• ই-পেপার

ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫, আহত শতাধিক

পরমাণু সক্ষমতা আরো বাড়ানোর ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার

অনলাইন ডেস্ক
পরমাণু সক্ষমতা আরো বাড়ানোর ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের আহ্বানকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির শাসক পরিবারের প্রভাবশালী সদস্য ও নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরো জোরদার করবে।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের আত্মরক্ষার জন্য গড়ে তোলা পারমাণবিক প্রতিরোধ শক্তি কোনো অবস্থাতেই দুর্বল করা হবে না। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আরো শক্তিশালী করার নীতি অনুসরণ করা হবে।

পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থানেরও কঠোর সমালোচনা করেন কিম ইয়ো জং। তার ভাষ্য, উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার যে লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে সামনে রেখে আসছে, সেটি বাস্তবতাবিবর্জিত এবং পুরনো চিন্তার প্রতিফলন।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফরের প্রাক্কালে এই মন্তব্য করেন তিনি। প্রায় সাত বছর পর এটি উত্তর কোরিয়ায় শি চিন পিংয়ের প্রথম সফর, যা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এ সময় কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্রের একটি দাবিকেও সরাসরি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের বিষয়ে একমত হয়েছেন বলে যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তা সত্য নয়। এ ধরনের আলোচনার প্রকৃত বিষয়বস্তু সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বাইরের কেউ কিছু জানে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার সমালোচনা করে কিম ইয়ো জং বলেন, তারা এখনো পুরনো ধারণা থেকে বের হতে পারেননি। উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব যে পারমাণবিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরো শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি চূড়ান্ত এবং তা বাস্তবায়ন থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই উত্তর কোরিয়া নতুন একটি পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন কেন্দ্রের কার্যক্রম প্রকাশ্যে এনেছে। ওই স্থাপনা পরিদর্শনের সময় কিম জং উন দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর আহ্বান জানান।

একই সময়ে সামরিক খাতেও বড় ধরনের পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছে পিয়ংইয়ং। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র কারখানা পরিদর্শনকালে কিম জং উন আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা আড়াই গুণ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনের প্রেসিডেন্টের সফরের আগে নতুন পারমাণবিক স্থাপনা প্রদর্শন এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা শুধু সামরিক বার্তা নয়, বরং কৌশলগত পদক্ষেপও। এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে চাইছে। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে আলোচনায় বেশি সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করা এবং পারমাণবিক কর্মসূচিকে বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টাও এর অংশ হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

ভাবমূর্তি রক্ষায় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চান নেতানিয়াহু

অনলাইন ডেস্ক
ভাবমূর্তি রক্ষায় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চান নেতানিয়াহু

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েলের ভেতরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে শক্ত অবস্থান দেখা গেছে। দেশটির অনেক নাগরিক ও রাজনৈতিক মহলের ধারণা ছিল, সামরিক অভিযান আরো দীর্ঘ সময় ধরে চালানো উচিত।

ইরান থেকে রকেট হামলা শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানালেও ইসরায়েলের অনেকেই সেই আহ্বানে সাড়া দিতে আগ্রহী ছিলেন না।

বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে শুধু নিরাপত্তা বা সামরিক কারণই নয়, রাজনৈতিক কারণও কাজ করেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব ও ভাবমূর্তি নিয়ে দেশে আলোচনা শুরু হয়।

সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে হওয়া একটি ফোনালাপের তথ্য গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। ইসরায়েলের অনেকের মধ্যে ধারণা তৈরি হয় যে, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সামরিক অভিযান সীমিত রাখতে বলেছেন। পাশাপাশি লেবাননের রাজধানী বৈরুতকে লক্ষ্য করে হামলা না চালানোরও পরামর্শ দিয়েছেন।

এই খবর প্রকাশের পর নেতানিয়াহুর ভাবমূর্তি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজেকে একজন শক্ত অবস্থানের নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন। সমর্থকদের কাছে তিনি এমন একজন নেতা হিসেবে পরিচিত, যিনি ইসরায়েলের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও দ্বিমত পোষণ করতে পারেন।

কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে অনেকের কাছে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বা সামরিক পদক্ষেপ সীমিত করার বিষয়টি তার রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে ইসরায়েলের একটি অংশের প্রত্যাশা ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ করতে নেতানিয়াহু কোনো কৌশলগত পদক্ষেপ নেবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের জন্য এই পরিস্থিতি শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির অনেক নাগরিক চলমান সংঘাতকে ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবে দেখেন। তাদের মতে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে।

তবে এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও বড় ভূমিকা রাখছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন, জনসমর্থন ধরে রাখা এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রশ্নও নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। ফলে বর্তমান সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।
 

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ, নিহত ৭

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ, নিহত ৭
ছবি : রয়টার্স।

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে পুলিশ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি আন্দোলনকারী গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৭ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে সোমবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিতে সক্রিয় সরকারবিরোধী সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) সমর্থকরা সম্প্রতি তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। যদিও কয়েক দিন আগে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গোষ্ঠীটিকে নিষিদ্ধ করে। 

রাওয়ালকোট শহরের বেসামরিক কমিশনার সরদার ওয়াহিদ জানান, সর্বশেষ সংঘর্ষে ৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৪০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সংঘর্ষে ৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেএএসির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ইতোমধ্যে সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের বৃহত্তম শহর মুজাফফারাবাদে বড় ধরনের সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এএফপি’র এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের মুজাফফারাবাদে সোমবার বাজারগুলো খোলা ছিল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শহরে টহল দিচ্ছিল। সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও লকডাউনের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দারা আগে থেকেই দোকান থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুত করতে ভিড় করেন।

আন্দোলনকারী সংগঠন জেএএসি তাদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করাকে ‘দমননীতি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটি দাবি করছে, তারা বৈধ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত সপ্তাহান্তে ৭০ জনেরও বেশি জেএএসি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে, গত সেপ্টেম্বরে জেএএসি-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কয়েক দিনের সহিংস সংঘর্ষে এই অঞ্চলে নয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। কাশ্মীর অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিতর্কিত। দুই দেশই পুরো অঞ্চলটির ওপর নিজেদের মালিকানা দাবি করলেও ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতার পর থেকে এটি তাদের মধ্যে বিভক্ত অবস্থায় রয়েছে।

তেলাপোকা কী মোদিকে ভয় দেখাতে পারবে

অনলাইন ডেস্ক
তেলাপোকা কী মোদিকে ভয় দেখাতে পারবে
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক (ডানে)

তেলাপোকাকে সবাই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন। কাউকে অবহেলা বা উপেক্ষা করতে আমরা বলি ‘তেলাপোকাও একটা পাখি, তু্ইও একটা মানুষ।’ তবে তেলাপোকার একটা সাংঘাতিক ক্ষমতা আছে, অভিযোজন ক্ষমতা বা টিকে থাকার ক্ষমতা। অমর কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখে গেছেন ‘অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে’। তাচ্ছিল্য আর টিকে থাকার ক্ষমতা- দুয়ে মিলে ভারতে এখন তেলাপোকার জোয়ার বইছে। বিজেপির কাউন্টার হিসেবে যেন মাঠে নেমেছে সিজেপি, মানে ককরোচ জনতা পার্টি।

ভেজালটা লাগিয়েছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। গত ১৫ মে ভারতের সুপ্রিম কোটে একটি মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘দেশে এমন কিছু তরুণ রয়েছে, যারা তেলাপোকার মতো; তারা না কোনো কর্মসংস্থান পায়, না নিজেদের কোনো পেশাগত অবস্থান তৈরি করতে পারে। তাদের কেউ কেউ মিডিয়া বা সোশ্যাল মিডিয়া কর্মী হয়ে ওঠে; কেউ বনে যায় অ্যাক্টিভিস্ট এবং এরপর তারা সবাইকেই আক্রমণ করা শুরু করে দেয়।’ ব্যস আর যায় কোথায়। এ যেন স্তুপ করে রাখা তপ্ত বারুদে অগ্নিশলাকা। প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের পরদিনই উড়তে শুরু করে তেলাপোকার দল। উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তরুণ অভিজিত দীপক ভার্চুয়াল জগতে গড়ে তোলেন ককরোচ জনতা পাটি- সিজেপি। 

আম আদমী পার্টির সাবেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপক শুরুটা করেছিলেন ফান থেকে। কিন্তু এখন আর বিষয়টা ফান পর্যায়ে নেই। বানের জলের মতো ভাসিয়ে নিতে চাইছে সবকিছু। মাত্র ২১ দিনের মাথায় ভার্চুয়াল থেকে অ্যাকচুয়াল জগতে নেমে পড়েছে তারা। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লীর যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ করেছে ককরোচ পার্টি।

শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগের জন্য ৭ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে তেলাপোকারা। ২৩ জুন রামলীলা ময়দানে আরো বড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিজেপি। হঠাৎ করেই ফান থেকে সিরিয়াস, যেন আন্দোলনের গিয়ার চেঞ্জ। সুকান্তের কবিতার মত ‘হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়/এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো/পদ-লালিত্য-ঝংকার মুছে যাক/গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো’।

প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের পরদিন আমেরিকায় বসে অভিজিত দীপক অনলাইনে জাতীয় ককরোচ পার্টি গড়ে তোলেন। বেকার, অলস, দীর্ঘ সময় অনলাইনে কাটানো এবং পেশাগতভাবে ক্ষোভ প্রকাশের ক্ষমতা থাকাই ছিল দলটিতে যোগ দেওয়ার মূল যোগ্যতা। দেখা গেল ভারতে তথাকথিত ‘বেকার, অলস ও দীর্ঘ সময় অনলাইনে কাটানো’র মতো লোকের অভাব নেই। হু হু করে স্রোতের মতো মানুষ ককরোচ পার্টিকে ফলো করতে থাকে। শুরুতে কেউ পাত্তা না দিলেও দ্রুতই তেলাপোকা বাহিনী ভারতের পুরাতন ও দৃঢ় অ্যাস্টাবলিস্টমেন্টের বিরক্তির কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের কপালে এখন চিন্তার ভাজ। সিজেপির ওয়েবসাইট ব্লক করা, একাউন্ট হ্যাক করা তো আছেই অভিজিত দীপককে হুমকি দেওয়া, শনিবারের বিক্ষোভে আসতে বাধা দেওয়া- তেলাপোকাদের স্রোত ঠেকাতে অনলাইনে অফলাইনে চেষ্টা কম হয়নি। কিন্তু এখনও তরুণ প্রজন্মকে ঠেকানোর কার্যকর উপায় খুঁজে পায়নি শাসকরা। আসলে কংগ্রেস বা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনীতির কৌশলের খেলা যতটা সহজ; ক্ষুব্ধ তারুণ্যকে সামলানো ততটাই কঠিন। ওয়েবসাইট ব্লক, অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার মতো ছোট চেষ্টা বড় সমালোচনা ডেকে এনেছে। 

গত একযুগে ভারতের ঐতিহ্যবাহী গণতন্ত্রকে নিজের কৌশলের দাস বানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য আছে বটে, কিন্তু নিবাচনের মাঠ প্রায়ই অসমতল হয়ে ওঠে মোদি আর অমিত শাহর ইচ্ছায়, কৌশলে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নয়ছয় করে, ব্যাপক ধড়পাকড় চালিয়ে নির্বাচনের আগেই তৃণমূল কংগ্রেসকে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে একাই খেলেছেন মোদি। অনায়াসে দখল করে নিয়েছেন বহু আরাধ্য বাংলা। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসকে ভয় দেখিয়ে মাঠছাড়া করতে পারলেও সিজেপির ক্ষেত্রে এটা সম্ভব নয় বিজেপির পক্ষে। কারণ এরা প্রচলিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়। এদের না মারলেও বিপদ, মারলে আরো বেশি বিপদ। একটা একাউন্ট হ্যাক করলে আরেকটা অ্যাকাউন্ট খুলবে, তাতে ফলোয়ার আরো বাড়বে। সাধারণ স্রোতকে বাধে আটকানো যায়, কিন্তু সিজেপির মত জোয়ারকে আটকানো যায় না। 

তেলাপোকার দলের টিকে থাকার কৌশলটা ফাঁস করে দিয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপক বলেন, ‘রাষ্ট্রব্যবস্থার কাছে আমরা শুধুই ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ। আমরা তুচ্ছ, সহজেই অবহেলাযোগ্য ও পুরোপুরি আবর্জনার মতো। কিন্তু তেলাপোকা সব পরিবেশেই টিকে থাকে। আপনারা আমাদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু একেবারে মুছে ফেলতে পারবেন না।’

এটাই চিন্তার কারণ। ১২ বছরে নরেন্দ্র মোদি এত বড় অনলাইন চ্যালেঞ্জে আর পড়েননি। বিজেপির তুলনায় সিজেপি ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র। বিজেপি যদি হাতি হয়, সিজেপি তেলাপোকাও নয়. অতি ক্ষুদ্র পিপড়া মাত্র। কিন্তু সেই পিপড়াই জায়গামত কামড়াতে পারলে হাতিকেও বিরক্ত করতে পারে। ভারতেরই একটি সিনেমা আছে ‘মাক্ষি’ নামে। মহা প্রতাপশালী এক লোকের মাথায় ঢুকে পড়া এক মাছি তার জীবন অতিষ্ঠ করে ফেলে। এই তেলাপোকাও সেই মাছির মত ক্ষমতাসীনদের মাথা খারাপ করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। আর শরত বাবু তো অতিকায় হস্তির লোপ পাওয়া আর তেলাপোকার টিকে থাকার গল্প অনেক আগেই লিখে গেছেন।

তেলাপোকাকে যতই অবহেলা আর তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হোক, আদতে তেলাপোকা একটি নিরীহ পোকা। ‘করে  নাকো ফোঁসফাঁস, মারে নাকো ঢুসঢাস’ মাকা। কিন্তু কেন  যেন অধিকাংশ মানুষ তেলাপোকাকে ভয় পায় বা ঘৃণা করে। ভারতের এই তরুণ তেলাপোকারা কি নিজেদের তেমন ভয় পাওয়ার মত করে তুলতে পারবেন? মহাপ্রতাপশালী নরেন্দ্র মোদী কী ককরোচ পাটিকে ভয় পাচ্ছেন?