নেইমার জুনিয়র যেন বিশ্বকাপ দলে না থাকেন, সেজন্য ব্রাজিলিয়ানদেরই একটা অংশ উঠেপড়ে লেগেছে বলে শোনা যাচ্ছিল। গতকাল তো এর একটা প্রমাণও পাওয়া গেল।
কার্লো আনচেলত্তির বিশ্বকাপ দল ঘোষণার আগে গতকাল নিজেকে মেলে ধরার শেষ সুযোগ ছিল নেইমারের। কিন্তু রেফারিদের ভুলে ব্রাজিলিয়ান লিগে সান্তোসের হয়ে পুরো ম্যাচ খেলতে পারেননি তিনি। ওই ঘটনাকে কেউ কেউ ইচ্ছাকৃত ভুল দাবি করছেন।
ম্যাচ শেষে আবার রটানো হয়, নেইমার নতুন করে চোটে পড়েছেন। কিন্তু সেই গুঞ্জন উড়িয়ে এই তারকা ফরোয়ার্ড জানালেন, তিনি পুরোপুরি ফিট আছেন।
নেইমারকে সাংবাদিকদের মূল প্রশ্ন ছিল তার বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে। সেখানে নিজের আশাবাদ জানিয়ে ৩৪ বছর বয়সী তারকা সমালোচকদের এক হাত নিয়েছেন, ‘আমার শারীরিক অবস্থা নিয়ে অনেক আজেবাজে কথা বলা হয়েছে। মানুষ যেভাবে এসব নিয়ে কথা বলে, তা খুবই দুঃখজনক। আমি নীরবে, বাড়িতে কঠোর পরিশ্রম করেছি। কিন্তু মানুষের (আজেবাজে) কথার কারণে কষ্ট পেয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত সব ঠিকঠাক হয়ে গেছে।’
নিজের ফিটনেস নিয়ে নেইমার বলেছেন, ‘শারীরিকভাবে আমি ভালো আছি, ফিট আছি। প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে সঙ্গে আরো উন্নতি করছি। মাঠে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছি। এটা সহজ ছিল না।’
বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা কোচ আনচেলত্তির হাতে ছেড়ে দিয়েছেন নেইমার, ‘আমি অক্ষত অবস্থায় কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছেছি। এখন পর্যন্ত যে পারফর্ম করেছি, তাতে খুশি। যা-ই ঘটুক না কেন, আনচেলত্তি অবশ্যই বিশ্বকাপের জন্য সেরা ২৬ জন ফুটবলারকে ডাকবেন।’
কাল কোরিতিবার বিপক্ষে ম্যাচে নেইমারকে নাটকীয়ভাবে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। তবে তিনি অভিযোগ করেন যে, বদলির সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন চতুর্থ রেফারি। সতীর্থ গন্সালো এসকোবার পায়ের মাংসপেশির চিকিৎসার জন্য সাময়িকভাবে মাঠ ছাড়লেও নেইমারকে বদলি করা হয়।
নেইমারের ১০ নম্বর জার্সি বোর্ডে তুলে ধরেন চতুর্থ রেফারি এবং তার জায়গায় রবিনহো জুনিয়র মাঠে নামেন। কিন্তু নেইমার মাঠে ফেরার চেষ্টা করায় হলুদ কার্ড পান এবং এরপরই তিনি তীব্র জানান।
৭৯ গোল করে ব্রাজিলের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতা নেইমার। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে গুরুতর চোটের পর আর দেশের জার্সিতে দেখা যায়নি তাকে।




