• ই-পেপার

ইতিহাসে প্রথমবার র‍্যাংকিংয়ের সেরা চার দল গেল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে

যে নিয়মে লাল কার্ড দেখতে হলো এমবোলোকে

ক্রীড়া ডেস্ক
যে নিয়মে লাল কার্ড দেখতে হলো এমবোলোকে
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপে ফিফার নতুন এক আইন অনুযায়ী দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখতে হয়েছে ব্রিল এমবোলোকে। 'মিসটেইকেন আইডেন্টিটি রুল' অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় যদি একটি ফাউলের জন্য হলুদ বা লাল কার্ড দেখে, কিন্তু ফাউলটি আসলে প্রতিপক্ষের কোনো খেলোয়াড়ের করা হয়ে থাকে, তাহলে ওই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবেন রেফারি।

অর্থাৎ আর্জেন্টিনার পারেদেসকে যদি রেফারি হলুদ কার্ড না দেখাতেন, তাহলে এমবোলোকে মিসটেইকেন আইডেন্টিটি রুল অনুযায়ী হলুদ কার্ড দেখতে হতো না।

এবারের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র আর প্যারাগুয়ের ম্যাচে এই নিয়মের প্রয়োগ দেখা গেছে একবার। ওই ম্যাচে প্যারাগুয়ের মিগেল আলমিরনকে যুক্তরাষ্ট্রের টিম রিম ফাউল করায় প্যারাগুয়ে ফ্রি কিক পায় ও টিম রিমকে দেখতে হয় হলুদ কার্ড।

কিন্তু পরে ভিএআর রিভিউ করে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয় এবং ডাইভ দেয়া বা ফুটবলের পরিভাষায় 'সিমুলেশন' এর অপরাধে উল্টো হলুদ কার্ড দেখেন আলমিরন। টিম রিমের হলুদ কার্ড ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

আর্জেন্টিনার সঙ্গে ম্যাচে এমবোলো যেভাবে ফাউল আদায় করতে ডাইভ দিয়েছেন, সেরকম ক্ষেত্রেও অনেক সময় হলুদ কার্ড দেখিয়ে থাকেন রেফারিরা। তবে ডাইভ দেওয়া বা সিমুলেশনের ক্ষেত্রে সবসময় হলুদ কার্ড দেখাতেই হবে, এমন বাধাধরা নিয়ম নেই।

লাল কার্ড পাওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন এমবোলো

ক্রীড়া ডেস্ক
লাল কার্ড পাওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন এমবোলো
ছবি : রয়টার্স

টাইব্রেকারের শঙ্কা যখন জেঁকে বসেছিল আর্জেন্টাইন শিবিরে, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে এলেন হুলিয়ান আলভারেজ। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে তার চোখধাঁধানো এক গোল এবং ইনজুরি টাইমে লাউতারো মার্তিনেসের লক্ষ্যভেদে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল আলবিসেলেস্তেরা।

যদিও এর আগে ম্যাচে নাটকীয়তা কম হয়নি। ম্যাচের ৭২ মিনিটের দিকে, দুই দল যখন ১-১ এর সমতায়। আর্জেন্টিনার প্রথমার্ধে করা গোলের জবাবে তার কিছুক্ষণ আগেই সুইজারল্যান্ড একটি গোল করে।

গোল করার পর আর্জেন্টিনার ডিফেন্স আর গোলকিপারকে সুইজারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা খানিকটা চাপের ওপরই রাখছিলো সেসময়। এমন সময় আর্জেন্টিনার হাফের মাঝামাঝি অংশের বাম দিকে সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোকে ফাউল করায় আর্জেন্টিনার লেয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।

কিন্তু ওই ট্যাকেল আর হলুদ কার্ডের পর খেলা শুরু হতে কিছুটা দেরি হচ্ছিল, মাত্র হলুদ কার্ড পাওয়া পারেদেসকে দেখা যাচ্ছিল রেফারির সাথে কথা বলতে। মিনিটখানেকের মধ্যে ফিল্ড রেফারি মাঠের পাশে থাকা মনিটরে সিদ্ধান্ত রিভিউ করতে যান।

ফিরে এসে নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং পারেদেসের জায়গায় ব্রিল এমবোলোকে হলুদ কার্ড দেখান। সুইস ফরোয়ার্ডের সেটি ছিল ম্যাচে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড, তাই স্বাভাবিকভাবেই রেফারিকে তার পকেট থেকে লাল কার্ডও বের করতে হয়।

এমব্রোলো লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে যেতে যেতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এরপর ১০ জনের দল সুইজারল্যান্ড শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।

উইম্বলডনের নতুন রানি নোসকোভা

ক্রীড়া ডেস্ক
উইম্বলডনের নতুন রানি নোসকোভা
ছবি : রয়টার্স

পাঁচ-পাঁচটি চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট হাতছাড়া। হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ হঠাৎ করেই ফসকে যাওয়ার উপক্রম। এমন চরম নাটকীয়তা আর স্নায়ুচাপের ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়ালেন লিন্ডা নোসকোভা। নিজের কাছের বন্ধু ও স্বদেশী ক্যারোলিনা মুচোভাকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম হিসেবে উইম্বলডন ট্রফি উঁচিয়ে ধরলেন এই চেক তরুণী।

উইম্বলডনের ইতিহাসে এবারই প্রথম অল-চেক ফাইনাল দেখল টেনিস বিশ্ব। আর সেই ঐতিহাসিক লড়াইয়ে মুচোভাকে ৬-২, ৫-৭, ৬-৩ গেমে হারিয়ে মুকুট পরলেন ২১ বছর বয়সী নোসকোভা।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য নোসকোভার একপেশে আধিপত্য দিয়েই হয়েছিল। প্রথম সেট ৬-২ ব্যবধানে জিতে নেওয়ার পর দ্বিতীয় সেটেও ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন তিনি। জয় যখন কেবল সময়ের ব্যাপার, ঠিক তখনই অবিশ্বাস্যভাবে খেই হারিয়ে ফেলেন নোসকোভা। খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে টানা ৫টি গেম জিতে ম্যাচ নির্ধারণী সেটে নিয়ে যান দশম বাছাই মুচোভা।

তবে চূড়ান্ত সেটে মানসিক দৃঢ়তার অনন্য নজির গড়েন নোসকোভা। নাটকীয়তার ইতি টেনে ৬-৩ গেমে সেট ও ম্যাচ জিতে ইতিহাস গড়েন তিনি।

ম্যাচ শেষে ট্রফি হাতে আবেগাপ্লুত নোসকোভা বলেন, ‘অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। শারীরিক ও মানসিকভাবে ম্যাচটা প্রচণ্ড কঠিন ছিল। শেষ পয়েন্টটি পাওয়া কখনোই সহজ নয়।’

বন্ধু মুচোভাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘তুমি ম্যাচটা আমার জন্য অনেক কঠিন করে তুলেছিলে। আমি আনন্দিত যে আমার প্রথম মেগা ফাইনালটি তোমার সঙ্গে খেলেছি। আমার মনে হয় আজ আমরা ইতিহাস তৈরি করেছি।’

এদিকে শিরোপা জয়ের এই আনন্দের ক্ষণে নোসকোভা স্মরণ করেছেন তার মাকে, যিনি দুই বছর আগে উইম্বলডন শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে মারা যান। গ্যালারিতে থাকা বাবাকে ধন্যবাদ জানিয়ে কেঁদে ফেলেন নোসকোভা। এরপর আকাশের দিকে চুমু ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘আরেকজন মানুষকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি আমার মা। মা ছাড়া আজ আমি এই অবস্থানে আসতে পারতাম না।’

সেমিফাইনালে কাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেল আর্জেন্টিনা, খেলা কবে কখন

ক্রীড়া ডেস্ক
সেমিফাইনালে কাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেল আর্জেন্টিনা, খেলা কবে কখন
ছবি : রয়টার্স

কানসাসে কানায় কানায় পূর্ণ স্টেডিয়ামে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ১০ জনের লড়াকু সুইসদের অতিরিক্ত সময়ে আর কোনো সুযোগ দেয়নি লিওনেল মেসির দল। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তের জোড়া আঘাতে ৩-১ ব্যবধানের দুর্দান্ত জয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে আলবিসেলেস্তেরা। এই জয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে শেষ চারে পা রাখল তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পেরিয়ে শেষ চারে আর্জেন্টিনার সামনে এবার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা দল ইংল্যান্ড। আগামী ১৬ জুলাই আটলান্টায়, বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ফাইনালে ওঠার হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে এই দুই পরাশক্তি। এর আগের রাতে প্রথম সেমিফাইনালে লড়বে ফ্রান্স ও স্পেন। ইংলিশদের জন্য এই ম্যাচটি রূপকথার মতো; মেসিদের হারাতে পারলে দীর্ঘ ৬০ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার গৌরব অর্জন করবে হ্যারি কেইনরা।

এবারের বিশ্বকাপে তুলনামূলক সহজ দলের বিপক্ষে খেলে এতদূর আসলেও আর্জেন্টিনার যাত্রাটা মোটেও সহজ ছিল না। গ্রুপ পর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে পা রাখলেও প্রতিটি ম্যাচেই দিতে হয়েছে কঠিন পরীক্ষা।

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড অবশ্য আগেই নিজেদের টিকিট নিশ্চিত করে রেখেছিল। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি আধুনিক ফুটবলের জনক ইংলিশরা। দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যবধানের জয় তুলে নিয়ে সেমির মঞ্চে পা রাখে তারা। এবার ফাইনালে যাওয়ার মহালড়াইয়ে হ্যারি কেইনদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে আলবিসেলেস্তেদের। মাঠের এই ঐতিহাসিক লড়াই দেখতে এখন মুখিয়ে আছে গোটা ফুটবল বিশ্ব।