• ই-পেপার

লিস্টার ছেড়ে কোথায় যাচ্ছেন বাংলাদেশি ফুটবলার হামজা

গাভি-পারেদেসের ধাক্কাধাক্কির বিপরীতে সৌহার্দপূর্ণ আলিঙ্গন মেসি-ইয়ামালের

ক্রীড়া ডেস্ক
গাভি-পারেদেসের ধাক্কাধাক্কির বিপরীতে সৌহার্দপূর্ণ আলিঙ্গন মেসি-ইয়ামালের
হাসিমুখে ভাব বিনিময় করছেন মেসি-ইয়ামাল। ছবি : এক্স থেকে

ম্যাচ হারার পর স্বাভাবিকভাবেই মন খারাপ থাকে পরাজিত দলের। বিশ্বকাপের ফাইনাল হারলে তো কথাই নেই। বিষণ্ন সময়েই কেউ উসকানিমূলক কিছু বললে রাগ হওয়াটাই স্বাভাবিক।

তবে মন্তব্য শুনে মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়িও কাম্য নয়। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গতকাল রাতে তাই করেছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারার পর এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন পারদেস। পরমুহূর্তেই স্পেনের মিডফিল্ডার গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাঠে ফেলে দেন তিনি। তাকে মারতে বেশ উদ্যত হন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার।

 

পারেদেসের এমন কর্মকাণ্ডের আগে অবশ্য গাভি উসকানিমূলক কিছু একটা বলে হালকা ধাক্কাও দিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডারকে। তবে কী মন্তব্য করেছিলেন বার্সেলোনার মিডফিল্ডার তা এখনো জানা যায়নি। পরে কোচ ও অন্য খেলোয়াড়রা এসে দ্বন্দ্বের মিটমাট করেন। তবে এই ঘটনার জন্য ঠিকই লাল কার্ড দেখতে হয়েছে পারেদেসকে।

 

গাভি-পারদেসের এমন অসৌজন্যমূলক ঘটনার ম্যাচেই সৌহার্দপূর্ণ ভাববিনিময় করেন লিওনেল মেসি-লামিনে ইয়ামাল। ফাইনাল হারার পর হতাশায় মাঠের এক জায়গায় একাকী বসেছিলেন মেসি। উদযাপনের এক ফাঁকে দৌড়ে এসে আর্জেন্টিনার অধিনায়কের সঙ্গে বুক মেলান বার্সেলোনার প্লে মেকার। সঙ্গে একে-অপরে কিছু বাক্য বিনিময়ও সারেন।

ইয়ামালের আলিঙ্গনের বিষয়ে পরে মেসি বলেছেন, ‘সে আমাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিচ্ছিল আর বারবার বলছিল আমি যেন না কাঁদি। ও আসলেই খুব দয়ালু আর নরম মনের এক ছেলে।’ ম্যাচ শুরুর আগেও দুজনকে হাসিমুখে দেখা গেছে।

 

মাঠে একে-অপরের প্রথম দেখা হলেও মেসি-ইয়ামালের প্রথম সাক্ষাৎ হয় ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে। সে সময় ইয়ামালের জ্ঞানই হয়নি। কেননা তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৫ মাস। সেদিন বার্সেলোনার এক স্টুডিওতে ছোট্ট ইয়ামালকে গোসল করিয়ে দিয়েছিলেন সে সময়কার ২০ বছরের তরুন মেসি। বার্সেলোনা ফাউন্ডেশন ও কাতালান দৈনিক দিয়ারিও স্পোর্তের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের অংশ হিসেবে সেদিন দুজনের দেখা হয়েছিল।

সেবার বিশ্বকাপ জিতে কেঁদেছিলেন মেসি, এবার কাঁদলেন হেরে

অনলাইন ডেস্ক
সেবার বিশ্বকাপ জিতে কেঁদেছিলেন মেসি, এবার কাঁদলেন হেরে
লিওনেল মেসি

শেষটা আর রূপকথার মতো হলো না। আর্জেন্টিনাকে আরেকটি বিশ্বকাপ উপহার দিয়ে বিদায় নেওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল লিওনেল মেসির। চার বছর আগে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে কেঁদেছিলেন তিনি। এবার ফাইনালে হারের পরও দীর্ঘ সময় নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না। চোখের জলই বলে দিল তার মনের সব কথা।

ফাইনালে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি মেসি। গোটা ম্যাচে তাকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখে স্পেনের রক্ষণভাগ। শেষ মুহূর্তে একটি শট এবং কয়েকটি কর্নার থেকে সুযোগ তৈরি করা ছাড়া স্মরণীয় কিছুই করতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।

চার বছর আগে কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পর আনন্দাশ্রু ঝরেছিল মেসির চোখে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সেই আবেগ তিনি লুকিয়ে রাখতে পারেননি। এবার পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ তিনি আগেই পেয়েছেন। তাই ম্যাচ শেষে শুরুতে তাকে অনেকটাই শান্ত ও নির্লিপ্ত মনে হচ্ছিল। কিন্তু সেই দৃঢ়তা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি।

রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই কিছুক্ষণ মাঠের মাঝখানে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন মেসি। দুই হাত কোমরে রেখে চারপাশে তাকিয়ে দেখছিলেন গ্যালারি। স্টেডিয়ামে উপস্থিত অসংখ্য আর্জেন্টিনা সমর্থকের দিকে যেন শেষবারের মতো তাকিয়ে ছিলেন তিনি। কয়েকজন সতীর্থ এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন। এরপর ক্লান্ত শরীর নিয়ে মাঠেই বসে পড়েন লিও।

এ সময় এগিয়ে আসেন লামিন ইয়ামাল। ফাইনালের আগে যাদের লড়াই নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছিল, সেই ইয়ামালই ম্যাচ শেষে মেসিকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন। ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ান আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এরপর সতীর্থদের সঙ্গে মাঠ প্রদক্ষিণ করে সমর্থকদের অভিনন্দন ও ভালোবাসার জবাব দেন। পরে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চের দিকেও এগিয়ে যান।

মেসিকে দেখে মনে হচ্ছিল, যত দ্রুত সম্ভব মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমে ফিরতে চান তিনি। কিন্তু ঠিক তখনই গ্যালারিজুড়ে ধ্বনিত হয়—‘মেসি, মেসি’। হাজারো সমর্থক করতালি আর স্লোগানে বিদায় জানাতে থাকেন তাদের প্রিয় ফুটবলারকে। সেই ভালোবাসার জবাব দিতে গিয়েই আর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি।

এটাই যে মেসির শেষ বিশ্বকাপ, তা অনেকটাই স্পষ্ট। তবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাকে আর দেখা যাবে কি না, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন। হয়তো এই বিশ্বকাপ খেলতেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার আরো কিছুদিন দীর্ঘায়িত করেছিলেন। শেষবারের মতো দেশকে বিশ্বকাপ জেতানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

শেষ পর্যন্ত চোখের জল সঙ্গী করেই টানেলের পথে হাঁটলেন লিওনেল মেসি। যদি এটাই তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় হয়, তবে সেটি শেষ হলো এক অসমাপ্ত স্বপ্ন আর কোটি ভক্তের হৃদয়ভাঙার গল্প হয়ে।

উদ্বাস্তু কলোনি থেকে বিশ্বজয়, ইয়ামালের স্বপ্নের জীবনেতিহাস

অনলাইন ডেস্ক
উদ্বাস্তু কলোনি থেকে বিশ্বজয়, ইয়ামালের স্বপ্নের জীবনেতিহাস
লামিনে ইয়ামাল–ছবি : সংগৃহীত

ভিন্ন দেশ, ভিন্ন ভাষা আর ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষকে একসূত্রে বেঁধে রাখার সবচেয়ে সুন্দর সেতু ফুটবল। এই খেলাই দুঃখ-সুখ, জয়-পরাজয়ের গণ্ডি পেরিয়ে মুহূর্তেই ভেঙে দিতে পারে কাঁটাতারের বিভাজন। ইয়ামাল, আপনার সংগ্রামময় জীবনগাথা চিরপ্রণম্য।

এই লেখার শিরোনাম হতে পারত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের পঙ্‌ক্তি— ‘তোমার হল শুরু, আমার হল সারা…’ কিংবা ‘ঈশ্বর’ বনাম ‘ঈশ্বরের বরপুত্র’-এর দ্বৈরথ। কিন্তু সেই প্রসঙ্গ ছেড়ে মনে পড়ে যায় জুলিয়াস সিজারের কথা। গ্যালিক যুদ্ধের সময় তিনি দেখেছিলেন, অজানা ভবিষ্যতের আশঙ্কায় তার সেনাদের মনোবল ভেঙে পড়ছে। তখন তিনি তাদের বলেছিলেন, যে বিপদ এখনো আসেনি, তা নিয়ে ভয় পেলে আত্মবিশ্বাসই নষ্ট হবে। বরং সামনে যা আছে, তার মোকাবেলা করো। সেই মানসিক দৃঢ়তাই শেষ পর্যন্ত টানা আট বছরের রক্তক্ষয়ী গ্যালিক যুদ্ধে সিজারকে জয় এনে দেয়।

এই গল্প কি জানতেন মুনির নাসরাউই ও শিলা এবানা গিনি? ধরে নেওয়া যাক, জানতেন। নইলে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা হয়তো তাদের গ্রাস করত। আর হারকে ভয় পাওয়া মানেই তো একপ্রকার পরাজয় মেনে নেওয়া। হয়তো সিজারের জীবন থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন তারা। কারণ এই দুই মানুষই লামিনে ইয়ামালের বাবা-মা। বিশ্বফুটবলে ইয়ামালের তারকা হয়ে ওঠার নেপথ্যে তাদের অবদানই সবচেয়ে বড়। তারা পাশে না থাকলে বিশ্বের কোটি দরিদ্র শিশুর মতো ইয়ামালের স্বপ্নও হয়তো অকালে ঝরে যেত। ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন হয়তো বাস্তবের মুখই দেখত না। তাদের আত্মত্যাগের ফলেই মাত্র উনিশ বছর বয়সে ইয়ামালের প্রথম বিশ্বজয়। তবে এই যাত্রায় আরো দুই অজ্ঞাতনামা মানুষের অবদানও অনস্বীকার্য।

আজও প্রচারের আলো থেকে বহু দূরে রয়েছেন তারা। ইয়ামালের পুরো নাম লামিনে ইয়ামাল নাসরাউই এবানা। স্পেনের নামকরণের রীতি অনুযায়ী, একজন সন্তানের নামের শেষ দুটি অংশ আসে বাবা ও মায়ের পদবি থেকে। সেই সূত্রেই ‘নাসরাউই’ এসেছে বাবার পরিবার থেকে, আর ‘এবানা’ এসেছে মায়ের বংশপরিচয় থেকে।

নামের প্রথম অংশেও লুকিয়ে আছে বিশেষ তাৎপর্য। ‘লামিনে’ শব্দটির উৎস আরবি ‘আল-আমিন’, যার অর্থ ‘সৎ’ বা ‘বিশ্বস্ত’। আর ‘ইয়ামাল’ এসেছে আরবি ‘জামাল’ শব্দ থেকে, যার অর্থ ‘সৌন্দর্য’ বা ‘সুন্দর’। তার বাবা মুনির নাসরাউই মরক্কোর এবং মা শিলা এবানা গিনির বাসিন্দা। ইয়ামালের জন্মের সময় দুজনই চরম আর্থিক সংকটে ছিলেন। সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হতো। এর মধ্যেই প্রথম সন্তানের আগমন তাদের উদ্বেগ আরো বাড়িয়ে দেয়। ঠিক সেই সময় পাশে দাঁড়ান তাদের দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু—লামিনে ও ইয়ামাল। তারা আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি মানসিক সাহসও জুগিয়েছিলেন। সেই কৃতজ্ঞতার স্মারক হিসেবেই বাবা-মা তাদের প্রথম সন্তানের নাম রাখেন দুই বন্ধুর নাম মিলিয়ে—‘লামিনে ইয়ামাল’।

এর পর থেকেই যেন রূপকথার মতো বদলে যেতে থাকে খুদে তারকার জীবন। জন্মের মাত্র পাঁচ মাস পরই লিওনেল মেসির কোলে ওঠার সেই ছবি আজও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার বিষয়। তবে জীবনের পথ সব সময় মসৃণ ছিল না। ছোটবেলাতেই ইয়ামালের বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। মায়ের সঙ্গেই বড় হলেও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার বীজ বপন করেছিলেন তার বাবা মুনির।

চরম আর্থিক সংকটের কারণে ছেলের জন্য একজোড়া ফুটবল বুটও কিনে দিতে পারেননি তিনি। দিনমজুরের কাজ করা মুনির এক স্থানীয় জুতা ব্যবসায়ীর কাছে অনুরোধ করে ধার হিসেবে বুট নিয়ে এসেছিলেন। বলেছিলেন, এক দিন তার ছেলে বড় হয়ে সেই টাকা শোধ করে দেবে। আজ পরিস্থিতি এমন, ইয়ামাল চাইলে সেই জুতা কম্পানিটিই কিনে নেওয়ার সামর্থ্য রাখেন। তবু বাবার সেই ত্যাগ তিনি কখনো ভোলেননি। প্রায় প্রতিটি সফরেই বাবাকে সঙ্গে রাখতেন। তবে বিশ্বকাপে বাবাকে দেখা না যাওয়ায় প্রশ্ন ওঠে। পরে ইয়ামাল জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার বাবা যুক্তরাষ্ট্রে এক শহর থেকে অন্য শহরে ভ্রমণ করতে পারেননি।

১২ বছর বয়সে বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দেওয়ার পর ধীরে ধীরে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় তরুণ ফুটবলার হয়ে ওঠেন তিনি। কিন্তু এত সাফল্যের পরও শিকড়কে ভুলে যাননি। তার হাতের একটি আঙুলে লেখা ‘৩০৪’—যা তার শৈশবের এলাকা রোকাফোন্দার পোস্টকোডের শেষ তিনটি সংখ্যা। গোল করলেই সেই সংখ্যাটি দেখাতে ভোলেন না তিনি।

উদ্বাস্তু কলোনির সংকীর্ণ গলি পেরিয়ে আজ সহস্র আলোর ঝলকানিতে আলোকিত ইয়ামাল। তবে তার চেয়েও বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে বার্সেলোনা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের মাতারো শহরের অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকা রোকাফোন্দা।

সেই মহল্লায় আজ ইয়ামালের ছবি শোভা পাচ্ছে পোস্টারে। সেখানে হার-জিত গৌণ; বড় হয়ে উঠেছে স্বপ্নপূরণের গল্প। রোকাফোন্দার ছোট্ট মাঠে প্রতিদিনের মতো আবারও ফুটবল গড়াবে। একটু দূরে বেঞ্চে বসে সেই খেলা দেখতে দেখতে স্মৃতিকাতর হয়ে উঠবেন ইয়ামালের দিদা ফাতিমা নাসরাউই এবং তার ১৫ বছর বয়সী চাচাতো ভাই রায়ান। গর্বে তাদের চোখও চিকচিক করে উঠবে। পোস্টকোডের শেষ তিনটি সংখ্যা আজও জ্বলজ্বল করছে।

জন লেননের বিখ্যাত কথাটি যেন ইয়ামালের জীবনেও সত্য হয়ে ধরা দেয়— “You may say I'm a dreamer, but I'm not the only one. I hope someday you'll join us. And the world will live as one.”

এই দর্শন থেকেই হয়তো ফুটবলকে ভালোবেসেছেন ইয়ামাল। বিশ্বকাপেও তার মাথায় ছিল ‘রোকাফোন্দা’ লেখা হেডব্যান্ড, আর বুটে ছিল বাবা-মায়ের জন্মভূমির পতাকা। নিজের শিকড়কে এভাবেই গর্বের সঙ্গে বহন করেন তিনি। তার বিশ্বাস, ভিন্ন দেশ, ভিন্ন ভাষা আর ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষকে একসঙ্গে বেঁধে রাখার সবচেয়ে সুন্দর সেতু ফুটবল। এই খেলাই ফলাফলের গণ্ডি ছাড়িয়ে মুহূর্তে ভেঙে দিতে পারে বিভেদের সব দেয়াল।

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন

স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে নাদাল-আালকারাজের উচ্ছ্বাস

ক্রীড়া ডেস্ক
স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে নাদাল-আালকারাজের উচ্ছ্বাস
বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে স্পেনের খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস। ছবি : রয়টার্স

দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সোনালি ট্রফিটা জিতেছে তারা। স্পেনের স্মরণীয় মুহূর্তটা উপভোগ করেছেন টেনিসের দুই কিংবদন্তি রাফায়েল নাদাল ও কার্লোস আলকারাজ।

নাদাল পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বিশ্বকাপ জয় উদযাপন করলেও মাঠে বসে স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হন আলকারাজ। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পর সামাজিকমাধ্যমে নাদাল লিখেছেন, ‘চল উদযাপনে মাতি। দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।’ অন্যদিকে আলকারাজ লিখেছেন, ‘চল এবার আনন্দ করি স্পেন।’ মাঠে ঢুকে পড়ে লামিনে ইয়ামালদের সঙ্গে আনন্দও করেছেন আলকারাজ।

 

স্পেনের বিশ্বকাপ জয় নিয়ে আগে থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন নাদাল। ফাইনাল নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে ২২ গ্র্যান্ড স্লামজয়ী কিংবদন্তি লিখেন, ‘আমার বিশ্বাস, আমরা জিতব। ছোটবেলা থেকেই ফুটবল আমার প্রিয় খেলাগুলোর একটি। ২০১০ বিশ্বকাপ ফাইনালের অনুভূতি আজও ভুলতে পারিনি। আগামীকাল আবার এমন একটি ঐতিহাসিক ম্যাচ উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছি। প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা এবং দেশটিকে আমি গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি। দলের জন্য শুভকামনা। ভামোস এস্পানিয়া!’

 

ম্যাচের ১০৬ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন স্পেনের নায়ক ফেরান তোরেস। পুরো ম্যাচে আধিপত্য দেখালেও গোলের দেখা পাচ্ছি না ‘লা রোহারা’। পরে বদলি নেমে অতিরিক্ত সময়ে সেই ডেডলক ভাঙেন বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড।

লিস্টার ছেড়ে কোথায় যাচ্ছেন বাংলাদেশি ফুটবলার হামজা | কালের কণ্ঠ