মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে ঘানা ছাড়া বাকি তিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সহজ জয় পেয়েছে থ্রি-লায়ন্সরা। হ্যারি কেন, জুড বেলিংহ্যাম, অ্যান্থনি গর্ডন, ডেকলান রাইসরা বেশ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। বিশ্বকাপে দু’দলের একমাত্র সাক্ষাতেও ২-০ জিতেছিল ইংলিশরা। তবে স্বাগতিক হিসেবে মেক্সিকোর বিশ্বকাপ-পরিসংখ্যানকে আকর্ষণীয় বললেও কম বলা হয়। সবমিলিয়ে শেষ সাত ম্যাচে ভাঙেনি তাদের রক্ষণ। এরমধ্যে এবারের টানা চার ম্যাচের সঙ্গে রয়েছে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের তিনটে ম্যাচও।
কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, চার দশক আগে ’৮৬ বিশ্বকাপেই শেষবার কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়েছিল মেক্সিকো। যেখানে পশ্চিম জার্মানির কাছে হারে টাইব্রেকারে। এবারো রাউল জিমেনেজ, জুলিয়ান কুইনোনেস, সিজার মন্টেস, রাউলরা রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছেন মেক্সিকোকে।
ফলে চার দশক পর ফের শেষ আটে পা রাখা নিয়ে আশাবাদী অন্যতম আয়োজকরা। তবে কোচ জেভিয়ার আগুইরের দলই যে ইংল্যান্ডের একমাত্র প্রতিপক্ষ, এমনটা নয়। আরো তিন সমস্যা বা প্রতিপক্ষের সঙ্গে টক্কর দিতে হবে টুখেলদের। প্রথমেই উল্লেখ করা হয়েছে সেই ‘ত্রয়ীর’ কথা।
প্রথমত, ইতিহাস। মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকায় খেলা শেষ ম্যাচটা ইংল্যান্ডের জন্য সুখকর নয়। চল্লিশ বছর আগে এই মাঠেই সাক্ষী থেকেছিল দিয়েগো মারাদোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’ আর ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরির’। আর হেরে স্বপ্ন ভঙ্গ নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন কেন-রাইস-গর্ডনদের পূর্বসূরি গ্যারি লিনেকাররা। চার দশক পর সেই মাঠে পা রাখার আগে যে ইতিহাস নতুন করে ভোগাচ্ছে ইংল্যান্ডকে।
দ্বিতীয়ত, বিরূপ আবহাওয়া। স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ম্যাচ হওয়ার কথা। গত কয়েকদিন ধরে ঠিক যে সময়টা শহরে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। যে কারণে ফিফার থেকে ম্যাচটা সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা এগিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে তা বাতিল করেছে দুই পক্ষ। ফলে সময় পরিবর্তন না হলেও সূচি মেনে ম্যাচ শুরু হওয়া নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন রয়েছে। শেষ ৩২ এ মেক্সিকো-ইকুয়েডর ম্যাচে যেমন ঘণ্টা খানেক দেরি হয়েছে। তাছাড়া এবার চারটে ম্যাচই আমেরিকার বিভিন্ন শহরে খেলেছে ইংল্যান্ড। সেখান থেকে আজতেকা অনেকটাই উঁচু। ফলে মাঠে অক্সিজেনের অভাবের সঙ্গেও লড়তে হবে কেইনদের। যা নিয়ে আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কোচ টুখেল।
তৃতীয়ত, প্রতিপক্ষ সমর্থক। এমনিতে মেক্সিকানরা অতিথিবৎসল। সে দেশে বেস ক্যাম্প করা ইরানকে যেমন বেশ আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু প্রতিপক্ষের প্রতি ততটাই নির্মম। যা টের পেয়েছে ইকুয়েডর। ম্যাচের আগে সারা রাত লাতিন দেশটির টিম হোটেলের বাইরে চড়া লাউডস্পিকার, মোটরবাইকের হর্ন আর শব্দবাজি নিয়ে রীতিমতো ‘উৎসব’ করেছে মেক্সিকান জনতা। যাতে নষ্ট হয়েছে ফুটবলারদের ঘুম। গ্রুপ পর্বে জার্মানিকে হারানো মোজেস কাইসেদোদের বেশ সাদামাটা দেখিয়েছে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে। মাঠে নামার আগে টুখেলের দলকেও সেই ‘নরকযন্ত্রণা’ দেওয়ার নকশা তৈরি করা হয়েছে। ইংল্যান্ড টিম ম্যানেজমেন্ট নিজেদের হোটেল সংক্রান্ত তথ্য গোপন করা চেষ্টা করেছিল বটে। তবে যা খবর, ছক ব্যর্থ করে ফাঁস হয়েছে হোটেলের নাম। তাই ফুটবলারদের ঘুম নিশ্চিত করতে ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে তারা।
অবশ্য মেক্সিকোর মাঠে টুখেলদের সেই পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হবে, তা অবশ্য স্পষ্ট হয়ে যাবে ম্যাচেই।