যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের আহ্বানকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির শাসক পরিবারের প্রভাবশালী সদস্য ও নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরো জোরদার করবে।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের আত্মরক্ষার জন্য গড়ে তোলা পারমাণবিক প্রতিরোধ শক্তি কোনো অবস্থাতেই দুর্বল করা হবে না। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আরো শক্তিশালী করার নীতি অনুসরণ করা হবে।
পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থানেরও কঠোর সমালোচনা করেন কিম ইয়ো জং। তার ভাষ্য, উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার যে লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে সামনে রেখে আসছে, সেটি বাস্তবতাবিবর্জিত এবং পুরনো চিন্তার প্রতিফলন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফরের প্রাক্কালে এই মন্তব্য করেন তিনি। প্রায় সাত বছর পর এটি উত্তর কোরিয়ায় শি চিন পিংয়ের প্রথম সফর, যা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এ সময় কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্রের একটি দাবিকেও সরাসরি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের বিষয়ে একমত হয়েছেন বলে যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তা সত্য নয়। এ ধরনের আলোচনার প্রকৃত বিষয়বস্তু সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বাইরের কেউ কিছু জানে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার সমালোচনা করে কিম ইয়ো জং বলেন, তারা এখনো পুরনো ধারণা থেকে বের হতে পারেননি। উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব যে পারমাণবিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরো শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি চূড়ান্ত এবং তা বাস্তবায়ন থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই উত্তর কোরিয়া নতুন একটি পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন কেন্দ্রের কার্যক্রম প্রকাশ্যে এনেছে। ওই স্থাপনা পরিদর্শনের সময় কিম জং উন দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর আহ্বান জানান।
একই সময়ে সামরিক খাতেও বড় ধরনের পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছে পিয়ংইয়ং। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র কারখানা পরিদর্শনকালে কিম জং উন আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা আড়াই গুণ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনের প্রেসিডেন্টের সফরের আগে নতুন পারমাণবিক স্থাপনা প্রদর্শন এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা শুধু সামরিক বার্তা নয়, বরং কৌশলগত পদক্ষেপও। এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে চাইছে। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে আলোচনায় বেশি সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করা এবং পারমাণবিক কর্মসূচিকে বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টাও এর অংশ হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।




