চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরপ্রান্তে মহানন্দা নদীর ওপর নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু (পুরাতন মহানন্দা সেতু) টোলমুক্ত করার দাবিতে সড়ক ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় আন্দোলনকারীরা প্রায় আধাঘণ্টা সোনামসজিদ মহাসড়ক অবরোধ করলে সড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
সোমবার (১৮ মে) সকালে শহরের রেহাইচরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাগরিক অধিকার আদায় কমিটি’ নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সংগঠনের আহ্বায়ক তরিকুল আলম মোল্লা, আইনজীবী নূরে আলম সিদ্দিকী আসাদ, শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ, শাহ নেয়ামতুল্লাহ কলেজের অধ্যক্ষ তরিকুল আলম সিদ্দিকী নয়ন, জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, চেম্বার পরিচালক রায়হানুল ইসলাম লুনা এবং জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি সাইদুর রহমানসহ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ১৯৯৩ সালে চালু হওয়া এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন হাজারো সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। জেলার সদর উপজেলার সঙ্গে শিবগঞ্জ ও সোনামসজিদ স্থলবন্দরের যোগাযোগে সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তাদের দাবি, দীর্ঘ ৩৩ বছর পরও মাত্র আধা কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতু ব্যবহার করতে গিয়ে যানবাহনের উভয় পাশে উচ্চহারে টোল আদায় অযৌক্তিক ও জনস্বার্থবিরোধী। প্রতিদিন অনেক মানুষকে একাধিকবার সেতু পার হতে হয়, যা সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে টোল আদায় বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে আগামী ৩০ মে’র মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, বিষয়টি সরকার অবগত রয়েছে এবং সরকারের নজরেও আছে। তবে এখনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে সেতু টোলমুক্ত করার কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রায়হান ইমতিয়াজ জানান, প্রায় ছয় মাস আগে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে সেতুতে থ্রি-হুইলার ও মোটরসাইকেল টোলমুক্ত করার সুপারিশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।