• ই-পেপার

৯ মাসের কারাদণ্ড হতে পারে ওয়ার্নারের

অবসরের পরিকল্পনা ‘চূড়ান্ত’ করেছেন মেসি!

ক্রীড়া ডেস্ক
অবসরের পরিকল্পনা ‘চূড়ান্ত’ করেছেন মেসি!
ছবি : রয়টার্স

৩৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে নামার পর স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেওয়া হয়েছিল, এটিই হয়তো আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ নাচ। ভক্তদের হৃদয়ে বিদায়ের সুর বেজে উঠলেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে বয়সের সমীকরণকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন তিনি। ৮টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্টে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার খেতাব নিয়ে আসর শেষ করলেও, স্পেনের কাছে রোমাঞ্চকর ফাইনালে হেরে শিরোপা ছোঁয়া হয়নি তার।

ফাইনালের সেই হৃদয়বিদারক হারের পরও নিজের আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রকাশ্যে টু-শব্দটিও করেননি ৮ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই মহাতারকা। কোচ লিওনেল স্কালোনি মেসির জন্য জাতীয় দলের দরজা আজীবন খোলা রাখার ঘোষণা দিলেও, আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমে এবার উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। খুব শিগগিরই বুট জোড়া তুলে রাখতে যাচ্ছেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক। আর সেই পরিকল্পনাও প্রায় চূড়ান্ত! 

আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকটি নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দল পুনর্গঠন ও পরিবর্তনের ধারা যাতে মসৃণ হয়, সে জন্য আরো কিছুদিন জাতীয় দলের সঙ্গেই থাকবেন মেসি। তবে আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপে তিনি যে আর অংশ নিচ্ছেন না, তা প্রায় নিশ্চিত। অর্থাৎ নিজের মহাকাব্যিক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ পাতায় ইতি টানার সঠিক মুহূর্তটিই বেছে নিতে যাচ্ছেন এই কিংবদন্তি।

এদিকে স্পোর্টস নেটওয়ার্ক ‘বিইন স্পোর্টসে’র বরাতে জানা গেছে, লিওনেল মেসির বিদায়কে স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক করে রাখতে এক অভাবনীয় আয়োজনের ছক কষছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুধু একটি সাধারণ পোস্ট বা সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে অন্যান্য মহাতারকাদের বিদায় মিললেও, মেসির ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না। বুয়েনস আইরেসে একটি বিশেষ ম্যাচের আয়োজন করে বিশ্বসেরা এই ফুটবলারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জমকালো সংবর্ধনার মাধ্যমে বিদায় জানানোর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

মেসির হাত ধরেই আর্জেন্টিনার ফুটবলে এসেছে ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্বর্ণযুগ। ২০২১ কোপা আমেরিকা দিয়ে শিরপাখরা কাটিয়ে ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা জয়। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ বিশ্বকাপেও একাই দলকে টেনে তোলেন ফাইনাল পর্যন্ত। ফুটবলের বরপুত্র যখন বিদায়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে, তখন তার বিদায়বেলাটি যে তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের মতোই মহিমান্বিত হতে যাচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।  
 

চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস, প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়!

ক্রীড়া ডেস্ক
চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস, প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়!
সংগৃহীত ছবি

প্রাণনাশের হুমকির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে মেক্সিকান ক্লাব তিগ্রেস ছেড়ে নিজ দেশ আর্জেন্টিনায় পাড়ি জমিয়েছেন অ্যাঞ্জেল কোরেয়া। দীর্ঘদিনের গুঞ্জন পেরিয়ে আর্জেন্টাইন পরাশক্তি রিভার প্লেটে তার যোগ দেওয়া যখন কেবল সময়ের ব্যাপার ছিল, ঠিক তখনই নাটকীয়ভাবে সামনে এলো এই অভিযোগ। ফলে শেষ মুহূর্তে এসে আটকে গেছে বহু আলোচিত এই ট্রান্সফার প্রক্রিয়া।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, দলবদলের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেশে ফিরে ইতিমধ্যে রিভার প্লেটের হয়ে মেডিক্যাল ও শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন এই ফরোয়ার্ড। চুক্তিপত্রে সই করার সব প্রস্তুতিও প্রায় শেষ ছিল। কিন্তু এর মাঝেই কোরেয়ার ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা যায়, মেক্সিকোতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছিলেন। মূলত সেই ভয়েই বাধ্য হয়ে তাড়াহুড়ো করে দেশটিতে ফিরেছেন তিনি।

তবে এই অভিযোগ ঘিরে রহস্যও দানা বাঁধছে। মেক্সিকো ছাড়ার আগে তিগ্রেসের অনুশীলন শেষে সতীর্থ ও কোচিং স্টাফদের স্বাভাবিকভাবেই বিদায় জানান কোরেয়া। সেখানে ক্লাব কিংবা সংশ্লিষ্ট কাউকে কোনো হুমকির বিষয়ে কিচ্ছুটি জানাননি তিনি। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্যই তিগ্রেস কর্তৃপক্ষ তাকে সানন্দে আর্জেন্টিনায় যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে চুক্তিটি সম্পন্ন করতে চেয়েছিল রিভার প্লেট। কিন্তু হুমকির খবর প্রকাশ্যে আসতেই পাল্টে গেছে রূপরেখা। আর্জেন্টাইন বেশ কিছু গণমাধ্যমের মতে, কোরেয়াকে ‘ফ্রি এজেন্ট’ বা মুক্ত খেলোয়াড় বানাতে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছে রিভার প্লেট। বিষয়টিতে ফিফা ও স্পোর্টস কোর্টে (সিএএস) যাওয়ার তোড়জোর চলছে, যাতে সফল হলে তিগ্রেসকে কোনো ট্রান্সফার ফি-ই দিতে হবে না তাদের।

এদিকে মেক্সিকান সংবাদমাধ্যম ‘মেদিওতিয়েম্পো’কে তিগ্রেসের এক সূত্র স্পষ্ট জানিয়েছে, এই হুমকির অভিযোগটি আসলে রিভার প্লেটের একটি ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ কৌশল। নিজেদের শর্তে চুক্তিটি হাসিল করতেই আর্জেন্টাইন ক্লাবটি এমন গল্প সাজিয়েছে বলে তাদের ধারণা। ২০৩০ সাল পর্যন্ত কোরেয়ার চুক্তি বহাল থাকায় নির্ধারিত এক কানাকড়িও ছাড় না দেওয়ার অবস্থানে অনড় তিগ্রেস। প্রয়োজনে সব ধরণের আইনি লড়াই চালানোর হুমকি দিয়ে রেখেছে তারা।

পুরো বিতর্কটিকে অনেকে বছর কয়েক আগের আরেক ফরোয়ার্ড অ্যালান পুলিদোর ঘটনার পুনরাবৃত্তি বলে মনে করছেন, যেবার তিগ্রেসের বিপক্ষে গিয়ে আইনি লড়াইয়ে পরাজিত হতে হয়েছিল অন্য এক ক্লাবকে। আপাতত নিজ দেশে থাকলেও কোরেয়ার ভাগ্য ঝুলছে শূন্যে। রিভার প্লেট, তিগ্রেস ও খেলোয়াড়ের প্রতিনিধিরা সমঝোতায় না পৌঁছালে এই দলবদল জটিলতার খেসারত শেষ পর্যন্ত ক্রীড়া সালিশি আদালতেই মেটাতে হতে পারে।

ভারতের কাছে হারার পর বাংলাদেশকে কেন টানলেন রাজা

ক্রীড়া ডেস্ক
ভারতের কাছে হারার পর বাংলাদেশকে কেন টানলেন রাজা
হারারের পিচের সমালোচনা করলেন রাজা। ছবি : ক্রিকইনফো

নিজ দেশের পিচ নিয়ে সচরাচর কোনো ক্রিকেটারই কথা বলতে রাজি নন। কিছুটা ব্যতিক্রম সিকান্দার রাজা। ভারতের কাছে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৭ উইকেটে হেরে পিচের সমালোচনা করেছেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক।

হারারের পিচ মানসম্মত ছিল বলে ম্যাচ শেষে জানান রাজা। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক বলেছেন, ‘আবারো পিচ মানসম্মত ছিল না। সকালে আদ্রর্তা দেখে মনে করছিলাম ম্যাচে প্রভাব রাখবে। কিন্তু এত সময় ধরে প্রভাব রাখবে তা কখনো ভাবিনি। তাই নতুন বল খেলাটা কঠিন হয়।’

শুরুর দিকে বাউন্ডারি হাঁকাতে না পারার দায়ও নিচ্ছেন রাজা। তিনি বলেছেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত শুরুর দিকে আমরা বাউন্ডারি মারতে পারিনি। তাতে বল নতুনই থেকে যায়। এতে করে পিচ থেকে পাওয়া মুভমেন্টে ব্যাটিং করাটা আরো কঠিন হয়।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা ওয়ানডে সিরিজের তুলনা টেনে রাজা বলেছেন, ‘আমার মনে হয় বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রচুর আর্দ্রতা ছিল। তার প্রভাব দীর্ঘ সময় ছিল। আজ আর্দ্রতা ৮/১০ কিংবা ১২ ওভার পর্যন্ত ছিল। এরপর ভারত যখন ব্যাটিং করল তখন বল সহজেই ব্যাটে আসছিল।’

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভালো উইকেট আশা করছেন রাজা। ৪০ বছর বয়সী ব্যাটার বলেছেন, ‘আশা করি, পরের ম্যাচে আরো ভালো উইকেট পাব। টস হারার পরেও যেন ফলাফলে বড় প্রভাব রাখতে না পারে।’

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি

ক্রীড়া ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি
ছবি : রয়টার্স

অবশেষে আলবিসেলেস্তেদের নীল-সাদা জার্সিটা তুলে রাখার কঠিন সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেললেন নিকোলাস ওতামেন্ডি। ১৭ বছরের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টিনার এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার। ২০০৯ সাল থেকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের রক্ষণভাগ সামলে আসা ৩৮ বছর বয়সী এই সেন্ট্রাল ব্যাকের অবসর গ্রহণের মাধ্যমে ইতি ঘটল এক সোনালী অধ্যায়ের।

যুক্তরাষ্ট্রে সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটিই ছিল জাতীয় দলের হয়ে ওতামেন্ডির শেষ ম্যাচ। ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হলেও দেশের হয়ে সর্বোচ্চ উজাড় করে দেওয়ার স্বস্তি নিয়েই বিদায় নিচ্ছেন তিনি। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ১৩৯টি ম্যাচ খেলা ওতামেন্ডি প্রতিনিধিত্ব করেছেন চারটি বিশ্বকাপ মঞ্চে।

বিদায়বেলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন বার্তা পোস্ট করে ওতামেন্ডি লেখেন, ‘আজ আমাকে আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন শব্দগুলো লিখতে হচ্ছে। ভাগ্যের কী পরিহাস, আমার শেষ ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপ ফাইনাল। ফলাফলটা আমাদের মনমতো হয়নি সত্যি, তবে আমরা শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করেছি—এই তৃপ্তি নিয়ে মাথা উঁচু করেই মাঠ ছাড়ছি। ধন্যবাদ আর্জেন্টিনা, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।’

২০২২ সালে কাতারের মাটিতে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পান ওতামেন্ডি। এ ছাড়া আলবিসেলেস্তেদের ২০২১ ও ২০২৪ সালের জোড়া কোপা আমেরিকা জয়ের ক্ষেত্রেও রক্ষণে মূল স্তম্ভের ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি।

ইউরোপিয়ান ফুটবলে পোর্তো, ভ্যালেন্সিয়া, ম্যানচেস্টার সিটি এবং বেনফিকার মতো শীর্ষ সারির ক্লাবে সফল ১৬ বছর কাটানোর পর সম্প্রতি নিজ দেশের ক্লাব রিভার প্লেটে যোগ দিয়েছেন এই তারকা ডিফেন্ডার। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেও ক্লাব ফুটবলে তার পথচলা অব্যাহত থাকছে।