• ই-পেপার

করোনার জন্য মানুষের পাপকেই দায়ী করলেন মাওলানা সাদ

ব্রাজিলের পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
ব্রাজিলের পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি : রয়টার্স

ব্রাজিল থেকে আমদানি করা অধিকাংশ পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত নতুন এই শুল্ক আগামী ২২ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

ওয়াশিংটনের দাবি, মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি ব্রাজিলের ‘অন্যায্য আচরণ’ এবং বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতার জবাব হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এক বছর তদন্তের ভিত্তিতে ১৯৭৪ সালের মার্কিন ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে বিদেশি রাষ্ট্রের অন্যায্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র শুল্কসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নিতে পারে।

তবে, নতুন শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে কফি ও গরুর মাংসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভোগ্যপণ্য। হোয়াইট হাউস বলছে, তাদের মূল উদ্দেশ্য মার্কিন ভোক্তাদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব কমিয়ে রেখে ব্রাজিলের ওপর চাপ বাড়ানো।

এদিকে আমদানি পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ব্রাজিল সরকার।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্সির সামাজিক যোগাযোগ সচিবালয় স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা এ ধরনের বাণিজ্যিক ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো যৌক্তিকতা নেই। ব্রাজিল এসব তদন্তের বৈধতা অস্বীকার করে কারণ এগুলোর পক্ষে বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিমালার কোনো ভিত্তি নেই।

এ ছাড়া এই সিদ্ধান্তকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ‘দুঃখজনক মাইলফলক’ বলে আখ্যা দিয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা বলেন, একতরফাভাবে শুল্ক আরোপের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

কেন এই শুল্ক আরোপ?

এ বিষয়ে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, মার্কিন প্রযুক্তি ও পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অন্যায্য বাধা সৃষ্টি করছে ব্রাজিল। এ ছাড়া অবৈধ বন উজাড় রোধে কার্যকর আইন প্রয়োগে ব্যর্থ হচ্ছে ব্রাজিল। এর ফলে দেশটির উৎপাদকরা মার্কিন প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অন্যায্য ব্যয়গত সুবিধা পাচ্ছে।

মার্কিন ইথানলের বাজারে প্রবেশ সীমিত করছে এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না ব্রাজিল। পাশাপাশি লাতিন এই দেশটি কিছু দেশের জন্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা দিচ্ছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কেবল বাণিজ্যিক তদন্তের ফল নয়; এটি ট্রাম্প ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভার মধ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনারও প্রতিফলন। 

এর আগে ট্রাম্প তার রাজনৈতিক মিত্র ও সাবেক ব্রাজিলীয় প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর প্রতি ব্রাজিলের আচরণের সমালোচনা করে দেশটির ওপর পৃথক শুল্ক আরোপ করেছিলেন। যদিও মার্কিন প্রশাসনের দাবি, গত ছয় সপ্তাহের আলোচনায় আরও গঠনমূলক মনোভাব দেখিয়েছেন ব্রাজিলের কর্মকর্তারা। 

এই পরিস্থিতির জন্য ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা এবং তার সরকারকেই দায়ী করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, লুলার অর্থনৈতিক নীতি আমেরিকানদের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি ব্রাজিলের জনগণের জন্যও ক্ষতিকর। গত এক বছর তিনি নিজের অহংকে জনগণের স্বার্থের ওপরে রেখেছেন, আর এই শুল্ক সেই সিদ্ধান্তেরই মূল্য।

তবু দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনো উল্লেখযোগ্য দূরত্ব রয়েছে। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

একের পর এক বিজ্ঞানীর পদত্যাগ, লাগাম টানছে ইসরো

অনলাইন ডেস্ক
একের পর এক বিজ্ঞানীর পদত্যাগ, লাগাম টানছে ইসরো
সংগৃহীত ছবি

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো থেকে বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের দলে দলে চাকরি ছাড়ার ঘটনা বেড়েই চলছে। এ অবস্থায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির মহাকাশ বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব স্পেস)।

সম্প্রতি জারি করা এক নির্দেশনায় ইউ আর রাও স্যাটেলাইট সেন্টার (ইউআরএসসি), বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারসহ (ভিএসএসসি) ইসরোর প্রধান গবেষণা কেন্দ্রগুলোকে বলা হয়েছে, মহাকাশযান ও মানব মহাকাশ অভিযান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মিশনের সঙ্গে যুক্ত গ্রুপ-এ বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছা অবসর বা পদত্যাগের আবেদন নিয়মিতভাবে গ্রহণ করা যাবে না।

নির্দেশনায় বলা হয়, সম্প্রতি ইসরোর গ্রুপ-এ বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি কর্মকর্তাদের, বিশেষ করে গগনযান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে যুক্ত কর্মীদের স্বেচ্ছা অবসর ও পদত্যাগের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ফলে এখন থেকে এসব প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছা অবসর ও পদত্যাগের আবেদন আর নিয়মিতভাবে গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এ ধরনের আবেদন এলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের পরিচালকের সুস্পষ্ট সুপারিশসহ তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য মহাকাশ বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ২০২০ সালে করা প্রশাসনিক পরিবর্তন কার্যত বাতিল করা হয়েছে। ওই পরিবর্তনের ফলে ইসরোর বিভিন্ন কেন্দ্রের পরিচালকরা বিজ্ঞানী/প্রকৌশলী-এসজি পদমর্যাদা পর্যন্ত গ্রুপ-এ বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি কর্মকর্তাদের পদত্যাগ ও স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন অনুমোদনের ক্ষমতা পেয়েছিলেন।

নতুন নির্দেশনাটি সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার, লিকুইড প্রপালশন সিস্টেমস সেন্টার, স্পেস অ্যাপ্লিকেশনস সেন্টার, ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টার, ইসরো টেলিমেট্রি, ট্র্যাকিং অ্যান্ড কমান্ড নেটওয়ার্ক এবং মাস্টার কন্ট্রোল ফ্যাসিলিটিসহ একাধিক কেন্দ্রে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

ইসরো ছেড়ে কোথায় যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ১০০ জনের বেশি কর্মী ইসরো ছেড়েছেন। এর মধ্যে বেঙ্গালুরুর ইউআরএসসি এবং তিরুবনন্তপুরমের ভিএসএসসিতে সবচেয়ে বেশি পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। তাদের মধ্যে ভিক্টর জোসেফ টি নামে একজন জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানীও রয়েছেন। তিনি ভিএসএসসিতে জিওসিঙ্ক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল এমকে-থ্রি প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গগনযান অভিযানে ব্যবহৃত হতে যাওয়া এলভিএম-৩ উৎক্ষেপণযানের প্রকল্পপ্রধান হিসেবে প্রায় ১৩ মাস দায়িত্ব পালনের পর তিনি গত ফেব্রুয়ারিতে পদত্যাগ করেন।

ধারণা করা হচ্ছে, ইসরো ছেড়ে যাওয়া অনেক বিজ্ঞানী বর্তমানে বেসরকারি মহাকাশ স্টার্টআপে যোগ দিচ্ছেন। পদত্যাগ করা কয়েকজন বিজ্ঞানী ২০২০ সালে বেসরকারি খাতের জন্য মহাকাশ খাত উন্মুক্ত করার পর গড়ে ওঠা বিভিন্ন মহাকাশ স্টার্টআপে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০২৩ সালে ভারতের মহাকাশ নীতি চালুর পর এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হয়েছে।

বর্তমানে ভারতে নিবন্ধিত মহাকাশ স্টার্টআপের সংখ্যা ৪০০-এর বেশি। এসব প্রতিষ্ঠান মোট ৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে, যার মধ্যে শুধু ২০২৫ সালেই এসেছে প্রায় ১৫ কোটি ডলার। পিক্সেল, ধ্রুবা স্পেস, স্কাইরুট অ্যারোস্পেস, অগ্নিকুল কসমস এবং বেলাট্রিক্স অ্যারোস্পেসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই খাতের শীর্ষে রয়েছে।

একাধিক ধাক্কা ও চ্যালেঞ্জ

এদিকে বিজ্ঞানীদের পদত্যাগের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক মহাকাশ অভিযানে ব্যর্থতার মুখেও পড়েছে ইসরো। সংস্থাটির নির্ভরযোগ্য উৎক্ষেপণযান হিসেবে পরিচিত পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (পিএসএলভি) এক বছরের মধ্যে টানা দুটি উৎক্ষেপণে ব্যর্থ হয়েছে।

তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও গগনযান, চন্দ্রযান-৪, ভারতীয় মহাকাশ স্টেশন (বিএএস) এবং মঙ্গলযান-২ এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে মনোযোগ ধরে রেখেছে ইসরো।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে পিএসএলভি-সি৬২ উৎক্ষেপণের সময় তৃতীয় ধাপের শেষে ত্রুটির কারণে রকেটটি নির্ধারিত পথ থেকে সরে যায়। এর আগে গত বছরের মে মাসে পিএসএলভি-সি৬১/ইওএস-০৯ (রিস্যাট-১বি) মিশনও ব্যর্থ হয়। তৃতীয় ধাপে চেম্বারের চাপ হঠাৎ কমে যাওয়ায় রকেটটি নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছাতে পারেনি এবং রাডার স্যাটেলাইটটি হারিয়ে যায়।

এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ইসরো আগামী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মহাকাশযান, যার মাধ্যমে ভারত নিজস্ব প্রযুক্তিতে মানুষকে মহাকাশে পাঠানো বিশ্বের চতুর্থ দেশ হতে চায়।

এছাড়া চন্দ্রযান-৪, যার লক্ষ্য চাঁদ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা; ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন (বিএএস) নির্মাণ এবং মঙ্গলযান-২ মিশনের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে।

ইসরায়েলি কারাগারে নিপীড়নের ভয়াবহ তথ্য জানালেন জার্মান অধিকারকর্মী

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলি কারাগারে নিপীড়নের ভয়াবহ তথ্য জানালেন জার্মান অধিকারকর্মী
সংগৃহীত ছবি

ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়া ত্রাণবাহী নৌবহরের (ফ্লোটিলা) সদস্য ও ফিলিস্তিনপন্থী জার্মান অধিকারকর্মী অ্যানা লিডকে। আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে আটকের পর ইসরায়েলি কারাগারে থাকার সময় তিনি ভয়াবহ যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আশার পর তিনি এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে একটি ফৌজদারি অভিযোগও দায়ের করেছেন।

লিডকের বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও ইসরায়েলে করা একটি ফৌজদারি অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বন্দিশালায় তৃতীয়বারের মতো বেআইনিভাবে শরীর তল্লাশির সময় কারারক্ষীরা তাকে জোর করে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করেন। চিৎকার বন্ধ করতে তারা লিডকের মুখ চেপে ধরেন এবং তাকে ধর্ষণ করেন।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে লিডকে বলেন, নির্যাতনের সময় তিনি পুরুষ রক্ষীদের হাসির শব্দ শুনেছিলেন।

তার ধারণা, পুরুষ রক্ষীরা তার ওপর চলা এ নির্যাতন দেখছিলেন এবং সম্ভবত ভিডিও ধারণ করছিলেন। কারাগারের বারান্দা থেকে আংশিক টানা একটি পর্দা দিয়ে জায়গাটি আলাদা করা ছিল। পর্দাটি খোলাই রেখেছিলেন ইসরায়েলি কারারক্ষীরা।

২৫ বছর বয়সী লিডকে গত বছরের শরতে ইউরোপ থেকে গাজাগামী মানবিক সহায়তাবাহী নৌবহরে (ফ্লোটিলা) যোগ দেন। ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে তাদের নৌকাটি আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। এরপর তাকে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ৫ দিন আটক রাখা হয়।

ইসরায়েলি কারাগারে ফ্লোটিলার কর্মীদের ওপর ধর্ষণসহ বিভিন্ন নির্যাতন ও সহিংসতা চালানো হয়েছে। এর কারণ হিসেবে ভুক্তভোগী ওই নরী বলেন, ‘এটি স্পষ্ট যে তারা আমাদের মনোবল ভেঙে দিতে চায় এবং আমাদের চুপ করাতে চায়। তারা আমাদের এমন এক ট্রমার মধ্যে ফেলতে চায়, যাতে আমরা আর কখনো ফিলিস্তিন নিয়ে কথা না বলি।’

কিন্তু গত ডিসেম্বরে তিনি প্রথম ফ্লোটিলা কর্মী হিসেবে ইসরায়েলি হেফাজতে ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলেন। একই সঙ্গে আরও এক ডজনের বেশি কর্মী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন, যাদের বেশির ভাগই নাম প্রকাশ করেননি।

লিডকের অভিযোগগুলো তদন্ত করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে একটি মামলা দায়ের করেছেন তার আইনজীবীরা। ইসরায়েলি আইন অনুযায়ী, সম্মতি ছাড়া যেকোনো ধরনের যৌন নিপীড়নকে ধর্ষণ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। আইনি লড়াই শুরু করার পর দেয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে লিডকে বলেন, ‘আমার লজ্জা পাওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা চুপ থাকলে তারা অন্য কারও সঙ্গেও একই কাজ করবে।’

অভিযোগপত্রটি ইসরায়েলের অ্যাটর্নি জেনারেল, ইসরায়েল কারা কর্তৃপক্ষের আইনি উপদেষ্টা, কারারক্ষী তদন্ত বিভাগ (ইয়াহাস) এবং গিভন কারাগারের কমান্ডারের কাছে পাঠানো হয়েছে। 

এ বিষয়ে লিডকের আইনজীবী মুনা হাদ্দাদ বলেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো ইসরায়েলে বন্দি নির্যাতনের ক্ষেত্রে যে ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’ রয়েছে, সেটাকে চ্যালেঞ্জ করা।

ইসরায়েলে কর্মরত ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থা ‘আদালাহ’-এর আইনজীবী হাদ্দাদ বলেন, ‘অ্যানা লিডকে ন্যায়বিচার চান। অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে তিনি সব পথ ব্যবহার করতে চান। আমরা জনসচেতনতা বাড়াতে এবং তদন্তের দাবিতে ইসরায়েলি ব্যবস্থা কীভাবে সাড়া দেয় তা পর্যবেক্ষণ করতে চাই।’

ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় তিন বছর ধরে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর ক্রমাগতভাবে যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের মতো অপরাধ চালানো হচ্ছে। এখন আমরা এর মাত্রা আরও বাড়তে দেখছি। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানানো বিদেশি নাগরিকদের ওপরও একই আচরণ করছে ইসরায়েল।’

লিডকে বলেন, ‘আমি মনে করি না, মুখ খুললেই কারাগারে ধর্ষণ বন্ধ হয়ে যাবে। তবে একজন রাজনৈতিক সচেতন নারী হিসেবে আমি এ বিষয়ে কথা বলা দায়িত্ব মনে করি।’

এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে চাই উল্লেখ তিনি আরও বলেন, ‘আমি জোর দিয়ে বলতে পারি, ফিলিস্তিনি বন্দিরা যে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, আমার ওপর হওয়া নির্যাতন তার চেয়ে অনেক কম।’

ইরানের হুমকির পর নড়েচড়ে বসেছে উপসাগরীয় দেশগুলো

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের হুমকির পর নড়েচড়ে বসেছে উপসাগরীয় দেশগুলো
সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অনিশ্চয়তা ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করেছে। এই সিদ্ধান্তের কিছু সময় আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সতর্ক করেছে, ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের অবশিষ্ট সমস্ত অবকাঠামো নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে।

দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অপারেশনাল সেন্ট্রাল কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়ার মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাগারি বলেন,  ‘নির্বোধ শত্রুর জেনে রাখা উচিত, আমাদের জন্য এই মহাকাব্যিক মুহূর্তটি এড়িয়ে যাওয়ার মুহূর্ত নয়। ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলার জবাব সমান মাত্রায় হবে না, বরং আরো শক্তিশালী, বিস্তৃত ও ধ্বংসাত্মক হবে।’

হরমুজ প্রণালিকে ইরানের অলঙ্ঘনীয় রেড লাইন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যদি ফাঁপা ও অন্তঃসারশূন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইরানের অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার সাম্প্রতিক হুমকি কার্যকর করা হয়, তাহলে ইরানের সংযমের কারণে যা কিছু অবশিষ্ট আছে (উপসাগরীয় অঞ্চলের সমস্ত অবকাঠামো) তা ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর আঘাতে এমনভাবে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে যে তার কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট থাকবে না। এমনকি মনে হবে, যেন এগুলোর কোনো অস্তিত্বই ছিল না।’

যুলফাগারি আরো সতর্ক করে বলেন, ‘অপরাধী আমেরিকা এই অঞ্চলে তার আইনশৃঙ্খলাহীনতা ও অস্থিতিশীলতা অব্যাহত রেখেছে। কোনো অবস্থাতেই ইরান একটি বিদেশি ও বহিঃআঞ্চলিক শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালিতে হস্তক্ষেপ করতে দেবে না।’

কাতারভিত্তিক সংবাদমাদ্যম আলজাজিরা বলছে, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলো বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী, সামরিক প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা আরো কঠোর করেছে।

নিরাপত্তা জোরদার করা স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে তেল ও গ্যাস স্থাপনা, বিমানবন্দর এবং সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্ট।

এদিকে বাহরাইন জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার উপসাগরীয় অঞ্চলের আরো কয়েকটি দেশও একই ধরনের হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে।

তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দীর্ঘস্থায়ী বা আরো বিস্তৃত সংঘাত শুরু হলে কোনো বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই দীর্ঘ সময় কার্যকরভাবে সব হামলা ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই নয়, বিশ্ব অর্থনীতিকেও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এই কারণেই উপসাগরীয় দেশগুলো সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে এনে যুদ্ধের অবসান এবং কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

করোনার জন্য মানুষের পাপকেই দায়ী করলেন মাওলানা সাদ | কালের কণ্ঠ