দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার আলীহাট ইউনিয়নের বাওনা, ইটাই ও বাশমুরি গ্রামে এক রাতে ধারাবাহিকভাবে ১০টি খড়ের গাদায় আগুন লাগার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দুর্বৃত্তদের এ ঘটনায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাত ১০টার দিকে ইটাই ভূমিহীন বহুমুখী সমবায় সমিতির সামনে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল বিষয়ক কমিটি গঠন ও আলোচনা সভা চলাকালে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বাওনা গ্রামে প্রথম একটি খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও হাকিমপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আগুন নেভানোর কাজ রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত চললেও এরপরও থামেনি অগ্নিসংযোগ। রাত ১টার দিকে ফের আরেকটি খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হয়। পরে রাতের শেষ প্রহরে ইটাই গ্রামে পরপর পাঁচটি খড়ের গাদায় আগুন লাগানো হয়। ভোর ৪টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরলস চেষ্টা চালান।
এদিকে হাকিমপুর ফায়ার সার্ভিস ইটাই গ্রামের আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত থাকায় সকালে ঘোড়াঘাট ফায়ার সার্ভিসের একটি অতিরিক্ত ইউনিট বাওনা গ্রামে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি দুর্বৃত্তরা বাওনা কমিউনিটি ক্লিনিকের পানির ট্যাংকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ট্যাংকটি নিচে ফেলে দেয় এবং পানির পাইপলাইন ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে রয়েছেন মো. মিজানুর রহমান, মো. সফিউল ইসলাম, মো. জামাতি, মো. সুলতান মাহমুদ, মো. রাজ্জাক, মো. শহিদ, মো. দিলদার হোসেন, মো. রহমত আলী ও মো. মিনহাজুল ইসলাম। তাদের কয়েক বিঘা জমির খড় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, পরিকল্পিতভাবে একের পর এক খড়ের গাদায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিস শুরু থেকেই আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও রাত প্রায় ৪টার দিকে হাকিমপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শেষে ফিরে যায়।
এ বিষয়ে হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের একটি চৌকস দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কে বা কারা এবং কী উদ্দেশে এ অগ্নিসংযোগ করেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় তিনটি গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।




