• ই-পেপার

জিম্বাবুয়ে সিরিজ শেষে বৈভবকে ভারতীয় কোচের বার্তা

চরম আর্থিক সংকটে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে রোনালদোর ক্লাব

ক্রীড়া ডেস্ক
চরম আর্থিক সংকটে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে রোনালদোর ক্লাব

বড় আর্থিক সংকটে সৌদি প্রো লিগের অন্যতম হেভিওয়েট ক্লাব আল নাসের। প্রায় ৮০০ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল (২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি) ঋণের বোঝায় জর্জরিত ক্লাবটি। যার ফলে গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে একটি নতুন প্লেয়ারকেও সই করাতে পারেনি তারা। আর দলের এই পরিস্থিতির জন্য অনেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিপুল বেতনের দিকে আঙুল তুলেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্লাবটির মালিক পক্ষ ‘সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডে’র (পিআইএফ) কাছে দল বিক্রির পরিকল্পনা শুরু করেছে।

সৌদি সংবাদমাধ্যম ‘আরিয়াদিয়া’র রিপোর্ট অনুযায়ী, আল নাসের কেনার জন্য ইতিমধ্যেই পিআইএফ দুটি বড় প্রস্তাব পেয়েছে। তবে পুরো ক্লাব বিক্রি না করে তারা মূলত আংশিক অংশীদারিরি বা ‘পার্শিয়াল টেকওভার’-এর দিকে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে।

পিআইএফ ক্লাবটির বর্তমানে ক্লাবের আর্থিক ক্ষমতায় কিছু বিধিনিষেধ জারি করেছে। যারমধ্যে রয়েছে নিজস্ব আয় ছাড়া নতুন খেলোয়াড় কেনা যাবে না। দ্বিতীয়ত, আয় বাড়ানো ও খরচ কমাতে অতিরিক্ত আর্থিক, বাণিজ্যিক ও আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, ক্লাবের আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ মালিকানা বিক্রির পথ খোলা রাখা হয়েছে।

বিশাল ঋণের কারণে আল নাসেরের বর্তমান দলবদল পুরোপুরি থেমে যায়। রিয়াল মায়োর্কার মিডফিল্ডার সামু কোস্টার সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়া সত্ত্বেও অর্থের অভাবে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া উইঙ্গার আব্দুলরহমান ঘরিবের চুক্তি নবায়নও আটকে রয়েছে।

গত মৌসুমে বেশ কিছু বড় আকারের চুক্তি, খেলোয়াড়দের আকাশছোঁয়া বেতন এবং দুর্বল আর্থিক সিদ্ধান্তের কারণেই মূলত আল নাসেরের ঘাড়ে এই ৮০০ মিলিয়ন সৌদি রিয়ালের দেনা চেপেছে বলে জানা গেছে।

কমনওয়েলথে রেকর্ড গড়ে সোনা জয় ভারতের মীরবাইয়ের

ক্রীড়া ডেস্ক
কমনওয়েলথে রেকর্ড গড়ে সোনা জয় ভারতের মীরবাইয়ের

কমনওয়েথ গেমসে মেয়েদের ভারোত্তোলন ৪৮ কেজি বিভাগে রেকর্ড গড়ে সোনা জিতেছেন ভারতের মণিপুরের মেয়ে সাইকম মীরাবাই চানু। পদক গ্রহণ করেই অশ্রুসিক্ত হন ৩১ বছর বয়সী এই অ্যাথেলেট। 

গতকাল রবিবার স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় কমনওয়েথ গেমসে মেয়েদের ৪৮ কেজি বিভাগে সোনা জয় করেন তিনি।

দিনের শুরুতে মীরাবাই একটু নার্ভাস ছিলেন। স্ন্যাচে শুরুতেই তিনি ৮২ কেজি তোলার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু প্রথম প্রচেষ্টায় তাঁর বডি ল্যাঙ্গুয়েজে আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল। ব্যর্থ হন তুলতে। 

কিন্তু দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় তিনি ৮২ পার করেন। আর তৃতীয় প্রচেষ্টায় তোলেন ৮৫ কেজি। গেমসের ইতিহাসে মেয়েদের ৪৮ কেজি বিভাগের স্ন্যাচে সর্বোচ্চ ৮৪ কেজি তোলার নজির ছিল এটি। ৮৫ কেজি তুলে তিনি গড়েন নতুন রেকর্ড। এরপর ক্লিন অ্যান্ড জার্কে মীরাবাই শুরুতেই ১০৫ কেজি তোলার সিদ্ধান্ত নেন।

একই দিন মীরাবাইয়ের আগে ছেলেদের ভারোত্তোলনে ভারতকে রৌপ্য এনে দিয়েছিলেন মণিপুরের ২৮ বছরের চানাম্বাম ঋষিকান্ত সিং। ছেলেদের ৬০ কেজি বিভাগে তিনি তোলেন মোট ২৮০ কেজি। স্ন্যাচে ১২১ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৪৩ কেজি। গেমসের চার নম্বর দিনে ভারতের দখলে তিন পদক। 

হঠাৎ করেই অবসরে বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি

ক্রীড়া ডেস্ক
হঠাৎ করেই অবসরে বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি
ফার্নান্দেজকে লাল কার্ড দেখাচ্ছেন ভিনচিচ। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ বলে কথা! শ্রেষ্ঠত্বের ম্যাচে রেফারিংয়ের দায়িত্ব পাওয়া যেকোনো রেফারির কাছেই স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন এবার পূরণ হয়েছে স্লাভকো ভিনচিচের।

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করবেন তিনি এমন ঘোষণা শোনার পরেই আনন্দাশ্রু ঝড়ে ভিনচিচের দুচোখ বেয়ে। তবে স্পেন-আর্জেন্টিনার ফাইনাল শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পর মন খারাপের সংবাদ দিয়েছেন তিনি। হঠাৎ করেই বাঁশি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্লোভেনিয়ার রেফারি। আর কখনো বাঁশিতে ফুঁ দেবেন না বলে তার অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্লোভেনিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

এক বিবৃতিতে অ্যাসোসিয়েশনটি লিখেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া বিশ্বকাপ ফাইনালের এক সপ্তাহ পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজের ঐতিহাসিক রেফারিং ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টেনেছেন স্লাভকো ভিনচিচ। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনালের দায়িত্ব পালন করে ইতিহাসের অন্যতম সেরা রেফারির একজন হিসেবে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেছেন মারিবোরের রেফারি।’

 

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচ পরিচালনা করেছেন ভিনচিচ। ফাইনালসহ এবারের বিশ্বকাপে ৪টি। বিপরীতে ২০২২ বিশ্বকাপে ২টি। তার পরিচালনায় ফাইনালে ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে তার নেওয়া বেশ কটি সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা-বিতর্কও হয়। আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ডের বিপরীতে স্পেনের উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামসের গোল বাতিল হওয়া নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা-সমালোচনা হয়।

২০০৭ সালে স্লোভেনিয়ার শীর্ষ লিগ প্রভা লিগা দিয়ে পেশাদার রেফারিং ক্যারিয়ার শুরু করেন ভিনচিচ। পরে একে একে চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপা লিগসহ অনেক টুর্নামেন্টে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন। তারই পুরস্কার হিসেবে ২০১০ সালে ফিফার তালিকাভুক্ত রেফারি হন ৪৬ বছর বয়সী ভিনচিচ। সব মিলিয়ে ৫১৩ ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। 

বিশ্বকাপের ফাইনালে ছাড়াও ২০২২ সালের ইউরোপা লিগ ফাইনাল এবং ২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ভিনচিচ।

জাতীয় দলের কোচ হিসেবে পিরলোর নাম বাতিল করল ইতালি

ক্রীড়া ডেস্ক
জাতীয় দলের কোচ হিসেবে পিরলোর নাম বাতিল করল ইতালি
ছবি : ফুটবল এক্সট্রা

ইতালি জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হচ্ছেন না বিশ্বকাপজয়ী সাবেক মিডফিল্ডার আন্দ্রেয়া পিরলো। রাশিয়ার একটি অনলাইন জুয়ার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকায় কোচ নিয়োগ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিতর্কের মুখে শেষ মুহূর্তে নিয়োগ চুক্তিটি বাতিল করেছে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি)।

কার্লো আনচেলত্তি এবং পেপ গার্দিওলা এই পদের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর পিরলোর সঙ্গে চার বছরের মৌখিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল। তবে অফিশিয়াল চুক্তি স্বাক্ষরের ঠিক আগ মুহূর্তে এই নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে।

পিরলো রাশিয়ার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেটিং কম্পানি ‘ফনবেটে’র গ্লোবাল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে যুক্ত আছেন। জুয়া ও বেটিং বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে ইতালির কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যা ফেডারেশনের নিয়মের পরিপন্থী।

বাণিজ্যিক চুক্তির অংশ হিসেবে পিরলোর ঘনঘন মস্কো সফর করে থাকেন। এ সময় ইউক্রেন যুদ্ধ সমর্থনকারী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার কথিত বৈঠকের বিষয়টি সামনে আসে।

ইতালির বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য এই নিয়োগের তীব্র বিরোধিতা করেন। সেইসঙ্গে চুক্তিটি আটকে দিতে ভূমিকা রাখেন।

সোমবার নিজেই ইনস্টাগ্রাম স্টোরির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে পিরলো জানান, তিনি আর কোচের পদের দৌড়ে নেই। পুরো বিষয়টির আকস্মিক পরিণতিতে কিছুটা ‘মর্মাহত’ তিনি।

টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পাওলো মালদিনি এবং লিওনার্দো এখন নতুন কোচের সন্ধানে বিকল্প নামগুলো বিবেচনা করছেন। গুঞ্জন রয়েছে, এই তালিকায় এখন শীর্ষে আছেন আন্তোনিও কন্তে এবং রবার্তো মানচিনি।