খেলেন ভালো, কিন্তু জেতেন না! পুরো মৌসুমে অপরাজিত থাকা দল যখন চ্যাম্পিয়ন হতে পারে না তখন আর কী-ই-বা বলা যেতে পারে। অপরাজিত থাকার গর্বটা তাই এখন পীড়া দিচ্ছে বেনফিকাকে। শুধু এবারই নয়, আগেও একবার এমন দুর্ভাগা সঙ্গী হয়েছে কোচ জোসে মরিনহোর দলটির। এমন হতাশাজনক কীর্তি আছে বাংলাদেশের মোহামেডানেরও।
চলুন, দেখে নেওয়া যাক দুর্ভাগা ক্লাবগুলোর নাম—
বেনফিকা (পর্তুগাল)
চ্যাম্পিয়ন হতে চাইলে নাকি প্রতিপক্ষের কাছে হারা যাবে না। সেই শর্ত এবারের মৌসুমে পূরণ করেছে বেনফিকা। পর্তুগালের শীর্ষ লিগ প্রিমেইরা লিগায় এক ম্যাচও হারেনি জোসে মরিনহোর দল। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। উল্টো যন্ত্রণা পাচ্ছে তারা। কেননা অপরাজিত থেকেও যে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি তারা। উল্টো এ মৌসুমে ২ ম্যাচ হেরেও ট্রফি ঘরে তুলেছে পোর্তো। ৮৮ পয়েন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পোর্তো। মরিনহোর অধীনে ২৩ জয়ের বিপরীতে ১১ ড্র করে তৃতীয় হয়েছে বেনফিকা।
এই যন্ত্রণা অবশ্য এবারই প্রথম পায়নি বেনফিকা। এর আগে ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমেও কোনো ম্যাচ হারেনি তারা। কিন্তু ২১ জয়ের বিপরীতে ৯ ড্র করেও চ্যাম্পিয়ন হওয়া হয়নি তাদের। সেবারও তাদের সামনে শিরোপা উদযাপন করেছে পোর্তো। গোল ব্যবধানে শিরোপা জিতেছিল পোর্তো। দুই দলের পয়েন্ট ছিল সমান ৫১।
মোহামেডান (বাংলাদেশ)
মোহামেডানের নামের পাশে অসংখ্যা শিরোপা থাকলেও বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ট্রফি জিততে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে তাদের। ২০০৭ সালে পেশাদার লিগ চালু হওয়ার সর্বশেষ মৌসুমে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সাদাকালোরা। তবে অভিষেক ট্রফিটি ১৬ বছর আগেই পেতে পারত তারা। কেননা ২০০৯-১০ মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে ছিল তারা। এতটাই দুরন্ত ছিল তারা, সেবার কোনো ম্যাচই হারেনি তারা। কিন্তু দুর্ভাগ্য অপরাজিত থেকেও চ্যাম্পিয়ন হওয়া হয়নি তাদের। ২৪ ম্যাচের টুর্নামেন্টে ১৯ জয়ের বিপরীতে ৫ ড্র করেছিল তারা। বিপরীতে ২২ জয় ও একটি করে ড্র-হারে চ্যাম্পিয়ন হয় আবাহনী। মোহামেডানের সেই সময়কার দলের গোলরক্ষক ছিলেন বাংলাদেশের বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
পেরুজিয়া (ইতালি)
সিরি ‘আ’র ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছিল পেরুজিয়া। কিন্তু এমন অনন্য কীর্তি গড়েও হাসিমুখে মৌসুম শেষ করা হয়নি তাদের। হাসবে কী করে? অপরাজিত থাকার পরেও যে লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়া হয়নি তাদের। ১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে ইতালির শীর্ষ লিগটি হতো ৩০ ম্যাচের। সেবার ১১ জয়ের বিপরীতে ১৯টিতে ড্র করে তারা।
লিগে অপরাজিত থাকলেও বেশি ম্যাচ ড্র করাটাই পেরুজিয়ার কাল হয়েছে। কেননা সেবার ৩ পয়েন্টর ব্যবধানে শিরোপা জেতা হয়নি তাদের। ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে সেবার শিরোপা জেতেছিল এসি মিলান। চ্যাম্পিয়নরা ৩ ম্যাচ হারলেও ১০ ড্রয়ের বিপরীতে ১৭ জয় পেয়েছিল।
গালাতাসারাই (তুরস্ক)
তুরস্কের শীর্ষ ফুটবল টুর্নামেন্ট সুপার লিগে সর্বোচ্চ ২৬বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গালাতাসারাই। টানা চতুর্থবারের মতো এবারও তারাই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তবে নামের পাশের শিরোপা সংখ্যাটা এতদিনে ২৭ হতে পারত যদি ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে ভাগ্য সহায় থাকত। সেবার দুর্বার গতিতে ছুটছিল তুরস্কের ক্লাবটি। লিগের ৩৬ ম্যাচের মধ্যে একটিতেও হারার রেকর্ড ছিল না তাদের। ২০ জয়ের বিপরীতে ড্র করেছিল ১৬ টিতে। কিন্তু এমন অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সেও ট্রফিটা ঘরে তোলা হয়নি তাদের। লিগে ২ ম্যাচ হারের স্বাদ পাওয়া বেসিকতাস গোল ব্যবধানে চ্যাম্পিয়ন হয়। দুদলের পয়েন্ট সমান ৫৬ ছিল।
রেড স্টার বেলগ্রেড (সার্বিয়া)
লিগে অপরাজিত থাকার পরেও চ্যাম্পিয়ন হতে না পারার আক্ষেপ আছে রেড স্টার বেলগ্রেডেরও। সার্বিয়ান সুপার লিগের ২০০৭-০৮ মৌসুমে কোনো ম্যাচ হারেনি তারা। ২১ জয়ের বিপরীতে ১২টিতে ড্র করেছিল তারা। কিন্তু তারপরেও ট্রফি জেতা হয়নি বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২বারের চ্যাম্পিয়নদের পেছনে ফেলে শিরোপা উদযাপন করেছিল পার্টিজান। রেড স্টারের ৭৫ পয়েন্টের বিপরীতে ৮০ পয়েন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় পার্টিজান।




