• ই-পেপার

মার্শ ও হেড বাংলাদেশের বিপক্ষে না খেলার কারণ জানা গেল

১৯৭০ বিশ্বকাপ

ব্রাজিল-ইংল্যান্ড লড়াই কেন আজও অমর

হারুনুর রশিদ
ব্রাজিল-ইংল্যান্ড লড়াই কেন আজও অমর
সংগৃহীত ছবি

১৯৭০ সালের বিশ্বকাপকে অনেকেই ফুটবলের সবচেয়ে সুন্দর, রোমান্টিক এবং প্রভাবশালী আসর বলে মনে করেন। মেক্সিকোর রোদঝলমলে মাঠ, রঙিন টেলিভিশনে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ সম্প্রচার, আক্রমণাত্মক ফুটবলের জয়যাত্রা এবং সর্বোপরি পেলের নেতৃত্বে ব্রাজিলের অনবদ্য নৈপুণ্য—সব মিলিয়ে এটি ছিল এমন একটি টুর্নামেন্ট, যা ফুটবলকে শুধু একটি খেলা নয়, বরং বৈশ্বিক সংস্কৃতির অংশে পরিণত করেছিল।

তবে সেই বিশ্বকাপের অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্তের মধ্যেও একটি ম্যাচ আজও আলাদা করে আলোচিত হয়। সেটি হলো গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল ও ইংল্যান্ডের লড়াই।

স্কোরবোর্ডে ফল ছিল মাত্র ১-০। কিন্তু ইতিহাসের বিচারে এটি ছিল একটি যুগের সমাপ্তি এবং আরেকটি যুগের সূচনার ঘোষণা।

ম্যাচটির গুরুত্ব বোঝার জন্য তখনকার প্রেক্ষাপট জানা জরুরি। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে এসেছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নের তকমা নিয়ে। ১৯৬৬ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ জয়ের পর দলটি ছিল দারুণভাবে আত্মবিশ্বাসী। কোচ রামসির অধীনে ইংল্যান্ডকে তখন বিশ্বের সবচেয়ে সংগঠিত ও কৌশলগতভাবে শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন কিংবদন্তি ববি মুর, ববি চার্লটন এবং গর্ডন বাঙ্কসের মতো বিখ্যাত সব তারকারা। 

অন্যদিকে ব্রাজিল এসেছিল নিজেদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের মিশনে। ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ১৯৬৬ বিশ্বকাপে তারা হতাশাজনকভাবে বিদায় নিয়েছিল। সেই ব্যর্থতার পর অনেকেই মনে করেছিলেন ব্রাজিলের সোনালি যুগ হয়তো শেষ হয়ে গেছে।

কিন্তু ১৯৭০ সালে তারা ফিরে আসে আরো শক্তিশালী রূপে। কোচ মারিও জাগালোর হাতে গড়ে ওঠা দলটিতে ছিলেন পেলে, জর্জিনহো, টোস্টাও, গার্সন এবং রিভেলিনহোর মতো অসাধারণ প্রতিভারা।

অনেকে এটিকে শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং ফুটবলের দুই দর্শনের সংঘর্ষ হিসেবে দেখেছিলেন—ইউরোপীয় শৃঙ্খলা ও কাঠামোর বিপরীতে লাতিন আমেরিকান সৃজনশীলতা ও সৌন্দর্য।

১৯৭০ সালের ৭ জুন মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় অনুষ্ঠিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ।

সেই সময় মেক্সিকোর উচ্চতা ও গরম আবহাওয়া ইউরোপীয় দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। ইংল্যান্ড বিশেষ বৈজ্ঞানিক প্রস্তুতি নিয়ে টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। অন্যদিকে ব্রাজিল প্রায় এক মাস আগে মেক্সিকোয় এসে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছিল।

ফলে ম্যাচটি কেবল ফুটবল দক্ষতার পরীক্ষা ছিল না, বরং শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক দৃঢ়তারও পরীক্ষা ছিল। খেলার শুরু থেকেই দুই দলই ছিল সতর্ক অবস্থানে। ব্রাজিল বলের দখল ধরে রেখে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করছিল, আর ইংল্যান্ড সুযোগ পেলেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠছিল।

মাঠে প্রতিটি বলের জন্য লড়াই হচ্ছিল, প্রতিটি পাসের পেছনে ছিল কৌশল, প্রতিটি মুভমেন্টে ছিল হিসাব-নিকাশ। ম্যাচের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত আসে প্রথমার্ধে। ডান দিক থেকে জর্জিনহোর ক্রসে উঁচুতে লাফিয়ে দুর্দান্ত একটি হেড করেন পেলে। বলটি এতটাই শক্তিশালী ও নিখুঁত ছিল যে পেলে নিজেও গোল উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিলেন।

কিন্তু তখনই ঘটে অলৌকিক কিছু। ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক গর্ডন বাঙ্কস ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে অবিশ্বাস্যভাবে বলটি পোস্টের বাইরে ঠেলে দেন।

পরে পেলে নিজেই বলেছিলেন, তিনি নিশ্চিত ছিলেন এটি গোল হবে। ফুটবল ইতিহাসে এই মুহূর্তটি পরিচিত হয়ে যায় ‘দ্য সেভ অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে। আজও বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা সেভের আলোচনা উঠলে গর্ডন বাঙ্কসের সেই সেভ সবার আগে চলে আসে।

প্রথমার্ধ গোলশূন্য শেষ হলেও ম্যাচের উত্তেজনা একটুও কমেনি। ৫৯তম মিনিটে আসে সেই মুহূর্ত। আর এই মুহূর্তই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

 

মাঝমাঠ থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে পেলে বল পান বক্সের সামনে। সাধারণ কোনো খেলোয়াড় হয়তো নিজেই শট নিতেন। কিন্তু পেলে দেখলেন ডান দিকে ফাঁকা জায়গায় ছুটে যাচ্ছেন জর্জিননহো। এক মুহূর্ত দেরি না করে তিনি নিখুঁত পাস বাড়িয়ে দেন।

জর্জিনহো শক্তিশালী শটে বল জালে পাঠিয়ে দেন। গর্ডন বাঙ্কস এবার আর কিছুই করতে পারেননি।

গোলটি ছিল ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সৌন্দর্যের প্রতীক—দৃষ্টিশক্তি, সৃজনশীলতা, গতি এবং নিখুঁত সমন্বয়ের এক অনবদ্য উদাহরণ।

ম্যাচটির আরেকটি স্মরণীয় দিক ছিল দুই কিংবদন্তি—ববি মুর ও পেলের দ্বৈরথ। ম্যাচজুড়ে মুর অসাধারণ দক্ষতায় পেলেকে সামলানোর চেষ্টা করেছেন। আবার পেলের প্রতিটি স্পর্শে ফুটে উঠেছে তার অসাধারণ প্রতিভা।

খেলা শেষে দুজনের জার্সি বিনিময়ের দৃশ্য ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত ছবিতে পরিণত হয়। আজও সেই ছবি খেলাধুলার সৌহার্দ্য, সম্মান ও মহত্ত্বের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ব্রাজিলের ১-০ জয় হয়তো স্কোরলাইনের বিচারে খুব বড় কিছু ছিল না। কিন্তু এর প্রতীকী গুরুত্ব ছিল বিশাল।

এই ম্যাচে ব্রাজিল দেখিয়ে দেয় যে তারা আবারও বিশ্ব ফুটবলের সিংহাসনে ফিরে এসেছে। ১৯৬৬ সালের ব্যর্থতা কেবল একটি দুর্ঘটনা ছিল।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডের জন্য এটি ছিল ধীরে ধীরে আধিপত্য হারানোর শুরুর ইঙ্গিত। যদিও তারা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল, তবু ১৯৬৬ সালের অপ্রতিরোধ্য ইংল্যান্ড আর আগের জায়গায় ফিরতে পারেনি।

অনেক ফুটবল ইতিহাসবিদ মনে করেন, এই ম্যাচে বিশ্ব ফুটবল নতুন দিকনির্দেশনা পেয়েছিল। রক্ষণাত্মক ও ফলকেন্দ্রিক ফুটবলের বিপরীতে আক্রমণাত্মক, সৃজনশীল ও দর্শনীয় ফুটবল যে বিশ্বকে মুগ্ধ করতে পারে, ব্রাজিল সেটিই প্রমাণ করেছিল।

এরপরের গল্প সবাই জানে। ফাইনালে ইতালিকে ৪-১ গোলে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নেয় ব্রাজিল। সেই দলের অনেকেই আজও সর্বকালের সেরা বিশ্বকাপ দলের সদস্য হিসেবে বিবেচিত হন।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই বিশ্বকাপের কথা উঠলে শুধু ফাইনালের কথা নয়, বারবার ফিরে আসে ব্রাজিল-ইংল্যান্ড ম্যাচের স্মৃতি। কারণ এটি ছিল এমন এক ম্যাচ যেখানে ফলাফলের চেয়ে বড় ছিল ফুটবলের সৌন্দর্য, কৌশল, ব্যক্তিগত মাহাত্ম এবং ইতিহাসের প্রবাহ।

৫৬ বছর পরও ম্যাচটি কেবল একটি ১-০ জয় নয়। এটি এমন এক লড়াই, যেখানে মুখোমুখি হয়েছিল দুই ফুটবল সভ্যতা, দুই যুগ এবং দুই দর্শন। আর সেই কারণেই ব্রাজিল-ইংল্যান্ডের ১৯৭০ সালের লড়াই আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে অমর ম্যাচগুলোর একটি।

২০২৬ বিশ্বকাপে যেসব রেকর্ড গড়তে পারেন মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক
২০২৬ বিশ্বকাপে যেসব রেকর্ড গড়তে পারেন মেসি
লিওনেল মেসি। ছবি : রয়টার্স

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে ইতোমধ্যেই জায়গা নিশ্চিত করেছেন লিওনেল মেসি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসরে তাকে মাঠে দেখা প্রায় নিশ্চিত। আর এই বিশ্বকাপে খেলতে নামলেই আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সামনে খুলে যাবে একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়ার সুযোগ।

জার্মানি ২০০৬ থেকে কাতার ২০২২—এ পর্যন্ত পাঁচটি বিশ্বকাপে খেলেছেন মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নামতে পারলে ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনন্য কীর্তি গড়বেন তিনি। পাশাপাশি নিজের দখলে থাকা সর্বাধিক বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার রেকর্ডটিও আরো সমৃদ্ধ করার সুযোগ থাকবে তার সামনে।

শুধু ম্যাচ নয়, গোলের রেকর্ডেও রয়েছে নতুন সম্ভাবনা। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১৩ গোল করা মেসি রয়েছেন সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোজার (১৬) খুব কাছাকাছি। মাত্র তিন গোল করলেই জার্মান কিংবদন্তির রেকর্ড স্পর্শ করবেন, আর চার গোল তাকে নিয়ে যাবে নতুন উচ্চতায়।

শুধু গোল বা ম্যাচ নয়, বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি মিনিট খেলা, সর্বাধিক অ্যাসিস্ট এবং সর্বাধিক গোল অবদানের মতো আরো কয়েকটি পরিসংখ্যানেও নিজের অবস্থান আরো শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে মেসির সামনে।

কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা ঘুচিয়েছিলেন মেসি। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে পারে তার কিংবদন্তি অধ্যায়ের আরেকটি সোনালি সংযোজন, যেখানে ব্যক্তিগত রেকর্ডের পাতায়ও তিনি লিখতে পারেন নতুন ইতিহাস।

চোট সারাতে নাসার প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন নেইমার

ক্রীড়া ডেস্ক
চোট সারাতে নাসার প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন নেইমার
নাসার প্রযুক্তি থেকে অনুপ্রাণিত একটি বিশেষ অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি ট্রেডমিল ব্যবহার করছেন নেইমার।

বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে, আর সেই লড়াইয়ে সময়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন নেইমার। ব্রাজিলের তারকা ফুটবলারের চোট সারাতে এবার ব্যবহার করা হচ্ছে নাসার প্রযুক্তি থেকে তৈরি বিশেষ এক যন্ত্র, যা তার বিশ্বকাপ খেলার আশা আরো উজ্জ্বল করে তুলেছে।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো এসপোর্তে-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডান পায়ের কাফ ইনজুরি থেকে দ্রুত সেরে উঠতে নাসার প্রযুক্তি থেকে অনুপ্রাণিত একটি বিশেষ অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি ট্রেডমিল ব্যবহার করছেন নেইমার।

আরো পড়ুন
বিশ্বকাপের আগে নিরাপত্তা শঙ্কা, ইংল্যান্ড দলের ঘাঁটির কাছে গোলাগুলিতে আহত ৯

বিশ্বকাপের আগে নিরাপত্তা শঙ্কা, ইংল্যান্ড দলের ঘাঁটির কাছে গোলাগুলিতে আহত ৯

 

শনিবার (৬ জুন) এই বিশেষ যন্ত্রে অনুশীলন করেছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার। ট্রেডমিলটির বিশেষত্ব হলো, এটি শরীরের ওজনের একটি অংশ কমিয়ে দেয়। ফলে ইনজুরিগ্রস্ত স্থানে কম চাপ পড়ে এবং খেলোয়াড় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম ঝুঁকিতে দৌড়াতে পারেন।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের বিভিন্ন ক্রীড়াবিদ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছেন। ইতিমধ্যে ব্রাজিলের কয়েকটি ক্লাবও নিজেদের মেডিক্যাল সুবিধার অংশ হিসেবে এটি যুক্ত করেছে।

আরো পড়ুন
মাঠেই লুটিয়ে পড়লেন ডেনমার্কের তারকা ফুটবলার, অতঃপর...

মাঠেই লুটিয়ে পড়লেন ডেনমার্কের তারকা ফুটবলার, অতঃপর...

 

নেইমারের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ মূল্যায়নের জন্য আজ সোমবার (৮ জুন) নতুন করে ইমেজিং পরীক্ষা করা হবে। সেই পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করবে তার পরবর্তী পুনর্বাসন পরিকল্পনা।

যদি মেডিক্যাল টিম তাকে সবুজসংকেত দেয়, তাহলে তিনি দলের সঙ্গে শারীরিক অনুশীলনে ফিরবেন। এরপর ধীরে ধীরে বল নিয়ে অনুশীলন শুরু করার অনুমতি দেওয়া হবে, তবে সেটি নির্ভর করবে তার উন্নতির গতির ওপর।

ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি আগেই জানিয়েছিলেন, নেইমারের অবস্থা নিয়ে তারা আশাবাদী। যদিও বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তার খেলা এখনো নিশ্চিত নয়, তবু সেলেসাও শিবিরের বিশ্বাস, দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ তারকা সময়মতো সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন।

আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। সেই ম্যাচের আগে নেইমারের ফিটনেস নিয়ে পুরো ফুটবল বিশ্বের নজর এখন ব্রাজিল দলের মেডিক্যাল রিপোর্টের দিকে।

বিশ্বকাপের আগে নিরাপত্তা শঙ্কা, ইংল্যান্ড দলের ঘাঁটির কাছে গোলাগুলিতে আহত ৯

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের আগে নিরাপত্তা শঙ্কা, ইংল্যান্ড দলের ঘাঁটির কাছে গোলাগুলিতে আহত ৯

বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের বেসক্যাম্পের কাছাকাছি এলাকায় গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি বিশ্বকাপ আয়োজন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

স্থানীয় সময় শনিবার (৬ জুন) ভোর প্রায় ৪টার দিকে কানসাস সিটির ব্যস্ত সড়ক ট্রুস্ট অ্যাভিনিউ এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যরা। মুহূর্তেই এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা তৎপরতা শুরু হয়।

আরো পড়ুন
মাঠেই লুটিয়ে পড়লেন ডেনমার্কের তারকা ফুটবলার, অতঃপর...

মাঠেই লুটিয়ে পড়লেন ডেনমার্কের তারকা ফুটবলার, অতঃপর...

 

পুলিশ জানিয়েছে, আহত নয়জনকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কারো আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আহতদের বিস্তারিত অবস্থা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনাস্থলটি ইংল্যান্ড জাতীয় দলের নির্ধারিত অনুশীলন কেন্দ্র থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত। বিশ্বকাপ চলাকালে কানসাস সিটিকেই নিজেদের বেসক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করবে ইংল্যান্ড।

এই ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তদন্ত শুরু করেছে মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পাশাপাশি বিশ্বকাপ উপলক্ষে কানসাস সিটিতে অবস্থান করা সব জাতীয় দলের নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন
বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে ব্রাজিল দলে পরিবর্তন

বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে ব্রাজিল দলে পরিবর্তন

 

শুধু ইংল্যান্ড নয়, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, নেদারল্যান্ডস এবং আলজেরিয়াও কানসাস সিটিতে তাদের প্রস্তুতি ক্যাম্প স্থাপন করবে। ফলে আয়োজকদের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এরই মধ্যে প্রস্তুতি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় রয়েছে ইংল্যান্ড। তবে মাঠের বাইরের এই ঘটনা বিশ্বকাপের আগে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আয়োজকরা অবশ্য আশ্বস্ত করেছেন যে টুর্নামেন্ট চলাকালে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।