রোতা বড়াল নদীর তলদেশ পলি মাটিতে ভরাট হয়ে জল সীমানা সরু হয়ে খালের আকার ধারণ করেছে। বড়াল চর প্রভাবশালীরা দখলে নিয়ে দোকানপাট ও বসতবাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি নানা প্রকার ফসল ফলাচ্ছেন । বড়াল পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজন শুষ্ক মৌসুমে বড়াল প্রায় পানিশূন্য থাকায় গোসলের পানি পেতে দূর্যোগের শিকার হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মরা বড়ালের ইতিহাস রূপকথা বলে মনে করবে।

শীতকাল শুরুর পরে ও শুকনো মৌসুমের শুরু না হতেই চলনবিলের নদ-নদীগুলো পানিশুন্য হয়ে পড়েছে। বিশাল জলরাশির চলনবিল এবং এর আশপাশের নদ নদী এখন শুকনো। এটাই এখন বিল আর তার ধমনী নদ-নদীগুলোর বর্তমান অবস্থা। অথচ নিকট অতীতেও সারা বছর না হলেও ছয় মাস পানি বুকে ধারণ করতো বিল ও তার নিকটবর্তী নদ নদী গুলো।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত এক কালের প্রমত্তা বড়াল নদী এখন আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। চাটমোহর পৌরসভার বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেসরকারি ক্লিনিক ও বাসাবাড়ির বর্জ্রের ঠিকানা এখন শুকিয়ে যাওয়া এ নদী। নদীর দুই পাড় দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে পাকা স্থাপনা। দখল, দূষণ আর কচুরিপানার কারণে বড়াল এখন মশা উৎপাদনের সূতিকাগারে পরিণত হয়েছে। অস্তিত্ব হারাচ্ছে দেশের অন্যতম প্রধান এ নদী।

রাজশাহীর চারঘাট পদ্মা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে ২২০ কিলোমিটার বড়াল নদী গিয়ে মিশেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে যমুনা নদীতে। কিন্তু আশির দশকে চারঘাটে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর উৎসমুখে স্লুইসগেট নির্মাণ করে বড়ালের পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। এতে অস্তিত্ব হারাতে থাকে প্রমত্তা বড়াল। এরপর বাগাতিপাড়ার আটঘরি ও চাটমোহরের দহপাড়ায় আরো দুটি  স্লুইস গেট নির্মাণ করে পাউবো। এ ছাড়া চাটমোহর উপজেলা পরিষদ বড়ালের চাটমোহর অংশে তিনটি ক্রসবাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ শুরু করে।

২০০৮ সালে চাটমোহর থেকে শুরু হয় বড়াল রক্ষা আন্দোলন। গঠিত হয় কমিটি। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ফলে সরকার বড়াল চালুর উদ্যোগ নেয়। অপসারণ করা হয় চাটমোহরের তিনটি ক্রসবাঁধ ও দহপাড়া  স্লুইস  গেট। কিন্তু বড়াল খনন কিংবা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে কোনো প্রকার পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বড়ালে তলদেশে এখন বিভিন্ন ফসলের যেমন আবাদ হচ্ছে। তেমনি ময়লা-আবর্জনাসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ফেলাও হচ্ছে বড়ালে। কচুরিপানায় পরিপূর্ণ বড়াল এখন মশা উৎপাদনের সূতিকাগার। বড়ালে ফেলা বর্জ্যরে দুর্গন্ধে টেকা দায়। কচুরিপানা পরিষ্কারের দাবি জোরালো হয়েছে। বড়াল নদী দখলের প্রতিযোগিতাও শুরু হয়েছে। বর্জ্য ফেলা হচ্ছে অপ্রতিরোধ্যভাবে। পরিবেশ দূষণ বাড়ছে।

পরিবেশবাদী সচেতন মহলের ভাষ্য, বড়ালের বেহাল দশার পিছনে রয়েছে সরকারি নদী শাসনের ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা ও মৃত. প্রায় বড়ালের বুকে ভূমিদস্যুদের জায়গা দখলের মহৎসব। স্থানীয় বিভিন্ন প্রভাবশালীদের দাখলদারিত্বের কারণে দু’পাড় ক্রমান্বয়ে চেয়ে গেছে। এমনকি নদের পাড়ে দিনকে দিন তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা যা এক সময়ের খরস্রোতা বাড়লের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীরা।

বাপা পাবনা জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট তোসলিম হাসান সুমন বলেন, ‘বড়াল নদীকে দখল ও দূষণ মুক্ত করতে যত দ্রুত সম্ভব জলপ্রবাহ নিশ্চিত করনের মাধ্যমে পরিবেশের উন্নয়ন ও ভারসাম্য রক্ষার দাবি জানাচ্ছি।’

পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করা স্থানীয় এনজিও টিএসপি’র পরিচালক সরকার মোহাম্মদ আলি বলেন, ‘সিএস রেকর্ড অনুযায়ী বড়াল নদীর সীমানা নির্ধারন করে দ্রুত খনন করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।’

বড়াল রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব এস.এম. মিজানুর রহমান বলেন, ‘রাজশাহীর চারঘাটে বড়াল নদীর ওপর স্লুইসগেট ভেঙ্গে বড় করে পরিবেশ বান্ধব ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে, এছাড়া তার ৪৬ কিলোমিটার ভাটিতে নাটোরের আটঘরিতে একটি  স্লুইস  গেট ভেঙ্গে সেটিও বড় ব্রিজ করতে হবে ও আটঘরি থেকে বনপাড়া পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার দখল মুক্ত করতে হবে। আইডব্লিউ এমের সুপারিশ অনুযায়ী রাজশাহীর চারঘাট থেকে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি পর্যন্ত ছোট ছোট ব্রিজ কালভার্ট ভেঙ্গে ফেলতে হবে এবং নদী দ্রুত পূনখনন করলে ৫০ লক্ষ মানুষের দীর্ঘ দিনের প্রাণের দাবি পূরণ হবে।’

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বড়াল নদী পূন:খনন নিয়ে একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি হয়েছে, ফিজিবিলিটি স্টাডির আলোকে দ্রুত বড়াল নদী পূন:খনন করা হবে।’

কলমাকান্দায় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
কলমাকান্দায় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে হুমায়ুন আহমেদ (২৯) নামের এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার রংছাতী ইউনিয়নের রংছাতী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত হুমায়ুন আহমেদ শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বন্ধুদের সঙ্গে সীমান্তঘেঁষা চন্দ্রডিঙ্গা পর্যটনকেন্দ্র ঘুরতে আসেন হুমায়ুন আহমেদ। ঘোরাঘুরি শেষে দুপুরে একটি মোটরসাইকেলের পেছনে বসে ফেরার পথে রংছাতী এলাকায় পৌঁছালে তিনি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কলমাকান্দা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহটির ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত করছে।

কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

আগামী ১৪ ও ১৫ জুন দুই দিনের সফরে কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো পর্যটন নগরী কক্সবাজারে তার আগমনী বার্তায় দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সর্বসাধারণের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। পাড়া-মহল্লায়, ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে দাওয়াত। বিভিন্ন সড়ক সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, সাজসজ্জা এবং নিরাপত্তা জোরদারের কাজও চলছে পুরোদমে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের এক সপ্তাহ আগেই কক্সবাজার গেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। তিনি শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ৯টার দিকে প্রথমে পৌঁছান চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে। তার সঙ্গে ছিলেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) অহিদুর রহমান। এ দিন প্রধানমন্ত্রী যেসব স্থানে যাবেন, সেখানে পরিদর্শনে যান সিনিয়র সচিব।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রেস সচিব সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী আগামী ১৪ ও ১৫ জুন দুই দিনের সফরে কক্সবাজারে যাচ্ছেন। প্রথম দিন ১৪ জুন সকাল ১১টায় ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে পার্ক পরিদর্শন করবেন। এরপর পেকুয়ায় যাবেন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন শেষে সাঈদ ম্যানশনে (মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বাড়ি) অবস্থানসহ দুপুরের খাবার খাবেন।

এরপর চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠের জনসভার উদ্দেশে রওনা হয়ে যাত্রাপথে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকাল চারটায় চকরিয়া পৌরসভার শহীদ আবদুল হামিদ পৌর বাস টার্মিনাল মাঠের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। এরপর পর্যটন নগরী কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং সেখানে রাত্রীযাপন করবেন। পরদিন ১৫ জুন সকালে সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) অহিদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার আগমনকে ঘিরে চার-পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তােলা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সফল, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মৌলভীবাজারে চোর চক্রের ৩ সদস্যসহ গ্রেপ্তার ১৭

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারে চোর চক্রের ৩ সদস্যসহ গ্রেপ্তার ১৭
সংগৃহীত ছবি

মৌলভীবাজারে আন্ত জেলা চোর চক্রের তিন সদস্য ও বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ৯ আসামিসহ মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) সদর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার চক্রের সদস্যরা হলেন— মেমরাজ (২৯), মাফিয়া বেগম (২৮) ও রাহেনা (২৩)।

এছাড়া গ্রেপ্তার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিরা হলেন ইসলাম মিয়া, কল্পনা বেগম, সোহান মিয়া, সোহাগ মিয়া, সাবানা বেগম, রুজিনা বেগম, আকুল মিয়া, শাহ আলম ও খায়রুজ্জামান।

মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।