• ই-পেপার

৩৯তম জাতীয় স্নুকারে চ্যাম্পিয়ন নিজাম উদ্দিন

আমিনুলের মোহামেডানের মতোই দুর্ভাগা মরিনহোর বেনফিকা

ক্রীড়া ডেস্ক
আমিনুলের মোহামেডানের মতোই দুর্ভাগা মরিনহোর বেনফিকা
লিগে অপরাজিত থেকেও চ্যাম্পিয়ন হওয়া হয়নি মোহামেডান-বেনফিকার। ছবি : সংগৃহীত

খেলেন ভালো, কিন্তু জেতেন না! পুরো মৌসুমে অপরাজিত থাকা দল যখন চ্যাম্পিয়ন হতে পারে না তখন আর কী-ই-বা বলা যেতে পারে। অপরাজিত থাকার গর্বটা তাই এখন পীড়া দিচ্ছে বেনফিকাকে। শুধু এবারই নয়, আগেও একবার এমন দুর্ভাগা সঙ্গী হয়েছে কোচ জোসে মরিনহোর দলটির। এমন হতাশাজনক কীর্তি আছে বাংলাদেশের মোহামেডানেরও। 

চলুন, দেখে নেওয়া যাক দুর্ভাগা ক্লাবগুলোর নাম—

বেনফিকা (পর্তুগাল)

চ্যাম্পিয়ন হতে চাইলে নাকি প্রতিপক্ষের কাছে হারা যাবে না। সেই শর্ত এবারের মৌসুমে পূরণ করেছে বেনফিকা। পর্তুগালের শীর্ষ লিগ প্রিমেইরা লিগায় এক ম্যাচও হারেনি জোসে মরিনহোর দল। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। উল্টো যন্ত্রণা পাচ্ছে তারা। কেননা অপরাজিত থেকেও যে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি তারা। উল্টো এ মৌসুমে ২ ম্যাচ হেরেও ট্রফি ঘরে তুলেছে পোর্তো। ৮৮ পয়েন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পোর্তো। মরিনহোর অধীনে ২৩ জয়ের বিপরীতে ১১ ড্র করে তৃতীয় হয়েছে বেনফিকা।

এই যন্ত্রণা অবশ্য এবারই প্রথম পায়নি বেনফিকা। এর আগে ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমেও কোনো ম্যাচ হারেনি তারা। কিন্তু ২১ জয়ের বিপরীতে ৯ ড্র করেও চ্যাম্পিয়ন হওয়া হয়নি তাদের। সেবারও তাদের সামনে শিরোপা উদযাপন করেছে পোর্তো। গোল ব্যবধানে শিরোপা জিতেছিল পোর্তো। দুই দলের পয়েন্ট ছিল সমান ৫১।

মোহামেডান (বাংলাদেশ)

মোহামেডানের নামের পাশে অসংখ্যা শিরোপা থাকলেও বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ট্রফি জিততে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে তাদের। ২০০৭ সালে পেশাদার লিগ চালু হওয়ার সর্বশেষ মৌসুমে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সাদাকালোরা। তবে অভিষেক ট্রফিটি ১৬ বছর আগেই পেতে পারত তারা। কেননা ২০০৯-১০ মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে ছিল তারা। এতটাই দুরন্ত ছিল তারা, সেবার কোনো ম্যাচই হারেনি তারা। কিন্তু দুর্ভাগ্য অপরাজিত থেকেও চ্যাম্পিয়ন হওয়া হয়নি তাদের। ২৪ ম্যাচের টুর্নামেন্টে ১৯ জয়ের বিপরীতে ৫ ড্র করেছিল তারা। বিপরীতে ২২ জয় ও একটি করে ড্র-হারে চ্যাম্পিয়ন হয় আবাহনী। মোহামেডানের সেই সময়কার দলের গোলরক্ষক ছিলেন বাংলাদেশের বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। 

পেরুজিয়া (ইতালি)

সিরি ‘আ’র ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছিল পেরুজিয়া। কিন্তু এমন অনন্য কীর্তি গড়েও হাসিমুখে মৌসুম শেষ করা হয়নি তাদের। হাসবে কী করে? অপরাজিত থাকার পরেও যে লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়া হয়নি তাদের। ১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে ইতালির শীর্ষ লিগটি হতো ৩০ ম্যাচের। সেবার ১১ জয়ের বিপরীতে ১৯টিতে ড্র করে তারা।

লিগে অপরাজিত থাকলেও বেশি ম্যাচ ড্র করাটাই পেরুজিয়ার কাল হয়েছে। কেননা সেবার ৩ পয়েন্টর ব্যবধানে শিরোপা জেতা হয়নি তাদের। ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে সেবার শিরোপা জেতেছিল এসি মিলান। চ্যাম্পিয়নরা ৩ ম্যাচ হারলেও ১০ ড্রয়ের বিপরীতে ১৭ জয় পেয়েছিল।

গালাতাসারাই (তুরস্ক)

তুরস্কের শীর্ষ ফুটবল টুর্নামেন্ট সুপার লিগে সর্বোচ্চ ২৬বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গালাতাসারাই। টানা চতুর্থবারের মতো এবারও তারাই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তবে নামের পাশের শিরোপা সংখ্যাটা এতদিনে ২৭ হতে পারত যদি ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে ভাগ্য সহায় থাকত। সেবার দুর্বার গতিতে ছুটছিল তুরস্কের ক্লাবটি। লিগের ৩৬ ম্যাচের মধ্যে একটিতেও হারার রেকর্ড ছিল না তাদের। ২০ জয়ের বিপরীতে ড্র করেছিল ১৬ টিতে। কিন্তু এমন অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সেও ট্রফিটা ঘরে তোলা হয়নি তাদের। লিগে ২ ম্যাচ হারের স্বাদ পাওয়া বেসিকতাস গোল ব্যবধানে চ্যাম্পিয়ন হয়। দুদলের পয়েন্ট সমান ৫৬ ছিল।

রেড স্টার বেলগ্রেড (সার্বিয়া)

লিগে অপরাজিত থাকার পরেও চ্যাম্পিয়ন হতে না পারার আক্ষেপ আছে রেড স্টার বেলগ্রেডেরও। সার্বিয়ান সুপার লিগের ২০০৭-০৮ মৌসুমে কোনো ম্যাচ হারেনি তারা। ২১ জয়ের বিপরীতে ১২টিতে ড্র করেছিল তারা। কিন্তু তারপরেও ট্রফি জেতা হয়নি বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২বারের চ্যাম্পিয়নদের পেছনে ফেলে শিরোপা উদযাপন করেছিল পার্টিজান। রেড স্টারের ৭৫ পয়েন্টের বিপরীতে ৮০ পয়েন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় পার্টিজান।

চোটের গুঞ্জন উড়িয়ে নেইমার বললেন, ‘ফিট আছি’

ক্রীড়া ডেস্ক
চোটের গুঞ্জন উড়িয়ে নেইমার বললেন, ‘ফিট আছি’
নিজের ফিটনেস নিয়ে সন্তুষ্ট নেইমার। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

নেইমার জুনিয়র যেন বিশ্বকাপ দলে না থাকেন, সেজন্য ব্রাজিলিয়ানদেরই একটা অংশ উঠেপড়ে লেগেছে বলে শোনা যাচ্ছিল। গতকাল তো এর একটা প্রমাণও পাওয়া গেল।

কার্লো আনচেলত্তির বিশ্বকাপ দল ঘোষণার আগে গতকাল নিজেকে মেলে ধরার শেষ সুযোগ ছিল নেইমারের। কিন্তু রেফারিদের ভুলে ব্রাজিলিয়ান লিগে সান্তোসের হয়ে পুরো ম্যাচ খেলতে পারেননি তিনি। ওই ঘটনাকে কেউ কেউ ইচ্ছাকৃত ভুল দাবি করছেন।

ম্যাচ শেষে আবার রটানো হয়, নেইমার নতুন করে চোটে পড়েছেন। কিন্তু সেই গুঞ্জন উড়িয়ে এই তারকা ফরোয়ার্ড জানালেন, তিনি পুরোপুরি ফিট আছেন। 

নেইমারকে সাংবাদিকদের মূল প্রশ্ন ছিল তার বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে। সেখানে নিজের আশাবাদ জানিয়ে ৩৪ বছর বয়সী তারকা সমালোচকদের এক হাত নিয়েছেন, ‘আমার শারীরিক অবস্থা নিয়ে অনেক আজেবাজে কথা বলা হয়েছে। মানুষ যেভাবে এসব নিয়ে কথা বলে, তা খুবই দুঃখজনক। আমি নীরবে, বাড়িতে কঠোর পরিশ্রম করেছি। কিন্তু মানুষের (আজেবাজে) কথার কারণে কষ্ট পেয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত সব ঠিকঠাক হয়ে গেছে।’

নিজের ফিটনেস নিয়ে নেইমার বলেছেন, ‘শারীরিকভাবে আমি ভালো আছি, ফিট আছি। প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে সঙ্গে আরো উন্নতি করছি। মাঠে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছি। এটা সহজ ছিল না।’

বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা কোচ আনচেলত্তির হাতে ছেড়ে দিয়েছেন নেইমার, ‘আমি অক্ষত অবস্থায় কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছেছি। এখন পর্যন্ত যে পারফর্ম করেছি, তাতে খুশি। যা-ই ঘটুক না কেন, আনচেলত্তি অবশ্যই বিশ্বকাপের জন্য সেরা ২৬ জন ফুটবলারকে ডাকবেন।’

কাল কোরিতিবার বিপক্ষে ম্যাচে নেইমারকে নাটকীয়ভাবে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। তবে তিনি অভিযোগ করেন যে, বদলির সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন চতুর্থ রেফারি। সতীর্থ গন্সালো এসকোবার পায়ের মাংসপেশির চিকিৎসার জন্য সাময়িকভাবে মাঠ ছাড়লেও নেইমারকে বদলি করা হয়।

নেইমারের ১০ নম্বর জার্সি বোর্ডে তুলে ধরেন চতুর্থ রেফারি এবং তার জায়গায় রবিনহো জুনিয়র মাঠে নামেন। কিন্তু নেইমার মাঠে ফেরার চেষ্টা করায় হলুদ কার্ড পান এবং এরপরই তিনি তীব্র জানান।

৭৯ গোল করে ব্রাজিলের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা নেইমার। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে গুরুতর চোটের পর আর দেশের জার্সিতে দেখা যায়নি তাকে।

সিলেট টেস্ট

পাকিস্তানকে বিশ্বরেকর্ড গড়ে জেতার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক
পাকিস্তানকে বিশ্বরেকর্ড গড়ে জেতার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল বাংলাদেশ
ব্যাটিংয়ে দারুণ সময় উপভোগ করেছেন মুশফিক-তাইজুল। ছবি : মীর ফরিদ, সিলেট থেকে

পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করার দারুণ সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ। কেননা টেস্ট ইতিহাসে কোনো দলের ৪৩৭ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড নেই।

আজ সিলেটে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রানে অলআউট হলে এই লক্ষ্য পায় পাকিস্তান। টেস্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জয়ের বিশ্বরেকর্ডটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যান্টিগায় ৩ উইকেটের জয় পায় ক্যারিবিয়ানরা।

আর পাকিস্তানের রান তাড়ার রেকর্ডটি হচ্ছে ৩৭৭ রানের।  ২০১৫ সালে ৭ উইকেটের জয়টি পেয়েছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাল্লেকেলেতে। তাই সিলেট টেস্টে বাংলাদেশকে হারাতে হলে ইতিহাসই বদলে দিতে হবে অধিনায়ক শান মাসুদের দলকে।

বিপরীতে সিলেটে রান তাড়ার জয়ের রেকর্ডটি জিম্বাবুয়ের। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৭২ রান তাড়া করে জয় পায় তারা। কিন্তু এবার পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্যটা দ্বিগুণের বেশি। তবে লক্ষ্য তাড়া করতে দুই দিনের বেশি সময় পাচ্ছে অতিথিরা।

পাকিস্তানকে রানের চাপে পিষ্ট করার মূল কৃতিত্ব মুশফিকুর রহিমের। উইকেটরক্ষক-ব্যাটার আজ রেকর্ড সেঞ্চুরি পেয়েছেন সিলেটে। বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে এখন সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি তার। ১৪তম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে পেছনে ফেলেছেন মমিনুল হককে। এতদিন দুজনই ১৩ সেঞ্চুরি নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন। 

আজ ৩ উইকেটে ১১০ রানের দলীয় স্কোর নিয়ে দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে শুরুটা ভালো ছিল না। দলীয় খাতায় ৫ রান যোগ হতেই ড্রেসিংরুমে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত (১৫)। গত দিনের সঙ্গে আজ মাত্র ২ রান যোগ করেন অধিনায়ক। ফিরতি উইকেটে অবশ্য দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মুশফিক-লিটন দাস। 

পঞ্চম উইকেটে ১২৩ রানের জুটি গড়েন মুশফিক-লিটন। তাদের দুর্দান্ত জুটিটা ভেঙে যায় প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ানের বিদায়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৯ রানে আউট হয়েছেন লিটন। ‘টুইন সেঞ্চুরি’ করতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক মাঠ ছাড়লেও তিন অংকের দেখা ঠিকই পেয়েছেন মুশফিক।

যেন মিরপুর টেস্টের আক্ষেপ এই টেস্টে ঘুচালেন মুশফিক। প্রথম টেস্টে ২৯ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন ৩৯ বছর বয়সী ব্যাটার। তাতে এককভাবে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয় তার। আজ আর মিস করেননি তিনি। শেষ ব্যাটার হিসেবে ১৩৭ রানে আউট হওয়ার আগে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ডটা নিজের করে নিয়েছেন তিনি। ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১২ চার ও ১ ছক্কায়।

মুশফিকের সেঞ্চুরিতে দারুণ অবদান রেখেছেন তাইজুল ইসলাম। সপ্তম উইকেটে দুজনে ৭৭ রানের জুটি না গড়লে হয়তো প্রায় সাড়ে চার শ রানের লক্ষ্যটাও দেওয়া হতো বাংলাদেশের। বাঁহাতি স্পিনার ২ চারে ২২ রান করেছেন। পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নিয়েছেন খুররাম শেহজাদ। প্রথম ইনিংসেও সমান শিকার করেন এই পেসার।

পরে আলোকস্বল্পতায় তৃতীয় দিন শেষ হওয়ার আগে ২ ওভার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পায় পাকিস্তান। তবে দুই উদ্বোধনী ব্যাটার আজান ওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল রানের খাতা খুলতে পারেনি। পাকিস্তানের দলীয় স্কোরও তাই বিনা উইকেটে শূন্য।

এর আগে দুই টেস্টের সিরিজের প্রথমটিতে ১০৪ রানে জিতে সিরিজে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

সেঞ্চুরির রাজা মুশফিক

ক্রীড়া ডেস্ক
সেঞ্চুরির রাজা মুশফিক
সেঞ্চুরির পর মুশফিকের দুই হাত উঁচিয়ে উদযাপন। ছবি : মীর ফরিদ, সিলেট থেকে

মিরপুর টেস্টেই সেঞ্চুরির রাজত্বটা দখল করতে পারতেন মুশফিকুর রহিম। ২৯ রানের সমীকরণ মেলাতে না পারায় তার আর হয়নি। তবে রাজত্বের রাজা হতে সময় নিলেন না সাবেক অধিনায়ক। 

সিলেট টেস্টেই রাজত্বের আসনে বসলেন মুশফিক। বাংলাদেশের হয়ে এখন টেস্টে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক তিনি। ৩৯ বছর বয়সী ব্যাটার পেছনে ফেললেন সতীর্থ মমিনুল হককে। আজকের আগ পর্যন্ত দুজনই ১৩ সেঞ্চুরি নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন।

মুশফিক ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরিটা পূর্ণ করেছেন বাউন্ডারি হাঁকিয়ে। তিন অঙ্ক স্পর্শ করতে যখন ১ রানের প্রয়োজন ঠিক তখনই মোহাম্মদ আব্বাসকে গালি দিয়ে চার মেরে রেকর্ড সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। রেকর্ড সেঞ্চুরি হলেও উদযাপনে ছিল না তেমন কোনো আতিশায্য। আকাশপানে গর্জন দিয়ে দুই হাত উঁচিয়ে নিজের উদযাপন শেষ করে জড়িয়ে ধরলেন সতীর্থ তাইজুল ইসলামকে। পরে সিজদার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সন্তুষ্টি নিলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।

রেকর্ড সেঞ্চুরি করতেই মুশফিককে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান সতীর্থ-স্টাফসহ দর্শকরা। অবশ্য শুধু তাদের কাছ থেকেই নন, প্রতিপক্ষের কাছ থেকেও করতালি কেড়েছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। ১৭৮ বলে সেঞ্চুরি পাওয়া মুশফিক বর্তমানে ১০৬ রানে অপরাজিত আছেন। ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১ ছক্কা ও ৯ চারে। 

মুশফিককে সঙ্গ দিচ্ছেন তাইজুল। বাঁহাতি স্পিনার অপরাজিত আছেন ২ চারে ১৯ রানে। সপ্তম উইকেটে তাদের জুটি দাঁড়িয়েছে ৬৪ রানের। তাতে বাংলাদেশের লিড ৩৮২ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩৩৬ রান।