• ই-পেপার

ফেডারেশন কাপ

দুইবার পিছিয়ে পড়েও মোহামেডানকে হারিয়ে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস

পাকিস্তানের অধিনায়কত্ব ছাড়তে পারেন শান মাসুদ

ক্রীড়া ডেস্ক
পাকিস্তানের অধিনায়কত্ব ছাড়তে পারেন শান মাসুদ
শান মাসুদ। ছবি: এএফপি

শান মাসুদের নেতৃত্বের রেকর্ড মোটেও ভালো নয়। তার অধিনায়কত্বে ১৬ টেস্ট খেলে ১২টিতেই হেরেছে পাকিস্তান। এর মধ্যে টানা দুবার বাংলাদেশের বিপক্ষে হয়েছে ধবলধোলাই, যেটিকে পাকিস্তান ক্রিকেটের অধঃপতন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নেতৃত্বে এমন বাজে অভিজ্ঞতার পর অধিনায়কত্ব ছাড়তে পারেন শান মাসুদ। তার জায়গা নিতে পারেন বাবর আজম, যার আগে দুই দফা পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা আছে। 

সিলেট আজ বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তান ৭৮ রানে হারার পর শান মাসুদের নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদিও মাসুদ এখনো পদত্যাগের ঘোষণা দেননি। 

তবে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও সুপারের দাবি, বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ হারার পর অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শান মাসুদ। জিও সুপারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাসুদ তার ঘনিষ্ঠজনদের জানিয়েছেন, তিনি আর অধিনায়কত্ব করতে চান না। 

যদিও ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে শান মাসুদ জানালেন,  চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি), ‘আমার উদ্দেশ্য পরিষ্কার। আমি যদি টেস্ট ক্রিকেটে কোনো দায়িত্ব নিয়ে থাকি, সেটা দলের উন্নতির জন্যই। কিছু বিষয় আছে, যা বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা ও বিতর্কের দাবি রাখে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সব সময় বোর্ডই নিয়ে থাকে।’

৩৬ বছর বয়সী এই ব্যাটার আরো বলেন, ‘যে অবস্থাতেই থাকি, আমার চেষ্টা একই থাকবে। শুধু অধিনায়কের চেয়ারে বসে বা খেলোয়াড় হিসেবে কথা বলতেই হবে, এমন নয়। জীবন আমাদের কোথায় নিয়ে যায়, আমরা জানি না। তবে এই জার্সি আমি গর্বের সঙ্গে পরেছি এবং এই কাজের জন্য সবকিছু পাশে সরিয়ে রেখেছি।’

এদিকে, পাকিস্তানের দলীয় সূত্রের বরাতে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শান মাসুদ অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিলে তার জায়গা নিতে পারেন বাবর আজম। 

দলের এক কর্মকর্তা সিলেট টেস্টের আগে বলেছেন, ‘বোর্ডের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বাবরকে আবার অধিনায়ক হিসেবে দেখতে চান। তাদের বিশ্বাস, এখনই বাবরকে নেতৃত্ব দেওয়ার সঠিক সময়। সে যদি সিলেট টেস্টে ব্যাটিংয়ে ছন্দ ফিরে পায়, তাহলে অধিনায়ক হিসেবে ফেরার দৌড়ে শক্ত অবস্থানে থাকবে। বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনায় জানা গেছে, বাবর নিজেও অধিনায়ক হতে আগ্রহী।’ 

শামিকে অসম্মান, সমালোচনার মুখে অজিত আগারকার

ক্রীড়া ডেস্ক
শামিকে অসম্মান, সমালোচনার মুখে অজিত আগারকার
সংগৃহীত ছবি

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের জন্য স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড। টেস্ট দলে এবারও জায়গা হলো না ভারতীয় তারকা পেসার মোহাম্মদ শামীর। স্কোয়াড থেকে মোহাম্মদ শামির বাদ পড়াটা কি কোন ইঙ্গিত বহন করছে। নির্বাচকরা এই অভিজ্ঞ পেসারের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। এ নিয়ে জোর গুঞ্জন চলছে ভারতীয় ক্রিকেট অঙ্গনে। বিষয়টি পরিষ্কার করেছে প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকার। ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন শামী।

হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সব ফরম্যাটে তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে দল গড়ার দিকে ব্যাপকভাবে মনোযোগ দিয়েছে ভারত। সিনিয়র খেলোয়াড়দের সুযোগ দ্রুত কমে আসছে বলে মনে হচ্ছে। টিম ম্যানেজমেন্টের বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টতই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ইঙ্গিত । বিশেষ করে সাদা বলের ক্রিকেটে বেশ কিছু তরুণকে ধারাবাহিকভাবে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে শামির জাতীয় দলে পুনরায় জায়গা পাওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়বে।

প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকার বলেছেন, টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করে শামি এখনো লাল বলের ক্রিকেটের ধকল সামলানোর জন্য শারীরিকভাবে প্রস্তুত নন।

আমাদের যতটুকু জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে তার শরীর তাকে সায় দিচ্ছে… আমি জানি সে এই বছর ঘরোয়া মৌসুমে খেলেছে। কিন্তু আমি যে তথ্য পেয়েছি, তাতে এই মুহূর্তে সে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্যই প্রস্তুত। তাই তার নাম নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে যোগ করে এই নির্বাচক।

শামীকে বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যা নিয়ে প্রধান নির্বাচকের তীব্র সমালোচনা করেছেন ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান ওয়াসিম জাফর। তিনি এই যুক্তিকে শামীর মতো একজন খেলোয়াড়ের প্রতি ‘অসম্মানজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।

উল্লেখ্য, এই অভিজ্ঞ ফাস্ট বোলার গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শেষবার ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। তারপর থেকে সম্পূর্ণ ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পেতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। লাল বলের ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে রঞ্জি ট্রফিতে খেলেছিলেন। কিন্তু তাতে টেস্টে ডাক পেলেন না।

সিরিজ হারের বেদনার সঙ্গে আরেক দুঃসংবাদ সালমানের

ক্রীড়া ডেস্ক
সিরিজ হারের বেদনার সঙ্গে আরেক দুঃসংবাদ সালমানের
অনুশীলনের সময় সালমান আলি আগা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশের কাছে সিরিজ হারের বেদনা কাটিয়ে ওঠার সময়ই পেলেন না সালমান আলি আগা। এর মধ্যেই ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে এলো আচরণবিধি লঙ্ঘনের শাস্তি। অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের কারণে তিরস্কার করা হয়েছে পাকিস্তানের ব্যাটারকে।

অবশ্য শুধু তিরস্কারে পার পাননি, সালমানের নামের পাশে যোগ হয়েছে একটি ডিমেরিট পয়েন্টও। সবমিলিয়ে ২৪ মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার তার নামের পাশে ডিমেরিট পয়েন্ট যুক্ত হলো। এ বছরেই মার্চে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে তার নামের পাশে ১ ডিমেরিট পয়েন্ট যুক্ত হয়েছিল। ২৪ মাসের মধ্যে আরো ২ পয়েন্ট যুক্ত হলে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বেন সালমান। নিয়ম অনুযায়ী ৪ ডিমেরিট পয়েন্ট পেলে একটি টেস্ট অথবা সীমিত ওভারের (ওয়ানডে/টি-টোয়েন্টি) দুইটি ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা পাবেন তিনি।

শাস্তি পাওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের ৮২তম ওভারে। আউট হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় বিজ্ঞাপন বোর্ডে ব্যাট দিয়ে আঘাত করেন সালমান। তার এমন আচরণ আইসিসির আচরণবিধির লেভেল ১ লঙ্ঘন করেছে। পরে ৩২ বছর বয়সী ব্যাটারের বিরুদ্ধে ম্যাচ রেফারির কাছে অভিযোগ করেন মাঠের দুই আম্পায়ার রিচার্ড কেটেলবার্গ ও আলাউদ্দিন পালেকারের সঙ্গে থার্ড আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা ও চতুর্থ মাসুদুর রহমান মুকুল। 

আইসিসির আচরণবিধির অনুচ্ছেদ ২.২ এর বিধান অনুযায়ী পরে সালমানকে শাস্তি দিয়েছেন ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো। পাকিস্তানি ব্যাটার শাস্তি মেনে নেওয়ায় পরে আর শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।

শান্ত এখন বাংলাদেশের সফলতম টেস্ট অধিনায়ক

ক্রীড়া ডেস্ক
শান্ত এখন বাংলাদেশের সফলতম টেস্ট অধিনায়ক
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সময় ফ্রেমবন্দি নাজমুল হোসেন শান্ত। ছবি : মীর ফরিদ, সিলেট থেকে

রেকর্ডটা যে নিজের করে নেবেন নাজমুল হোসেন শান্ত তা বোঝাই যাচ্ছিল। আজ সিলেট টেস্টে তার আনুষ্ঠানিকতা সারলেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ে বাংলাদেশের সফলতম অধিনায়ক হয়েছেন বাঁহাতি ব্যাটার।

অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে সর্বোচ্চ ৮ জয় এখন শান্তর। ক্যারিয়ারের ১৮ ম্যাচ নেতৃত্ব দিয়ে এই জয় পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে ১ ড্রয়ের বিপরীতে তার অধীনে বাংলাদেশ হেরেছে ৯টিতে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চার টেস্ট জয়ে মুশফিকুর রহিমের রেকর্ডকে পেছনে ফেলেছেন শান্ত। সিলেট টেস্টের আগে দুজনেই সমান ৭ জয়ে যৌথভাবে শীর্ষে ছিল। আজ ৭৪ রানের টেস্ট জয়ে সতীর্থকে পেছনে ফেলেছেন শান্ত। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৪ টেস্টে নেতৃত্ব দেওয়া মুশফিকের অন্য ফল হচ্ছে ৯ ড্রয়ের বিপরীতে ১৮ হার। 

দুজনের পরে শীর্ষ পাঁচে আছেন সাকিব আল হাসান, মমিনুল হক ও হাবিবুল বাশার সুমন। সাকিব ১৯ টেস্ট নেতৃত্ব দিয়ে ১৫ হারের বিপরীতে ৪ জয় পেয়েছেন। অন্যদিকে মমিনুলের ৩ জয়ের বিপরীতে হাবিবুলের জয় ১টি। মমিনুল ১৭ ম্যাচ নেতৃত্ব দিয়ে ১২ হারের বিপরীতে ২ ড্র দেখেছেন। আর হাবিবুল ৪ ড্রয়ের বিপরীতে ১৩ টেস্টে হার দেখেছেন।