দীর্ঘ ১৭ বছর পর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানের মধ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের প্রশাসনিক কাঠামো, সরকারি দপ্তরের সকল কার্যক্রম ও ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তনের সুফল নাগরিকরা ভোগ করে আসছে। দেশ পরিচালনার স্বার্থে সবকিছুরই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন দপ্তরের ওয়েবসাইটগুলো হালনাগাদ করার পাশাপাশি অপ্রাসঙ্গিক ও পুরোনো তথ্য অপসারণেও নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার।
সারাদেশের সরকারি দপ্তর এই সরকারের নিয়মনীতি মেনে চললেও জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি’র) সরকারি ওয়েবসাইটের চিত্র আলাদা এক আঙ্গিকে দেখা যাচ্ছে। সরকার পরিবর্তনের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও ওই ওয়েবসাইটের ফটো গ্যালারিতে এখনো বহাল রয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ কালাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির বিভিন্ন কর্মসূচীর ছবি। অথচ এলজিইডি’র ওই ওয়েবসাইটটি গত ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর বিকেল ৫ টা ৪৮ মিনিট এবং সর্বশেষ আজ রবিবার ৫ জুলাই সকালেও আপডেট করা হয়েছে। ওয়েবসাইটের এসব বিষয় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ এবং নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
কালাই উপজেলা এলজিইডির সরকারি ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, কনটেন্ট ফটো গ্যালারিতে মাত্র দুটি ছবি রয়েছে। ছবি দুইটি মহান বিজয় দিবস ২০১৪ সালে প্রকাশিত। ছবিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাদের দেখা যাচ্ছে। ফটো গ্যালারির ওই ছবিগুলো অপরিবর্তিত অবস্থায় আজ রবিবার বিকেল ২টা ৯ মিনিটেও বহাল দেখা গেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, কেন আগের ছবিগুলো পরিবর্তন করা হয়নি আজও ? এটি কি শুধুই দায়িত্বের অবহেলা, নাকি প্রশাসনিক তদারকির অভাব? সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ওয়েবসাইটে দীর্ঘদিন ধরে অপ্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ছবি বহাল থাকায় প্রসাশনের জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলজিইডির এক কর্মচারী জানান, সরকারি ওয়েবসাইট নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, তদারকি ও হালনাগাদের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানের। কনটেন্ট আপডেট হওয়ার পরও যদি এমন ছবি বছরের পর বছর বহাল থাকে, তাহলে তা রাখা ঠিক হয়নি। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এগুলোও সরানো উচিত ছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কালাই মহিলা বিএম কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল করিম বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর দেশের সকল দপ্তরের ওয়েবসাইট হালনাগাদ করেছে সরকার। কিন্তু কালাই এলজিইডির ওয়েবসাইটে এখনো বিতর্কিত ছবিগুলো কেন দেখা যাচ্ছে। এর জবাব অবশ্যই দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, এটি শুধু একটি ছবি নয়, এটি সরকারি দায়িত্ব পালনের বিষয়। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ওয়েবসাইটে কী আছে, তা জানবেন না, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। যদি এটি অবহেলা হয়, তাহলে সেটিও তাঁর স্বেচ্ছাচারিতা। আর যদি অন্য কোনো কারণ হয়, তাহলে সেটিও তদন্ত করে জনগণকে জানানো উচিত বলে আমি মনে করি।
স্থানীয় বিএনপি কর্মী মো. লেবু মিয়া বলেন, ‘বিগত সরকারের পতনের পর কিভাবে সরকারি ওয়েবসাইটে তাদের ছবি আজও দেখা যায় ? আমাদের এলাকার এমপি মহোদয় জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর এলাকায় বিভিন্ন কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ইচ্ছে করলে ওই ছবিগুলো সেখানে সংযুক্ত করতে পারতেন। কিন্তু প্রকৌশলী তা না করে নিজের ইচ্ছেমত যা খুশি তা মনে করে সরকারি ওয়েবসাইটে বিগত সরকারের লোকজনদের ছবিগুলো রেখেছেন। এটি প্রশাসনিক অবহেলার স্পষ্ট উদাহরণ ছাড়া কিছুই না।’
কালাই উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. ইব্রাহিম হোসেন মন্ডল বলেন, ‘সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইটে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর ছবি দীর্ঘদিন বহাল থাকা মোটেও স্বাভাবিক নয়। সরকারি দফতরের কাজই হবে যখন যে সরকার দেশ পরিচালনা করবে তখন সে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডই তুলে ধরা। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এই এলাকায় অনেক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। এসবের কোনো ছবি আজও ওই ওয়েবসাইটে যুক্ত করা হয়নি। এটা মেনে নেওয়ার মত না।’ এ বিষয়ে দ্রত ব্যবস্থা নেওয়ার দা্ি জানান তিনি।
কালাই উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. আব্দুল আলিম জানান, এটা কেউ মেনে নিতে পারেনা। হয়তো তিনি হৃদয়ে অন্যধারার কিছু লালন করে আসছেন। এ কারনে বিগত সরকারের কর্মকান্ডের ছবিগুলো ওই দপ্তরের ওয়েবসাইটে আজও রেখেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী সুমন কুমার দেবনাথ বলেন, ‘আসলে দীর্ঘদিন ধরে ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড ছিল না। গত সপ্তাহে পাসওয়ার্ড পেয়েছি। ভালমত পুরো ফাইল এখনও দেখতে পারিনি। আজ মাত্র একটি বিজ্ঞপ্তি যুক্ত করেছি। সে কারনে আগের ছবি থাকতেই পারে। ওয়েবসাইটের ছবিগুলো অবশ্যই পরিবর্তন করা হবে ‘