• ই-পেপার

মানিকগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন এমপি জিন্নাহ কবির

টেকনাফে প্রতিপক্ষের হামলায় কলেজছাত্র নিহত

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
টেকনাফে প্রতিপক্ষের হামলায় কলেজছাত্র নিহত
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের টেকনাফে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় শফি উল্লাহ নামের এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন।শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে সাবরাং পুরানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রবিবার ভোররাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত শফি উল্লাহ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের পুরানপাড়া এলাকার হাফেজ মোক্তার আহমদের ছেলে এবং হ্নীলা মাঈনুদ্দীন মেমোরিয়াল কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

নিহতের বড় ভাই সিদ্দিক আহমদ অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী ও নিকটাত্মীয় কামাল আহমদ এবং ইসমাইলের পরিবারের সঙ্গে তাদের পরিবারের চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় বিষয়টি আদালতে গড়ায়। আদালতের নির্দেশে গত শনিবার বিকেলে টেকনাফ থানার তদন্ত কর্মকর্তার ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা ছিল।

সিদ্দিক আহমদ অভিযোগ করেন, বিষয়টি জানার পর কামাল ও ইসমাইল তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে হামলা চালান। এ সময় শফি উল্লাহর মাথায় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কামাল আহমদ ও ইসমাইলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার পর থেকে তারা আত্মগোপনে রয়েছেন।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, চলাচলের পথ নিয়ে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


 

গৌরীপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
গৌরীপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যাওয়া দুই বোন।

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে রিয়ামনি (৮) ও ইলমা (৪) নামে দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের বীর পশ্চিমপাড়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশুরা ওই গ্রামের সুলতান মিয়ার মেয়ে। এদের মধ্যে রিয়ামনি স্থানীয় বীর পশ্চিমপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ছোট বোন ইলমার লাশ উদ্ধার করে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুরে বিদ্যালয় থেকে রিয়ামনি বাড়ি ফিরে। পরে দুপুর ২টায় ছোট বোন ইলমাকে নিয়ে পুকুরের পাড়ে যায়। পুকুরপাড়ে গেলে ইলমা কাঁদায় পড়ে যায়। কাঁদা ধুঁইতে পুকুরের পানিতে নামলে ছোট বোন ইলমা পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। এ সময় তাকে উদ্ধার করতে বড় বোন রিয়ামনি পানিতে ঝাঁপ দিলে দুজনই ডুবে যায়। বিষয়টি আট বছরের আরেক শিশু সুমাইয়া দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের জানায়। স্বজনরা তাৎক্ষণিক পুকুরপাড়ে গিয়ে রিয়ামনিকে ভাসতে দেখে উদ্ধার করে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে নিখোঁজ ছোট বোন ইলমাকে স্থানীয়রা দুই দফা খুঁজেও সন্ধান না পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। তারা এসে উদ্ধার করতে না পারায় ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে জানানো হয়। পরে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় পুকুর থেকে ইলমার লাশ আনুমানিক সাড়ে ৬টায় উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ডুবুরি দল নিয়ে তারা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন এবং ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় শিশুটির লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

দুই সন্তানকে হারিয়ে মা নার্গিস বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন আর বিলাপ করে বলছেন, ‘আমার বুকের ধন দ্ইুটা পুকুরের পানিতে ডুবে মারা গেল। রিয়ামনি স্কুল থেকে এসে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার কথা ছিল। ছোটটা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সময় বড় মেয়ে তুলতে গিয়ে সেও ডুবে গেল। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব!’

দুই মেয়েকে হারিয়ে বাবা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন এবং ঘরের বারান্দায় অচেতন অবস্থায় পরে আছেন। দুই বোনের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গৌরীপুর থানার ওসি হাবিবুর রহমান জানান,পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অবিযোগ না থাকায় বিনা ময়না তদন্তে লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।

ফুল মেহের হত্যার পর অপবাদের জেরে আরেক নারীর আত্মহত্যার অভিযোগ

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
ফুল মেহের হত্যার পর অপবাদের জেরে আরেক নারীর আত্মহত্যার অভিযোগ
বামে মিনা বেগম, ডানে ফুল মেহের। চার দিনের ব্যবধানে দুই নারীর মৃত্যু। ছবিঃ কালের কন্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দুলারামপুর গ্রামে বৃদ্ধা ফুল মেহের (৮০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের আগেই আত্মহত্যা করেছেন মিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারী। পরিবারের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর তাকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন, সন্দেহ ও অপবাদের মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষ হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের দুলারামপুর গ্রামে চালের পোকা মারার ট্যাবলেট (কেরির বড়ি) সেবনের পর মিনা বেগমের মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের চাঁন মিয়ার স্ত্রী।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে সবার অজান্তে বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবন করেন মিনা বেগম। পরে বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এর চার দিন আগে, গত বৃহস্পতিবার ভোরে একই গ্রামের নিজ বাড়ির উঠান থেকে ফুল মেহেরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় প্লাস্টিকের রশি পেঁচানো ছিল। পরিবারের অভিযোগ, স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোস্তাফা কামাল বাদী হয়ে বাঞ্ছারামপুর থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

তদন্তে জানা যায়, মৃত্যুর আগের দিন দুপুরে ফুল মেহের মিনা বেগমের বাড়িতে খাবার খেয়েছিলেন। এরপর থেকেই এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের অভিযোগ, কোনো প্রমাণ ছাড়াই অনেকেই মিনা বেগমকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে নানা মন্তব্য ও কটূক্তি করতে থাকেন।

মিনা বেগমের স্বামী চাঁন মিয়া বলেন, ফুল মেহের হত্যার পর থেকে প্রতিদিন অনেক মানুষ বাড়িতে এসে তার স্ত্রীকে নানা প্রশ্ন করতেন। কেউ সন্দেহ প্রকাশ করতেন, আবার কেউ কটূক্তিও করতেন। এসব অপবাদ ও মানসিক চাপেই তিনি ভেঙে পড়েন।

মেয়ের জামাই মাইনুদ্দিন খান বলেন, “আমার শাশুড়িকে প্রতিদিন অপমান করা হতো। শুক্রবার পিবিআই তথ্য সংগ্রহের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তিনি আরও বেশি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। আমরা চাই প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত হোক, কেউ যেন গুজবের শিকার না হয়।”

তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, কোনো মামলার তদন্তে তথ্য সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা মানেই তিনি অভিযুক্ত বা অপরাধী—এমন নয়।

বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, ফুল মেহের হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় নানা সন্দেহ ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব কারণে সৃষ্ট মানসিক চাপ ও অভিমান থেকেই মিনা বেগম বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবন করেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।

নাটোরে জমে থাকা পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরে জমে থাকা পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

নাটোরের লালপুর উপজেলায় টিউবওয়েলের পাশে জমে থাকা পানিতে ডুবে আরিয়ান আহমেদ রাফসান (১ বছর ১০ মাস) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে উপজেলার শিবনগর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আরিয়ান উপজেলার উত্তর লালপুর গ্রামের বাসিন্দা রাশিদুল ইসলামের ছেলে। সে নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবার খাওয়ার পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়ির উঠানে খেলছিল আরিয়ান। একপর্যায়ে সবার অগোচরে বাড়ির পাশের টিউবওয়েলের পানি নিষ্কাশনের জন্য তৈরি ছোট ডোবায় পড়ে যায়।

কিছুক্ষণ পর শিশুটির মামী লিপি আক্তার টিউবওয়েলের পাশে গিয়ে পানিতে তাকে ভাসতে দেখে চিৎকার করেন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।