• ই-পেপার

ক্রীড়া কার্ড এখন স্বপ্ন নয়, সত্যি

কাসেমিরোর অভিষেকে পেনাল্টিতে জয় ইন্টার মায়ামির

ক্রীড়া ডেস্ক
কাসেমিরোর অভিষেকে পেনাল্টিতে জয় ইন্টার মায়ামির

মেজর সকার লিগে ইন্টার মায়ামির হয়ে ব্রাজিলিয়ান অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরোর অভিষেক ম্যাচে কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে দল। লিওনেল মেসিবিহীন মায়ামি শনিবার মন্ট্রিয়ালকে একমাত্র পেনাল্টি গোলে হারিয়েছে।

পুরো ম্যাচে দুই দলই গোল করতে ব্যর্থ হওয়ার পর, ৮১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন লুইস সুয়ারেস। এর আগে মায়ামির মেক্সিকান ফরোয়ার্ড জার্মান বার্তেরাস মাথায় ভয়াবহ আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।

বল দখলের লড়াইয়ে লাফিয়ে ওঠার সময় এফ্রাইন মোরালেসের সঙ্গে মাথায় সংঘর্ষ হয় বার্তেরামের। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণ নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকেন।

উভয় দলের খেলোয়াড়রা সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা সহায়তার জন্য সংকেত দেন। চিকিৎসকদের দীর্ঘ সময়ের সেবার পর দীর্ঘ বিরতির শেষে অ্যাম্বুল্যান্সে করে বার্তেরামেকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।

মায়ামির কোচ গিয়ের্মো হোয়োস পরে জানান, বার্তেরাম ভালো আছেন এবং তার জ্ঞান রয়েছে। তিনি বলেন, ‘তার পরিবারের সদস্যদের সবকিছু জানানো হয়েছে। আমরা কী করব বুঝতে পারছিলাম না। পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

স্পট কিক থেকে গোল করে সুয়ারেজ মায়ামিকে এগিয়ে দেন। গোল উদ্‌যাপনের সময় বার্তেরামের জার্সি তুলে ধরে তাকে উৎসর্গ করেন।

বিশ্বকাপের বিরতির পর এমএলএস পুনরায় শুরু হওয়ার পর মায়ামি টানা দুই ম্যাচ জিতেছে। সব মিলিয়ে তাদের জয়ের ধারা এখন ছয় ম্যাচে পৌঁছেছে। তবে তারা এখনও ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে দুই পয়েন্ট পিছিয়ে আছে। ন্যাশভিল শনিবার অরল্যান্ডো সিটির কাছে ১-০ গোলে হেরেছে।

১৭ দেশ নিয়ে আর্চারি টুর্নামেন্ট, আয়োজক বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক
১৭ দেশ নিয়ে আর্চারি টুর্নামেন্ট, আয়োজক বাংলাদেশ
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল। ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের আর্চারদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে সেভাবে জ্বলে উঠতে দেখা যায়নি। এশিয়ান কাপের কয়েকটি আসরে অংশ নিলেও বলার মতো সাফল্য আসেনি। তবে এবার ঘরের মাঠে আসতে পারে বড় সাফল্য। 

সম্প্রতি বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। ফেডারেশনটির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপলের নেতৃত্বে নতুন অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নিয়েছে। চপল একই সঙ্গে ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ারও সভাপতি।  

দায়িত্ব নিয়েই ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছেন চপল। ‘২০২৬ ডব্লিউএএ প্রেসিডেন্ট’স চ্যালেঞ্জ কাপ ও জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম’-এর মধ্য দিয়ে সম্ভাবনাময় খেলাটিকে কক্ষে ফেরানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।

ডব্লিউএএ প্রেসিডেন্ট’স চ্যালেঞ্জ কাপ এর আগে এশিয়ার নানা দেশে আয়োজিত হলেও এবারই প্রথম বাংলাদেশে হতে যাচ্ছে। এশিয়ার ১৭টি দেশের অংশগ্রহণে ৩০ জুলাই থেকে টঙ্গীতে শুরু হবে এই টুর্নামেন্ট। 

বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনকে প্রায় ৪৪ হাজার মার্কিন ডলার (৫৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা) আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়া। এর বাইরে বাকি খরচ বহন করবে চপলের ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

আজ রবিবার (২৬ জুলাই) এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্টের খুঁটিনাটি তুলে ধরেন চপল। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম ও স্পোর্টস ইনজুরি সেমিনার, যা পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখ ও কোরিয়ান সহকারী কোচ ইয়ং সুক পার্ক।

মোট ছয়টি ইভেন্টে ১৭ দেশের ১১৪ জন আর্চার ও কর্মকর্তা অংশ নেবেন এই টুর্নামেন্টে। স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও আফগানিস্তান, ভুটান, চীন, ভারত, ইরাক, জর্ডান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, কাতার, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেনের তীরন্দাজদের খেলতে দেখা যাবে। রিকার্ভ পুরুষ ও নারী একক, অনূর্ধ্ব-১৮ পুরুষ ও নারী একক, রিকার্ভ মিশ্র দলগত ও অনূর্ধ্ব-১৮ মিশ্র দলগত ইভেন্টে অংশ নেবেন তারা।

এক সময় রিকার্ভ ইভেন্টগুলোতে ছিল বাংলাদেশের আধিপত্য। বড় যা কিছু অর্জন, রিকার্ভ তীরন্দাজদের হাত ধরেই এসেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রোমান সানা, দিয়া সিদ্দিকী, হাকিম আহমেদের মতো সেরা রিকার্ভ তীরন্দাজরা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোয় বড় এক শূন্য সৃষ্টি হয়েছে।

অবশ্য কম্পাউন্ড তীরন্দাজদের হাত ধরে কিছু সাফল্য এসেছে। সর্বশেষ এশিয়ান কাপ স্টেজ ওয়ান আসরে পুরুষ কম্পাউন্ড দলগত ইভেন্টে সোনার পদক জিতেছেন বাংলাদেশের হিমু বাছার, ঐশ্বর্য রহমান ও নেওয়াজ আহমেদ রাকিব।

দেশের আর্চারিতে ভাটার টানের বিষয়টি স্বীকার করে নিলেও আসন্ন টুর্নামেন্টে ভালো ফলের ব্যাপারে আশাবাদী চপল, ‘হ্যাঁ, আমরা একটু পিছিয়ে গেছি। তবে আগের জায়গটা পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যেই এই রকম একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করছি। ফেডারেশনের নেতৃত্বে কিছুটা অস্থিরতা দেখা গেলেও আমরা সবসময় নতুনত্বে বিশ্বাসী। কীভাবে হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা যায়, সেটা নিয়েই আমরা কাজ করছি।’

মেসির শৈশবের ক্লাব নিওয়েল'স ওল্ড বয়েজ সমর্থকদের অভিনব পাগলামি

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসির শৈশবের ক্লাব নিওয়েল'স ওল্ড বয়েজ সমর্থকদের অভিনব পাগলামি

দীর্ঘ শিরোপা খরা ঘুচিয়ে আর্জেন্টাইন হিরো বনে গেছেন মহাতারকা লিওনেল মেসি। ম্যারাডোনার পর লিওনেল মেসি জনপ্রিয়তা আর্জেন্টিনা ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে সারা বিশ্বে। মেসির শৈশবের আর্জেন্টাইন ক্লাব নিওয়েল'স ওল্ড বয়েজের সমর্থকেরা অভিনব এক পাগলোমিতে মেতেছে। ঘরের ছেলে লিওনেল মেসিকে ফুটবল ইতিহাসের সেরা এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে সম্মান জানিয়ে একটি বিশাল ব্যানার প্রদর্শন করেছে ক্লাবটির সমর্থকরা।

লিওনেল মেসির শৈশবের এই ক্লাবটি এবং এর সমর্থকরা প্রায়ই তাদের প্রিয় তারকার প্রতি এভাবে ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকে।

ক্লাবের সমর্থকরা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে গ্যালারিতে বড় বড় ব্যানার টানিয়ে মেসির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে। অতীতে রোজারিওতে মেসির পরিবারের ব্যবসার ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার পর ভক্তরা ব্যানার তুলে ধরেছিল, যাতে লেখা ছিল ‘লিও, তুমি একটি ভালোবাসাময় দেশের হৃদয়। নিওয়েল'স তোমার পাশে আছে।’

ক্লাবটি তাদের ঘরের মাঠ এস্তাদিও মার্সেলো বিয়েলসা স্টেডিয়ামের একটি স্ট্যান্ডের নাম পরিবর্তন করে মেসির নাম রেকেছে। এই স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার অন্য এক মহান ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনার নামেও একটি স্ট্যান্ড রয়েছে। যিনি ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ক্লাবটিতে খেলেছিলেন। ফলে একই ছাদের নিচে ফুটবল ইতিহাসের দুই অবিসংবাদিত সেরার নাম যুক্ত হয়েছে।

মেসি মাত্র ৬ বছর বয়সে এই ক্লাবের যুব দলে যোগ দেন এবং ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনায় পাড়ি জমানোর আগ পর্যন্ত এখানে খেলেছেন।

মেসিকে ইন্টার মায়ামি থেকে ধারে এনে অন্তত ৬ মাসের জন্য হলেও আবারও ক্লাবের লাল-কালো জার্সি গায়ে জড়ানোর একটি ঐতিহাসিক প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছে নিওয়েল'স ওল্ড বয়েজ। 

ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে মেসি যেন তার প্রথম ভালোবাসার ক্লাবে ফিরে আসেন এমন চাওয়া ভক্তদের।

২০৩০ পর্যন্ত ‌‘চুক্তি স্বাক্ষর’ স্কালোনির

ক্রীড়া ডেস্ক
২০৩০ পর্যন্ত ‌‘চুক্তি স্বাক্ষর’ স্কালোনির
ছবি : ফেসবুক

২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ করে নিজ শহর সান্তা ফে প্রদেশের পুজাতোতে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাচ্ছেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। বিশ্বকাপজয়ী কোচকে দেখতে প্রতিদিনই হাজার হাজার ভক্ত ভিড় করছেন। ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন তারা। এরই মধ্যে খুদে এক ভক্ত ঘটিয়েছে বিশেষ কাণ্ড। আর্জেন্টাইন কোচ ২০৩০ সাল পর্যন্ত থাকার এক প্রতীকী চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করিয়েছে খুদে ভক্ত। এমন একটি ভিডিও মুহূর্তে ভাইরাল হেয় যায় নেট দুনিয়াই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

আর্জেন্টিনার পুহাতো শহরের ফ্রাংকো ওটাভিয়ানি নামের এক শিশু অটোগ্রাফ নেওয়ার বাহানায় স্কালোনির কাছে এগিয়ে যায়। তবে সাধারণ খাতার বদলে সে তার পরিবারের সাথে তৈরি করা একটি বিশেষ কাগজ সামনে বাড়িয়ে দেয়। যাতে লেখা ছিল ‘২০৩০ বিশ্বকাপের চুক্তিপত্র’।

বিষয়টি বুঝতে পেরে স্কালোনি মোটেও অসন্তুষ্ট হননি। তিনি বেশ মজা পান। কোনো দ্বিধা ছাড়াই হাসিমুখে সেই প্রতীকী চুক্তিপত্রে নিজের স্বাক্ষর করে দেন।

কাগজটিতে সই নেওয়ার পর ফ্রাঙ্কো একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াকে উদ্দেশ করে বলে, ‘এবার আপনার পালা’। 

অর্থাৎ খুদে ভক্তটি এএফএকে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত স্কালোনিকে অফিশিয়ালি রেখে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানায়।

আর্জেন্টিনাকে একাধিক শিরোপা জেতানো এই কোচের চুক্তি নিয়ে যখন ফুটবল মহলে আলোচনা চলছে। ঠিক তখনই ভক্তদের ভালোবাসার এমন একটি মিষ্টি চিত্র সামনে এলো।

ক্রীড়া কার্ড এখন স্বপ্ন নয়, সত্যি | কালের কণ্ঠ