• ই-পেপার

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে রিতা ওরার শো নিয়ে অসন্তুষ্ট ইংল্যান্ড

শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক
শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড
ছবি : ক্রিকইনফো

আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। রবিবার (৫ জুলাই) স্থানীয় সময় সাড়ে ৩টায় ক্রিকেটের মক্কাখ্যাত লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শিরোপার লড়াইয়ে মাঠে নামবে ক্রিকেটের এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। 

টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত দুটি দলই কোন ম্যাচ হারেনি। সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে অজি প্রমীলারা। অস্ট্রেলিয়াকে এবারের বিশ্বকাপে কোনো একক তারকার ওপর ভরসা করে বসে থাকতে হয়নি। এলিস পেরি, বেথ মুনি, জর্জিয়া ওয়ারহ্যাম ও অ্যাশলি গার্ডনার সবাই দলের জন্য অবদান রেখেছেন প্রতিটি ম্যাচেই।

অন্যদিকে, সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৪০ রানে হারিয়ে ২০১৮ সালের পর আবারও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। দলের ওপেনার ড্যানি ওয়াট-হজ চলতি আসরের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। বোলিংয়ে সোফি একলেস্টোন ও চার্লি ডিন রয়েছেন সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের তালিকায়।

তবে শিরোপা জিততে হলে তাদের সবচেয়ে বড় বাধা অস্ট্রেলিয়াই। সব ছাপিয়ে এক জমজমাট লড়াইয়ে দেকতে চলেছে ক্রিকেট বিশ্ব। 

এদিকে অস্ট্রেলিয়া রেকর্ড সপ্তমবারের মতো শিরোপা ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছে, অন্যদিকে স্বাগতিক ইংল্যান্ড চাইছে দ্বিতীয়বারের মতে বিশ্বকাপ ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরতে।

উইম্বলডনে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন সিওনতেককে হারিয়ে চমক ইয়ালার

ক্রীড়া ডেস্ক
উইম্বলডনে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন সিওনতেককে হারিয়ে চমক ইয়ালার

উইম্বলডনে তৃতীয় রাউন্ডে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ইগা সিওনতেককে হারিয়ে এক ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন ফিলিপাইনের আলেকজান্দ্রা ইয়ালা। পোল্যান্ডের টেনিস নারীকে ৭-৬ (১১-৯), ৬-২ স্কোরে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ফিলিপাইনের ২১ বছর বয়সী এই টেনিস তারকা। অবিস্মরণীয় জয়ের পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই টেনিস নারী। জয়কে  উৎসর্গ করেন তাঁর শৈশব এবং বিশ্বের সেইসব সাধারণ মেয়েদের প্রতি, যারা বড় স্বপ্ন দেখার সাহস বুনছে।

ওপেন এরাতে প্রথম ফিলিপিনো খেলোয়াড় হিসেবে গ্র্যান্ড স্ল্যামের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে ইতিহাস গড়ার পর ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারে এই আবেগময় মন্তব্যটি করেন তিনি।

জয়ের পর সাংবাদিকরা ইয়ালাকে যখন জিজ্ঞেস করা হয় এই জয়ের অনুভূতি কী? অশ্রুসিক্ত চোখে ইয়ালা বলেন, ‘স্কুল শেষে প্রতিদিন আমি আমার কুঁচকানো মোজা, আলো জ্বলা জুতো আর ফোলা ফোলা গাল নিয়ে অনুশীলন করতে যেতাম—সেই ছোট্ট আমার কাছে আজকের এই অর্জনই সবকিছু... এই জয় আমার দেশের মানুষ, আমার পরিবার এবং পৃথিবীর সেইসব ছোট্ট মেয়েদের জন্য, যারা কুঁচকানো মোজা পরে আর যাদের ফোলা ফোলা গাল রয়েছে।’

রাফা নাদাল টেনিস একাডেমি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন আলেকজান্দ্রা ইয়ালা। ৩ বছর আগে তাঁর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে স্বয়ং ইগা সিওনতেক উপস্থিত থেকে তরুণ খেলোয়াড়দের ভবিষ্যতের যেকোনো কাজে শতভাগ দেওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছিলেন। তিন বছর পর, সেই সিওনতেককেই উইম্বলডনের সেন্টার কোর্টে হারিয়ে ইয়ালা চমক সৃষ্টি করলেন।

এই অবিস্মরণীয় জয়ের পর পরবর্তী কোয়ার্টার ফাইনাল পর্বের লড়াইয়ে আলেকজান্দ্রা ইয়ালা ইতালির জ্যাসমিন পাওলিনির মুখোমুখি হবেন।

ফ্রান্স-প্যারাগুয়ের বিতর্কে ভরা ম্যাচ দেখল ফুটবল বিশ্ব

ক্রীড়া ডেস্ক
ফ্রান্স-প্যারাগুয়ের বিতর্কে ভরা ম্যাচ দেখল ফুটবল বিশ্ব

বিশ্বকাপে ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে ম্যাচে জোর বিতর্ক। একের পর এক ফাউল, বাজে ট্যাকল, উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, সংঘর্ষ, এমনকী হাতাহাতি। শেষ ষোলোর ম্যাচে ফুটবলে যতটা না শিরোনামে আসছে তারচেয়েও বেশি শিরোনামে বিতর্ক। এমন পরিস্থিতি তৈরি হল যে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক ওর্ল্যান্ডো গিল ম্যাচ শেষে ফ্রান্স অধিনায়ক এমবাপ্পের  দিকে বল ছুড়ে মারলেন। এমনকী ম্যাচ শেষে গিলের সঙ্গে করমর্দনও করলেন না এমবাপ্পে।

গত শনিবার রাতে শেষ ষোলর ম্যাচে কঠিন পরীক্ষায় পড়ে ফ্রান্স। প্যারাগুয়ের রক্ষণ ভাঙতে বেশ কষ্ট করতে হয় দিদিয়ের দেশঁর দলকে। আগাগোড়া দাপট বজায় রাখলেও গোলের দেখা মিলল ৭০ মিনিটে গিয়ে। পেনাল্টি থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পের একমাত্র গোলে জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে ফ্রান্স। শারীরিক ফুটবল ও আটসাঁট রক্ষণে প্যারাগুয়ে এতটাই বেগ দেয় ফ্রান্সকে যে ফরাসি ফুটবলাররা রীতিমতো বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলেন।

ম্যাচের শেষে দেখা যায় কিলিয়ান এমবাপ্পে সমর্থকদের দিকে তাকিয়ে জয়ের উচ্ছ্বাসে মেতেছে। ঠিক সেসময় প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক ওর্ল্যান্ডো গিলকে দেখা যায় একটি বল এমবাপের দিকে ছুড়ে মারতে। 

কেন এমন করলেন তিনি? প্যারাগুয়ে গোলরক্ষক বলছেন, এমবাপে আমাকে রীতিমতো বিরক্ত করে দিয়েছিল। ম্যাচ শেষে আমি ওর সঙ্গে করমর্দন করতে চেয়েছিলাম কিন্তু ও আমাকে উপেক্ষা করে। তাই মাথাটা গরম হয়ে গিয়েছিল। তবে বিতর্কটা ওখানেই শেষ হয়েছে।

গিল যতই দাবি করুন বিতর্ক ওখানেই শেষ, ব্যাপারটা ওখানেই থামেনি। ফরাসি ফুটবলাররা পরে প্যারাগুয়েকে তোপ দেগেছেন। এমনকী ফিফাও বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে জিতলেও দলের পারফরম্যান্সে খুব একটা সন্তোষ প্রকাশ করতে পারেননি ফ্রান্সের কোচ-খেলোয়াড়রা। 

তিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলবেন কেইনরা

ক্রীড়া ডেস্ক
তিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলবেন কেইনরা

মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে ঘানা ছাড়া বাকি তিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সহজ জয় পেয়েছে থ্রি-লায়ন্সরা। হ্যারি কেন, জুড বেলিংহ্যাম, অ্যান্থনি গর্ডন, ডেকলান রাইসরা বেশ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। বিশ্বকাপে দু’দলের একমাত্র সাক্ষাতেও ২-০ জিতেছিল ইংলিশরা। তবে স্বাগতিক হিসেবে মেক্সিকোর বিশ্বকাপ-পরিসংখ্যানকে আকর্ষণীয় বললেও কম বলা হয়। সবমিলিয়ে শেষ সাত ম্যাচে ভাঙেনি তাদের রক্ষণ। এরমধ্যে এবারের টানা চার ম্যাচের সঙ্গে রয়েছে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের তিনটে ম্যাচও।
 
কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, চার দশক আগে ’৮৬ বিশ্বকাপেই শেষবার কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়েছিল মেক্সিকো। যেখানে পশ্চিম জার্মানির কাছে হারে টাইব্রেকারে। এবারো রাউল জিমেনেজ, জুলিয়ান কুইনোনেস, সিজার মন্টেস, রাউলরা রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছেন মেক্সিকোকে। 

ফলে চার দশক পর ফের শেষ আটে পা রাখা নিয়ে আশাবাদী অন্যতম আয়োজকরা। তবে কোচ জেভিয়ার আগুইরের দলই যে ইংল্যান্ডের একমাত্র প্রতিপক্ষ, এমনটা নয়। আরো তিন সমস্যা বা প্রতিপক্ষের সঙ্গে টক্কর দিতে হবে টুখেলদের। প্রথমেই উল্লেখ করা হয়েছে সেই ‘ত্রয়ীর’ কথা।

প্রথমত, ইতিহাস। মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকায় খেলা শেষ ম্যাচটা ইংল্যান্ডের জন্য সুখকর নয়। চল্লিশ বছর আগে এই মাঠেই সাক্ষী থেকেছিল দিয়েগো মারাদোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’ আর ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরির’। আর হেরে স্বপ্ন ভঙ্গ নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন কেন-রাইস-গর্ডনদের পূর্বসূরি গ্যারি লিনেকাররা। চার দশক পর সেই মাঠে পা রাখার আগে যে ইতিহাস নতুন করে ভোগাচ্ছে ইংল্যান্ডকে।

দ্বিতীয়ত, বিরূপ আবহাওয়া। স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ম্যাচ হওয়ার কথা। গত কয়েকদিন ধরে ঠিক যে সময়টা শহরে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। যে কারণে ফিফার থেকে ম্যাচটা সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা এগিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে তা বাতিল করেছে দুই পক্ষ। ফলে সময় পরিবর্তন না হলেও সূচি মেনে ম্যাচ শুরু হওয়া নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন রয়েছে। শেষ ৩২ এ মেক্সিকো-ইকুয়েডর ম্যাচে যেমন ঘণ্টা খানেক দেরি হয়েছে। তাছাড়া এবার চারটে ম্যাচই আমেরিকার বিভিন্ন শহরে খেলেছে ইংল্যান্ড। সেখান থেকে আজতেকা অনেকটাই উঁচু। ফলে মাঠে অক্সিজেনের অভাবের সঙ্গেও লড়তে হবে কেইনদের। যা নিয়ে আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কোচ টুখেল।

তৃতীয়ত, প্রতিপক্ষ সমর্থক। এমনিতে মেক্সিকানরা অতিথিবৎসল। সে দেশে বেস ক্যাম্প করা ইরানকে যেমন বেশ আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু প্রতিপক্ষের প্রতি ততটাই নির্মম। যা টের পেয়েছে ইকুয়েডর। ম্যাচের আগে সারা রাত লাতিন দেশটির টিম হোটেলের বাইরে চড়া লাউডস্পিকার, মোটরবাইকের হর্ন আর শব্দবাজি নিয়ে রীতিমতো ‘উৎসব’ করেছে মেক্সিকান জনতা। যাতে নষ্ট হয়েছে ফুটবলারদের ঘুম। গ্রুপ পর্বে জার্মানিকে হারানো মোজেস কাইসেদোদের বেশ সাদামাটা দেখিয়েছে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে। মাঠে নামার আগে টুখেলের দলকেও সেই ‘নরকযন্ত্রণা’ দেওয়ার নকশা তৈরি করা হয়েছে। ইংল্যান্ড টিম ম্যানেজমেন্ট নিজেদের হোটেল সংক্রান্ত তথ্য গোপন করা চেষ্টা করেছিল বটে। তবে যা খবর, ছক ব্যর্থ করে ফাঁস হয়েছে হোটেলের নাম। তাই ফুটবলারদের ঘুম নিশ্চিত করতে ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে তারা।

অবশ্য মেক্সিকোর মাঠে টুখেলদের সেই পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হবে, তা অবশ্য স্পষ্ট হয়ে যাবে ম্যাচেই।