• ই-পেপার

বিশ্ববাজারে সোনার দামে ফের পতন

তেলাপোকা কী মোদিকে ভয় দেখাতে পারবে

অনলাইন ডেস্ক
তেলাপোকা কী মোদিকে ভয় দেখাতে পারবে
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক (ডানে)

তেলাপোকাকে সবাই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন। কাউকে অবহেলা বা উপেক্ষা করতে আমরা বলি ‘তেলাপোকাও একটা পাখি, তু্ইও একটা মানুষ।’ তবে তেলাপোকার একটা সাংঘাতিক ক্ষমতা আছে, অভিযোজন ক্ষমতা বা টিকে থাকার ক্ষমতা। অমর কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখে গেছেন ‘অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে’। তাচ্ছিল্য আর টিকে থাকার ক্ষমতা- দুয়ে মিলে ভারতে এখন তেলাপোকার জোয়ার বইছে। বিজেপির কাউন্টার হিসেবে যেন মাঠে নেমেছে সিজেপি, মানে ককরোচ জনতা পার্টি।

ভেজালটা লাগিয়েছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। গত ১৫ মে ভারতের সুপ্রিম কোটে একটি মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘দেশে এমন কিছু তরুণ রয়েছে, যারা তেলাপোকার মতো; তারা না কোনো কর্মসংস্থান পায়, না নিজেদের কোনো পেশাগত অবস্থান তৈরি করতে পারে। তাদের কেউ কেউ মিডিয়া বা সোশ্যাল মিডিয়া কর্মী হয়ে ওঠে; কেউ বনে যায় অ্যাক্টিভিস্ট এবং এরপর তারা সবাইকেই আক্রমণ করা শুরু করে দেয়।’ ব্যস আর যায় কোথায়। এ যেন স্তুপ করে রাখা তপ্ত বারুদে অগ্নিশলাকা। প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের পরদিনই উড়তে শুরু করে তেলাপোকার দল। উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তরুণ অভিজিত দীপক ভার্চুয়াল জগতে গড়ে তোলেন ককরোচ জনতা পাটি- সিজেপি। 

আম আদমী পার্টির সাবেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপক শুরুটা করেছিলেন ফান থেকে। কিন্তু এখন আর বিষয়টা ফান পর্যায়ে নেই। বানের জলের মতো ভাসিয়ে নিতে চাইছে সবকিছু। মাত্র ২১ দিনের মাথায় ভার্চুয়াল থেকে অ্যাকচুয়াল জগতে নেমে পড়েছে তারা। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লীর যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ করেছে ককরোচ পার্টি।

শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগের জন্য ৭ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে তেলাপোকারা। ২৩ জুন রামলীলা ময়দানে আরো বড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিজেপি। হঠাৎ করেই ফান থেকে সিরিয়াস, যেন আন্দোলনের গিয়ার চেঞ্জ। সুকান্তের কবিতার মত ‘হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়/এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো/পদ-লালিত্য-ঝংকার মুছে যাক/গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো’।

প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের পরদিন আমেরিকায় বসে অভিজিত দীপক অনলাইনে জাতীয় ককরোচ পার্টি গড়ে তোলেন। বেকার, অলস, দীর্ঘ সময় অনলাইনে কাটানো এবং পেশাগতভাবে ক্ষোভ প্রকাশের ক্ষমতা থাকাই ছিল দলটিতে যোগ দেওয়ার মূল যোগ্যতা। দেখা গেল ভারতে তথাকথিত ‘বেকার, অলস ও দীর্ঘ সময় অনলাইনে কাটানো’র মতো লোকের অভাব নেই। হু হু করে স্রোতের মতো মানুষ ককরোচ পার্টিকে ফলো করতে থাকে। শুরুতে কেউ পাত্তা না দিলেও দ্রুতই তেলাপোকা বাহিনী ভারতের পুরাতন ও দৃঢ় অ্যাস্টাবলিস্টমেন্টের বিরক্তির কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের কপালে এখন চিন্তার ভাজ। সিজেপির ওয়েবসাইট ব্লক করা, একাউন্ট হ্যাক করা তো আছেই অভিজিত দীপককে হুমকি দেওয়া, শনিবারের বিক্ষোভে আসতে বাধা দেওয়া- তেলাপোকাদের স্রোত ঠেকাতে অনলাইনে অফলাইনে চেষ্টা কম হয়নি। কিন্তু এখনও তরুণ প্রজন্মকে ঠেকানোর কার্যকর উপায় খুঁজে পায়নি শাসকরা। আসলে কংগ্রেস বা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনীতির কৌশলের খেলা যতটা সহজ; ক্ষুব্ধ তারুণ্যকে সামলানো ততটাই কঠিন। ওয়েবসাইট ব্লক, অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার মতো ছোট চেষ্টা বড় সমালোচনা ডেকে এনেছে। 

গত একযুগে ভারতের ঐতিহ্যবাহী গণতন্ত্রকে নিজের কৌশলের দাস বানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য আছে বটে, কিন্তু নিবাচনের মাঠ প্রায়ই অসমতল হয়ে ওঠে মোদি আর অমিত শাহর ইচ্ছায়, কৌশলে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নয়ছয় করে, ব্যাপক ধড়পাকড় চালিয়ে নির্বাচনের আগেই তৃণমূল কংগ্রেসকে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে একাই খেলেছেন মোদি। অনায়াসে দখল করে নিয়েছেন বহু আরাধ্য বাংলা। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসকে ভয় দেখিয়ে মাঠছাড়া করতে পারলেও সিজেপির ক্ষেত্রে এটা সম্ভব নয় বিজেপির পক্ষে। কারণ এরা প্রচলিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়। এদের না মারলেও বিপদ, মারলে আরো বেশি বিপদ। একটা একাউন্ট হ্যাক করলে আরেকটা অ্যাকাউন্ট খুলবে, তাতে ফলোয়ার আরো বাড়বে। সাধারণ স্রোতকে বাধে আটকানো যায়, কিন্তু সিজেপির মত জোয়ারকে আটকানো যায় না। 

তেলাপোকার দলের টিকে থাকার কৌশলটা ফাঁস করে দিয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপক বলেন, ‘রাষ্ট্রব্যবস্থার কাছে আমরা শুধুই ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ। আমরা তুচ্ছ, সহজেই অবহেলাযোগ্য ও পুরোপুরি আবর্জনার মতো। কিন্তু তেলাপোকা সব পরিবেশেই টিকে থাকে। আপনারা আমাদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু একেবারে মুছে ফেলতে পারবেন না।’

এটাই চিন্তার কারণ। ১২ বছরে নরেন্দ্র মোদি এত বড় অনলাইন চ্যালেঞ্জে আর পড়েননি। বিজেপির তুলনায় সিজেপি ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র। বিজেপি যদি হাতি হয়, সিজেপি তেলাপোকাও নয়. অতি ক্ষুদ্র পিপড়া মাত্র। কিন্তু সেই পিপড়াই জায়গামত কামড়াতে পারলে হাতিকেও বিরক্ত করতে পারে। ভারতেরই একটি সিনেমা আছে ‘মাক্ষি’ নামে। মহা প্রতাপশালী এক লোকের মাথায় ঢুকে পড়া এক মাছি তার জীবন অতিষ্ঠ করে ফেলে। এই তেলাপোকাও সেই মাছির মত ক্ষমতাসীনদের মাথা খারাপ করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। আর শরত বাবু তো অতিকায় হস্তির লোপ পাওয়া আর তেলাপোকার টিকে থাকার গল্প অনেক আগেই লিখে গেছেন।

তেলাপোকাকে যতই অবহেলা আর তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হোক, আদতে তেলাপোকা একটি নিরীহ পোকা। ‘করে  নাকো ফোঁসফাঁস, মারে নাকো ঢুসঢাস’ মাকা। কিন্তু কেন  যেন অধিকাংশ মানুষ তেলাপোকাকে ভয় পায় বা ঘৃণা করে। ভারতের এই তরুণ তেলাপোকারা কি নিজেদের তেমন ভয় পাওয়ার মত করে তুলতে পারবেন? মহাপ্রতাপশালী নরেন্দ্র মোদী কী ককরোচ পাটিকে ভয় পাচ্ছেন?

ইরানে দীর্ঘ অভিযানের প্রস্তুতিতে ইসরায়েল, ডাকা হচ্ছে রিজার্ভ সেনা

অনলাইন ডেস্ক
ইরানে দীর্ঘ অভিযানের প্রস্তুতিতে ইসরায়েল, ডাকা হচ্ছে রিজার্ভ সেনা
ছবি: রয়টার্স

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান আরো কয়েক দিন ধরে চলতে পারে বলে ধারণা করছে দেশটির সেনাবাহিনী। এমন তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি আর্মি রেডিও।

আর্মি রেডিওর সামরিক প্রতিবেদক ডোরন কাদোশ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বড় পরিসরে রিজার্ভ সদস্যদের ডাকার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে কয়েকটি রিজার্ভ ব্যাটালিয়নও সক্রিয় করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে কাদোশ বলেন, সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় সেনা উপস্থিতি বাড়ানো হবে। বিশেষ করে অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং জর্ডান সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ডও পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। সংস্থাটি আজ সকাল থেকেই বড় পরিসরে রিজার্ভ সদস্যদের ডাকা শুরু করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রিজার্ভ বাহিনী সক্রিয় করা এবং সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যাচ্ছে, ইসরায়েল দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে এমন একটি সামরিক পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এদিকে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। দুই দেশের মধ্যে সামরিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
 

লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলে হুতি গোষ্ঠীর নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক
লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলে হুতি গোষ্ঠীর নিষেধাজ্ঞা
ছবি : রয়টার্স

লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী। যেকোনো গতিবিধি দেখা গেলেই হামলা চালানো হবে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সোমবার ইসরায়েলের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘোষণা দিয়েছে। 

এ ঘটনায় এই গুরুত্বপূর্ণ পথে পুনরায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হুতিদের সশস্ত্রবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা লোহিত সাগরে ইসরায়েলি নৌচলাচলের ওপর সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করছি।’ এই বিবৃতিতে এপ্রিলের শুরুর পর ইসরায়েলের ওপর প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংঘাত চলাকালীন হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী ইসরায়েলি জাহাজগুলোর ওপর ক্রমাগত হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়ার দেওয়া এক বিবৃতিতে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলে হামলা চালানোর বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে।

ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫, আহত শতাধিক

অনলাইন ডেস্ক
ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫, আহত শতাধিক
ছবি : রয়টার্স

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে সোমবার ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অধিকাংশ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে ভবন ধসে পড়া ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ছিল সমুদ্রের নিচে, যার ফলে আশপাশের উপকূলে প্রায় ১ মিটার (৩ ফুট) উচ্চতার সুনামি ঢেউ দেখা যায়। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুনামির আশঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে বলে জানিয়েছে প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার।

ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজির পরিচালক টেরেসিটো বাকোলকল জানিয়েছেন, ভূমিকম্পটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পাওয়া ভিডিওগুলোতে একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিত্র দেখা গেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুনামির কারণে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান চলছে।

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে এ বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির ভূমিকম্প সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.৮ এবং এটি সমুদ্রের নিচে ৩৩ কিলোমিটার গভীরে উৎপন্ন হয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল সারাঙ্গানি প্রদেশের মায়াসিম শহর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে।

ক্ষয়ক্ষতি 

ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী জেনারেল সান্তোস, যেখানে ৭ লাখেরও বেশি মানুষ বসবাস করে এবং যা টুনা রপ্তানি ও বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ভূমিকম্পের পর একাধিক আফটারশক অনুভূত হয় এবং এটি মালয়েশিয়াতেও অনুভূত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার উপকূলে ছোট আকারের সুনামি ঢেউও রেকর্ড করা হয়েছে।

বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক রড সস্মেনা এপিকে জানিয়েছেন, ফিলিপাইনের জেনারেল সান্তোসে ভূমিকম্পে অন্তত ৭ জন নিহত এবং প্রায় ১৩০ জন আহত হয়েছেন। সেখানে কয়েকটি ছোট ভবন আংশিকভাবে ধসে পড়েছে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনায় বিপজ্জনক ফাটল দেখা দিয়েছে। তিনি এবং আরেক কর্মকর্তা এডনার দায়াংহিরাং জানান, দক্ষিণাঞ্চলের দক্ষিণ কোটাবাটো ও দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশ এবং বালুত দ্বীপে আরো ৫ জন নিহত হয়েছেন।

সস্মেনা বলেন, জেনারেল সান্তোসে ধসে পড়া একটি দোতলা স্কুলে কয়েকজন শিক্ষার্থী আটকা পড়তে পারে বলে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যাচাই করছে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেননি। তবে জাতীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে অন্তত ৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

সোমবার গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে ফিলিপাইনের সব সরকারি স্কুল খুলে দেওয়া হয়। কর্মকর্তা এডনার দায়াংহিরাং জানান, সকালে পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ১০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত এবং কিছু শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

জেনারেল সান্তোসের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ১৭টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

আঞ্চলিক পরিচালক রড সস্মেনা বলেন, ভূমিকম্পের সময় তিনি গাড়িতে ছিলেন। তিনি জানান, ‘আমার পিকআপ হঠাৎ কেঁপে ওঠে, আমি ভেবেছিলাম টায়ার পাংচার হয়েছে। মানুষ ঘর থেকে দৌড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে।’

দাভাও শহরে অবস্থানরত আরেক কর্মকর্তা এডনার দায়াংহিরাং বলেন, ভূমিকম্পের সময় তিনি ভারসাম্য রাখতে পারছিলেন না। তিনি জানান, ‘মাটি কাঁপতে থাকায় আমি ঠিকমতো দাঁড়াতেই পারছিলাম না।’ এদিকে ম্যানিলার একটি রেডিও জানিয়েছে, তাদের একটি আঞ্চলিক কার্যালয় থাকা চারতলা বাণিজ্যিক ভবনের আংশিক অংশ ধসে পড়েছে। তবে কর্মীরা দ্রুত নিচে নেমে আসায় কেউ আহত হননি। এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি ধ্বংসস্তূপে কেউ আটকে আছেন কি না। ভূমিকম্পের কারণে ভবন থেকে ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে পার্ক করা ট্রাইসাইকেল ট্যাক্সিগুলোর ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রায় ৩ ফুট উচ্চতার সুনামি ঢেউ

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ১ মিটার (৩ ফুট) উচ্চতার সুনামি ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুলতান কুদারাত ও সারাঙ্গানি প্রদেশে এই ঢেউ পর্যবেক্ষণ করা হয়। মালয়েশিয়ার আবহাওয়া দপ্তর বর্নিও দ্বীপের সাবাহ রাজ্যে সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। সাবাহ দক্ষিণ ফিলিপাইনের কাছাকাছি অবস্থিত। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের কাছে ৮৩ সেন্টিমিটার (২.৭ ফুট) উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ৫৫ কিলোমিটার। বিভিন্ন সংস্থার প্রাথমিক পর্যায়ের পরিমাপে এমন পার্থক্য হওয়া স্বাভাবিক বলে জানিয়েছে তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিলিপাইন বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের `রিং অব ফায়ার'-এ অবস্থিত হওয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মুখোমুখি হয়। এছাড়া দেশটিতে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২০টি টাইফুন ও ঝড় আঘাত হানে।