• ই-পেপার

মিসর ম্যাচের আগে নয়া কৌশল আঁকতে পারে স্কালোনি

আটলান্টায় পৌঁছেছে স্কালোনির শিষ্যরা

ক্রীড়া ডেস্ক
আটলান্টায় পৌঁছেছে স্কালোনির শিষ্যরা
আটলান্টায় আর্জেন্টিনা জাতীয় দল। ছবি: ক্লারিন

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় রাউন্ড ১৬ তে মিসরের মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ইতিমধ্যে দলটি আটলান্টায় পৌঁছে গেছে। ম্যাচটি আগামী মঙ্গলবার দুপুরে ১২ টায় অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে হোটেলে বিশ্রাম,ক্লোজ-ডোর অনুশীলনে সময় কেটে যাবে আলবিসেলেস্তেদের। এর মাঝে চূড়ান্ত একাদশ সাজিয়ে ফেলবেন প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। 

আটলান্টায় মেসিবাহিনীর পৌঁছতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে বৈরি আবহাওয়ার জন্য। তীব্র ঝোড়ো বৃষ্টিতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় লেগেছে শহরটিতে পৌঁছাতে।

এর আগে আলবিসেলেস্তেদের হোটেলের সামনে মেসি-আলভারেজদের এক পলক দেখতে ভীড় করে ভক্ত-সমর্থকরা। হোটেলে পৌঁছানোর একটি ভিডিও আর্জেন্টিনার ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম 'ডায়ারিও ওলে'র স্যোশাল প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করেছে।

এতেও উল্লেখ করা হয় বৈরি আবহাওয়ায় দেরিতে পৌঁছানোর কথা। প্রকাশিত ভিডিতে দেখা যায়, বাস থেকে একে এক নামছে আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা। এসময় নিরাপত্তা বেস্টনির ওপাশে ভক্তরা পতাকা ও হাতনেড়ে গানের তালে প্রিয় দলের খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিচ্ছেলেন। 

আগামীকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০ টায় রাউন্ড ১৬ এর নকআউন ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

নাহিদের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে বাংলাদেশকে মামুলি লক্ষ্য দিল জিম্বাবুয়ে

ক্রীড়া ডেস্ক
নাহিদের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে বাংলাদেশকে মামুলি লক্ষ্য দিল জিম্বাবুয়ে
ছবি : ক্রিকইনফো

তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ। নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদের বোলিং তোপে দেড় শ রানের নিচেই অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। এ সময় নাহিদ রানা ২১ রান খরচায় ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেট তুলে নেন। 

হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাটিংয়ে নেমে জিম্বাবুয়ে ৩৭ ওভারে ১৪১ রানে গুটিয়ে যায়। এতে জয়ের জন্য ১৪২ রানের মামুলি লক্ষ্য পেল সফরকারীরা।

আর্দ্র উইকেটে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল, তা প্রমাণ করেছেন দুই দেশসেরা পেসার।

ম্যাচের শুরুতে জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও বেন কারান দেখেশুনে শুরু করেন। ৬ ওভারে দলীয় ৩৬ স্কোরবোর্ডে যোগ করেন তারা। পরের ওভারে ঝুঁকিপূর্ণ সিঙ্গেল নিতে গিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে রান আউট হন কারান। একই ওভারে মোসাদ্দেককে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন একবার জীবন পাওয়া বেনেট।

৭ ওভারে শেষে জিম্বাবুয়ের রান ২ উইকেটে ৩৬। ক্রিজে দুই নতুন ব‍্যাটসম‍্যান ইনোসেন্ট কাইয়া ও ক্রেইগ আরভিন। প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে ওঠার আগে আবারও তাসকিনের আঘাত। রানের খাতা খোলার আগে সাজঘরে ফেরেন আরভাইন। 

অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজাকে দ্রুত ফেরান নাহিদ রানা। ১২ বলে ১ রান করেন রাজা। দ্রুত চার উইকেট হারিয়ে বিপদে স্বাগতিকরা।

পরের ওভারেই ওয়েসলি মাধেভেরে উইকেট তুলে নেন নাহিদ রানা। ১০ বল খেলে রানের দেখা পাননি এই ব্যাটার। এরপর আর কেউ থিতু হতে পারেনি ক্রিজে। ক্লাইভ মাদান্দে (২ রান) ও ব্র্যাড ইভান্সকে (৩ রান) ফিরেই ৫ম উইকেট তুলে নেন এই বাংলাদেশি পেসার। 

১৪ ওয়ানডের ছোট্ট ক‍্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট নিলেন নাহিদ রানা। ২০ ওভারেই ৭০ রান তুলতেই ৮ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে রিচার্ড এনগারাভারা।

তবে শেষমেশ দলীয় শত রানের আগে অলআউট হওয়ার লজ্জা থেকে বাঁচায় লেয়ার অর্ডার নামা নিয়ামহুরি ও অধিনায়ক এনগারাভা। ৭০ বলে অর্ধশতকের জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেন তারা। দুজন মিলে গড়েন ৬৩ রানের জুটি।

তবে সেই জুটিও ভাঙেন নাহিদ রানা।  ৪১ বলে ২৭ রান করে আউট হন এনগারভা। এরপর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। দলীয় সর্বোচ্চ ৩৩ রান করে মিরাজের বলে ফেরেন নিয়ামহুরি। স্বাগতিকরা অলআউট হয় ১৪১ রানে। ফলে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৪২ রানের। 

বাংলাদেশের হয়ে ২১ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৬ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ রানা। এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট নিয়েছেন এই টাইগার পেসার। এ ছাড়া ২টি উইকেট নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ।

দুনিয়া মাতানো ফুটবল বিশ্বকাপ

এক শহরে সংযোগ দুই মহাদেশের

রানা শেখ
এক শহরে সংযোগ দুই মহাদেশের
ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে ম্যাচে এমন দৃশ্য বহুবার দেখা গেছে। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ এলেই বদলে যায় ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উত্তর-পূর্বের লা শাপেল নামের এলাকার পরিবেশ। রাস্তায়, দোকানে, ছোট ছোট চায়ের আড্ডা—সবখানেই আলোচনার দখল নিয়ে ফেলে ফুটবল।

এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে অন্যান্যবারের চেয়ে আয়োজন একটু আলাদাই। আগে কেবল একটি বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হতো। এবার পাশাপাশি দুটি বড় পর্দায় খেলা দেখতে পারছে ফুটবলপ্রেমীরা।

তাও আবার ভিন্ন দুটি খেলা। বিশেষ করে ফ্রান্স ও আফ্রিকার কোনো দেশের  খেলা একই সময়ে হলে দুই বড় পর্দায় দেখানো হয় দুটি খেলাই। সেদিন যেমন এক পর্দায় চলছিল গ্রুপ পর্বের ফ্রান্স-নরওয়ে ম্যাচ, অন্যটিতে সেনেগাল বনাম ইরাকের লড়াই। দুই ম্যাচ একসঙ্গে চললেও মনোযোগে কোনো কমতি ছিল না দর্শকদের।

এ রকম সহাবস্থানের কারণ শুধুই ফুটবল নয়। ওই এলাকার মানুষের শিকড়ও তো দুই মহাদেশেই গাঁথা। এবার সেনেগালের হয়ে খেলেছেন এমন একাধিক ফুটবলার, যাদের জন্ম ফ্রান্সে। আবার ফ্রান্সের হয়ে খেলছেন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত অনেক খেলোয়াড়। ফলে লা শাপেলে পাশাপাশি দুই বড় পর্দায় ফ্রান্স ও সেনেগালের খেলা দেখাটা সেখানকার মানুষের জন্য এক ধরনের আত্মিক সংযোগও।

এমন মিশ্র আবেগের দৃশ্য এর আগেও দেখা গেছে। গত জানুয়ারিতে সেনেগাল আফ্রিকান কাপ অব নেশনস জেতার পর লা শাপেলের রাস্তায়ও নেমেছিল উৎসব। যদিও পরে মাঠে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে সেনেগালের শিরোপা কেড়ে নিয়ে মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে আফ্রিকার ফুটবল সংস্থা। আবার ফ্রান্সের সাফল্যও সমান উচ্ছ্বাসে পালিত হয়  সেখানে।

পাঁচ মাস পর বিশ্বকাপের আরেক রাতে একই চিত্র। একদিকে উসমান দেম্বেলের হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে পাপা গেয়ির জোড়া গোল। দুই ম্যাচেই উল্লাস, দুই দলেই আনন্দ। এখানে জয় কোনো এক দেশের একার থাকে না।

এই বাস্তবতার বড় কারণ, ফ্রান্সের অভিবাসন কাঠামো। ফ্রান্সে দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বাভাবিক বিষয়। ফলে একজন  খেলোয়াড় এক দেশে জন্মালেও অন্য দেশের হয়ে খেলতে পারেন। কারো জন্ম প্যারিসে, কিন্তু তার শিকড় সেনেগালে। কারো জন্ম নরম্যান্ডিতে, কিন্তু হৃদয় আলজেরিয়ায়। এই কারণেই সেনেগাল দলে যেমন ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় আছেন, তেমনি ফ্রান্স দলে রয়েছেন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত তারকারা। যে তালিকায় এমবাপ্পে,  দেম্বেলে, চুয়ামেনি ও উপামেকানোর মতো বড় বড় নাম।

এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া ফুটবলারই খেলছেন সবচেয়ে বেশি। কতজন জানেন? ৯৯ জন! দ্বিতীয় স্থানে আছে নেদারল্যান্ডস, যেখানে জন্ম নেওয়া ৬৭ জন ফুটবলার খেলছেন চলতি বিশ্ব আসরে। জার্মানিতে জন্ম  নেওয়া ৫০ জন এবং ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ৪৭ জন ফুটবলার রয়েছেন। কিন্তু সবাইকে ছাপিয়ে শীর্ষে ফ্রান্স, যেন ফরাসি স্রোতধারা চলছে বিশ্বকাপে। ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া ৯৯ জনের মধ্যে ২৩ জনই ফ্রান্স দলে খেলছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আলজেরিয়া, তাদের ১৩ জন ফুটবলারের জন্ম ফ্রান্সে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম লুকা জিদান, ফরাসি কিংবদন্তি ফুটবলার জিনেদিন জিদানের ছেলে। জিদানের জন্ম আলজেরিয়ায় হলেও তিনি ফ্রান্সের হয়ে খেলেছেন। আর তার ছেলে জন্মেছেন ফ্রান্সে, কিন্তু  খেলছেন আলজেরিয়ার হয়ে।

এ ছাড়া হাইতিতে ১২ জন, কঙ্গোতে ১১ জন, সেনেগালে ১০ জন, আইভরি কোস্টে আটজন, তিউনিশিয়ায় সাতজন, মরক্কোয় ছয়জন, কেপ ভার্দে ও ঘানায় তিনজন করে এবং মিসর, কাতার ও স্পেন দলে একজন করে আছেন, যারা ফ্রান্সে জন্মেছেন।

এর পেছনেও আছে ইতিহাস। আফ্রিকার বহু দেশ একসময় ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল। সেই সম্পর্ক আজও সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনযাত্রায় গভীরভাবে রয়ে গেছে। তাই অভিবাসন শুধু ভৌগোলিক নয়, এটি পরিচয়েরও প্রশ্ন।

প্যারিস এখন সেই পরিচয়ের কেন্দ্র। একসময় ব্রাজিলের সাও পাওলো বা আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসকে ফুটবলার তৈরির কারখানা বলা হতো। এখন সেই সরবরাহ ব্যবস্থায় উঠে এসেছে প্যারিসের নামও। শহরের চারপাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ক্লাব ও একাডেমি। হাজারো তরুণ প্রতিদিন সেখানে ফুটবল শেখে। তাদের বড় অংশই অভিবাসী পরিবারের সন্তান। কেউ ফ্রান্সকে বেছে নেয়, কেউ ফিরে যায় নিজের শিকড়ে।

এই দ্বৈত পরিচয়ই তৈরি করেছে নতুন ফুটবল বাস্তবতা, যেখানে একই শহরে জন্ম নেওয়া দুই খেলোয়াড় খেলছেন দুই দেশের হয়ে। আর লা শাপেলের মতো এলাকায় সেই দ্বৈততা কোনো বিভাজন নয়, বরং উদযাপনের অংশ।

এখানেই একসঙ্গে উল্লাস হয় ফ্রান্স কিংবা আফ্রিকার কোনো দেশ গোল করলে। ফুটবল এখানে শুধু খেলা নয়, এটি পরিচয়, ইতিহাস আর সংস্কৃতির মিশ্রণও। একই শহরে দুই মহাদেশের আত্মার সংযোগের দারুণ উদাহরণ লা শাপেলের চেয়ে ভালো আর কোনটি!

বেলজিয়ামের বিপক্ষে ইতিহাস ফেরানোর লড়াই যুক্তরাষ্ট্রের

ক্রীড়া প্রতিবেদক
বেলজিয়ামের বিপক্ষে ইতিহাস ফেরানোর লড়াই যুক্তরাষ্ট্রের
দুই দলের দুই বড় তারকা পুলিসিচ-লুকাকু। ছবি : রয়টার্স

ইতিহাস বারবারই ফিরে আসে, যেমনটি এবার সেই সুযোগ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ঘরের মাঠে এই মর্যাদার আসর আয়োজনের সুযোগটা বেশ কাজেই লাগাতে পেরেছে তারা।

এখন পর্যন্ত শতভাগ জয় নিয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছে দলটি। সিয়াটল স্টেডিয়ামে বেলজিয়ামকে হারাতে পারলেই ৯৬ বছর আগের ইতিহাস ফিরবে। কারণ ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে সেই যে বেলজিয়ামকে হারিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, আর কখনোই কোনো মঞ্চে সেই স্বাদ পায়নি। তাই বেলজিয়াম গত বিশ্বকাপের হতাশা ভুলে এবার স্বাগতিকদের হারিয়ে শেষ আটে উঠতে আত্মবিশ্বাসী।

বেলজিয়ামের বিপক্ষে ইতিহাস ফেরানোর লড়াই যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৮ সালে তৃতীয় হওয়া বেলজিয়াম গতবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। এবারও গ্রুপ পর্বে মিসরের বিপক্ষে ১-১ ও ইরানের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর তাদের ওপর থেকে সবার নজর সরে যায়। তবে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত দেয় রেড ডেভিলরা। অভিজ্ঞ রোমেলু লুকাকু সেই ম্যাচের শেষ দিকে বদলি নেমেই গোল করেন।

ফিট না থাকার পরও তাঁকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নিয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন কোচ রুদি গার্সিয়া। কিন্তু তিনি দেখিয়েছেন অভিজ্ঞতার কী মূল্য। শেষ বত্রিশে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে সেনেগালের কাছে যখন দল হারের মুখে, তখনই ৮৬ মিনিটে গোল করেন লুকাকু। সেটি টনিকের মতো কাজ করেছে দলের সবাইকে উজ্জীবিত করতে। অধিনায়ক তিয়েলেমানসও জোড়া গোল করে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ে।

সেই ম্যাচ থেকে পাওয়া স্নায়ুচাপ নিয়ন্ত্রণের শিক্ষাটাই রেড ডেভিলদের আরো এগিয়ে যেতে সহায়ক হবে। তবে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা তরুণ ফরোয়ার্ড জেরেমি ডোকুকে নিয়ে। এখন পর্যন্ত খুব বেশি ম্যাচটাইম পাননি এই প্রতিভাবান তরুণ। এ জন্য অনেকেই বলছেন, তাকে আরো বেশি ব্যবহার করা সম্ভব হলে বেলজিয়ামের আক্রমণের ধার বাড়বে।

সব শেষ চলতি বছর মার্চে হওয়া সাক্ষাতে বেলজিয়াম ৫-২ গোলে যুক্তরাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করে। সব মিলিয়ে সাতবারের সাক্ষাতে যুক্তরাষ্ট্রের জয় সাকুল্যে সেই ৯৬ বছর আগের বিশ্বকাপে, বাকিগুলোতে জিতেছে বেলজিয়ামই। তবে সেবার নিজেদের সেরা সাফল্য হিসেবে সেমিফাইনাল খেলে যুক্তরাষ্ট্র। তারপর ২০০২ সালে শুধু শেষ আটে খেলেছে। এবার তাদের মোক্ষম সুযোগ আবার শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরোনোর। কারণ এখন পর্যন্ত চার ম্যাচেই জিতেছে তারা। গ্রুপ পর্বে প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্ককে এবং শেষ বত্রিশে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে উড়িয়েছে তারা। তবে সেই ম্যাচে দলের অন্যতম সুযোগসন্ধানী গোলদাতা ফোলারিন বালোগান লাল কার্ড দেখেছেন। তাই বেলজিয়ামের বিপক্ষে আসরে তিন গোল করা এই তারকাকে ছাড়াই নামতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। তার ঘাটতি পূরণই বড় চ্যালেঞ্জ হবে তাদের জন্য। তবে সেবাস্তিয়ান বারহল্টার, রিকার্ডো পেপি ও জিওভান্নি রেইনারা কোচ মরিসিও পচেত্তিনোর আশা বাঁচিয়ে রাখছেন ভালো কিছু করার ক্ষেত্রে।