• ই-পেপার

তিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলবেন কেইনরা

ফ্রান্স-প্যারাগুয়ের বিতর্কে ভরা ম্যাচ দেখল ফুটবল বিশ্ব

ক্রীড়া ডেস্ক
ফ্রান্স-প্যারাগুয়ের বিতর্কে ভরা ম্যাচ দেখল ফুটবল বিশ্ব

বিশ্বকাপে ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে ম্যাচে জোর বিতর্ক। একের পর এক ফাউল, বাজে ট্যাকল, উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, সংঘর্ষ, এমনকী হাতাহাতি। শেষ ষোলোর ম্যাচে ফুটবলে যতটা না শিরোনামে আসছে তারচেয়েও বেশি শিরোনামে বিতর্ক। এমন পরিস্থিতি তৈরি হল যে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক ওর্ল্যান্ডো গিল ম্যাচ শেষে ফ্রান্স অধিনায়ক এমবাপ্পের  দিকে বল ছুড়ে মারলেন। এমনকী ম্যাচ শেষে গিলের সঙ্গে করমর্দনও করলেন না এমবাপ্পে।

গত শনিবার রাতে শেষ ষোলর ম্যাচে কঠিন পরীক্ষায় পড়ে ফ্রান্স। প্যারাগুয়ের রক্ষণ ভাঙতে বেশ কষ্ট করতে হয় দিদিয়ের দেশঁর দলকে। আগাগোড়া দাপট বজায় রাখলেও গোলের দেখা মিলল ৭০ মিনিটে গিয়ে। পেনাল্টি থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পের একমাত্র গোলে জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে ফ্রান্স। শারীরিক ফুটবল ও আটসাঁট রক্ষণে প্যারাগুয়ে এতটাই বেগ দেয় ফ্রান্সকে যে ফরাসি ফুটবলাররা রীতিমতো বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলেন।

ম্যাচের শেষে দেখা যায় কিলিয়ান এমবাপ্পে সমর্থকদের দিকে তাকিয়ে জয়ের উচ্ছ্বাসে মেতেছে। ঠিক সেসময় প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক ওর্ল্যান্ডো গিলকে দেখা যায় একটি বল এমবাপের দিকে ছুড়ে মারতে। 

কেন এমন করলেন তিনি? প্যারাগুয়ে গোলরক্ষক বলছেন, এমবাপে আমাকে রীতিমতো বিরক্ত করে দিয়েছিল। ম্যাচ শেষে আমি ওর সঙ্গে করমর্দন করতে চেয়েছিলাম কিন্তু ও আমাকে উপেক্ষা করে। তাই মাথাটা গরম হয়ে গিয়েছিল। তবে বিতর্কটা ওখানেই শেষ হয়েছে।

গিল যতই দাবি করুন বিতর্ক ওখানেই শেষ, ব্যাপারটা ওখানেই থামেনি। ফরাসি ফুটবলাররা পরে প্যারাগুয়েকে তোপ দেগেছেন। এমনকী ফিফাও বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে জিতলেও দলের পারফরম্যান্সে খুব একটা সন্তোষ প্রকাশ করতে পারেননি ফ্রান্সের কোচ-খেলোয়াড়রা। 

মিসরের বিপক্ষে একাদশে পরিবর্তন আনতে পারেন স্কালোনি

ক্রীড়া ডেস্ক
মিসরের বিপক্ষে একাদশে পরিবর্তন আনতে পারেন স্কালোনি

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আগামী ৭ জুলাই মিসরের মুখোমুখি হবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কেপভার্দের বিপক্ষে দলের তিন লাইনে সমস্যা ধরা পড়েছে আর্জেন্টিনার। তাই মিসরের বিপক্ষে প্রতিটি লাইনেই পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে আর্জেন্টিনার। এমন গুঞ্জন চাউর হয়েছে। তবে আগামী রবিবার শেষ অনুশীলনের পরই চূড়ান্ত একাদশ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানা যাবে। 

টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেপ ভার্দের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ের পর বৃষ্টিরে কারণে গতকাল শনিবারের অনুশীলন বাতিল হয় আলবেসিলেস্তদের। তাই পেছনের সব ভুলে আগামী মঙ্গলবার মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াই নিয়ে ভাবতে আগ্রহী কোচ স্কালোনি। সেই ম্যাচের আগে একাদশে কোনো পরিবর্তন আনবেন কিনা? এমন গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।  

ইতিমধ্যেই এমন কিছু নাম রয়েছে যাদের দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানা গেছে। আটলান্টাই যাওয়ার আগে রবিবার শেষ অনুশীলন করবে মেসিবাহিনী। রুদ্ধদ্বার অনুশীলন পর্বের পরেই চূড়ান্ত একাদশ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানা যাবে। 

তবে এই মুহূর্তে খুব বেশি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। খুব সম্ভবত প্রতিটি লাইনে একটি করে পরিবর্তন আসবে, তবে সর্বোচ্চ তিনটি; এর চেয়ে বেশি পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

প্রথমত. সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে কে খেলবেন? কেপ ভার্দে বিপক্ষে নকআউট পর্বে শুরুর একাদশে হুলিয়ান আলভারেজই শুরু সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কোচিং স্টাফরা। তবে শেষ মুহূর্তে চোট জর্জরিত এই তারকার ফিটনেস ফিরে না পাওয়ায় লাউতারো মার্তিনেজ শুরু করেন। তবে চোট থেকে পুরোপুরি ফিট থাকলে মিসরের বিপক্ষে শুরুর একাদশে থাকবেন আতলেতিকোর এই তারকা।
 
দ্বিতীয় সমস্যাটা রয়েছে লেফট-ব্যাক পজিশন নিয়ে। সেখানে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন ফাকুন্দো মেদিনা। তাই তার থাকা প্রায় নিশ্চিত। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়াই মঙ্গলবারের আগে পুরোপুরি ফিট না হলে বিকল্প হিসেবে নিকোলাস তাগলিয়াফিকো দলে ফিরতে পারেন। যিনি নিয়মিতভাবে আর্জেন্টিনার প্রথম একাদশে খেলেছেন। 

শেষটি হলো আক্রমণভাগে ধার বাড়াতে মিডফিল্ডে পরিবর্তন আনতে পারেন কোচ। মিডে চিরচেনা বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনতে আগেও কয়েকবার পরিবর্তন করেছে। তাতে তেমন কাজে আসেনি। এবার দেখা যাক সেই ধার ফিরে আসে কিনা; তাতে লিয়ান্দ্রো পারেদেস এবং নিকোলাস গঞ্জালেস দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী। এতে থিয়াগো আলমাদা সম্ভবত প্রথম একাদশ থেকে বাদ পড়বেন।

যদি বোকা জুনিয়র্সের মিডফিল্ডারকে বেছে নেওয়া হয়। তবে তিনি মাঝমাঠের কেন্দ্রে তার স্বাভাবিক অবস্থানে খেলবেন। এতে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, যিনি পুরো বিশ্বকাপে নিজের পরিচিত জায়গা ছেড়ে ভিন্ন পজিশনে খেলছেন। নিজের পছন্দের পজিশনে ফিরে যাবেন।

অন্যদিকে, যদি গঞ্জালেস প্রথম একাদশে জায়গা করে নেন, তবে ফর্মেশনে কোনো পরিবর্তন আসবে না।  অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের এই খেলোয়াড় দলে থাকলে আক্রমণে বেশ ভিন্নতা চোখে পড়ে। যা আলমাদার চেয়ে অনেক বেশি প্রাণবন্ত দেখায় আক্রমণভাগে।

তবে এসবের বাইরেও স্কালোনি হয়তো অন্য কোনো নামও বেছে নিতে পারেন। যা বর্তমানে আলোচনায় নেই, অথবা কিছু অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন আনতে পারেন। তবে যেই পরিবর্তন আনুক না কেনো, তা এই কাঠামোতে উল্লেখযোগ্যভাবে কোনো ব্যাঘাত ঘটাবে না। 

পুরোপুরি একাদশ নিয়ে বুঝতে আর কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে আর্জেন্টাইন ভক্তদের।

কঠিন লড়াইয়ের পর শক্তি সঞ্চারে আর্জেন্টাইনরা

ক্রীড়া ডেস্ক
কঠিন লড়াইয়ের পর শক্তি সঞ্চারে আর্জেন্টাইনরা
ছবি : ফেসবুক

বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব বাধা সহজে উতরে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আসলে বেগ পেতে হয় রাউন্ড ৩২-এর কেপ ভার্দে বাধা। জয় পেতে রীতিমতো অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত যেতে হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। দুই-দুইবার এগিয়ে সমতায় ফেরে নবাগত দল হিসেবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা আফ্রিকার ছোট্ট দেশটি।

কঠিন লড়াইয়ের পর প্রথম অনুশীলনে বৃষ্টি-বাধায় জিম সেশনেই কাটে মেসিদের অনুশীলন। তাই নিজেদের গুটিয়ে না রেখে জিমেই বিশেষ অনুশীলন সেরে শক্তি সঞ্চারে সময় ব্যয় করেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

গতকাল শনিবার আর্জেন্টিনার অফিশিয়াল স্যোশাল প্ল্যাটফর্মে একটি ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি বিশেষ শারীরিক কসরতে ঘাম ঝরাচ্ছেন।

এ ছাড়া জুলিয়ানো সিমিওনে, লাওতারো মার্তিনেজ, ইমি মার্তিনেজ, তাগলিয়াফিকো, আলভারেজ, নিকো পাজরা কসরতে ব্যস্ত।

স্যোশাল প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করা ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা ছিল; ‘বৃষ্টিও আমাদের থামাতে পারবে না’।

তারপরই পোস্ট করা দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে নিয়ে করা ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল—‘কঠিন লড়াইয়ের পর শক্তি সঞ্চয়’।

৭ জুলাই রাত ১০টায় রাউন্ড ১৬-এ মিসরের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। লড়াই হবে আর্জেন্টাইন মেসি বনাম ইজিপসিয়ান মেসির। মিসরের মোহাম্মদ সালাহকে ইজিপসিয়ান মেসি বলা হয়।

ক্যাপশনেই বলে দিচ্ছে মিশরের সঙ্গে লড়াইটা জমজমাট হবে। তাই কঠিন লড়াইয়ের পর শক্তি সঞ্চার করে ফের মাঠে নামতে হবে কোয়ার্টারের লক্ষ্যে। 

ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে জিতবে কোন দল, জানাল জ্যোতিষী বিড়াল মিলু

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে জিতবে কোন দল, জানাল জ্যোতিষী বিড়াল মিলু

নিজেদের সমৃদ্ধ ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত শুধু একটি দলকে কখনো পারেনি ব্রাজিল। দলটার নাম নরওয়ে। 

এই নরওয়ের বিপক্ষেই আজ রাতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নামছে ব্রাজিল। দুই দলের অতীত পরিসংখ্যান ব্রাজিলের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ানোয় দলটির সমর্থকরা হয়তো দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন। 

তবে সমর্থকদের এবার সুসংবাদ দিয়েছে জ্যোতিষী বিড়াল মিলু। বিড়ালটির ভবিষ্যদ্বাণী বলছে, আজ রাতেই প্রথমবারের মতো নরওয়েকে হারাবে ব্রাজিল এবং এই শতাব্দীর একমাত্র দল হিসেবে সব বিশ্বকাপ আসরের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার কীর্তি গড়বে। 

এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রতিটি ম্যাচের ফল নিয়েই আগে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে মিলু। সেগুলো মিলেও গেছে। এ কারণেই ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের বড় একটি অংশের কাছে বিড়ালটি এখন সৌভাগ্যের প্রতীক। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই দাবি করছেন, আগের ম্যাচগুলোতে মিলুর পূর্বাভাস তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছিল। একজন সমর্থক লিখেছেন, ‘জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিল পিছিয়ে পড়লেও আমি মিলুর ভবিষ্যদ্বাণীর ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। শেষ পর্যন্ত সেটা সত্যি হয়েছিল। তাই নরওয়ের বিপক্ষেও একই ফলের প্রত্যাশা করছি।’

মিলুর ভবিষ্যদ্বাণীর পদ্ধতি বেশ অভিনব। তার মালিক নাতান পিনহেইরো দুটি একই ধরনের বাটিতে খাবার রেখে প্রতিটির পেছনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের পতাকা লাগিয়ে দেন। এরপর মিলুকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে যে বাটি থেকে আগে খাবার খেতে শুরু করে, সেটিকেই সম্ভাব্য বিজয়ী দল হিসেবে ধরা হয়।

তবে এই পদ্ধতি নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, মিলুর মালিক নাতান পিনহেইরো ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে নির্দিষ্ট বাটির দিকে পরিচালিত করেন। তবে সেই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন পিনহেইরো।

তিনি পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিও প্রকাশ করে দেখিয়েছেন, সেখানে কোনো ধরনের কারসাজির সুযোগ নেই। তার দাবি, মিলু সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবেই নিজের পছন্দ অনুযায়ী একটি বাটি নির্বাচন করে।

গতকাল (৪ জুলাই) আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করার পর মিলুর সাফল্যের ধারায় প্রথম ছেদ পড়েছে। তবে ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ ঘিরে তাকে নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, মিলুর নতুন ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে মিলে যায় কি না।