• ই-পেপার

ভারতে বিষাক্ত গ্যাস ছেড়েছে পাকিস্তান!

আফগানিস্তানে বন্যায় নিহত ২০, নিখোঁজ শতাধিক

অনলাইন ডেস্ক
আফগানিস্তানে বন্যায় নিহত ২০, নিখোঁজ শতাধিক
সংগৃহীত ছবি

আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নুরিস্তান প্রদেশে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো ১০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

সোমবারের এই বন্যার পর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে। উদ্ধারকারীরা জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা খুবই দুর্গম হওয়ায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, নিখোঁজদের মধ্যে আরো অনেকে মারা যেতে পারেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে নুরিস্তান প্রদেশের রাজধানী পারুন শহরের মেয়র এবং তার দুই দেহরক্ষীও রয়েছেন।

আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পারুন এলাকা। বন্যার পানির তোড়ে বহু ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ৮০ জন আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, নিখোঁজদের সন্ধানে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি পথ, ধসে যাওয়া সড়ক এবং যোগাযোগ সমস্যার কারণে উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে সমস্যায় পড়ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব এখনো করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই বন্যায় বড় ধরনের প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আফগানিস্তান বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে অতিবৃষ্টি, খরা এবং আকস্মিক বন্যার মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে অল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে পাহাড়ি এলাকায় হঠাৎ বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। নুরিস্তানসহ আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে বন উজাড়ের কারণেও পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। গাছপালা কমে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি মাটিতে শোষিত হওয়ার সুযোগ কমছে। ফলে পানির প্রবাহ দ্রুত বেড়ে গিয়ে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের মতো দুর্যোগ তৈরি করছে।

নুরিস্তানের এই বন্যা আবারও দেশটির দুর্যোগ মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ সামনে এনেছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
 

২ নৌযানের সংঘর্ষের জেরে কূটনৈতিক উত্তেজনা, ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূতকে তলব চীনের

অনলাইন ডেস্ক
২ নৌযানের সংঘর্ষের জেরে কূটনৈতিক উত্তেজনা, ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূতকে তলব চীনের
ছবি : রয়টার্স

চীন জানিয়েছে, দক্ষিণ চীন সাগরে দুই দেশের নৌযানের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার পর তারা মঙ্গলবার চীনে ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। বিতর্কিত সেকেন্ড থমাস শোল এলাকায় সোমবার (২০ জুন) দুই দেশের নৌযানের মধ্যে সংঘর্ষের পর চীন ও ফিলিপাইন একে অপরকে দোষারোপ করে। 

ফিলিপাইনের দাবি, তাদের নৌবাহিনীর এক সদস্যের মাথায় আঘাত করা হয়েছে। অন্যদিকে চীনের অভিযোগ, এই ঘটনার জন্য ফিলিপাইনই দায়ী এবং তারাই আগে উসকানি দিয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ফিলিপাইন প্রথমে উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে, পরে ঘটনাকে বিকৃত করে চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। এদিকে চীন কোস্ট গার্ডের (সিসিজি) দাবি, ফিলিপাইনের যুদ্ধজাহাজ বিআরপি সিয়েরা মাদ্রে থেকে পাঠানো দুটি রাবার বোট একটি চীনা টহল নৌকায় ধাক্কা দেয়। এ ছাড়া ফিলিপাইনের সদস্যরা বইঠা ও লম্বা লাঠি ব্যবহার করে চীনা কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়।

অন্যদিকে ফিলিপাইনের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় চীনা বাহিনী তাদের এক নৌ সদস্যের মাথায় কাঠের লাঠি দিয়ে আঘাত করে এবং একটি রাবার বোট ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে চীন দাবি করেছে, মানবিক কারণে তারা আহত ফিলিপিনো কর্মীদের ছোট নৌকায় করে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

চীন কোস্ট গার্ডের (সিসিজি) মুখপাত্র জিয়াং লু বলেন, সিসিজি ফিলিপাইনের নৌকাগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে এবং পুরো প্রক্রিয়া নজরদারিতে রেখেছে। তিনি আরো বলেন, বিতর্কিত সেকেন্ড থমাস শোলের আশপাশের জলসীমায় চীন তাদের ‘অধিকার রক্ষা ও আইন প্রয়োগ কার্যক্রম’ চালিয়ে যাবে।

চীন কোস্ট গার্ড ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এসব বক্তব্যের বিষয়ে বেইজিংয়ে অবস্থিত ফিলিপাইন দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী চীনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা চীনের দাবিকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ বলে উল্লেখ করে জানিয়েছে, তাদের সদস্যরা কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা উসকানিমূলক পদক্ষেপ শুরু করেনি।

দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। সর্বশেষ এই ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।
 

ছাত্রদের কথা শুনুন, সরকারের প্রতি সেলিব্রেটিরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
ছাত্রদের কথা শুনুন, সরকারের প্রতি সেলিব্রেটিরা

নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করছে ভারতের নতুন দল ককরোচ জনতা পাটি-সিজেপি। এক মাসেও বেশি সময় ধরে তারা দিল্লির যন্তর-মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। তাদের আন্দোলনে সংহতি জানাতে গত ২৮ জুন থেকে যন্তর-মন্তরে আমরণ অনশন শুরু করেন অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক।

গত শনিবার পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করেছে। গতকাল সোমবার বসেছে ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন। প্রথম দিনেই ককরোচ জনতা পাটি ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘোষণা করে। তবে পুলিশ কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। বরং লাঠিপেটা করে ছাত্রদের সমাবেশ পণ্ড করে দেয়।

ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন ভারতের সেলিব্রেটিরা। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, কেউ কেউ সরাসরি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছেন। তারা পুলিশি হামলার নিন্দা জানিয়ে ছাত্রদের কথা শোনা ও তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির আগে অভিনেত্রী শাবানা আজমি এবং অভিনেতা-পরিচালক প্রকাশ রাজ যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। আন্দোলন যে শান্তিপূর্ণ এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তা উল্লেখ করে শাবানা আজমি বলেন, ‘আমরা যারা এখানে এসেছি, তারা সবাই একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নিতে এসেছি, যা আমাদের দেশের সংবিধান আমাদের অধিকার দিয়েছে। মহাত্মা গান্ধী আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে হয়, আমরা সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই এখানে এসেছি। আমাদের কোনো সহিংসতা ছড়ানোর উদ্দেশ্য নেই এবং আমরা সেই দৃঢ় আশা নিয়েই এখানে দাঁড়িয়ে আছি।’

তবে তার আশা পূরণ হয়নি। ছাত্ররা শান্তিপূর্ণ থাকলেও পুলিশ হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি অশান্ত করে তোলে। পাঞ্জাবের প্রতিবাদী কণ্ঠ অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত নয়।’

জনগণের কণ্ঠস্বরকে ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর আখ্যা দিয়ে তিনি কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও অভিযোগ শোনার অনুরোধ জানান। কৃষকদের আন্দোলনের সময় কথা বলায় তাকে কীভাবে ’দেশদ্রোহী’ তকমা দেওয়া হয়েছিল, সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে এই গায়ক বলেন, তখন তাকে অনেক ভুগতে হয়েছিল এবং এবারও হয়তো তাকে দেশদ্রোহী বলা হবে। তারকা দম্পতি রিতেশ দেশমুখ এবং জেনেলিয়া ডি'সুজা বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে তাদের কথা শোনার দাবি জানিয়েছেন।

এক্স-এ (টুইটার) তারা লিখেছেন, ‘আমরা দেশের যুবসমাজের পাশে আছি। কোনো ভয় ছাড়াই তাদের কণ্ঠস্বর জোরালো ও স্পষ্টভাবে শোনার সুযোগ পাওয়া উচিত। তারা আমাদের গণতন্ত্রের স্পন্দন এবং দেশের ভবিষ্যৎ রূপকার। আসুন আমরা তাদের কথা শুনি, সমর্থন করি এবং তাদের ক্ষমতায়ন করি। আমাদের তরুণদের শক্তি, সাহস ও স্বপ্নই সেই ভারত গড়ে তুলবে, যা আমরা দেখতে চাই।’

অভিনেত্রী হুমা কুরেশি বলেন, আন্দোলনের এই দৃশ্যগুলো তার মনে দীর্ঘদিন থেকে যাবে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর এমন নিষ্ঠুর বলপ্রয়োগ এবং লাঠিচার্জ দেখে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত বলে লিখেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

চিত্রনাট্যকার সুতপা সিকদার লিখেছেন, আন্দোলনকারীদের অনেকেই শিক্ষার্থী, যারা পকেটে মাত্র ২০ টাকা এবং বুকে অনেক আশা নিয়ে জবাবদিহিতার খোঁজে এসেছিলেন। তিনি আরো যোগ করেন, ‘তারা কেউ ধনী প্রভাবশালী বাবার সন্তান নন, তাই তাদের বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেনি।’

তিনি বলেন, ‘তারা তাদের অবস্থানে অনড় ছিলেন, যেমনটা হয়তো তারা সারাজীবন লড়াই করেছেন, বাস, ট্রেন, ভর্তি পরীক্ষা এবং প্রশ্ন ফাঁসের জন্য অপেক্ষা করার মধ্য দিয়ে।’

অভিনেত্রী ও নির্মাতা নন্দিতা দাস বলেন, ‘যারা বিশ্বাস করেন মানুষের জমায়েত হওয়া, কথা বলা, শোনা এবং শুনানির সুযোগ পাওয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়; তিনি তাদের পাশে আছেন। গঠনমূলক ভিন্নমতই গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখে।’

নন্দিতা দাস আরো লেখেন, ‘দিল্লিতে যারা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের বিশ্বাসের ভারতের জন্য লড়াই করছেন, আমি মনে-প্রাণে তাদের সঙ্গে আছি।’

ইনস্টাগ্রামে অভিনেত্রী ভূমি পেদনেকর বলেন, সহিংসতা কখনো সমাধান হতে পারে না। তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।

সোনি রাজদান, জিনাত আমান, অভয় দেওল, নাসিরুদ্দিন শাহ, রত্না পাঠক শাহ, ওমি বৈদ্য এবং সোনাক্ষী সিনহাসহ আরো অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভের কথা লিখেছেন।  তরুণদের দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে সোনাক্ষী সিনহা লিখেছেন, ‘নানা কষ্ট ও চ্যালেঞ্জের মুখেও বিক্ষোভকারীরা তাদের বিশ্বাসে অবিচল আছেন।’

বিক্রম-১-এর সাফল্যে মহাকাশে ভারতের নতুন অধ্যায়

অনলাইন ডেস্ক
বিক্রম-১-এর সাফল্যে মহাকাশে ভারতের নতুন অধ্যায়
সংগৃহীত ছবি

ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে বেসরকারি মহাকাশ উৎক্ষেপণের যুগে প্রবেশ করেছে। দেশের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি রকেট সফলভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠিয়ে এই মাইলফলক অর্জন করেছে।

শনিবার ভারতের বেসরকারি মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্কাইরুট অ্যারোস্পেস প্রথম ভারতীয় কোম্পানি হিসেবে নিজস্ব রকেটের মাধ্যমে পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছানোর সাফল্য পেয়েছে। এদিন প্রতিষ্ঠানটির তৈরি বিক্রম-১ রকেট অন্ধ্র প্রদেশের সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের পর পরিকল্পনা অনুযায়ী রকেটটি সফলভাবে সব ধাপ সম্পন্ন করে। উৎক্ষেপণের প্রায় ১৫ মিনিট পর রকেটের উপরের ধাপ পৃথিবী থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতার কক্ষপথে পৌঁছে যায়। এরপর সেখানে বিভিন্ন গ্রাহকের পেলোড এবং পরীক্ষামূলক কয়েকটি যন্ত্র সফলভাবে স্থাপন করা হয়। এই অভিযানের নাম ছিল ‘আগমন’, যার অর্থ ‘পৌঁছে যাওয়া’। এই সাফল্যের মাধ্যমে ভারত প্রথমবারের মতো এমন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পেল, যা নিজস্ব রকেট ব্যবহার করে সফলভাবে কক্ষপথে পেলোড পাঠাতে সক্ষম হয়েছে।

হায়দরাবাদভিত্তিক স্কাইরুট অ্যারোস্পেস ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)-এর সাবেক দুই বিজ্ঞানী। তাদের লক্ষ্য ছিল মহাকাশে বাণিজ্যিকভাবে প্রবেশের সুযোগ আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করা। প্রতিষ্ঠার চার বছর পর, ২০২২ সালে স্কাইরুট 'বিক্রম-এস' নামের একটি পরীক্ষামূলক রকেট উৎক্ষেপণ করে। সেটি ছিল ভারতের বেসরকারি খাতে তৈরি প্রথম রকেট, যা উপ-কক্ষপথ পর্যন্ত সফলভাবে উড়েছিল। এরপর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ কক্ষপথে রকেট পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করে।

চলতি বছরের মে মাসে স্কাইরুট ভারতের মহাকাশ খাতের প্রথম ইউনিকর্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। অর্থাৎ কোম্পানিটির বাজারমূল্য ১০০ কোটি ডলারের বেশি হয়। নতুন করে ৬ কোটি ডলার বিনিয়োগ পাওয়ার পর স্কাইরুটের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১১০ কোটি ডলার। এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি মোট ১৬ কোটির বেশি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে। স্কাইরুটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারী রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক শেরপালো ভেঞ্চারস, সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদ তহবিল এবং বিশ্বের অন্যতম বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরক পরিচালিত বিভিন্ন তহবিল রয়েছে। 

ভারতে ২০২০ সালে মহাকাশ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ উন্মুক্ত করা হয়। এরপর থেকেই দেশটির মহাকাশ শিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হতে শুরু করে। এর আগে ভারতের মহাকাশ কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু নীতিগত পরিবর্তনের পর এখন দেশটিতে ৪০০টিরও বেশি মহাকাশভিত্তিক নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। সরকারের লক্ষ্য, মহাকাশ খাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। বর্তমানে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতির আকার প্রায় ৮৪০ কোটি মার্কিন ডলার বলে ধারণা করা হয়। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস, ২০৩৩ সালের মধ্যে এই খাতের আকার পাঁচ গুণ বেড়ে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ২০২৪ সালে ভারত সরকার সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) নীতিতে পরিবর্তন আনে। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য মহাকাশ খাতে বিনিয়োগ আরো সহজ করা হয়। এর আগে ২০২৩ সালের নতুন মহাকাশ নীতিতে সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব আলাদা করে নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক মহাকাশসেবা খাতেও নতুন সুযোগ তৈরি করা হয়।

সরকার নিজেও এই শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি ভারতীয় জাতীয় মহাকাশ উন্নয়ন ও অনুমোদন কেন্দ্রের নেতৃত্বে পরিচালিত 'অন্তরীক্ষ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড' প্রথমবারের মতো একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছে। তারা স্যাটেলাইট নির্মাতা 'ধ্রুবা স্পেসে' প্রায় ৬০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি সফল উৎক্ষেপণ বড় অর্জন হলেও এটিই শেষ নয়। একটি মহাকাশ প্রতিষ্ঠানকে সফল ব্যবসায় পরিণত করতে হলে নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্যভাবে রকেট উৎক্ষেপণ করতে হবে। এই কারণেই বাণিজ্যিক সেবা পুরোপুরি শুরু করার আগে স্কাইরুট আরো কয়েকটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালাবে। এসব অভিযানের মাধ্যমে দেখা হবে, বিক্রম-১ প্রতিবার একইভাবে সফলভাবে কাজ করতে পারে কি না।

‘আগমন’ অভিযানের সফলতার পর স্কাইরুট তাদের হায়দরাবাদের কারখানায় রকেট উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসে একটি রকেট তৈরি করে। ভবিষ্যতে সেই সক্ষমতা বাড়িয়ে প্রতি মাসে দুটি রকেট উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিক্রম-১-এর আরও উন্নত সংস্করণ বিক্রম-১ইউ তৈরির কাজ চলছে। এই রকেটে অতিরিক্ত সহায়ক বুস্টার থাকবে এবং এটি আগের তুলনায় আরও বেশি ওজনের পেলোড বহন করতে পারবে। এছাড়া স্কাইরুট আরো বড় আকারের বিক্রম-২ রকেট তৈরির পরিকল্পনাও করছে। প্রতিষ্ঠানটির আশা, ২০২৭ সালে এই রকেটের প্রথম উৎক্ষেপণ করা যাবে। বিক্রম-২ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে সর্বোচ্চ ৯০০ কেজি পর্যন্ত পেলোড বহন করতে সক্ষম হবে।

স্কাইরুটের এই সাফল্যকে ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যিক মহাকাশ উৎক্ষেপণ বাজারে ভারতের অবস্থান আরো শক্তিশালী করার পথ খুলে দিয়েছে।


 

ভারতে বিষাক্ত গ্যাস ছেড়েছে পাকিস্তান! | কালের কণ্ঠ