বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের মহানাটকীয়তার মাঝেই নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিল ফিফা। বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর বাঁচা-মরার লড়াইয়ের আগে মাঠের খেলা ছাপিয়ে এখন আলোচনায় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত।
আর এই নাটকের নেপথ্যে সরাসরি জড়িয়ে গেলেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এক ফোন কলেই যেন ‘ম্যাজিক’ দেখাল ফিফা! বসনিয়ার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে নিষিদ্ধ হওয়া মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত থেকে অবিশ্বাস্যভাবে সরে এসেছে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সংস্থা।
নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার বালোগনকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে ফিফা, যা একদমই মানতে পারছেন না রুডি গার্সিয়া। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থার এমন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন বেলজিয়াম কোচ। তার মতে, ফুটবলের চেতনার পরিপন্থী কাজ করেছে ফিফা।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মঙ্গলবার ৬টায় (এএম) যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম। নিষেধাজ্ঞার কারণে ম্যাচটিতে খেলার কথা ছিল না বালোগনের। কিন্তু রোববার সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে ফিফা। তাই এখন খেলতে বাধা নেই যুক্তরাষ্ট্রের এই ফুটবলারের।
ম্যাচের সংবাদ সম্মেলনে গার্সিয়া বলেন, ‘সবাইকে বোকা বানিয়েছে ফিফা। আমি জানতাম না যে, ফিফা বিশ্বকাপে এখন ৫ জুলাইকে ১ এপ্রিল মনে করা হয়, আর এটা এপ্রিল ফুল’স ডে (বোকা বানানোর দিন)।’
রয়্যাল বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসসিয়েশন (আরবিএফএ) ফিফার এমন সিদ্ধান্তে ‘হতবাক।’ বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘সব ধরনের সম্ভাব্য বিকল্প খতিয়ে দেখছে।’
গার্সিয়ার আরো বলেন, ফুটবলকে রক্ষা করতে হবে, কোনো দেশ কিংবা ফেডারেশনকে নয়। আমরা কোনো জাতীয় দল বা ফেডারেশনক রক্ষা করছি না, আমরা ফুটবলকে এবং এই খেলার নৈতিকতা ও সততাকে রক্ষা করছি।’
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই নিয়ে স্রেফ দ্বিতীয়বারের মতো টুর্নামেন্টের মাঝপথে কোনো খেলোয়াড়ের ‘নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার’ ঘটনা ঘটল। প্রথমটি ঘটেছিল ছয় দশকের বেশি সময় আগে। ১৯৬২ বিশকাপের সেমি-ফাইনালে চিলির এক খেলোয়াড়কে লাথি মেরে লাল কার্ড দেখেন ব্রাজিলের গারিঞ্চা।




