• ই-পেপার

স্পেনকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে গেল ১০ জনের আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপ ফাইনালের মারামারি নিয়ে তদন্তে ফিফা

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফাইনালের মারামারি নিয়ে তদন্তে ফিফা
গাভির সঙ্গে পারদেসের মারামারির মুহূর্ত। ছবি : রয়টার্স

শেষ বাঁশি বাজিয়ে রেফারি মাঠ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বিপরীতে ফাইনালে ১-০ ব্যবধানে জিতে শিরোপা উদযাপন শুরু করে স্পেন। কিন্তু এই মুহূর্তেই ম্যাচ হেরে হতাশ লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্পেনের দুই ফুটবলারের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। 

সেই ঘটনা মুহূর্তে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। তাতে টনক নড়েছে ফিফার। সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে এবার তদন্ত শুরু করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ইতিমধ্যে তদন্তকারীও নিয়োগ করেছে ফিফা। তার প্রতিবেদন জমার পরেই সিদ্ধান্ত জানাবে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিবিসি জানিয়েছে, যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন তারা শাস্তির সঙ্গে জরিমানাও গুনতে পারেন।

বিবৃতিতে ফিফা লিখেছে, ‘স্পেন-আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ রিপোর্ট পর্যালোচনার পর ফিফা ডিসিপ্লিনারি কোডের ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনাগুলোতে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একজন তদন্তকারী নিয়োগ করেছে ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটি।’

উত্তেজনার সূত্রপাত

অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের জয়সূচক গোলের পর ম্যাচ রেফারি যখন শেষ বাঁশি বাজান, তখন স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ব জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে স্পেন। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ায় হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। 

স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচ শেষ হতেই স্পেনের গাভি আর্জেন্টিনার পারেদেসের খুব কাছে গিয়ে কিছু একটা বলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গাভির করা সেই মন্তব্য মোটেও পছন্দ হয়নি পারেদেসের। ঠিক কী শব্দ বা বাক্য গাভি উচ্চারণ করেছিলেন, তা এখনো জানা যায়নি। তবে তা যে চরম উসকানিমূলক ছিল, তা পারেদেসের প্রতিক্রিয়া দেখেই স্পষ্ট।

মাঠে হাতাহাতি এবং কোচের হস্তক্ষেপ

গাভির কথা শোনার পর মেজাজ হারান পারেদেস। তিনি তীব্র ক্ষোভ নিয়ে গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাঠে ফেলে দেন। এরপরই দুই দলের খেলোয়াড় এবং সাইডবেঞ্চের সদস্যরা মাঠে ছুটে আসেন। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি নিজে মাঠে ঢুকে পারেদেসকে টেনে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ ধাক্কাধাক্কি ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলে।

পারেদেসের লাল কার্ড

মাঠের এই নজিরবিহীন শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নেন রেফারি। ম্যাচ অফিশিয়ালদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। বিশ্বকাপ ইতিহাসে ফাইনাল শেষের পর লাল কার্ড দেখার এমন ঘটনা একেবারেই বিরল।

ট্রাম্পের ফোনকলে মাঠে বালোগান, এ কারণেই কি ফাইনাল দেখেননি উয়েফা সভাপতি

ক্রীড়া ডেস্ক
ট্রাম্পের ফোনকলে মাঠে বালোগান, এ কারণেই কি ফাইনাল দেখেননি উয়েফা সভাপতি
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে সেফেরিন। ছবি : রয়টার্স

গ্যালারিতে বসে বিশ্বকাপ ফাইনাল কে না দেখতে চায়। বিশেষ ব্যক্তিদের জন্য আবার বিশেষ স্থানও বরাদ্দ থাকে। নিশ্চিতভাবেই উয়েফা (ইউনিয়ন অব ইউরোপিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিনের জন্য তেমনি বিশেষ এক স্থান বরাদ্দ ছিল। কিন্তু তবুও ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের ফাইনাল দেখতে যাননি।

ইচ্ছে যে ছিল না সেফেরিনের, তেমনটা অবশ্য নয়। প্রতিবাদস্বরূপ ফাইনাল দেখতে যাননি তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু থেকেই বিতর্কিত ছিল। ফিফার অনেক নিয়মেরই ব্যতয় ঘটছিল। তবে সবচেয়ে বড় বিতর্কিত ঘটনা ছিল ফোলারিন বালোগান লাল কার্ড দেখার পরেও নকআউটের পরের ম্যাচ খেলতে নামা। নিয়ম অনুযায়ী লাল কার্ড দেখলে স্বাভাবিকভাবেই পরের ম্যাচে নামতে পারেন না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার নেমেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ফোন কলে বালোগানের ম্যাচ খেলার কপাল খুলে যায়। ট্রাম্পের ফোন কলের পরেই ফিফা বিবৃতিতে জানায়, বালোগান পরের ম্যাচ খেলতে পারবেন। ফিফার ২৭ অনুচ্ছেদ মেনে তার শাস্তি এক বছরের প্রবেশনারি সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে ফিফার ব্যাপাক সমালোচনা হয়। উয়েফা সে সময় তাদের বিবৃতিতে এমন সিদ্ধান্তকে নজিরবিহীন ও বোধগম্যতাহীন বলে জানায়। আর সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফাইনালই দেখতে যাননি উয়েফার সভাপতি সেফেরিন। এমনটাই নিজেদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য টামইস। এ ছাড়ার ফিফার আরও অনেক সিদ্ধান্ত নাকি তাকে ফাইনাল দেখা থেকে দূরে রাখছে। সে সব হচ্ছে—সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া, যুক্তরাষ্ট্রে ইরানকে বেজক্যাম্প করতে না দেওয়া, হাইড্রেশন ব্রেকসহ আরও কিছু ঘটনা।

তবে উদ্বোধনী ম্যাচ দেখতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন সেফেরিন।

মেসির আবেদনের পরও কেন লাল কার্ড দেখানো হয়নি কুকুরেয়াকে?

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসির আবেদনের পরও কেন লাল কার্ড দেখানো হয়নি কুকুরেয়াকে?
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হারের রাতে নাটকের কমতি ছিল না। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে প্রথম হলুদ কার্ড দেখা আর তার ১০ মিনিট পরই পাউ কুবার্সিকে বাজে ফাউল করে মাঠ ছাড়তে হয় এনজো ফার্নান্দেজকে। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে এনজো যখন মাঠ ছাড়েন, তখন তিনি বনে যান বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে লাল কার্ড পাওয়া ষষ্ঠ ফুটবলার।

তবে সেই একই রাতে এই তালিকার সপ্তম ফুটবলার হিসেবে যুক্ত হতে পারতেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়াও! কিন্তু ফিফার নিয়মের এক সূক্ষ্ম ফাঁক গলেই যেন সেযাত্রা পার পেয়ে যান এই স্প্যানিশ লেফট ব্যাক। 

ঘটনাটি ঘটে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়ার ঠিক পরপরই। ক্যামেরায় স্পষ্ট দেখা যায়, আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে রেফারির দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ছেন। মেসির অভিযোগ ছিল স্পেনের লেফট ব্যাক কুকুরেয়ার বিরুদ্ধে। কুকুরেয়া হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কথা বলছিলেন—আর ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী মুখ ঢেকে কথা বললে সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার বিধান রয়েছে।

চলতি বিশ্বকাপেই এই বিতর্কিত ও নতুন নিয়ম ভঙ্গের দায়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আল মিরন এবং ইকুয়েডরের পিয়েরো হিনক্যাপিকে। মূলত গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে বেনফিকার মিডফিল্ডার জানলুকা প্রেস্তিয়ানির বর্ণবাদ বিতর্ক থেকেই এই নিয়মের জন্ম। প্রেস্তিয়ানি হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ভিনিসিয়ুসকে গালি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠলেও প্রমাণ না থাকায় পার পেয়ে যান। সেই ঘটনার পর ফুটবলারদের মুখে হাত দিয়ে কথা বলা বন্ধে কড়া হয় ফিফা।

তাহলে ফাইনালে মেসির জোরালো দাবির পরও কেন লাল কার্ড দেখলেন না কুকুরেয়া? উত্তরটি লুকিয়ে আছে ফিফার সেই নিয়মেরই ভেতরের মারপ্যাঁচে। ফিফা কিন্তু খেলোয়াড়দের মুখ ঢেকে সাধারণ কথা বলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেনি। নিয়মটিতে বলা হয়েছে—ম্যাচ চলাকালীন কোনো উত্তপ্ত পরিস্থিতি, বাদানুবাদ বা খেলোয়াড়দের মুখোমুখি লড়াইয়ের সময় যদি কেউ মুখ ঢেকে কথা বলেন, তবেই তা লাল কার্ডের যোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

চলতি আসরেই ইংলিশ তারকা জুড বেলিংহামকে ঘানার জর্ডান আইয়ুর সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ ঢাকতে দেখা গেলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত না থাকায় তাকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি।

রবিবার রাতের হাইভোল্টেজ ফাইনালের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কুকুরেয়া মেসির দিকে হেঁটে যান এবং কথা বলার সময় ক্ষণিকের জন্য মুখ স্পর্শ করেন। তিনি ঠিক কী বলেছিলেন তা জানা সম্ভব না হলেও সেখানে দৃশ্যত কোনো বিদ্বেষ বা ঝগড়াঝাঁটির আলামত ছিল না। 

মেসির অভিযোগের পর ভিএআর বা রেফারি ঘটনাটি খতিয়ে দেখলেও কোনো শত্রুভাবাপন্ন আচরণের প্রমাণ পাননি। ফলে নিয়মের সেই সূক্ষ্ম ফাঁক আর ‘বেনিফিট অব দ্য ডাউট’ (সন্দেহের সুবিধা) পেয়ে লাল কার্ডের ফাঁড়া থেকে বেঁচে যান কুকুরেয়া! 
 

মাঝ আকাশে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সঙ্গে স্প্যানিশ পাইলটের চরম রসিকতা

ক্রীড়া ডেস্ক
মাঝ আকাশে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সঙ্গে স্প্যানিশ পাইলটের চরম রসিকতা

মাঝআকাশে হাজার ফুট উঁচুতে বিমান উড়ছে। বিমানে নেই কোনো ইন্টারনেট সংযোগ, বাইরে পৃথিবীর সঙ্গে নেই কোনো যোগাযোগ। অথচ ওই একই সময়ে মর্ত্যের মাটিতে চলছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মহারণ ‘স্পেন বনাম আর্জেন্টিনার’ বিশ্বকাপ ফাইনাল। বিমানের ভেতরে থাকা আর্জেন্টাইন ভক্তদের মনে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে এক নির্মম রসিকতা করে বসলেন বিমানের স্প্যানিশ পাইলট। 

নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালটি তখনো বিমানের যাত্রীদের কাছে এক রহস্য। স্পেনের কাছে হেরে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন ভেস্তে গেলেও বিমানের ভেতরে থাকা মানুষগুলো তা জানতেন না। সুযোগের পুরো সদ্ব্যবহার করলেন স্প্যানিশ পাইলট।

মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে গম্ভীর গলায় ককপিট থেকে ঘোষণা শুরু করেন তিনি, ‘অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত ম্যাচটি ছিল চরম উত্তেজনায় ভরপুর। দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে লড়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, বিশ্বকাপ ফাইনালে কেবল একটি দলই জিততে পারে। আমরা আমাদের আর্জেন্টাইন সঙ্গীদের অভিনন্দন জানাতে চাই...’

পাইলটের এই বাক্য শেষ হওয়ার আগেই বিমানের ভেতরের পরিবেশ বদলে যায়। আর্জেন্টাইন যাত্রীরা ভেবে বসেন, অভিনন্দন যেহেতু তাদের জানানো হচ্ছে, তবে শিরোপা বুঝি তাদেরই! পুরো বিমানে একযোগে শুরু হয় বাঁধভাঙা উল্লাস, হাততালি আর চিৎকার।

কিন্তু তাদের সেই উদযাপনের আয়ু ছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ড! আর্জেন্টাইনদের আগাম উদযাপনের তোপ সামলে পাইলট মাইক্রোফোনে যোগ করলেন বাক্যের আসল শেষ অংশ, ‘...কারণ, স্পেন বিশ্বকাপ জিতেছে!’

এক মুহূর্তেই উল্লাস থেমে গিয়ে যেন স্তব্ধ হয়ে গেল চারপাশ। যাত্রীদের হতভম্ব চেহারা দেখে পাইলট হাসতে হাসতে জানান, তিনি স্রেফ একটু দুষ্টুমি করছিলেন। বাস্তবে স্প্যানিশ দলই শেষ হাসি হেসেছে।

উল্লেখ্য, রবিবারের সেই মহানাটকীয় ফাইনালে শেষ পর্যন্ত স্পেনই বাজিমাত করে। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে চরম চাপে পড়ে ১০ জনের দল আর্জেন্টিনা। সেই সুযোগে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন ফেরান তোরেস, আর ১-০ গোলের ব্যবধানে ট্রফি উঁচিয়ে ধরে স্প্যানিশরা।