• ই-পেপার

নিকারাগুয়ার সংসদে বিরোধীদের নির্বাচন নিষিদ্ধের প্রস্তাব

নতুন শুল্কারোপ

ইসরায়েলকে ‘শত্রু’ চীনের কাতারে, ভারত কেন কাছে টানলেন ট্রাম্প?

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলকে ‘শত্রু’ চীনের কাতারে, ভারত কেন কাছে টানলেন ট্রাম্প?
ছবি : রয়টার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন, ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য ও জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ভারতকে এই তালিকা থেকে আলাদা রেখে ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের দাবি, জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি ঠেকাতে ভারত প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় দেশটির জন্য তুলনামূলক কম শুল্ক রাখা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত, চীন, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অন্তত ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। দেশটির প্রশাসনের দাবি, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। 

তাই যুক্তরাষ্ট্র এসব দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবে। সমালোচকদের মতে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য বিদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা কমানো এবং দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করা।

এই ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের আগে আরোপ করা অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যেসব দেশে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে কার্যকর আইন নেই, তাদের ওপর সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এই তালিকায় চীন, যুক্তরাজ্য ও জাপানও রয়েছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো যেসব দেশে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য ঠেকানোর আইন রয়েছে, কিন্তু সেগুলো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হয় না, সেসব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে মার্কিন-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি (ইউএসএমসিএ)-এর আওতাভুক্ত পণ্য এবং তেল ও গ্যাসসহ কিছু নির্দিষ্ট আমদানিকে নতুন এই শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিট (ওয়াশিংটন ডিসি সময়) থেকে কার্যকর হবে। একই সময়ে আগে আরোপ করা অস্থায়ী ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কের মেয়াদ শেষ হবে। সুপ্রিম কোর্ট ২০২৫ সালের এপ্রিলে ট্রাম্পের ঘোষিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক বাতিল করার পর ফেব্রুয়ারিতে এই অস্থায়ী শুল্ক চালু করা হয়েছিল।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন এই শুল্কের উদ্দেশ্য হলো জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় এক শতাব্দী ধরে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করে আসছে। তার মতে, এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদারদেরও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।

তিনি আরো বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অন্যায্য বাণিজ্যিক চর্চা মোকাবিলা করা হবে এবং বিশ্বের শ্রমিকদের জন্য আরও ভালো কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

ভারতে ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল

নতুন সিদ্ধান্তের পর ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পণ্যের ওপর মোট ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টের ফেব্রুয়ারির রায়ের পর ভারতসহ বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর একটি অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক সারচার্জ আরোপ করেছিল, যার মেয়াদ এখন শেষ হচ্ছে।

এর আগে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগে ভারতের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্তে সেই শুল্ক আরোপ করা হয়নি।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ভারত, কম্বোডিয়া, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, শ্রীলঙ্কা ও ত্রিনিদাদ ও টোবাগো জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বা সে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জর্দানও একটি বাণিজ্য চুক্তির আওতায় একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। 

হোয়াইট হাউসের মতে, এসব দেশকে আইনগুলো আরো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে উৎসাহিত করতেই তাদের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বজায় রাখা হয়েছে।

সামনে আসতে পারে আরো নতুন শুল্ক

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও একটি নতুন শুল্ক ঘোষণা করতে পারে। এই শুল্ক সেসব দেশের পণ্যের ওপর আরোপ করা হতে পারে, যারা নিজেদের শিল্পে অতিরিক্ত ভর্তুকি দিয়ে বেশি উৎপাদন করে এবং কম দামে পণ্য রপ্তানি করে। 

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এতে মার্কিন কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনের আগের শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল করার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন আইনি ভিত্তিতে আবারও শুল্ক ব্যবস্থা জোরদার করার চেষ্টা করছেন। এবার তিনি এমন আইন ব্যবহার করছেন, যা আগের পদক্ষেপগুলোর তুলনায় আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেশি শক্তিশালী বলে মনে করা হচ্ছে।


 

সন্তানদের প্রতি স্ত্রীর ভালোবাসায় স্বামীর ঈর্ষা, কথা বলেননি ২০ বছর

অনলাইন ডেস্ক
সন্তানদের প্রতি স্ত্রীর ভালোবাসায় স্বামীর ঈর্ষা, কথা বলেননি ২০ বছর
সংগৃহীত ছবি

প্রায় এক দশক আগে জাপানের একটি ঘটনা সারা বিশ্বের মানুষের নজর কেড়েছিল। অদ্ভুত মোড় আর আবেগঘন সমাপ্তির কারণে ঘটনাটি এখনো অনেককে মুগ্ধ করে।

২০১৭ সালে হোক্কাইদোর ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের কাছে অস্বাভাবিক একটি অনুরোধ করেন। তিনি তার পরিবারের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার সমাধানে সাহায্য চান। তার বাবা-মা প্রায় ২০ বছর ধরে একসঙ্গে থাকলেও তিনি কখনোই তাদের স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে দেখেননি।

শুনতে বিষয়টি প্রায় অবিশ্বাস্য মনে হলেও সেটিই ছিল সত্যি। ওই ২০ বছরে ওকুও কাটায়ামা ও তার স্ত্রী ইউমি একই বাড়িতে থেকেছেন। তারা তিন সন্তানকে বড় করেছেন। একসঙ্গে খাওয়াদাওয়াও করেছেন। কিন্তু তারা প্রায় কোনোই অর্থপূর্ণ কথা একে অপরের সঙ্গে বলতেন না। এই নীরবতার কারণ কোনো তিক্ত ঝগড়া বা বিশ্বাসঘাতকতা ছিল না। এর পেছনের কারণ ছিল অবাক করার মতো সহজ। দ্য স্ট্রেইটস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, কাটায়ামা তার স্ত্রীর সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেন। কারণ, স্ত্রী সন্তানদের প্রতি যে মনোযোগ দিতেন, তা দেখে তিনি ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েছিলেন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ইউমি কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি সাধারণত শুধু মাথা নাড়তেন বা অস্পষ্ট শব্দ করে উত্তর দিতেন।

পরিস্থিতি আর সহ্য করতে না পেরে সেই দম্পতির ছোট ছেলে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের কাছে সাহায্য চান। অনুষ্ঠানটির আয়োজকেরা সেই পার্কে তাদের দেখা করার ব্যবস্থা করেন, যেখানে তারা প্রথমবার একসঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন। এ সময় তাদের তিন সন্তান দূর থেকে সবকিছু দেখছিল। প্রায় ২০ বছরের নীরবতা ভেঙে কাটায়ামা তার স্ত্রীকে বলেন, 'কীভাবে যেন আমাদের কথা না বলার অনেক দিন হয়ে গেল। তুমি সব সময় সন্তানদের নিয়েই চিন্তা করতে। ইউমি, এত দিন তুমি অনেক কষ্ট সহ্য করেছ। আমি চাই, তুমি জানো আমি সবকিছুর জন্য তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ।'

এরপর তিনি এত দিনের নীরবতার আসল কারণও স্বীকার করেন। তিনি বলেন, 'আমি একটু ঈর্ষান্বিত ছিলাম। এটা নিয়ে অভিমান করে ছিলাম।  মনে হয় এখন আর আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার উপায় নেই।' এরপর তিনি আবার নতুন করে কথা বলা শুরু করার প্রস্তাব দিলে সেখানে উপস্থিত সবাই হেসে ওঠেন। এই আবেগঘন পুনর্মিলনের ঘটনা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ এটি দেখে আবেগাপ্লুত হন। অনেকেই এত বছরের নীরবতার পর আবার সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য সেই দম্পতির ইচ্ছার প্রশংসা করেন।

এই ঘটনা জাপানে বদলে যাওয়া সম্পর্কের ধরণ নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করে।একই সময়ে দ্য ইন্ডিপেনডেন্টে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপানের কিছু মানুষ প্রচলিত প্রেমের সম্পর্কের পরিবর্তে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের বিয়ে করার পথ বেছে নিচ্ছিলেন। অন্যদিকে, ২০১৭ সালে জাপান সরকারের প্রকাশিত এক জরিপে দেখা যায়, দেশটির ৬৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৫৯ শতাংশ নারীর কোনো জীবনসঙ্গী ছিল না। এই তথ্যও দেশটির সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কের পরিবর্তিত চিত্র তুলে ধরে।
 

নাইজেরিয়ায় ৪৪ শিক্ষার্থী-শিক্ষক অপহরণে তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
নাইজেরিয়ায় ৪৪ শিক্ষার্থী-শিক্ষক অপহরণে তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

নাইজেরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওয়ো অঙ্গরাজ্যে ৪৪ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতে তারা অপরাধ স্বীকার করেছেন।

সাজাপ্রাপ্ত তিন ব্যক্তি হলেন আবদুলরাজাক উমর (যিনি আবু খলিফা বা আবু খালিদ নামেও পরিচিত), ইউনুসা মুসা এবং শামসু আদামু সানি। তারা রাজধানী আবুজার একটি উচ্চ আদালতে সাজা ঘোষণার শুনানিতে হাজির হন। আদালতে তারা অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে তথ্য গোপন করার অভিযোগ স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তারা স্বীকার করেন যে, তারা জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের একটি সহযোগী সংগঠনের সদস্য। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে ওয়ো অঙ্গরাজ্যে স্কুলশিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অপহরণের পরিকল্পনায় অন্য সন্দেহভাজনদের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ তারা অস্বীকার করেন।

তদন্তে আবদুলরাজাক উমর আরো স্বীকার করেছেন, তিনি একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা দিতেন। পাশাপাশি অবৈধ খনন কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত থাকার কথা তিনি জানিয়েছেন। রায়ের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, মে মাসে ওয়োর ওরিইরে জেলায় তিনটি স্কুলে চালানো সমন্বিত হামলায় অপহৃত ৪৪ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে উদ্ধার করা হয়েছে। এই অপহরণের ঘটনায় অভিভাবক, শিক্ষক সংগঠন ও অধিকারকর্মীরা ব্যাপক প্রতিবাদ করেন। তারা স্কুলগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার দাবি জানান।

ওরিইরের কমিউনিটি গ্রামার স্কুলের প্রধান শিক্ষক র‍্যাচেল ফোলাওয়ে আলামু জানান, অপহরণের পর তিনি, অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ৫৬ দিন জঙ্গলের গভীরে বন্দি ছিলেন। তিনি বলেন, অপহরণকারীরা প্রায়ই রাতে তাদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যেত। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে যেতে বাধ্য করা হতো। উদ্ধারের তিন দিন পর তিনি বলেন, ‘আমরা শিশুদের নিয়ে বেশির ভাগ সময় খোলা জঙ্গলে ছিলাম। রোদ ও বৃষ্টির মধ্যেই থাকতে হয়েছে।’ র‍্যাচেল জানান, অপহরণকারীরা তার দুই পুরুষ সহকর্মীকে হত্যা করে। অপহরণের কিছু দিন পর তার নিজের স্কুলের একজন শিক্ষককে হত্যা করা হয়। পরে জুন মাসে ব্যাপটিস্ট নার্সারি অ্যান্ড প্রাইমারি স্কুলের একজন শিক্ষককেও হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, ‘তারা ইচ্ছা করেই তাদের হত্যা করেছে। তারা ভেবেছিল, এতে সরকার বাধ্য হয়ে তাদের দাবি মেনে নেবে।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাইজেরিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বড় আকারের অপহরণ একটি সাধারণ কৌশলে পরিণত হয়েছে। এসব গোষ্ঠী সাধারণত মুক্তিপণের জন্য মানুষকে জিম্মি করে। তারা বেশি হামলা চালায় তুলনামূলক সহজ লক্ষ্যবস্তুতে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুল, গির্জা, মসজিদ এবং প্রত্যন্ত এলাকার গ্রাম। ওরিইরের এই অপহরণ ঘটনা বিশেষ উদ্বেগ তৈরি করে। কারণ, নাইজেরিয়ায় জঙ্গি সহিংসতা দীর্ঘদিন ধরে মূলত উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল। ওই অঞ্চলেই বোকো হারামের প্রধান ঘাঁটি রয়েছে। জুলাইয়ের শুরুতে ওরিইরের অপহৃতদের উদ্ধারের অভিযান শেষে কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা আরো কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে একজনকে অপহরণকারী চক্রের অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

নাইজেরিয়া বর্তমানে একাধিক নিরাপত্তা সমস্যার মুখোমুখি। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় অপরাধীচক্র, যাদের দেশটিতে ‘ডাকাত’ বলা হয়। এসব চক্র লুটপাট ও মুক্তিপণের জন্য অপহরণ চালায়। এ ছাড়া দেশটিতে ইসলামপন্থী বিদ্রোহ, জমি নিয়ে সংঘর্ষ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। ২০২৭ সালের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এসব নিরাপত্তা সংকট এখন দেশটির অন্যতম বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।


 

এআই'য়ের বুদ্ধিতেই ট্রিপল মার্ডার!

অনলাইন ডেস্ক
এআই'য়ের বুদ্ধিতেই ট্রিপল মার্ডার!
সংগৃহীত ছবি

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা-এআই কৃত্রিম হলেও তাদের দেয়া উত্তর মোটেই কৃত্রিম নয়। তবে মানুষ তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চেয়েও চতুর। তাই তারা এরই মধ্যে এআই'য়ের অপব্যবহারে সিদ্ধহস্ত হয়ে গেছে। বেঙ্গালুরুর বহুল আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের আগে সন্দেহভাজন খুনী দীর্ঘদিন গুগলের এআই চ্যাটবট জেমিনি'র সাথে পরামর্শ করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত জে কেনেথ (২৫) হত্যাকান্ডের আগে ৬ মাস ধরে এআই চ্যাটবট জেমিনির সাথে পরামর্শ করে হত্যাকাণ্ডের নিখুঁত ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছিলেন। সরাসরি প্রশ্ন না করে কাল্পনিক পরিস্থিতি সাজিয়ে তিনি এআই'য়ের কাছে নানান বিষয়ে জানতে চান। কেনেথের কৌতুহল ছিল, কীভাবে মানুষকে হত্যা করা যায়, কোন ধরনের ছুরিকাঘাত প্রাণঘাতী হয়, কীভাবে স্লো পয়জনিং করা যায়, কীভাবে মরদেহ গুম বা সহজে পুড়িয়ে ফেলা যায়, মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে কীভাবে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে লুকিয়ে থাকা যায়। এআই'য়ের পরামর্শে কেনেথ তার বাসায় ক্লাউড কিচেন বসানোর নামে একটি লোহার চুল্লি স্থাপন করেছিলেন। তার পরিকল্পনা ছিল, এই চুল্লি লাশ গুম করার কাজে ব্যবহারের। হোয়াইটফিল্ড ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ-ডিসিপি সাইদুলু আদাবাত এসব তথ্য জানিয়েছেন। 

অভিযুক্ত জে কেনেথ একজন সফটওয়্যার ঈঞ্জিনিয়ার। সে শ্বেতা নামে আরেক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের সাথে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিল। কিন্তু শ্বেতার পরিবার তাদের সম্পর্কটিকে স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। তবুও তারা বিভিন্ন সময়ে মেয়েকে আর্থিকভাবে সহায়তা করেছে। তারপরও কেনেথ আর শ্বেতা প্রবল আর্থিক সঙ্কটে ছিল। ৫৬ লাখ টাকার ঋণের বোঝা, শ্বেতার পরিবারের অর্থ ফিরিয়ে দেয়াসহ নানাবিধ মানসিক চাপের কারণে কেনেথ তাদের হত্যার পরিকল্পনা করে।  

গত ২২ জুন রাতে শ্বেতার বাবা সোমসুন্দর (৫৫), মা মুথুলক্ষ্মী (৪৮) এবং ছোট বোন সুপ্রিয়া (২০) পূর্ব বেঙ্গালুরুর কে. আর. পুরাম থানা এলাকার সিগেহাল্লিতে কেনেথ ও শ্বেতার ফ্ল্যাটে যান। সেখানে তাদের মধ্যে তুমুল তর্কাতর্কি শুরু হয়। ঘটনার শুরুতে শ্বেতার উপস্থিতিতে কেনেথ প্রথমে শ্বেতার মা মুথুলক্ষ্মীকে আক্রমণ করেন। চিৎকার শুনে বাবা ও ছোট বোন দরজার কাছে এগিয়ে এলে কেনেথ তাদের ওপরও ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে তিনজনকেই হত্যা করেন। পরিকল্পনামত হত্যা করতে পারলেও লাশ গুম করার সময় পাননি কেনেথ। জানাজানি হয়ে গেলে কেনেথ ও শ্বেতা দুজনই পদুচেরিতে পালিয়ে যান। অবশ্য পালানোর পরিকল্পনাও কাজে আসেনি। ২৪ ঘণ্টা পর আলাদাভাবে দুজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়। 

ডিসিপি সাইদুলু আদাবাত জানান, বাবা, মা ও ছোট বোনকে হত্যার সময় শ্বেতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। সে এই পরিকল্পনা সম্পর্কে আগে থেকেই জানতো। শ্বেতা তার পরিবারের নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ পছন্দ করত না।


কেনেথের ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোও জব্দ করা হয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে পুলিশের কাছে এআইয়ের সাথে কেনেথের চ্যাটের কোনো স্ক্রিনশট নেই। তাই পুলিশ এখন কেনেথের সার্চ হিস্ট্রি পাওয়ার জন্য গুগলের কাছে আবেদন করেছে। ডিসিপি আদাবাত বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি গুগলের কাছে ইতিমধ্যে একটি অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। এর জন্য একটি আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয় এবং সঠিক আইনি মাধ্যমের সাহায্যে প্রয়োজনীয় আবেদন করতে হয়।’