• ই-পেপার

নাহিদের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে বাংলাদেশকে মামুলি লক্ষ্য দিল জিম্বাবুয়ে

রোনালদোকে নিয়ে সাবধানী স্পেন কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
রোনালদোকে নিয়ে সাবধানী স্পেন কোচ
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো-লাম ইয়ামালরা। ম্যাচকে সামনে রেখে উভয় দলের কোচই সতর্ক। উভয় দলের তারকা খেলোয়াড়দের সমীহ করে দলের কৌশল সাজাচ্ছেন কোচরা। তাই বিশ্বকাপে তেমন জ্বলে না উঠলেও মুহূর্তেই ব‍্যবধান গড়ে দেওয়ার সামর্থ‍্য থাকায় পর্তুগিজ মহাতারকার ব‍্যাপারে দলকে সাবধান করে দিয়েছেন স্পেন কোচ দে লা ফুয়েন্তে।  

ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে রোনালদোকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি। খবর ডিয়ারিও এএস

দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমি ক্রিশ্চিয়ানোর অনেক বড় ভক্ত। দৃঢ়সংকল্প, অক্লান্ত, অনুকরণীয় এক আদর্শ সে। ফুটবলার হিসেবে প্রতিটা পরিস্থিতিতেই তাকে নিয়ে আমাদের সাবধান থাকতে হবে। সে মুহূর্তেই ব‍্যবধান গড়ে দিতে পারে। আমরা ম‍্যান টু ম‍্যান মার্কিং করব না। তবে কিছু জায়গায় সে থাকলে আমাদের সাবধান থাকতে হবে।’

সে না খেললে আমার ভালো লাগত। তবে সে খেলবে। আমরা মাঠে ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের একজনকে দেখব বলে যোগ করেন এই স্প্যানিশ কোচ।

রোনালদোকে সামাল দেওয়ার দায়িত্ব পড়তে পারে স্পেনের তরুণ সেন্টার ব‍্যাক পাউ কুবার্সির কাঁধে। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিলেও রোনালদোর মতো একজনকে কী তিনি সত‍্যিই সামাল দিতে পারবেন? এমন প্রশ্ন উঠাই স্বাভাবিক। এতে স্পেন কোচের সাফ জবাব, এমেরিক লাপোর্তেকে নিয়ে ঠিকই পারবেন কুবার্সি।

ফুয়েন্তে আরো বলেন, ‘আপনি রোনালদোর বিপক্ষে কখনো অসাবধান হতে পারবেন না। যেমনটা লামিন (ইয়ামাল) কিংবা (মিকেল) ওয়াইরসাবালের ক্ষেত্রে। তবে নিজের খেলোয়াড়দের ওপর আমার আস্থা আছে। পাউ ও লাপোর্তে দুইজনই দারুণ দৃঢ়তা দেখিয়েছে। ওরা ব‍্যতিক্রমী এবং যেকোনো প্রতিপক্ষকে সামাল দিতে পারে। আমি মনে করি, ওরা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে।’

শেষ ষোলোর ম‍্যাচে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ১টায় (এএম) পর্তুগালের মুখোমুখি হবে স্পেন।

আটলান্টায় পৌঁছেছেন স্কালোনির শিষ্যরা

ক্রীড়া ডেস্ক
আটলান্টায় পৌঁছেছেন স্কালোনির শিষ্যরা
আটলান্টায় আর্জেন্টিনা জাতীয় দল। ছবি : ক্লারিন

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় রাউন্ড ১৬-তে মিসরের মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ইতিমধ্যে দলটি আটলান্টায় পৌঁছে গেছে। ম্যাচটি আগামী মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে হোটেলে বিশ্রাম, ক্লোজ-ডোর অনুশীলনে সময় কেটে যাবে আলবিসেলেস্তেদের। এর মাঝে চূড়ান্ত একাদশ সাজিয়ে ফেলবেন প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। 

আটলান্টায় মেসি বাহিনীর পৌঁছতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে বৈরী আবহাওয়ার জন্য। তীব্র ঝোড়ো বৃষ্টিতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় লেগেছে শহরটিতে পৌঁছাতে।

এর আগে আলবিসেলেস্তেদের হোটেলের সামনে মেসি-আলভারেজদের এক পলক দেখতে ভিড় করে ভক্ত-সমর্থকরা। হোটেলে পৌঁছানোর একটি ভিডিও আর্জেন্টিনার ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ‘ডায়ারিও ওলে’র সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করেছে।

এতেও উল্লেখ করা হয় বৈরি আবহাওয়ায় দেরিতে পৌঁছানোর কথা। প্রকাশিত ভিডিতে দেখা যায়, বাস থেকে একে এক নামছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা। এ সময় নিরাপত্তা বেষ্টনীর ওপাশে ভক্তরা পতাকা ও হাত নেড়ে গানের তালে প্রিয় দলের খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিচ্ছেলেন। 

আগামীকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় রাউন্ড ১৬-এর নকআউট ম্যাচে মিসরের মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

মিসর ম্যাচের আগে নয়া কৌশল আঁকতে পারে স্কালোনি

ক্রীড়া ডেস্ক
মিসর ম্যাচের আগে নয়া কৌশল আঁকতে পারে স্কালোনি
ছবি : পুনতাল

বিশ্বকাপে অপ্রতিরোধ্য আর্জেন্টিনাকে কেপ ভার্দের বিপক্ষে জয়ে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। কঠিন লড়াই পেরিয়ে রাউন্ড অব ১৬-তে এ জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল মেসির দল। তবে ম্যাচে যথেষ্ট ভুগতে হয়েছে আলবেসিলেস্তাদের। এই ম্যাচে দুই জায়গার দুর্বলতা একবারে চোখে পড়ার মতো। তাই  মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বেশ কিছু বদল আনতে চলেছেন প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। 

টানা দ্বিতীয় শিরোপায় চোখ রেখে বিশ্বকাপে পা রাখে আর্জেন্টিনা। শুরুটাও তেমনই ছিল। তবে রাউন্ড অব ৩২-এ কেপভার্দে কিছু দুর্বলতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। তাই পরের ম্যাচে মিসরকে হারিয়ে শক্তি সঞ্চয় করতে হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। তাই শক্তি সঞ্চয়ে কৌশলে আনতে পারে কিছু পরিবর্তন। 

এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে বেশির ভাগ ম্যাচেই লেফট উইং থেকে শুরু করেছেন থিয়াগো আলমাদা। তবে আফ্রিকা দেশটির বিপক্ষে ম্যাচে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি এই ফুটবলার। বরং পরিবর্তিত হিসেবে মাঠে নেমে মন জয় করে নিয়েছিলেন নিকো গঞ্জালেস। মনে করা হচ্ছে মিশরের ম্যাচে তাঁকেই সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার লেফট উইং-ব্যাক পজিশনে আসতে চলেছে বদল। 

জানা যায়, আর্জেন্টিনার হয়ে পরবর্তী ম্যাচে এই পজিশনে খেলানো হতে পারে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে। এর পাশাপাশি মধ্য মাঠের ভরসা রড্রিগো দে পল কিছুতেই বল পায়ে কাজ করতে পারছেন না। মনে করা হচ্ছে আগামী ম্যাচে এই ফুটবলারকে বসিয়ে দিয়ে মাঠে নামানো হতে পারে লিয়ান্দ্রো পারাদেসকে।

উল্লেখ্য, মাত্র ৫ লক্ষ জনসংখ্যার একটা ছোট্ট দেশের সামনে গত ম্যাচে আর্জেন্টিনার রক্ষণের যা অবস্থা হয়েছিল। তা যথেষ্ট চিন্তায় রেখেছে প্রধান কোচ স্কালোনিকে। এদিন যেভাবে আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলকে অতিরিক্ত মিটিটে নিয়ে যেতে বাধ্য করেছিল কেপ বাহিনী। যা বিশ্বকাপের পরবর্তী পর্যায়ে শক্তিশালী দলের সামনে বেশ সমস্যায় পড়তে পারে আর্জেন্টিনা।

দুনিয়া মাতানো ফুটবল বিশ্বকাপ

এক শহরে সংযোগ দুই মহাদেশের

রানা শেখ
এক শহরে সংযোগ দুই মহাদেশের
ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে ম্যাচে এমন দৃশ্য বহুবার দেখা গেছে। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ এলেই বদলে যায় ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উত্তর-পূর্বের লা শাপেল নামের এলাকার পরিবেশ। রাস্তায়, দোকানে, ছোট ছোট চায়ের আড্ডা—সবখানেই আলোচনার দখল নিয়ে ফেলে ফুটবল।

এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে অন্যান্যবারের চেয়ে আয়োজন একটু আলাদাই। আগে কেবল একটি বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হতো। এবার পাশাপাশি দুটি বড় পর্দায় খেলা দেখতে পারছে ফুটবলপ্রেমীরা।

তাও আবার ভিন্ন দুটি খেলা। বিশেষ করে ফ্রান্স ও আফ্রিকার কোনো দেশের  খেলা একই সময়ে হলে দুই বড় পর্দায় দেখানো হয় দুটি খেলাই। সেদিন যেমন এক পর্দায় চলছিল গ্রুপ পর্বের ফ্রান্স-নরওয়ে ম্যাচ, অন্যটিতে সেনেগাল বনাম ইরাকের লড়াই। দুই ম্যাচ একসঙ্গে চললেও মনোযোগে কোনো কমতি ছিল না দর্শকদের।

এ রকম সহাবস্থানের কারণ শুধুই ফুটবল নয়। ওই এলাকার মানুষের শিকড়ও তো দুই মহাদেশেই গাঁথা। এবার সেনেগালের হয়ে খেলেছেন এমন একাধিক ফুটবলার, যাদের জন্ম ফ্রান্সে। আবার ফ্রান্সের হয়ে খেলছেন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত অনেক খেলোয়াড়। ফলে লা শাপেলে পাশাপাশি দুই বড় পর্দায় ফ্রান্স ও সেনেগালের খেলা দেখাটা সেখানকার মানুষের জন্য এক ধরনের আত্মিক সংযোগও।

এমন মিশ্র আবেগের দৃশ্য এর আগেও দেখা গেছে। গত জানুয়ারিতে সেনেগাল আফ্রিকান কাপ অব নেশনস জেতার পর লা শাপেলের রাস্তায়ও নেমেছিল উৎসব। যদিও পরে মাঠে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে সেনেগালের শিরোপা কেড়ে নিয়ে মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে আফ্রিকার ফুটবল সংস্থা। আবার ফ্রান্সের সাফল্যও সমান উচ্ছ্বাসে পালিত হয়  সেখানে।

পাঁচ মাস পর বিশ্বকাপের আরেক রাতে একই চিত্র। একদিকে উসমান দেম্বেলের হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে পাপা গেয়ির জোড়া গোল। দুই ম্যাচেই উল্লাস, দুই দলেই আনন্দ। এখানে জয় কোনো এক দেশের একার থাকে না।

এই বাস্তবতার বড় কারণ, ফ্রান্সের অভিবাসন কাঠামো। ফ্রান্সে দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বাভাবিক বিষয়। ফলে একজন  খেলোয়াড় এক দেশে জন্মালেও অন্য দেশের হয়ে খেলতে পারেন। কারো জন্ম প্যারিসে, কিন্তু তার শিকড় সেনেগালে। কারো জন্ম নরম্যান্ডিতে, কিন্তু হৃদয় আলজেরিয়ায়। এই কারণেই সেনেগাল দলে যেমন ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় আছেন, তেমনি ফ্রান্স দলে রয়েছেন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত তারকারা। যে তালিকায় এমবাপ্পে,  দেম্বেলে, চুয়ামেনি ও উপামেকানোর মতো বড় বড় নাম।

এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া ফুটবলারই খেলছেন সবচেয়ে বেশি। কতজন জানেন? ৯৯ জন! দ্বিতীয় স্থানে আছে নেদারল্যান্ডস, যেখানে জন্ম নেওয়া ৬৭ জন ফুটবলার খেলছেন চলতি বিশ্ব আসরে। জার্মানিতে জন্ম  নেওয়া ৫০ জন এবং ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ৪৭ জন ফুটবলার রয়েছেন। কিন্তু সবাইকে ছাপিয়ে শীর্ষে ফ্রান্স, যেন ফরাসি স্রোতধারা চলছে বিশ্বকাপে। ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া ৯৯ জনের মধ্যে ২৩ জনই ফ্রান্স দলে খেলছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আলজেরিয়া, তাদের ১৩ জন ফুটবলারের জন্ম ফ্রান্সে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম লুকা জিদান, ফরাসি কিংবদন্তি ফুটবলার জিনেদিন জিদানের ছেলে। জিদানের জন্ম আলজেরিয়ায় হলেও তিনি ফ্রান্সের হয়ে খেলেছেন। আর তার ছেলে জন্মেছেন ফ্রান্সে, কিন্তু  খেলছেন আলজেরিয়ার হয়ে।

এ ছাড়া হাইতিতে ১২ জন, কঙ্গোতে ১১ জন, সেনেগালে ১০ জন, আইভরি কোস্টে আটজন, তিউনিশিয়ায় সাতজন, মরক্কোয় ছয়জন, কেপ ভার্দে ও ঘানায় তিনজন করে এবং মিসর, কাতার ও স্পেন দলে একজন করে আছেন, যারা ফ্রান্সে জন্মেছেন।

এর পেছনেও আছে ইতিহাস। আফ্রিকার বহু দেশ একসময় ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল। সেই সম্পর্ক আজও সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনযাত্রায় গভীরভাবে রয়ে গেছে। তাই অভিবাসন শুধু ভৌগোলিক নয়, এটি পরিচয়েরও প্রশ্ন।

প্যারিস এখন সেই পরিচয়ের কেন্দ্র। একসময় ব্রাজিলের সাও পাওলো বা আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসকে ফুটবলার তৈরির কারখানা বলা হতো। এখন সেই সরবরাহ ব্যবস্থায় উঠে এসেছে প্যারিসের নামও। শহরের চারপাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ক্লাব ও একাডেমি। হাজারো তরুণ প্রতিদিন সেখানে ফুটবল শেখে। তাদের বড় অংশই অভিবাসী পরিবারের সন্তান। কেউ ফ্রান্সকে বেছে নেয়, কেউ ফিরে যায় নিজের শিকড়ে।

এই দ্বৈত পরিচয়ই তৈরি করেছে নতুন ফুটবল বাস্তবতা, যেখানে একই শহরে জন্ম নেওয়া দুই খেলোয়াড় খেলছেন দুই দেশের হয়ে। আর লা শাপেলের মতো এলাকায় সেই দ্বৈততা কোনো বিভাজন নয়, বরং উদযাপনের অংশ।

এখানেই একসঙ্গে উল্লাস হয় ফ্রান্স কিংবা আফ্রিকার কোনো দেশ গোল করলে। ফুটবল এখানে শুধু খেলা নয়, এটি পরিচয়, ইতিহাস আর সংস্কৃতির মিশ্রণও। একই শহরে দুই মহাদেশের আত্মার সংযোগের দারুণ উদাহরণ লা শাপেলের চেয়ে ভালো আর কোনটি!