• ই-পেপার

টঙ্গীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ৪ জনকে ধরে পুলিশে দিল ছাত্রদল

মঙ্গলবার রাতে দেশে পৌঁছাবে ওমানে নিহত চার ভাইয়ের মরদেহ

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
মঙ্গলবার রাতে দেশে পৌঁছাবে ওমানে নিহত চার ভাইয়ের মরদেহ
সংগৃহীত ছবি

ওমানে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নিহত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে দেশে পৌঁছাবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে রাত ৯টার দিকে মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহগুলো চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে।

সোমবার (১৮ মে) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওমানস্থ চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন চৌধুরী সিআইপি। তিনি জানান, মরদেহ দেশে পাঠাতে প্রয়োজনীয় সব আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। ওমান সরকার ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় দ্রুততার সঙ্গে এসব কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ সরকারের ব্যবস্থাপনায় মরদেহ পরিবহনের সম্পূর্ণ কার্গো খরচ বহন করা হচ্ছে। এছাড়া ওমানস্থ চট্টগ্রাম সমিতি হাসপাতালের হিমঘর বিল, কাফনের কাপড়, গোসল ও দাফনের প্রস্তুতিসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যয় বহন করছে। নিহতদের পরিবারের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি।

নিহতদের একমাত্র জীবিত ভাই এনাম বলেন, ‘প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় মরদেহগুলো সরাসরি গ্রামের বাড়িতে আনা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে বুধবার সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাবে।’

তিনি জানান, লালানগরের বন্ধেরাজ পাড়ার পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবর খননের প্রস্তুতি চলছে। তবে অসুস্থ বৃদ্ধা মাকে এখনো পুরোপুরি এ মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার রাতে ওমানের আল মিলিদ্দা, আল মোছানা স্টেট অব আল বাতিনাহ এলাকায় একটি গাড়ির ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে চার ভাইয়ের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওমানে বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। দুই ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন উপলক্ষে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। এ জন্য কেনাকাটা ও প্রস্তুতিও প্রায় শেষ হয়েছিল। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে দুইজন বিবাহিত এবং বাকি তিনজন অবিবাহিত ছিলেন।

এদিকে চার ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফেরাকে ঘিরে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নাফনদ থেকে ৪ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
নাফনদ থেকে ৪ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের টেকনাফের নাফনদে মাছ শিকারের সময় দুটি নৌকাসহ বাংলাদেশি চারজন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মায়ানমারের রাখাইনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। 

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজির পাড়া সংলগ্ন নাফনদে এ ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নৌকার মালিক নুরুল হাকিম ও আবছার উদ্দীন।

তারা জানান, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে নাফনদে মাছ ধরার সময় মিয়ানমারে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা নৌকা দুটিকে ধাওয়া করে আটক করে। পরে অস্ত্রমুখে নৌকার চার জেলেকে নৌকাসহ রাখাইনের কাইচ্যং খালের দিকে নিয়ে যায়।

আরো পড়ুন
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ

 

আরাকান আর্মির হাতে আটক জেলেরা হলেন, টেকনাফ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবু তাহেরের ছেলে মো. মনির আহমেদ (৪৫), জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. ইয়াছিন (১৮), মৃত আব্দুন নবীর ছেলে আব্দুল মালেক প্রকাশ শফা (৫০) এবং জাফর আলমের ছেলে মো. জামাল হোসেন (৪০)।

টেকনাফ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান জানান, নাফনদে মাছ শিকারের সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা আমার এলাকার চারজন জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। বিষয়টি তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছেন বলে জেনেছি।

এদিকে নৌকার মালিকদের পক্ষ থেকে জেলেরা নাফনদে মাছ শিকার করছেন এমন দাবি করা হলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক জেলের ভাষ্য, আটক নৌকা দুটি নাফনদের শূণ্যরেখার কাছাকাছি মাছ শিকার করছিলেন। স্থানীয় জেলেদের দাবি, বাংলাদেশি অনেক জেলে আইন অমান্য করে মাঝেমধ্যে নাফনদের শূণ্যরেখা অতিক্রম করে মাছ শিকারে যান, এতে তারা বিপদের মুখে পড়েন।

এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, নাফনদে মাছ শিকারের সময় মায়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করলে আরাকান আর্মি দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকাসহ চার জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে বলে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ চলমান।
 

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ
ছবি : কালের কণ্ঠ

বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সেখানে সাময়িকভাবে সব লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিআইডাব্লিউটিএ। সেখানে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকলেও ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত বিআইডাব্লউটিএর ট্রাফিক সুপারভাইজার মো. শিমুল ইসলাম লঞ্চ বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার কারণে পদ্মা নদীর পানি অনেকটা উত্তাল হয়ে উঠেছে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে সব লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে এলে লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হবে।

এদিকে বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম বাণিজ্য) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকলেও সেখানে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। নৌপথ পাড়ি দিতে ঘাটে আসা যাত্রীরা ফেরিতে পারাপার হচ্ছে।

বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সেতু টোলমুক্তের দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক ভবন ঘেরাও

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সেতু টোলমুক্তের দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক ভবন ঘেরাও
ছবি : কালের কণ্ঠ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরপ্রান্তে মহানন্দা নদীর ওপর নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু (পুরাতন মহানন্দা সেতু) টোলমুক্ত করার দাবিতে সড়ক ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় আন্দোলনকারীরা প্রায় আধাঘণ্টা সোনামসজিদ মহাসড়ক অবরোধ করলে সড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

সোমবার (১৮ মে) সকালে শহরের রেহাইচরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাগরিক অধিকার আদায় কমিটি’ নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সংগঠনের আহ্বায়ক তরিকুল আলম মোল্লা, আইনজীবী নূরে আলম সিদ্দিকী আসাদ, শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ, শাহ নেয়ামতুল্লাহ কলেজের অধ্যক্ষ তরিকুল আলম সিদ্দিকী নয়ন, জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, চেম্বার পরিচালক রায়হানুল ইসলাম লুনা এবং জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি সাইদুর রহমানসহ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ১৯৯৩ সালে চালু হওয়া এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন হাজারো সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। জেলার সদর উপজেলার সঙ্গে শিবগঞ্জ ও সোনামসজিদ স্থলবন্দরের যোগাযোগে সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তাদের দাবি, দীর্ঘ ৩৩ বছর পরও মাত্র আধা কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতু ব্যবহার করতে গিয়ে যানবাহনের উভয় পাশে উচ্চহারে টোল আদায় অযৌক্তিক ও জনস্বার্থবিরোধী। প্রতিদিন অনেক মানুষকে একাধিকবার সেতু পার হতে হয়, যা সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে টোল আদায় বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে আগামী ৩০ মে’র মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরো কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, বিষয়টি সরকার অবগত রয়েছে এবং সরকারের নজরেও আছে। তবে এখনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে সেতু টোলমুক্ত করার কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রায়হান ইমতিয়াজ জানান, প্রায় ছয় মাস আগে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে সেতুতে থ্রি-হুইলার ও মোটরসাইকেল টোলমুক্ত করার সুপারিশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।